(৯:৬৭) মুনাফিক পুরুষ ও নারী পরষ্পরের দোসর৷ খারাপ কাজের হুকুম দেয়, ভাল কাজের নিষেধ করে এবং কল্যাণ থেকে নিজেদের হাত গুটিয়ে রাখে৷ ৭৫ তারা আল্লাহকে ভূলে গেছে ,ফলে আল্লাহও তাদেরকে ভুলে গেছেন৷
(৯:৬৮) নিশ্চিতভাবেই এ মুনাফিকরাই ফাসেক৷ এ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং কাফেরদের জন্য আল্লাহ জাহান্নামের আগুণের ওয়াদা করেছেন৷ তার মধ্যে তারা চিরকাল থাকবে৷ সেটিই তাদের জন্য উপযুক্ত৷ আল্লাহর অভিশাপ তাদের ওপর এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব ৷
(৯:৬৯) তোমাদের ৭৬ আচরণ তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতোই৷ তারা ছিল তোমাদের চাইতে বেশী শক্তিশালী এবং তোমাদের চাইতে বেশী সম্পদ ও সন্তানের মালিক৷ তারপর তারা দুনিয়ায় নিজেদের অংশের স্বাদ উপভোগ করেছে এবং তোমরাও একইভাবে নিজেদের অংশের স্বাদ উপভোগ করেছো৷ যেমন তারা করেছিল এবং তারা যেমন অনর্থক বিতর্কে লিপ্ত ছিল তেমনি বিতর্কে তোমরাও লিপ্ত রয়েছো৷ কাজেই তাদের পরিণতি হয়েছে এই যে, দুনিয়ায় ও আখেরাতে তাদের সমস্ত কাজকর্ম পণ্ড হয়ে গেছে এবং তারাই ক্ষতিগ্রস্ত৷
(৯:৭০) তাদের ৭৭ কাছে কি তাদের পূর্ববর্তীদের ইতিহাস পৌছেনি? নূহের জাতির , আদ, সামূদ, ও ইবরাহীমের জাতির,মাদইয়ানের অধিবাসীদের এবং যে জনবসতিগুলো উল্টে দেয়া হয়েছিল সেগুলোর? ৭৮ তাদের রসূলগণ সুষ্পষ্ট নিশানীসহ তাদের কাছে এসেছিলেন৷ এরপর তাদের ওপর জুলুম করা আল্লাহর কাজ ছিল না বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিলেন৷৭৯
(৯:৭১) মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী , এরা সবাই পরষ্পরের বন্ধু ও সহযোগী৷ এরা ভাল কাজের হুকুম দেয় এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে, নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবংআল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্র করে৷ ৮০ এরা এমন লোক যাদের ওপর আল্লাহর রহমত নাযিল হবেই৷ অবশ্যি আল্লাহ সবার ওপর পরাক্রমশালি এবং জ্ঞানী ও বিজ্ঞ৷
(৯:৭২) এ মুমিন পুরুষ ও নারীকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদেরকে তিনি এমন বাগান দান করবেন যার নিম্নদেশে ঝরণাধারা প্রবাহমান হবে এবং তারা তার মধ্যে চিরকাল বাস করবে৷ এসব চির সবুজ বাগানে তাদের জন্য থাকবে বাসগৃহ এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে৷ এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য৷
৭৫. সমস্ত মুনাফিকের এটা সাধারণ বৈশিষ্ট৷ তারা সবাই খারাপ কাজের ব্যাপারে আগ্রহী এবং ভাল কাজের প্রতি তাদের প্রচণ্ড অনিহা ও শত্রুতা৷ কোন ব্যক্তি খারাপ কাজ করতে চাইলে তারা তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়৷তাকে পরামর্শ দেয়৷ তার মনে সাহস যোগায়৷ তাকে সাহায্য-সহায়তা দান করে৷ তার জন্য সুপারিশ পেশ করে৷ তার প্রশংসা করে৷ মোটকথা তার জন্য নিজেদের সব কিছুই তারা ওয়াকফ করে দেয়৷ মনেপ্রাণে তারা তার ঐ খারাপ কাজে শরীক হয়৷ অন্যদেরকে ও তাতে অংশগ্রহণ করতে উদ্ধুদ্ধ করে৷ আর যে ব্যক্তি খারাপ কাজ করে এরা তার সাহস বাড়াতে থাকে৷ তাদের প্রতিটি অংগ ভাংগী ও নড়াচড়া থেকে একথা প্রকাশ হতে থাকে যে, এ অসৎকাজটির বিস্তার ঘটলে তাদের হৃদয়ে কিছুটা প্রশান্তি অনুভুত হতে থাকে৷ এবং তাদের চোখ জুড়িয়ে যায়৷ অন্যদিকে কোন ভাল কাজ হতে থাকলে তার খবর শুনে তারা মনে ব্যাথা অনুভব করতে থাকে৷ একথার কল্পনা করতেই তাদের মন বিষিয়ে ওঠে৷এ সম্পর্কিত কোন প্রস্তাবও তারা শুনতে পারে না৷ এর দিকে কাউকে এগিয়ে যেতে দেখলে তারা অস্থির হয়ে পড়ে৷ সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিতে তার পথে বাধা সৃষ্টি করতে সক্ষম না হলে যাতে সে এ কাজে সফলকাম না হতে পারে এ জন্য তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়৷ তাছাড়া ভাল কাজে অর্থ ব্যয় করার জন্য তাদের হাত কখনো এগিয়ে আসে না , এটাও তাদের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য৷ তারা কৃপণ হোক বা দানশীল সর্বাবস্থায় এটা দেখা যায়৷ তাদের অর্থ সিন্দুকে জমা থাকে, আর নয়তো হারাম পথে আসে হারাম পথে ব্যয় হয়৷ অসৎকাজের ব্যাপারে তারা যেন নিজেদের যুগের কারূন (অর্থাৎ দেদার অর্থ ব্যয় করতে পারংগম )সৎকাজের ব্যাপারে তারা চরম দরিদ্র৷
৭৬. মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা প্রথম পুরুষে করতে করতে হঠাৎ এখান থেকে আবার তাদেরকে সরাসরি সম্বোধন করা শুরু হয়েছে৷
৭৭. এখান থেকে আবার তাদের আলোচনা শুরু হয়েছে প্রথম পুরুষে৷
৭৮. লূত জাতির জনবসতিগুলোর প্রতি ইংগিত করা হয়েছে৷
৭৯. অর্থাৎ তাদের সাথে আল্লাহর কোন শত্রুতা ছিল এবং তিনি তাদেরকে ধ্বংস করতে চাচ্ছিলেন বলে তারা ধ্বংস হয়নি৷ বরং প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাই এমন ধরনের জীবনযাপন প্রণালী পছন্দ করে নিয়েছিল যা তাদেরকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল৷ আল্লাহ তাদের চিন্তা -ভাবনা করারও সামলে নেবার পূর্ণ সুযোগ দিয়েছিলেন৷ তাদেরকে উপদেশ দেবার ও পরিচালনা করার জন্য রসূল পাঠিয়েছিলেন৷রসূলদের মাধ্যমে ভুল পথে অবলম্বন করার অনিষ্টকর ফলাফল সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন এবং কোন প্রকার রাখ ঢাক না করে অত্যন্ত সুষ্পষ্ট ভাবে তাদেরকে সাফল্য ও ধ্বংসের পথ বাতলে দিয়েছিলেন৷ কিন্তু যখন তারা অবস্থার সংশোধনের কোন একটি সুযোগেরও সদ্ব্যবহার করলো না এবং ধ্বংসের পথে চলার ওপর অবিচল থাকলো তখন তাদের অনিবার্য পরিণতির সম্মুখীন হতেই হলো৷ তাদের ওপর এ জুলুম আল্লাহ করেননি বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল৷
৮০. মুনাফিকরা যেমন একটি জাতি বা দল তেমনি মুমিনরাও একটি স্বতন্ত্র দল৷যদিও উভয় দলই প্রকাশ্যে ঈমানের স্বীকৃতি দেয়া এবং বাহ্যত ইসলামের আনুগত্য করার ক্ষেত্রে সমানভাবে অংশ নেয়৷কিন্তু তবুও উভয়ের স্বভাব-প্রকৃতি , আচর,-আচরণ ,অভ্যাস, চিন্তা-পদ্ধতি ও কর্মধারা পরষ্পরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা৷ যেখানে কেবল মুখে ঈমানের দাবী কিন্তু অন্তরে সত্যিকার ঈমানের ছিঁটেফোটা ও নেই সেখানে জীবনের সমগ্র কর্মকাণ্ড তার প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে ঈমানের দাবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে৷ বাইরে লেবেল আটা রয়েছে, মিশক(মৃগনাভি)বলে৷কিন্তু লেবেলের নীচে যা কিচু আছে তা অন্যদিকে ঈমান যেখানে তার মূল তাৎপর্য সহকারে বিরাজিত সেখানে মিশক, তার নিজের চেহারা আকৃতিতে নিজের খোশবু-সুরভিতে এবং নিজের বৈশিষ্ট-গুণাবলীতে সব ব্যাপারেই ও সব পরীক্ষাতেই নিজের মিশক, হবার কথা সাড়ম্বরে প্রকাশ করে যাচ্ছে৷ ইসলাম ও ঈমানদের পরিচিত নামই বাহ্যত উভয় দলকে এক উম্মতের অন্তরভুক্ত করে রেখেছে৷নয়তো আসলে মুনাফিক মুসলমানের নৈতিক বৃত্তি ও স্বভাব প্রকৃতি সত্যিকার ও সাচ্চা ঈমানদার মুসলমান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা৷ এ কারণে মুনাফিকী স্বভাবের অধিকারী পুরুষ ও নারীরা একটা পৃথক দলে পরিণত হয়ে গেছে৷আল্লাহ থেকে গাফেল হয়ে যাওয়া, অসৎকাজে আগ্রহী হওয়া, নেকীর কাছ থেকে দূরে থাকা এবং সৎকাজের সাথে অসহযোগিতা করার সাধারণ বৈশিস্টগুলো তাদেরকে পরষ্পরের সাথে যুথিবদ্ধ করেছে এবং মুমিনদের সাথে কার্যত সম্পর্কহীন করে দিয়েছে ৷ অন্যদিকে সাচ্চা মুমিন পুরুষ ও নারীরা একটি পৃথক দলে পরিণত হয়েছে৷ তাদের প্রত্যেক ব্যক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট হচ্ছে, তারা নেকীর কাজে আগ্রহী এবং গুনাহের কাজের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে৷ আল্লাহর স্মরণ তাদের জীবনের অপরিহার্য প্রয়োজনের অন্তরভুক্ত৷ আল্লাহর পথে অর্থ -সম্পদ ব্যয় করার জন্য তাদের অন্তর ও হাত সারাক্ষণ উন্মুক্ত থাকে৷ আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য তাদের জীবনাচরণের অন্তরভুক্ত৷ এ সাধারণ নৈতিক বৃত্তি ও জীবন যাপন পদ্ধতি তাদেরকে পরষ্পরের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছে এবং মুনাফিকদের দল থেকে আলাদা করে দিয়েছে৷