(৯৯:১) যখন পৃথিবীকে প্রবলবেগে ঝাঁকুনি দেয়া হবে৷
(৯৯:২) পৃথিবী তার ভেতরের সমস্ত ভার বাইরে বের করে দেবে৷
(৯৯:৩) আর মানুষ বলবে , এর কী হয়েছে ?
(৯৯:৪) সেদিন সে তার নিজের ( ওপর যা কিছু ঘটেছে সেই ) সব অবস্থা বর্ণনা করবে ৷
(৯৯:৫) কারণ তোমার রব তাকে ( এমটি করার) হুকুম দিয়ে থাকবেন৷
(৯৯:৬) সেদিন লোকেরা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় ফিরে আসবে , যাতে তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে দেখানো যায় ৷
(৯৯:৭) তারপর যে অতি অল্প পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তা দেখে নেবে
(৯৯:৮) এবং যে অতি অল্প পরিমাণ খারাপ কাজ করবে সে তা দেখে নেবে৷
১. মূল শব্দগুলো হচ্ছে , ( আবরী --------------------------------) ' যালযালাহু ' মানে হচ্ছে , একাদিক্রমে পরপর জোরে জোরে ঝাড়া দেয়া ৷ কাজেই ( আরবী -----------------------------) বলতে ধাক্কার পর ধাক্কা দিয়ে এবং ভূমিকম্পের পর ভূমিকম্পে মাধ্যমে পৃথিবীকে ভীষণভাবে কাঁপিয়ে দেয়া হবে৷ আর যেহেতু পৃথিবীকে নাড়া দেবার কথা বলা হয়েছে তার তাই এথেকে আপনা- আপনিই এই অর্থ বের হয়ে আসে যে , পৃথিবীর কোন একটি অংশ কোন একটি স্থান বা অঞ্চল নয় বরং সমগ্র পৃথিবীকে কম্পিত করে দেয়া হবে৷ তারপর এই নাড়া দেবার এই ভূকম্পনের ভয়াবহতা আরো বেশী করে প্রকাশ করার জন্য তার সাথে বাড়তি ( আরবী -------------------) শব্দটিও বসিয়ে দেয়া হয়েছে৷ এ শব্দটির শাব্দিক মানে হচ্ছে , " কম্পিত হওয়া ৷ " অর্থাৎ তার মতো বিশাল ভুগোলককে যে ভাবে ঝাঁকানি দিলে কাঁপে অথবা যেভাবে ঝাঁকানি দিলে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে ভীষণভাবে কাঁপে ঠিক সেভাবে তাকে ঝাঁকানি দেয়া হবে৷ কোন কোন মুফাসসির এই কম্পনকে প্রথম কম্পন ধরে নিয়েছেন৷ তাদের মতে কিয়ামতের প্রথম পর্বের সূচনা হবে যে কম্পন থেকে এটি হচ্ছে সেই কম্পন ৷ অর্থাৎ যে কম্পনের পর দুনিয়ার সব সৃষ্টি ধবংস হয়ে যাবে এবং তার সমগ্র ব্যবস্থাপনা ওলট - পালট হয়ে যাবে৷ কিন্তু মুফাসসিরগণের একটি বড় দলের মতে যে কম্পনের মাধ্যমে কিয়ামতের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে অর্থাৎ যখন আগের পিছের সমস্ত মানুষ পুনর্বার জীবিত হয়ে উঠবে , এটি সেই কম্পন৷ এই দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি বেশী নির্ভুল৷ কারণ পরবর্তী সমস্ত আলোচনায় এই বিষয়টির প্রকাশ ঘটেছে৷
২. এই বিষয়টি সূরা ইনশিকাকের ৪ আয়াতে এভাবে বলা হয়েছে ( আরবী ----------------------------) " আর যা কিছু তার মধ্যে রয়েছে তা বাইরে নিক্ষেপ করে দিয়ে খালি হয়ে যাবে৷ " এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে৷ এক , মরা মানুষ মাটির বুকে যেখানে যে অবস্থায় যে আকৃতিতে আছে তাদের সবাইকে বের করে এনে সে বাইরে ফেলে দেবে৷ আর পরবর্তী বাক্য থেকে একথা প্রকাশ হচ্ছে যে , সে সময় তাদের শরীরের সমস্ত চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশগুলো এক জায়গায় জমা হয়ে নতুন করে আবার সেই একই আকৃতি সহকারে জীবিত হয়ে উঠবে যেমন সে তার প্রথম জীবনের অবস্থায় ছিল৷ দুই , এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে , কেবলমাত্র মরা মানুষদেরকে সে বাইরে নিক্ষেপ করে ক্ষ্যান্ত হবে না বরং তাদের প্রথম জীবনের সমস্ত কথা ও কাজ এবং যাবতীয় আচার - আচরণের রেকর্ড ও সাক্ষ্য - প্রমাণের যে বিশাল স্তুপ তার গর্ভে চাপা পড়ে আছে সেগুলোকেও বের করে বাইরে ফেলে দেবে৷ পরবর্তী বাক্যটিতে একথারই প্রকাশ ঘটেছে৷ তাতে বলা হযেছে , যমীন তার ওপর যা কিছূ ঘটেছে তা বর্ণনা করবে৷ তিন , কোন কোন মুফাসসির এর তৃতীয় একটি অর্থও বর্ণনা করেছেন৷ সেটি হচ্ছে , সোনা , রূপা , মণি মাণিক্য এবং অন্যান্য যেসব মূল্যবান সম্পদ ভূ - গর্ভে সঞ্চিত রয়েছে সেগুলোর বিশাল বিশাল স্তুপ ও সেদিন যমীন উগড়ে দেবে৷ মানুষ দেখবে , এগুলোর জন্য তারা দুনিয়ায় প্রাণ দিতো৷ এগুলো কবজা করার জন্য তারা পরস্পর হানাহানি ও কাটাকাটি করতো৷ হকদারদের হক মেরে নিতো ৷ চুরি ডাকাতি করতো , জলে স্থলে দস্যুতা করতো৷ যুদ্ধ - বিগ্রহে লিপ্ত হতো এবং এক একটি সম্প্রদায় ও জাতিকে ধ্বংস করে দিতো৷ আজ এসব কিছু তাদের সামনে উপস্থিত ৷ অথচ এগুলো এখন আর তাদের কোন কাজে লাগবে না বরং উল্টো তাদের জন্য আযাবের সরঞ্জাম হয়ে রয়েছে৷
৩. মানুষ অর্থ প্রত্যেকটি মানুষ হতে পারে৷ কারণ পুনরায় জীবন লাভ করে চেতনা ফিরে পাবার সাথে সাথেই প্রত্যেক ব্যক্তির প্রথম প্রতিক্রিয়া এটিই হবে যে , এসব কি হচ্ছে ? এটা যে হাশরের দিন একথা সে পরে বুঝতে পারবে ৷ আবার মানুষ অর্থ আখেরাত অস্বীকারকারী মানুষ ও হতে পারো৷ কারণ যে বিষয়কে অসম্ভব মনে করতো তা তার সামনে ঘটে যেতে থাকবে এবং সে এসব দেখে অবাক ও পেরেশান হবে ৷ তবে ঈমানদারদের মনে এ ধরনের বিস্ময়ে পেরেশানি থাকবে না৷ কারণ তখন তাদের আকীদা - বিশ্বাস ও প্রত্যয় অনুযায়ীই সবকিছু হতে থাকবে৷ সূরা ইয়াসিনের ৫২ আয়াতটি এই দ্বিতীয় অর্থটি কতকটা সমর্থন করে৷ সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে , সে সময় আখেরাত অস্বীকারকারীরা বলবে : ( আরবী --------------------) " কে আমাদের শয়নাগার থেকে আমাদের উঠালো ? " এর জবাব আসবে : ( আরবী ---------------------) " এটি সেই জিনিস যার ওয়াদা করুণাময় করেছিলেন এবং আল্লাহর পাঠানো রসূলগণ সত্য বলেছিলেন৷ " ঈমানদাররাই যে কাফেরদেরকে এই জবাব দেবে , এ ব্যাপারে এই আয়াতটি সুস্পষ্ট নয়৷ কারণ আয়াতে একথা স্পষ্ট করে বলা হয়নি৷ তবে ঈমানদারদের পক্ষ থেকে তারা এই জবাব পাবে , এ সম্ভবনা অবশ্যি এখানে আছে৷
৪. হযরত আবু হুরাইরা (রা) রেওয়ায়াত করেছেন , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পড়ে জিজ্ঞেস করেন : " জানো তার সেই অবস্থা কি ? " লোকেরা জবাব দেয় , আল্লাহ ও তাঁর রসূল ভালো জানেন৷ রসূল ( সা) বলেন : " সেই অবস্থা হচ্ছে , যমীনের পিঠে প্রত্যেক মানব মানবী যে কাজ করবে সে তার সাক্ষ্য দেবে৷ সে বলবে , এই ব্যক্তি উমুক দিন কাজ করেছিল৷ এই হচ্ছে সেই অবস্থা , যা যমীন বর্ণনা করবে ৷ " ( মুসনাদে আহমাদ , তিরমিযী , নাসাঈ , ইবনে জারীর , আবদ ইবনে হুমাইদ , ইবনুল মুনযির , হাকেম , ইবনে মারদুইয়া এবং বায়হাকী ফিশশু'আব ) হযরত রাবআহ আল খারাশী রেওয়ায়াত করেছেন , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , " যমীন থেকে তোমরা নিজেদেরকে রক্ষা করে চলবে৷ কারণ এ হচ্ছে তোমাদের মূল ভিত্তি৷ আর এমন কোন ব্যক্তি নেই যে এর ওপর ভালো মন্দ কোন কাজ করে এবং সে তার খবর দেয় না৷ " (মু 'জামুত তাবরানী ) হযরত আনাস ( রা) বর্ণনা করেন , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : " কিয়ামতের দিন যমীন এমন প্রতিটি কাজ নিয়ে আসবে৷ যা তার পিঠের ওপর করা হয়েছে ৷ " তারপর তিনি এই আয়াতটি তেলাওয়াত করেন৷ ( ইবনে মারদুইয়া , বায়হাকী ) হযরত আলী ( রা) সংক্রান্ত জীবনীগ্রন্থে লিখিত হয়েছে : বায়তুলমালের সমুদয় সম্পদ যখন তিনি হকদারদের মধ্যে বণ্টন করে সব খালি করে দিতেন তখন সেখানে দু'রাকাত নফল নামায পড়তেন৷ তারপর বলতেন : " তোকে সাক্ষ্য দিতে হবে , আমি তোকে সত্য সহকারে ভরেছি এবং সত্য সহকারে খালি করেছি৷ "

যমীনের ওপর যা কিছু ঘটে গেছে তার সবকিছু সে কিয়ামতের দিন বলে দেবে , যমীন সম্পর্কে একথাটি প্রাচীন যুগে মানুষকে অবাক করে দিয়ে থাকবে , এতে সন্দেহ নেই৷ কারণ তারা মনে করে থাকবে , যমীন আবার কেমন করে কথা বলবে ? কিন্তু আজ পদার্থবিদ্যা সংক্রান্ত নতুন নতুন জ্ঞান - গবেষণা , আবিষ্কার -- উদ্ভাবন এবং সিনেমা , লাউড স্পীকার , রেডিও , টেলিভিশন , টেপরেকর্ডার ও ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদির আবিষ্কারের এ যুগে যমীন তার নিজের অবস্থা ও নিজের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী কিভাবে বর্ণনা করবে একথা অনুধাবন করা মোটেই কঠিন নয়৷ মানুষ তার মুখ থেকে যা কিছু উচ্চারণ করে তার পূর্ণ অবয়ব বাতাসে , রেডিও তরংগে , ঘরের দেয়ালে , মেঝে ও ছাদের প্রতি অণু - পরমাণুতে এবং কোন পথে , ময়দানে বা ক্ষেতে কোন কথা বলে থাকলে সেখানকার প্রতিটি অণু কণিকায় তার গেঁথে আছে ৷ আল্লাহ যখনি চাইবেন একথাগুলোকে এসব জিনিসের মাধ্যমে তখনই হুবহু ঠিক তেমনিভাবে শুনিয়ে দিতে পারবেন যেভাবে সেগুলো একদিন মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছিল৷ সে সময় মানুষ নিজের কানেই নিজের এই আওয়াজ শুনে নেবে৷ তার পরিচিতি জনেরাও তার এই আওয়াজ চিনে নেবে এবং তারা একে তারই কন্ঠধ্বনি ও বাকভংগীমা বলে সনাক্ত করবে৷ তারপর মানুষ যমীনের যেখানেই যে অবস্থায় যে কোন কাজ করেছে তার প্রতিটি নড়াচড়া ও অংগভংগির প্রতিচ্ছবি তার চারপাশের সমস্ত বস্তুতে পড়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে সেসব চিত্রায়িত হয়ে রয়েছে৷ একেবারে নিকষ কালো আঁধারের বুকে সে কোন কাজ করে থাকলেও আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বের অধীন এমনসব রশ্মি রয়েছে যেগুলোর কাছে আলো - আঁধার সমান , তারা সকল অবস্থায় তার ছবি তুলতে পারে৷ এসব ছবি কিয়ামতের দিন একটি সচল ফিল্মের মতো মানুষের সমানে এসে যাবে এবং সারাজীবন সে কোথায় কি করেছে তা তাকে দেখিয়ে দেবে৷

আসলে প্রত্যেক মানুষের কর্মকাণ্ড আল্লাহ সরাসরি জানলেও আখেরাতে যখন তিনি আদালত কায়েম করবেন তখন সেখানে যাকেই শাস্তি দেবেন ইনসাফ ও ন্যায়নীতির দাবী পুরোপুরি পালন করেই শাস্তি দেবেন ৷তাঁর আদালতে প্রত্যেকটি অপরাধী মানুষের বিরুদ্ধ যে মামলা দায়ের করা হবে তার সপক্ষে এমনসব সাক্ষ - প্রমাণ পেশ করা হবে যার ফলে তার অপরাধী হবার ব্যাপারে কারো কোন বলার অবকাশ থাকবে না৷সর্বপ্রথম পেশ করা হবে তার আমলনামা৷ সবসময় তার সাথে লেগে থাকা কেরামান কতেবীন ফেরেশতাদ্বয় তার প্রত্যেকটি কথা ও কাজ রের্কড করছেন৷ (সূরা কাফ - ১৭ আয়াত ,সূরা ইনফিতার ১০ -১২ আয়াত ) এ আমলনামা তার হাতে দিয়ে দেয়া হবে ৷তাকে বলা হবে,তোমার জীবনের এই কার্যবিবরণী পড়ো৷ নিজের হিসেবে নেবার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট৷(বনি ইসরাঈল ১৪ ) মানুষ তা পড়ে অবাক হয়ে যাবে ৷কারণ ছোট বড় এমন কোন বিষয় নেই যা তাতে যথাযথভাবে সংযোজিত হয়নি৷ (আল কাহাফ ৪৯ )এরপর হচ্ছে মানুষের নিজের শরীর ,দুনিয়ায় এই শরীরের সাহায্যে সে সমস্ত কাজ করেছে৷আল্লাহর আদালতে তার জিহবা সাক্ষ দেবে ,সে দুনিয়ায় কি কি কথা বলে‌ছে ,তার নিজের হাত পা সাক্ষ দেবে তাদেরকে দিয়ে সে কোন কোন কাজ করিয়েছে৷ (আন নূর ২৪ )তার চোখজোড়া সাক্ষ্য দেবে৷তার কান সাক্ষ দেবে ,তার সাহায্যে সে কি কি কথা শুনেছে ৷তার শরীরের গায়ে লেপ্টে থাকা চামড়া তার যাবতীয় কাজের সাক্ষ দেবে৷সে পেরেশান হয়ে নিজের অংগ - প্রত্যেংগকে বলবে ,তোমরাও আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ দিচ্ছো ?তার অংগ প্রত্যংগ জবাব দেবে ,আজ যে আল্লাহর হুকুমে জিনিস চলছে তাঁরই হুকুমে আমরাও চলছি ৷(হা - মীম সাজদাহ ২০ থেকে ২২ ) এর পরে আছে আরো অতিরিক্ত সাক্ষ৷ এই সাক্ষগুলো পেশ করা হবে যমীন ও তার চারপাশের সমগ্র পরিবেশ থেকে ৷ সেখানে নিজের আওয়াজ মানুষ নিজের কানে শুনবে৷ নিজের প্রতিটি কাজকর্মের প্রতিচ্ছবি নিজের চোখেই দেখবে৷ এর চাইতেও অগ্রসর হয়ে দেখা যাবে , মানুষের মনে যেসব চিন্তা , ইচ্ছা , সংকল্প ও উদ্দেশ্য লুকিয়ে ছিল এবং যেসব নিয়তের মাধ্যমে সে নিজের সমস্ত কাজ করেছির তাও সব সামনে এনে রেখে দেয়া হবে৷ যেমন সামনে সূরা আদিয়াতে এ বিষয়ে আলোচনা আসছে৷ এ কারণে এবং এ ধরনের চূড়ান্ত ও জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ সমানে এসে যাবার পর মানুষ অবাক ও নির্বাক হয়ে যাবে৷ নিজের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করার কোন সুযোগই তার থাকবে না৷ ( আল মুরসালাত ৩৫ - ৩৬ )
৫. এর দু 'টো অর্থ হতে পারে৷ এক , প্রত্যেক ব্যক্তি একাকী তার ব্যক্তিগত অবস্থায় অবস্থান করবে৷ পরিবার , গোষ্ঠী , জোট , দল , সম্প্রদায় ও জাতি সব ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে ৷ কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানেও একথা বলা হয়েছে৷ যেমন সূরা আন' আমে রয়েছে , সেদিন মহান আল্লাহ লোকদের বলবেন : " নাও , এখন তুমি এমনিতেই একাকী আমার সামনে হাজির হয়ে গেছো , যেমন আমি প্রথমবার তোমাকে সৃষ্টি করেছিলাম ৷ " ( ৯৪ আয়াত ) আর সূরা মারয়ামে বলা হয়েছে : " একাকী আমার কাছে আসবে ৷" ( ৮০ আয়াত) আরো বলা হয়েছে : " তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক কিয়ামতের দিন আল্লাহর সমানে একাকী হাযির হবে৷ " ( ৯৫ আয়াত ) দুই , এর দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে , বিগত হাজার হাজার বছরে সমস্ত মানুষ যে যেখানে মরেছিল সেখান থেকে অর্থাৎ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান তেকে দলে দলে চলে আসতে থাকবে৷ যেমন সূরা নাবায় বলা হয়েছে : " যে দিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে , তোমার দলে দলে এসে যাবে৷ ( ১৮ আয়াত ) এ ছাড়া বিভিন্ন তাফসীরকার এর যে অর্থ বর্ণনা করেছেন তার অবকাশ এখানে উল্লেখিত " আশতাতান " ( আরবী -------) শব্দের মধ্যে নেই৷ তাই আমার মতে সেগুলো এই শব্দটির অর্থগত সীমাচৌহদ্দীর বাইরে অবস্থান করছে৷ যদিও বক্তব্য হিসেবে সেগুলো সঠিক এবং কুরআন ও হাদীস বর্ণিত কিয়ামতের অবস্থা ও ঘটনাবলীর সাথে সামঞ্জস্য রাখে৷
৬. এর দু 'টি অর্থ হতে পারে৷ এক , তাদের আলম তাদেরকে দেখানো হবে৷ অর্থাৎ প্রত্যেকে দুনিয়ায় কি কাজ করে এসেছে তা তাকে বলা হবে৷ দুই , তাদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল দেখানো হবে৷ যদিও ( আরবী --------) বাক্যটির জন্য এই দ্বিতীয় অর্থটি গ্রহণ করা যেতে পারে তবুও যেহেতু আল্লাহ এখানে ( আরবী ----------) ( তাদের কাজের প্রতিফল দেখাবার জন্য ) না বলে বলেছেন ( আরবী ------) ( তাদের কাজগুলো দেখানো হবে ) তাই সংগতভাবেই প্রথম অর্থটি এখানে অগ্রাধিকার পাবে৷ বিশেষ করে যখন কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে , কাফের ও মু'মিন, সৎকর্মশীল ও ফাসেক , আল্লাহর হুকুমের অনুগত ও নাফরমান সবাইকে অবশ্যি তাদের আমলনামা দেয়া হবে৷ ( উদাহরণ স্বরূপ দেখুন সূরা আল হাক্কার ১৯ ও ২৫ এবং সূরা আল ইনশিকাকের ৭-১০ আয়াত ) একথা সুস্পষ্ট , কাউকে তার কার্যাবলী দেখিয়ে দেয়া এবং তার আমলনামা তার নিজের হাতে সোপর্দ করার মধ্যে কোন তফাত নেই৷ তাছাড়া যমীন যখন তার ওপর অনুষ্ঠিত ঘটনাবলী পেশ করবে তখন হক ও বাতিলের যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ শুরু থেকে চলে আসছিল এবং কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে , তার স্পূর্ণ চিত্রও সবার সামনে এসে যাবে৷ সেখানে সবাই দেখবে , সত্যের জন্য যারা কাজ করেছিল তারা কি কি কাজ করেছে এবং মিথ্যার সমর্থকরা তাদের মোকাবেলায় কি কি কাজ করেছে৷ হিদায়াতের পথে আহাবানকারী ও গোমরাহী বিস্তারকারীদের সমস্ত শুনবে , এটা কোন অসম্ভব কথা নয়৷ উভয় পক্ষের সমগ্র রচনা ও সাহিত্যের রেকর্ড অবিকল সবার সামনে এনে রেখে দেয়া হবে৷ হকপন্থীদের ওপর বাতিল পন্থীদের জুলুম এবং উভয় পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতসমূহের দৃশ্যাবলী হাশরের ময়দানে উপস্থিত লোকেরা নিজেদের চোখেই দেখে নেবে৷
৭. এটি হচ্ছে এর একটি সহজ সরল অর্থ৷ আবার একথা সম্পূর্ণ সত্য যে , মানুষের অনু পরিমাণ নেকী বা পাপ এমন হবে না যা তার আমলনামায় লিখিত হবে না৷ তাকে সে অবশ্য দেখে নেবে৷ কিন্তু দেখে নিবার মানে যদি এই হয় যে , তার পুরস্কার ও শাস্তি দেখে নেবে , তাহলে এর এ অর্থ নেয়া ভুল হবে যে আখেরাতে প্রত্যেকটি সামান্যতম নেকীর পুরস্কার এবং প্রত্যেকটি সামান্যতম পাপের শাস্তি প্রত্যেক ব্যক্তিকে দেয়া হবে ৷ আর কোন ব্যক্তিও সেখানে নিজের কোন নেকীর পুরস্কার থেকে বঞ্চিত এবং পাপের শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে না৷ কারণ তাই যদি হয় তাহলে প্রথমত এর মানে হবে , প্রত্যেকটি খারাপ কাজের শাস্তি এবং প্রত্যেকটি ভালো কাজের পুরস্কার আলাদা আলাদা দেয়া হবে৷ দ্বিতীয়ত এর মানে এও হবে , কোন উচ্চ পর্যায়ের সৎ ও মু'মিন কোন ক্ষুদ্রতম গোনাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে না৷ আর কোন জঘন্যতম কাফের , জালেম এবং পাপীও কোন ক্ষুদ্রতম সৎকাজের পুরস্কার না পেয়ে যাবে না৷ এ দু'টি অর্থ কুরআন ও হাদীসের সুস্পষ্ট বক্তব্য বিরোধী এবং বুদ্ধিও একে ইনসাফের দাবী বলে মেনে নিতে পারে না৷ বুদ্ধির দৃষ্টিতে বিচার করলে একথা কেমন করে বোধগম্য হতে পারে যে , আপনার এখন কর্মচারী আপনার একান্ত অনুগত , বিশ্বস্ত ও নিবেদিত প্রাণ কিন্তু তার কোন সামান্যতম ক্রুটির আপনি মাফ করেন না ? তার প্রতিটি সেবা - কর্মের পুরস্কার দেবার সাথে সাথে তার প্রতিটি ত্রুটির জন্য ও আপনে গুণে গুণে তাকে শাস্তিও দেবেন ? ঠিক তেমনি বুদ্ধির দৃষ্টিতে একথাও দুর্বোধ্য যে , আপনার অসংখ্য অনুগ্রহ , সে আপনার সাথে বেঈমানী ও বিশ্বাসঘাতকাতা করে এবং অনুগ্রহের জবাবে হামশা নিমকহারামী করতে থাকে৷ কিন্তু আপনি তার সামগ্রিক কার্যক্রম ও দৃষ্টিভংগী উপেক্ষা করে তার প্রতিটি বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের জন্য তাকে পৃথক শাস্তি এবং তার ছোট - খাটো কোন সেবা মূলক কাজের জন্য হয়তো সে কখনো আপনাকে খাবার জন্য এক গ্লাস পানি এনে দিয়েছিল বা কখনো আপনাকে পাখা দিয়ে বাতাস করে ছিল --- আপনি তাকে আলাদাভাবে পুরস্কৃত করবেন আর কুরআন ও হাদীসের ব্যাপারে বলা যেতে পারে , সেখানে সুস্পষ্টভাবে মুমিন , মোনাফেক , কাফের, সৎ মু'মিন , গোনাহগার মু'মিন, জালেম ও ফাসেক মু'মিন , নিছক কাফের এবং জালেম ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কাফের ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লোকদের পুরস্কার ও শান্তির জন্য একটি বিস্তারিত আইন বর্ণনা করা হয়েছে ৷ আর এই পুরস্কার ও শাস্তি মানুষের সমগ্র জীবনের ওপর পরিব্যাপ্ত ৷

এ প্রসংগে কুরআন মজীদ নীতিগতভাবে কয়েকটি কথা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বর্ণনা করে :

এক : কাফের , মুশরিক ও মোনাফেকের কর্মকাণ্ড ( অর্থাৎ এমনসব কর্মকাণ্ড যেগুলোকে নেকী মনে করা হয় ) নষ্ট করে দেয়া হয়েছে৷ আখোরাতে তারা এর কোন প্রতিদান পাবে না৷ এগুলোর যা প্রতিদান , তা তারা দুনিয়াতেই পেয়ে যাবে৷ এ জন্য উদাহরণ স্বরূপ দেখুন আল আরাফ ১৪৭ , আত তাওবা ১৭, ৬৭ - ৬৯ , হুদ ১৫- ১৬ , ইবরাহীম ১৮ , আল কাহফ ১০৪- ১০৫ , আন নূর ৩৯ , আল ফুরকান ২৩, আল আহযাব ১৯ , আয যুমার ৬৫ এবং আল আহকাফ ২০ আয়াত )

দুই : পাপের শাস্তি ততটুকু দেয়া হবে যতটুকু পাপ করা হয়৷ কিন্তু নেকীর পুরস্কার মূল কাজের তুলনায় বেশী দেয়া হবে৷ বরং কোথাও বলা হয়েছে , আল্লাহ নিজের ইচ্ছেমতো নেকীর প্রতিদান বাড়িয়ে দেবেন৷ দেখুন আল বাকারাহ ২৬১ , আল আনআম ১৬০ , ইউনুস ২৬- ২৭ , আন নূর ৩৮ , আল কাসাস ৮৪ , সাবা ৩৭ এবং আল মু'মিন ৪০ আয়াত৷

তিন : মু'মিন যদি বড় বড় গোনাহ থেকে দূরে থাকে তাহলে তার ছোট গোনাহগুলো মাফ করে দেয়া হবে৷ দেখুন আন নিসা ৩১ , আশ শূরা ৩৭ এবং আন নাজম ৩২ আয়াত ৷

চার : সৎ মু'মিনের কাছ থেকে হালকা হিসেব নেয়া হবে ৷ তার গোনাহগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হবে ৷ তার ভালো ও উত্তম আমলগুলোর দৃষ্টিতে বিচার করে তাকে প্রতিদান দেয়া হবে৷ দেখুন আনকাবুত ৭ , আযযুমার ৩৫ , আল আহকাফ ১৬ এবং আল ইনশিকাক ৮ আয়াত ৷

হাদীসের বক্তব্য এ বিষয়টিকে একেবারে পরিস্কার করে দেয়৷ ইতিপূর্বে সূরা ইনশিকাকের ব্যাখ্যার কিছু হাদীস উল্লেখ করেছি৷ কিয়ামতের দিন হালকা ও কড়া হিসেবের বিষয়টিকে বুঝাবার জন্য রসূলুল্লাহ (সা) এর ব্যাখ্যা করেছেন৷ ( এ জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন , সূরা আল ইনশিকাক ৬ টীকা ) হযরত আনাস ( রা) থেকে বর্ণিত , একবার হযরত আবু বকর সিদ্দীক ( রা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আহার করেছিলেন এমন সময় এই আয়াতটি নাযিল হয়৷ হযরত আবু বকর ( রা) খাবার থেকে হাত গুঁটিয়ে নেন৷ তিনি বলেন : " হে আল্লাহর রসূল ! যে অণু পরিমাণ খারাপ কাজ আমি করেছি তার ফলও কি আমি দেখে নেবো ?" জবাব দেন : " হে আবু বকর ! দুনিয়ায় যেসব বিষয়েরই তুমি সম্মুখীন হও তার মধ্যে যেগুলো তোমার অপছন্দীয় ও অপ্রীতিকর ঠেকে সেগুলোই তুমি যেসব অণু পরিমাণ অসৎকাজ করেছো তার বদলা এবং সেসব অণু পরিমাণ নেকীর কাজই তুমি করো সেগুলো আল্লাহ আখেরাতে তোমার জন্য সংরক্ষণ করে রাখছেন ৷ " ( ইবনে জারীর , ইবনে আবী হতেম , তাবারনী ফিল আওসাত , বাইহাকী ফিশ শু'আব , ইবনুল মুনযির , হাকেম , ইবনে মারদুইয়া ও আবদ ইবনে হুমাইদ ) এই আয়াতটি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু আইউব আনসারীকেও বলেছিলেন : " তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই নেকী করবে বিপদ - আপদ ও রোগের আকারে এই দুনিয়ায় তার শাস্তি পেয়ে যাবে ৷ " ( ইবনে মারদুইয়া ) ৷ কাতাদাহ হযরত আনাসের ( রা) বরাত দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিম্নোক্ত বাণীটি উদ্ধৃত করেছেন : " আল্লাহ মু'মিনের প্রতি জুলুম করেন না৷ দুনিয়ায় তার নেকীর প্রতিদানে তাকে রিযিক দান করেন এবং আখেরাতে আবার এর পুরস্কার দেবেন৷ আর কাফেরের ব্যাপারে দুনিয়ায় তার সৎকাজের প্রতিদান দিয়ে দেন , তারপর যখন কিয়ামত হবে তখন তার খাতায় কোন নেকী লেখা থাকবে না৷ " ( ইবনে জারীর ) মাসরূক হযরত আয়েশা (রা) থেকে রেওয়ায়াত করেছেন : তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন , " আবদুল্লাহ ইবনে জুদ'আন জাহেলী যুগে আত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহার করতো , মিসকিনকে আহার করাতো , মেহমানদের আপ্যায়ন করতো , বন্দিদের মুক্তি দান করতো৷ আখেরাতে এগুলো কি তার জন্য উপকারী হবে ? " রসূলুল্লাহ (সা) জবাব দেন " না , সে মরার সময় পর্যন্ত একবারও বলেনি , (আরবী --------------------------------) ( হে আমার রব ৷ শেষ বিচারের দিন আমার ভুল ত্রুটিগুলো মাফ করে দিয়ো ৷) " (ইবনে জারীর )অন্যান্য আরো কিছু লোকের ব্যাপারেও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই একই জবাব দেন৷ তারা জাহেলী যুগে সৎকাজ করতো কিন্তু কাফের ও মুশরিক অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে৷ কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন কোন বাণী থেকে জানা যায় , কাফেরের সৎকাজ তাকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না ঠিকই তবে জালেম ফাসেক ব্যভিচারী কাফেরকে জাহান্নামে যে ধরনের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে তার শাস্তি তেমনি পর্যায়ের হবে না৷ যেমন হাদীসে বলা হয়েছে : হাতেম তাঈ এর দানশীলতার কারণে তাকে হালকা আযাব দেয়া হবে৷ ( রূহুল মা ' আনী )

তবুও এ আয়াতটি মানুষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের ব্যাপারে সজাগ করে দেয়৷ সেটি হচ্ছে , প্রত্যেকটি সামান্যতম ও নগণ্যতম সৎকাজের ও একটি ওজন ও মূল্য রয়েছে এবং অনুরূপ অবস্থা অসৎকাজেরও ৷ অর্থাৎ অসৎকাজ যত ছোটই হোক না কেন অবশ্যি তার হিসেব হবে এবং তা কোন ক্রমেই উপেক্ষা করার মতো নয়৷ তাই কোন ছোট সৎকাজকে ছোট মনে না করা উচিত ৷ কারণ এই ধরনের অনেকগুলো ছোট গোনাহ একত্র হয়ে একটি বিরাট গোনাহের স্তূপ জমে উঠতে পারে৷ একথাটিই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাদীসে ব্যক্ত করেছেন৷ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আদী ইবনে হাতেম ( রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে , রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : " জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো -- তা এ টুকরা খেজুর দান করার বা একটি ভালো কথা বলার বিনিময়েই হোক না কেন " হযরত আদী ইবনে হাতেম থেকে সহীহ রেওয়ায়াতের মাধ্যমে আরো বর্ণিত হয়েছে ,রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : " কোন সৎকাজকেও সামান্য ও নগণ্য করো না , যদিও তা কোন পানি পানেচ্ছু ব্যক্তির পাত্রে এক মগ পানি ঢেলে দেয়াই হয় অথবা তোমার কোন ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করাই হয়৷ " বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরাইরা ( রা) থেকে একটি রেওয়ায়াত বর্ণিত হয়েছে৷ তাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেয়েদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন : " হে মুসলিম মেয়েরা ! কোন প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীনীর বাড়িতে কোন জিনিস পাঠানোকে সামান্য ও নগণ্য মনে করো না , তা ছাগলের পায়ের একটি খুর হলেও ৷ " মুসনাদে আহমাদ , নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ - এ হযরত আয়েশার ( রা) একটি রেওয়ায়াত উদ্ধৃত হয়েছে৷ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : " হে আয়েশা ! যেসব গোনাহকে ছোট মনে করা হয় সেগুলো থেকে দূরে থাকো৷ কারণ আল্লাহর দরবারে সেগুলো সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ " মুসনাদে আহমাদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের ( রা) বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে৷ তাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : " সাবধান , ছোট গোনাহসমূহ থেকে নিজেকে রক্ষা কর৷ কারণ সেগুলো সব মানুষের ওপর একত্র হয়ে তাকে ধ্বংস করে দেবে৷ " ( গোনাহ কবীরা ও গোনাহ সগীরার পার্থক্য বুঝার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন , আন নিসা ৫৩ টীকা ও আন নাজম ৩২ টীকা )৷