(৯:৭৩) হে নবী! ৮১ পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাফের ও মুনাফিক উভয়ের মোকাবিল করো এবং তাদের প্রতি কঠোর হও৷ ৮২ শেষ পর্যন্ত তাদের আবাস হবে জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট অবস্থান স্থল৷
(৯:৭৪) তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে বলে, আমরা ও কথা বলিনি ৷অথচ তারা নিশ্চয়ই সেই কুফরীর কথাটা বলেছে ৷ ৮৩ তারা ইসলাম গ্রহনের পর কুফরী অবলম্বন করেছে৷ তারা এমনসব কিছু করার সংকল্প করেছিল যা করতে পারেনি৷ ৮৪ আল্লাহ ও তাঁর রসূল নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিয়েছেন বলেই তাদের এত ক্রোধ ও আক্রোশ ! ৮৫ এখন যদি তারা নিজেদের এহন আচরণ থেকে বিরত হয়, তাহলে তাদের জন্যই ভাল৷ আর যদি বিরত না হয়, তাহলে আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন,এবং পৃথিবীতে তাদের পক্ষ অবলম্বনকারী ও সাহায্যকারী কেউ থাকবে না৷
(৯:৭৫) তাদের মধ্যে এমনও কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর কাছে অংগীকার করেছিল, যদি তিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদের ধন্য করেন তাহলে আমরা দান করবো এবং সৎ হয়ে যাবো৷
(৯:৭৬) কিন্তু যখন আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে বিত্তশালী করে দিলেন তখন তারা কার্পণ্য করতে লাগলো এবং নিজেদের অংগীকার থেকে এমনভাবে পিছটান দিল যে, তার কোন পরোয়াই তাদের রইল না ৷ ৮৬
(৯:৭৭) ফলে তারা আল্লাহর সাথে এই যে অংগীকার ভংগ করলো এবং এই যে, মিথ্যা বলতে থাকলো, এ কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরে মুনাফিকী বদ্ধমূল করে দিলেন, তার দরাবারে তাদের উপস্থিতির দিন পর্যন্ত তা তাদের পিছু ছাড়বে না ৷
(৯:৭৮) তারা কি জানে না, আল্লাহ তাদের গোপন কথাও গোপন সলা-পরামর্শ পর্যন্ত জানেন এবং তিনি সমস্ত অদৃশ্য বিষয়ও পুরোপুরি অবগত?
(৯:৭৯) (তিনি এমনসব কৃপণ ধণীদেরকে ভাল করেই জানেন) যারা ঈমানদেরদের সন্তোষ ও আগ্রহ সহকারে আর্থিক ত্যাগ স্বীকারের প্রতি দোষ ও অপবাদ আরোপ করে এবং যাদের কাছে (আল্লাহর পথে দান করার জন্য) নিজেরা কষ্ট সহ্য করে যা কিছু দান করে তাছাড়া আর কিছুই নেই, তাদেরকে বিদ্রুপ করে৷৮৭ আল্লাহ এ বিদ্রুপকারীদেরকে বিদ্রুপ করেন৷ এদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি৷
(৯:৮০) হে নবী! তুমি এ ধরনের লোকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো বা না করো, তুমি যদি এদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর তাহলেও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না ৷কারণ তারা আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে কুফরী করেছে৷ আর আল্লাহ ফাসেকদেরকে মুক্তির পথ দেখান না৷
৮১. তাবুক যুদ্ধের পর যে ভাষণটি নাযিল হয়েছিল এখান থেকে সেই তৃতীয় ভাষণটি শুরু হচ্ছে৷
৮২. এ পর্যন্ত মুনাফিকদের কার্যকলাপের ব্যাপারে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে উপেক্ষার নীতি অবলম্বন করা হচ্ছিল৷ এর দুটি কারণ ছিল৷ এক, তখনো পর্যন্ত মুসলমানদের হাত এত বেশী শক্তিশালী হতে পারেনি, যে, বাইরের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাথে সাথে তারা ভেতরের শত্রুদের সাথেও লড়াই করতে পারতো৷ দুই, যারা সন্দেহ -সংশয়ে ডুবে ছিল ঈমান ও প্রত্যয় লাভ করার জন্য তাদেকে যথেষ্ট সুযোগ দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য৷ এ দুটি কারণ এখন আর বর্তমান ছিল না৷ মুসলিম শক্তি এখন সমগ্র আরব ভুখণ্ডকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে নিয়েছিল এবং আরবের বাইরের শক্তিগুলোর সাথে সংঘাতের সিলসিলা শুরু হতে যাচ্ছিল৷ এ কারণে ঘরের এ শত্রুদের মাথা গুড়ো করে দেয়া এখন সম্ভবও ছিল এবং অপরিহার্যও হয়ে পড়েছিল৷ তাহলে তারা আর বিদেশী শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে দেশে আভ্যন্তরীণ বিপদ সৃষ্টি করতেপারতো না৷ তাছাড়া তাদেরকে ৯ বছর সময় দেয়া হয়েছিল চিন্তা-ভাবনা করার, বুঝার এবং আল্লাহরসত্য দীনকে যাচাই -পর্যালোচনা করার জন্য৷ তাদের মধ্যে যথার্থকল্যাণ লাভের কোন আকাংখা থাকলে তারা এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারতো৷ এরপর তাদেরকে আরো বেশী সুযোগ সুবিধা দেয়ার মুনাফিকদের বিরুদ্ধেও এবার জিহাদ শুরু করে দিতে হবেএবং এদের ব্যাপারে এ পর্যন্ত যে উদার নীতি অবলম্বন করা হয়েছে তার অবসান ঘটিয়ে কঠোর নীতি অবলম্ব করতে হবে৷

তাই বলে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ও কঠোর নীতি অবলম্বন করার মানে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নয়৷ আসলে এর অর্থ হচ্ছে, তাদের মুনাফিকী মনোভাব ও কর্মনীতিকে এ পর্যন্ত যেভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং যে কারণে তারা মুসলমানদের সাথে মিলেমিশে থেকেছে, সাধারণ মুসলমানরা তাদেরকে নিজেদের সমাজেরই একটি অংশ মেনে করেছে এবং তারা ইসলামী দল ও সংঘঠনের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার ও ইসলামী সমাজে মুনাফিকীর বিষ ছড়াবার যে সুযোগ পেয়েছে তা এখন ভবিষ্যতের জন্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিতে হবে৷ এখন যে ব্যক্তিই মুসলমানদের অন্তরভুক্ত হয়ে মুনাফিকী নীতি অবলম্বন করবে এবং যার কার্যধারা থেকে একথাও প্রকাশ হবে, যে সে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুনিমদের অন্তরঙ্গ বন্ধু নয়, সর্বসমক্ষে তার মুখোশ খুলে দিতে হবে৷ এবং নিন্দা করতে হবে৷ মুসলিম সমাজে তার মর্যাদা ও আস্থা লাভের সকল প্রকার সুযোগ খতম করে দিতে হবে৷তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে৷দলীয় পরামর্শের ক্ষেত্রে থেকে তাকে দূরে রাখতে হবে৷ আদালতে তার সাক্ষ অনির্ভরযোগ্য গণ্য করতে হবে৷ বড় বড় পদ ও মর্যাদার দরজা তার জন্য বন্ধ করে দিতে হবে৷ সভা-সমিতিতে তাকে গুরুত্ব দেবে না৷ প্রত্যেক মুসলমান তার সাথে এমন আচরণ করবে যাতে সে নিজে অনুভব করতে পারে যে, সমগ্র মুসলিম সমাজে কোথাও তার কোন মর্যাদা ও গুরুত্ব নেই এবং কারো অন্তরে তার জন্য এতটুকু সম্ভ্রমবোধও নেই৷ তারপর তাদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি যদি কোন সুষ্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা করে তাহলে তার অপরাধ লুকানো যাবে না এবং তাকে ক্ষমা করা ও যাবে না৷ বরং সর্বসমক্ষে তার বিরুদ্ধে মোকদ্দামা চালাতে হবে এবং তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে৷

এটি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ ৷ এ পর্যায়ে মুসলমানদেরকে এ নির্দেশটি দেয়ার প্রয়োজন ছিল ৷ এ ছাড়া ইসলামী সমাজকে অবনতি ও পতনের আভ্যন্তরীণ কার্যকারণ থেকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো না৷যে জামায়াত ও সংগঠন তার নিজের মধ্যে মুনাফিক ও বিশ্বাসঘাতকদেরকে লালন করে এবং যেখানে দুধকলা দিয়ে সাপ পোষা হয়, তার নৈতিক অধপতন এবং সবশেষে পূর্ণ ধ্বংস ছাড়া গত্যন্তর নেই৷ মুনাফিকী প্লেগের মতো একটি মহামারী৷আর মুনাফিক হচ্ছে এমন একটি ইদুর যে এ মহামারীর জীবাণু বহন করে বেড়ায়৷তাকে জনবসতির মধ্যে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ দেয়ার অর্থ গোটা জনবসতিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া৷ মুসলমানদের সমাজে একজন মুনাফিকদের মর্যাদা ও সম্ভ্রম লাভ করার অর্থ হলো হাজার হাজার মানুষকে বিশ্বাসঘাতকতা ও মুনাফিকী করতে দুঃসাহস যোগানো৷এতে সাধারণ্যে এ ধারণা বিস্তার লাভ করে যে, এ সমাজে মার্যাদা লাভ করার জন্য আন্তরিকতা , সদিচ্ছা, ও সাচ্চা ঈমানদারীর কোন প্রয়োজন নেই৷বরং মিথ্যা ঈমানদের প্রদর্শনীয় সাথে খেয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতার পথ অবলম্বন করেও এখানে মানুষ ফুলে ফেঁপে বড় হয়ে উঠতে পারে৷ একথাটিই রসূলুল্লাহ (সা) তার একটি সংক্ষিপ্ত জ্ঞনগর্ভ বক্তব্যের মাধ্যমে এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ

----------------------------------

"যে ব্যক্তি কোন বিদআতপন্থীকে সম্মান করলো সে আসলে ইসলামের ইমারত ভেংগে ফেলতে সাহায্য করলো" ৷
৮৩. এখানে যে কথার প্রতি ইংগিত করা হয়েছে সেটি কি ছিল? সে সম্পর্কে কোন নিশ্চিত তথ্য আমাদের কাছে পৌছেনি৷ তবে হাদীসে বেশ কিছু কুফরী কথাবার্তার উল্লেখ করা হয়েছে যা মুনাফিকরা বলাবলী করতো৷ যেমন এক মুনাফিকের ব্যাপারে বলা হয়েছেঃ সে তার আত্মীদের মধ্য থেকে একজন মুসলিম যুবকের সাথে কথা বলার সময় বললোঃ যদি এ ব্যক্তি (অর্থাৎ নবী (সা)) যা বলেছেন তা সব সত্য হয় তাহলে আমরা সবাই গাধার চেয়ে ও অধম৷ আর এক হাদীসে বলা হয়েছেঃ তাবুকের সফরে এক জায়গায় নবী (সা) এর উটনী হারিয়ে যায়৷ মুসলমানরা সেটি খুঁজে বেড়াতে থাকে৷ মুনাফিকদের একটি দল এ ব্যাপারটি নিয়ে নিজেদের মজলিসে খুব হাসাহাসি করতে থাকে৷ তারা বলতে থাকে, "ইনি তো আকাশের খবর খুব শুনিয়ে থাকেন কিন্তু নিজের উটনীর এখন কোথায় সে খবরতো তার জানা নেই"৷
৮৪. তাবুক যুদ্ধের সময় মুনাফিকরা যেসব ষড়যন্ত্র করেছিল এখানে সেদিকে ইংগিত করা হয়েছে৷ এর মধ্যে ষড়যন্ত্রটির মুহাদ্দিসগণ নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করেছেন৷ তাবুক থেকে ফেরার পথে মুসলিম সেনাদল যখন এমন একটি পাহাড়ী রাস্তার কাছে পৌছুল তখন কয়েক জন মুনাফিক নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নিল যে, রাতে উঁচু গিরিপথ দিয়ে চলার সময় নবী (সা) কে তারা পার্শ্ববর্তী গভীর খাদের মধ্যে ঠেলে ফেলে দেবে৷ নবী (সা) একথা জানতে পারলেন৷ তিনি সমগ্র সেনাদলকে গিরিপথ এড়িয়ে উপত্যকার সমতল ভূমির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার হুকুম দিলেন এবং নিজে শুধুমাত্র আম্মার ইবনে ইয়াসার (রা) ও হুযাইফা ইবনে ইয়ামনকে (সা) নিয়ে গিরিপথের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকেলেন৷ পথিমধ্যে জানতে পারলেন, দশ বারোজন মুনাফিক মুখোশ পরে পিছনে পিছনে আসছে৷ এ অবস্থা দেখে হযরত হুযাইফা (রা) তাদের দিকে ছুটলেন , যাতে তিনি যাতে তিনি তাদের উটগুলোকে আঘাত করে ফিরিয়ে দিতে পারেন৷ কিন্তু তারা, দূর থেকেই হযরত হুযাইফাকে আসতে দেকে ভয় পেয়ে গেলো এবং ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সংগে সংগেই পালিয়ে গেলো৷ এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় যে ষড়যন্ত্রটের কথা বর্ণিত হয়েছে সেটি হচ্ছেঃ নবী (সা) ও তার বিশ্বস্ত সাথীরা রোমানদের সাথে লড়াই করে নিরাপদে ফিরে আসবেন ,এটা মুনাফিকরা আশা করেনি৷ তাই তারা ঠিক করে নিয়েছিল যে যখনই ওদিকে কোন দুর্ঘটানা ঘটে যাবে তখনই তারা মদীনায় আবদুল্লাহ ইববে উবাই এর মাথায় রাজমুকুট পরিয়ে দেবে৷
৮৫. রসূলুল্লাহ (সা) এর হিজরতের পূর্বে মদীনা ছিল আরবের মফস্বল এলাকার ছোট শহরগুলোর মত একটি মামুলী শহর৷ আওস ও খাযরাজ গোত্র দুটিও অর্থ সম্পদ ও মর্যাদা -প্রতিপত্তির দিক দিয়ে কোন উঁচু পর্যায়ের ছিল না৷ কিন্তু রসূলুল্লাহর (সা) সেখানে আগমনের পর আনসাররা যখন তার সাথে সহযোগিতা করে নিজেদের বিপদের মুখে ঠেলে দিল৷ তখন মাত্র আট নয় বছরের মধ্যে এ মাঝারী ধরনের মফস্বল শহরটি সারা আরবের রাজধানীতে পরিণত হলো৷ আর সেই আওস ও খাযরাজের কৃষকরাই হয়ে গেলেন রাষ্ট্রের কর্মকর্তা ও পরিচালক৷ চতুরদিকে থেকে বিজয়, গনীমাতের মাল ও ব্যবসায় বাণিজ্যের মুনাফা লব্ধ সম্পদ এ কেন্দ্রিয় শহরটির ওপর বৃষ্টি ধারার মতো বর্ষিত হতে থাকলো৷ এ অবস্থাটিকে সামনে রেখে আল্লাহ তাদেরকে এ বলে লজ্জা দিচ্ছেন যে, আমার এ নবীর বদৌলতে তোমাদের ওপর এসব নিয়ামত বর্ষণ করা হচ্ছে,এটাই কি তার দোষ এবং এ জন্যই কি তার প্রতি তোমাদের এ ক্রোধ?
৮৬. উপরের আয়াতে মুনাফিকদের যে অকৃতজ্ঞতা ও কৃতঘ্ন আচরণের নিন্দা করা হয়েছিল তার আর একটি প্রমাণ তাদের নিজেদেরই জীবন থেকে পেশ করে এখানে সুষ্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, আসলে এরা দাগী অপরাধী৷ এদের নৈতিক বিধানে কৃতজ্ঞতা, অনুগ্রহের স্বীকৃতি, ও অংগীকার পালন ইত্যাদি গুণাবলীর নামগন্ধও পাওয়া যায় না৷
৮৭. তাবুক যুদ্ধের সময় যখন নবী (সা) চাঁদার জন্য আবেদন জানালেন তখন বড় বড় ধনশালী মুনাফিকরা হাত গুটিয়ে বসে রইলো৷ কিন্তু যখন নিষ্ঠাবান ঈমানদাররা সামনে এগিয়ে এসে চাঁদা দিতে লাগলেন তখন ঐ মুনাফিকরা তাদেরকে বিদ্রুপ করতে লাগলো৷ কোন সামর্থবান মুসলামন নিজের ক্ষমতা ও মর্যাদা অনুযায়ী বা তার চেয়ে বেশী অর্থ পেশ করলে তারা তাদের অপবাদ দিতো যে, তারা লোক দেখাবার ও সুনাম কুড়াবার জন্য এ পরিমাণ দান করছে৷ আর যদি কোন গরীব মুসলমান নিজের ও নিজের স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের অভুক্ত রেখে সামান্য পরিমান টাকাকড়ি নিয়ে আসতো, অথবা সারা রাত মেহনত মজদুরী করে সামান্য কিছু খেজুর উপার্জন করে তাই এনে রসূলের (সা) সামনে হাযির করতো, তাহলে এ মুনাফিকরা তাদেরকে এ বলে ঠাট্রা করতো, সাবাশ, এবার এক ফড়িং এর ঠ্যাং পাওয়া গেল৷ এ দিয়ে রোমের দূর্গ জয় করা যাবে"৷