(৯:১) সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষনা করা হলো আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে , যেসব মুশরিকের সাথে তোমরা চুক্তি করেছিলে তাদের সাথে৷
(৯:২) কাজেই তোমরা দেশের মধ্যে আরো চার মাসকাল চলাফেরা করে নাও এবং জেনে রেখো তোমরা আল্লাহকে অক্ষম ও শক্তিহীন করতে পারবে না৷ আর আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের অবশ্যই লাঞ্ছিত করবেন৷
(৯:৩) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে বড় হজ্জের দিনে সমস্ত মানুষের প্রতি সাধারন ঘোষণা করা হচ্ছেঃ “আল্লাহর মুশরিকদের থেকে দায়িত্বমুক্ত এবং তাঁর রসূলও৷ এখন যদি তোমরা তাওবা করে নাও তাহলে তো তোমাদেরই জন্য ভাল৷ আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে খুব ভাল করেই বুঝে নাও, তোমরা আল্লাহকে শক্তি সামর্থহীন করতে পারবে না৷ আর হে নবী ! অস্বীকারকারীদের কঠিন আযাবের সুখবর দিয়ে দাও৷
(৯:৪) তবে যেসব মুশরিকের সাথে তোমরা চুক্তি করেছো তারপর তারা তোমাদের সাথে নিজেদের চুক্তি রক্ষায় কোন ক্রুটি করেনি আর তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি তাদের ছাড়া৷ এ ধরনের লোকদের সাথে তোমরাও নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চুক্তি পালন করবে৷ কারণ আল্লাহ তাকওয়া তথা সংযম অবলম্বকারীদেরকে পছন্দ করেন৷
(৯:৫) অতএব, হারাম মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে গেলে মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো এবং তাদের ধরো, ঘেরাও করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটতি তাদের জন্য ওঁৎ পেতে বসে থাকো৷ তারপর যদি তারা তাওবা করে, নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তাহলে তাদের ছেড়ে দাও৷ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷
(৯:৬) আর যদি মুশরিকদের কোন ব্যক্তি আশ্রয় প্রার্থনা করে তোমার কাছে আসতে চায়( যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে) তাহলে তাকে আল্লাহর কালাম শোনা পর্যন্ত আশ্রয় দাও, তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌছিয়ে দাও৷ এরা অজ্ঞ বলেই এটা করা উচিত৷
(৯:৭) মুশরিকদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কাছে কোন নিরাপত্তার অংগীকার কেমন করে হাতে পারে? তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করছিলে মসজিদে হারামের কাছে তাদের কথা স্বতন্ত্র ৷ কাজেই যতক্ষন তারা তোমাদের জন্য সোজা-সরল থাকে ততক্ষণ তোমরাও তাদের জন্য সোজা-সরল থাকো৷ কারণ আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন৷
(৯:৮) তবে তাদের ছাড়া অন্য মুশরিকদের জন্য নিরাপত্তা চুক্তি কেমন করে হতে পারে, যখন তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা তোমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পরলে তোমাদের ব্যাপারে কোন আত্মীয়তার পরোয়া করবে না এবং কোন অংগীকাররে দায়িত্বও নেবে না৷ তারা মুখের কথায় তোমাদের সন্তুষ্ট করে কিন্তু তাদের মন তা অস্বীকার করে৷১০ আর তাদের অধিকাংশই ফাসেক৷ ১১
(৯:৯) তারা আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে সামান্যতম মূল গ্রহণ করে নিয়েছে৷ ১২ তারপর আল্লাহ পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ১৩ তারা যা করতে অভ্যস্ত , তা অত্যন্ত খারাপ কাজ৷
(৯:১০) কোন মুমিনের ব্যাপারে তারা না আত্মীয়তার মর্যাদা রক্ষা করে, আর না কোন অঙ্গীকারের ধার ধারে ৷ আগ্রাসন ও বাড়াবাড়ি সবসময় তাদের পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে৷
১. এ সূরার ভূমিকায় আমি বলে এসেছি, ৫ রুকূর শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত এ ভাষণটি ৯ হিজরীরতে এমন এক সময় নাযিল হয় যখন নবী (সা) হযরত আবু বকরকে (রা) হজ্জের জন্য রওয়ানা করে দিয়েছিলেন্ তার চলে যাওয়ার পর এটি নাযিল হলে সাহাবায়ে কেরাম নবী (সা) এর কাছে আবেদন করেনঃ এটি হযরত আবু বকর (রা) এর কাছে পাঠিয়ে দিন, তিনি হজ্জের সময় লোকদের এটি শুনিয়ে দেবেন৷ কিন্তু তিনি বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ঘোষণা আমার পক্ষ থেকে আমারই ঘরের একজনের করা উচিত৷কাজেই তিনি হযরত আলীকে (রা) এ কাজে নিযুক্ত করেন৷ এ সংগে তাকে নির্দেশ দেন, হাজীদের সাধারণ সামাবেশে আল্লাহর এ বাণী শুনিয়ে দেবার পর নিম্নলিখিত চারটি কথাও যেন ঘোষণা করে দেন৷ এক,দীন ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এমন কোন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না৷ দুই, এ বছরের পরে আর কোন মূশরিক হজ্জ করতে আসতে পারবে না৷ তিন, বাইতুল্লাহর চারদিকে উলংগ অবস্থায় তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ ৷ চার, যাদের আল্লাহর রসূলের চুক্তি অক্ষুন্ন আছে অর্থাৎ যারা চুক্তি ভংগ করেনি, চুক্তির সময়সীমা পর্যন্ত তা পূর্ণ করা হবে৷ এ প্রসংগে জানা থাকা দরকার, মক্কা বিজয়ের পর ইসলামী যুগে প্রথম হজ্জ অনুষ্ঠিত হয় ৮ হিজরীতে প্রাচীন পদ্ধতিতে ৷ ৯হিজরীতে মুসলমানরা এ দ্বিতীয় হজ্জটি সম্পন্ন করে নিজস্ব পদ্ধতিতে এবং অন্যদিকে মুশরিকরা করে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে৷ এরপর ১০ হিজরীতে তৃতীয় হজ্জ অনুষ্ঠিত হয় খালেস ইসলামী পদ্ধতিতে৷ এটিই বিখ্যাত বিদায় হজ্জ৷ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম দু'বছর হজ্জ করতে যাননি৷ তৃতীয় বছর শিরকের পুরোপুরি অবসান ঘটার পর তিনি হজ্জ আদায় করেন৷
২. সূরা আনফালের ৫৮ আয়াতে একথা আলোচনা করা হয়েছে যে, কোন জাতির পক্ষ থেকে যখন তোমাদের খেয়ানত করার তথা অঙ্গীকার ভংগ ও বিশ্বাসঘাতকতা করার আশংকা দেখা দেয় তখন প্রকাশ্যে তার চুক্তি মুখের ওপর ছুঁড়ে দাও এবং তাকে এ মর্মে সতর্ক করে দাও যে, এখন তোমাদের সাথে আমাদের আর কোন চুক্তি নেই৷ এরূপ ঘোষণা ও বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে কোন চুক্তিবদ্ধ জাতির বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম শুরু করে দেয়া মূলত বিশ্বাসঘাতকতারই নামান্তর৷ এ নৈতিক বিধি অনুযায়ী চুক্তি বাতিল করার এ সাধারণ ঘোষণা এমনসব গোত্রের বিরুদ্ধে করা হয়েছে যারা অংগীকার করা ও চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সমসময় ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকাতে এবং সুযোগ পেলেই সকল অংগীকার ও চুক্তি শিকেয় তুলে রেখে শত্রুতায় লিপ্ত হতো৷ সে সময় যেসব গোত্র শিরকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তাদের মধ্য থেকে কিনানাহ ও বনী দ্বামরাহ এবং হয়তো আরো এক আধাটি গোত্র ছাড়া বাদবাকি সকল গোত্রের অবস্থা এ রকমই ছিল৷

এ দায়িত্ব মুক্তি ও স্পর্কচ্ছেদ সংক্রান্ত ঘোষণার ফলে আরবে শিরক ও মুশরিকদের অস্তিত্বই যেন কার্যত আইন বিরোধী (Out of Law)হয়ে গেলো৷ এখন আর তাদের জন্য সারাদেশে কোন আশ্রয়স্থল রইল না৷ কারণ দেশের বেশীরভাগ এলাকা ইসলামী শাসন কর্তৃত্বের আওতাধীন হয়ে গিয়েছিল৷ এরা নিজেদের জায়গায় বসে অপেক্ষা করছিল, রোম ও পারস্যের পক্ষ থেকেই ইসলামী সালতানাত কখন বিপদের সম্মুখীন হবে অথবা নবী (সা)কখন ইন্তেকাল করবেন৷ তখনই এরা অকস্মাত চুক্তি ভংগ করে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু করে দেবে৷ কিন্তু আল্লাহ তার ও তার রসূল (সা) তাদের প্রতীক্ষিত সময় আসার আগেই তাদের পরিকল্পনার ছক উল্টে দিলেন এবং তাদের থেকে দায়িত্ব মুক্তির কথা ঘোষণা করে তাদেরকে তিনটি পথের একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করলেন৷ এক, তাদের যুদ্ধ করার জন্য তৈরী হতে হবে এবং ইসলামী শক্তির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে হবে৷ দুই, তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে৷ তিন, তাদের ইসলাম গ্রহণ করতে হবে এবং দেশের বৃহত্তর অংশ আগেই যে শাসন ব্যবস্থার আওতাধীন চলে এসেছে তারই আয়ত্বে নিজেদেরকে ও নিজেদের এলাকাকে সোপর্দ করে দিতে হবে৷

এ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রকৃত ও যথার্থ যৌক্তিকতা অনুধাবন করার জন্য আমাদেরকে পরবর্তীকালে উদ্ভুত ইসলাম বর্জন আন্দোলনের দিকে ফেরাতে হবে৷আলোচ্য ঘটনার দেড় বছর পরে নবী(সা) ইন্তেকালের পরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ অশুভ তৎপরতা ও গোলযোগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠার ফলে ইসলামের নব নির্মিত প্রাসাদটি আকস্মিকভাবে নড়ে ওঠে৷ ৯ হিজরীর এ সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণার মাধ্যমে যদি শিরকের সংগঠিত শক্তিতে খতম করে না দেয়া হতো এবং সারাদেশে ইতিমধ্যে ইসলামের নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতা প্রধান্য বিস্তার না করতো, তাহলে হযরত আবু বকর(রা) খিলাফত আমলের শুরুতেই মুরতাদ হওয়ার যে হিড়িক লেগে গিয়েছিল তার চেয়ে অনন্ত দশগুণ বেশী শক্তি নিয়ে বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ তাণ্ডব শুরু হয়ে যেতো৷ এ অবস্থায় ইসলামের ইতিহাসের চেহারাই হয়েতো সম্পূর্ণ পাল্টে যেতো৷
৩. এ ঘোষণাটি হয়েছিল ৯ হিজরীর যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে ৷ নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে ভালভাবে চিন্তা-ভাবনা করার জন্যে এ সময় থেকে ১০ হিজরী ১০ রবিউল সানী পর্যন্ত ৪ মাসের অবকাশ তাদেরকে দেয়া হয় ৷ তারা যুদ্ধ করতে চাইলে যুদ্ধ করার জন্য তৈরী হোক৷ দেশ ত্যাগ করতে চাইলে এ সময়ের মধ্যে নিজেদের আশ্রয়স্থল খুঁজে নিক৷ আর যদি ইসলাম গ্রহণ করতে চায় তাহলে স্থির মস্তিস্কে ভেবে -চিন্তে তা গ্রহণ করুক৷
৪. অর্থাৎ ১০ যিলহজ্জ৷ একে "ইয়াওমুন নহর" বা যবেহ করার দিন বলা হয়৷সহীহ হাদীসে বলা হয়েছেঃ বিদায় হজ্জে ভাষণ দিতে গিয়ে নবী (সা) উপস্থিত জনতাকে বিজ্ঞেস করেনঃ আজকের এ দিনটি কোন দিন? লোকেরা জবাব দেয়ঃ ইয়াওমুন নহর -আজ যবেহ করার দিন৷ তিনি বলেনঃ يوم الحج الاكبر هذا অর্থাৎ আজ হজ্জে আকরব তথা বড় হজ্জের দিন৷ এখানে বড় হজ্জ শব্দটি এসেছে ছোট হজ্জের বিপরিত শব্দ হিসেবে৷ আরববাসীরা উমরাহ কে ছোট হজ্জ বলে থাকে৷ এর মোকাবিলায় যিলহজ্জের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে যে হজ্জ করা হয় তাকে বলা হয় বড় হজ্জ৷
৫. অর্থাৎ যারা তোমাদের সাথে চুক্তি ভংগ করেনি তোমরা তাদের সাথে চুক্তি ভংগ করবে, এটা হবে তাকওয়া বিরোধী কাজ৷আল্লাহর কাছে তাই প্রিয় ও পছন্দনীয়, যারা সব অবস্থায় তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে৷
৬. পারিভাষিক অর্থে যে মাসগুলোকে হজ্জ ও উমরাহ করার সুবিধার জন্য হারাম মাস গণ্য করা হয়েছে এখানে সে মাসগুলোর কথা বলা হয়নি৷ বরং মুশরিকদের যে চর মাসের অবকাশ দেয়া হয়েছিল সেই চারটি মাসের কথা এখানে বলা হযেছে৷ যেহেতু এ অবকাশকালিন সময়ে মুশরিকদের ওপর আক্রমণ করা মুসলমানদের জন্য জায়েয ছিল না তাই এগুলোকে হারাম মাস বলা হয়েছে৷
৭. অর্থাৎ কুফর ও শিরক থেকে নিছক তাওবা করে নিলেই ব্যাপাটি খতম হয়ে যাবে না৷ বরং তাদের কার্যত নামায কায়েম করতে ও যাকাত দিতে হবে৷ এটা না হলে তারা যে কুফরী ত্যাগ করে ইসলামকে অবলম্বন করেছে, একথা মেনে নেয়া যাবে না৷ হযরত আব বকর (রা) মুরতাদ হবার ফিতনা দেখা দেবার সময় এ আয়াত থেকেই যুক্তি সংগ্রহ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন৷ নবী(সা) এর ইন্তেকালের পর যারা গোলযোগ সৃষ্টি করেছিল তাদের একটি দল বলতো, আমরা ইসলামকে অস্বীকার করি না৷ আমরা নামায পড়তে প্রস্তুত কিন্তু যাকাত দেবো না৷ সাহাবায়ে কেরাম সাধারনভাবে এ ভেবে বিব্রত হচ্ছিলেন, যে এ ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে কেমন করে তরবারি ওঠানো যেতে পারে? কিন্তু হযরত আবু বকর (রা) ও আয়াতটির বরাত দিয়ে বলেলেন, আমাদের তো কেবলমাত্র যখন এরা শিরক থেকে তাওবা করবে, নামায কায়েম করবে, ও যাকাত দেবে তখনই এদেরকে ছেড়ে দেবার হুকুম দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু যখন এ তিন শর্তের মধ্য থেকে একটি শর্ত এরা উড়িয়ে দিচ্ছে তখন আমরা এদের ছেড়ে দেই কেমন করে?
৮. অর্থাৎ যুদ্ধ চলার মাঝখানে যদি কোন শত্রু তোমাদের কাছে আবেদন করে, আমি ইসলামকে জানতে ও বুঝতে চাই তাহলে তাকে নিরাপত্তা দান করে নিজেদের কাছে আসতে দেয়া এবং তাকে ইসলাম সম্পর্কে বুঝানো মুসলমানদের উচিত৷ তারপর যদি সে ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে নিজেদের নিরাপত্তায় তাকে আবাস স্থলে পৌছিয়ে দেয়া উচিত্ এ ধরনের লোক যারা নিরাপত্তা নিয়ে দারুল ইসলামের আসে , ইসলামী ফিকাহ শাস্ত্রে তাদের "মুস্তামিন" তথা নিরাপত্তা প্রার্থী বলা হয়৷
৯. অর্থাৎ নবী কিনানাহ,বনী খুযাআহ ও বনী দ্বামরাহ ৷
১০. অর্থাৎ বাহ্যত তারা চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করে কিন্তু মনে থাকে তাদের চুক্তি ভংগ করার কুমতলব৷ অভিজ্ঞতা থেকে এর প্রমান পাওয়া যায়৷ অর্থাৎ দেখা গেছে, যখনই তারা কোন চুক্তি করেছে, ভংগ করার জন্যই তা করেছে৷
১১. অর্থাৎ তারা এমন, লোক, যাদের নৈতিক দায়িত্বের কোন অনুভূতি নেই এবং নৈতিক বিধি-নিধেষ ভঙ্গ করতেও তারা কখনো কুণ্ঠিত বা শংকিত হয় না৷
১২. অর্থাৎ একদিকে আল্লাহর আয়াত তাদের সৎকাজ করার, সত্য পথে থাকার ও ন্যায়নিষ্ঠ আইন মেনে চলার আহবান জানাচ্ছিল৷ এবং অন্য দিকে তাদের সামনে ছিল দুনিয়ার জীবনের মুষ্টিমেয় কয়েকদিনের সুখ-সুবিধা -আরাম ঐশ্বর্য ৷ প্রবৃত্তির আশা-আকাংখার লাগামহীন আনুগত্যের দ্বারা এগুলো অর্জন করা যায়৷ তারা এ দুটি জিনিসের মধ্যে তুলনা করে প্রথমটি বাদ দিয়ে দ্বিতীয় জিনিসট নিজেদের জন্য বেছে নিল৷
১৩. অর্থাৎ জালেমরা শুধুমাত্র হেদায়াতের পরবর্তে গোমরাহীকে নিজেদের জন্য বেছে নিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং আরো অগ্রসর হয়ে তারা যাতে সত্যের দাওয়াতের কাজ কোনক্রমেই না চলতে পারে এবং কল্যাণ ও সৎবৃত্তির এ আওয়াজ কেউ শুনতে পায় সে জন্যও অপচেষ্টা চালিয়েছে৷ বরং তারা চেয়েছে, যে মুখ থেকে ডাক দেয়া হয় সেই মুখই বন্ধ করে দিতে ৷ মহান আল্লাহ যে সত্যনিষ্ঠ ও কল্যাণময় জীবন বিধান পৃথিবীতে কায়েম করতে চাচ্ছিলেন তার পথ রোধ করার জন্য তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে ৷ এ জন্য যারা এ বিধানকে সত্য জেনে এর অনুসারী হয়েছিল দুনিয়ার বুকে তাদের জীবন যাপনের দুর্বিসহ করে তুলেছিল৷