(৮:৪৫) হে ঈমানদারগণ! যখন কোন দলের সাথে তোমাদের মোকাবিলা হয়, তোমরা দৃঢ়পদ থাকো এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো বেশী বেশী করে৷ আশা করা যায়, এতে তোমরা সাফল্য অর্জন করবে৷
(৮:৪৬) আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, তাহলে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা দেখা দেবে এবং তোমাদের প্রতিপত্তির দিন শেষ হয়ে যাবে৷ সবরের পথ অবলম্বন করো, ৩৭ অবশ্যি আল্লাহ সবরকারীদের সাথে রয়েছেন৷
(৮:৪৭) আর তোমরা এমন লোকদের মত আচরণ করো না, যারা অহংকার করতে করতে ও লোকদেরকে নিজেদের মাহাত্ম্যা দেখাতে দেখাতে ঘর থেকে বের হয়েছে এবং যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষেকে )বিরত রাখে৷ ৩৮ তারা যা কিছু করেছে তা আল্লাহর নাগালের বাইরে নয়৷
(৮:৪৮) সেই সময়ের কথা একটু মনে করো যখন শয়তান এদের কার্যকলাপ ওদের চোখে ঔজ্জ্বল্যময় করে দেখিয়েছিল এবং এদেরকে বলেছিল, আজ তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারে না এবং আমি তোমাদের সাথে আছি৷ কিন্তু যখন উভয় বাহিনীর সামানাসামনি মোকাবিলা শুরু হলো তখনই সে পিছনের দিকে ফিরে গেলো এবং বলতে লাগলোঃ তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই৷ আমি এমন কিছু দেখছি যা তোমরা দেখো না৷ আমি আল্লাহকে ভয় পাচ্ছি৷ আল্লাহ বড় কঠোর শাস্তিদাতা৷
৩৭. অর্থাৎ নিজেদের আবেগ অনুভূতি ও কামনা-বাসনাকে সংযত রাখো ৷ তাড়াহুড়ো করো না৷ ভীত-আতংকিত হওয়া, লোভ-লালসা পোষণ করা এবং অসংগত উৎসাহ -উদ্দীপনা প্রকাশ থেকে দূরে থাকো৷ স্থির মস্তিস্কে এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যথার্থ পরিমিত বিচক্ষণতা ও ফায়সালা করার শক্তি সহকারে কাজ করে যাও৷ বিপদ-আপোদ ও সংকট -সমস্যার সম্মুখীন হলেও যেন তোমাদের পা না টলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দিলে ক্রোধ ও ক্ষোভের তরংগে ভেসে গিয়ে তোমরা যেন কোন অর্থহীন কাজ করে না বসো৷ বিপদের আক্রমণ চলতে থাকলে এবং অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে মোড় নিয়েছে দেখতে পেলে মানসিক অস্থিরতার কারণে তোমাদের চেতনা শক্তি বিক্ষিপ্ত ও বিশৃংখল না হয়ে পড়ে৷ উদ্দেশ্য সফল হবার আনন্দে অধীন হয়ে অথবা কোন আধা -পরিপক্ক ব্যবস্থাপনাকে আপাতদৃষ্টিতে কার্যকর হতে দেখে তোমাদের সংকল্প যেন তাড়াহুড়োর শিকার না হয়ে পড়ে৷ আর যদি কখনো বৈষয়িক স্বার্থ, লাভ ও ইন্দ্রিয় সুখভোগের প্ররোচনা তোমাদের লোভাতুর করে তোলে তাহলে তাদের মোকাবিলায় তোমাদের নফস যেন দূর্বল হয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সেদিকে এগিয়ে যেতে না থাকে৷ এ সমস্ত অর্থ শুধু একটি মাত্র শব্দ সবর এর মধ্যে নিহিত রয়েছে৷ আল্লাহ বলেছেন এসব দিয়ে যারা সবরকারী হবে তারাই আমার সাহায্য ও সমর্থন পেয়ে ধন্য হবে৷
৩৮. এখানে কুরাইশ গোত্রভুক্ত কাফেরদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে৷ তাদের সেনাবাহিনী মক্কা থেকে বের হয়েছিল অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে৷ বাদ্য-গীত পারদর্শীনী ক্রীতদাসী পরিবেষ্টিত হয়ে তারা চলছিল৷ পথের মাঝাখানে বিভিন্ন জায়াগায় থেমে তারা নাচ-গান ,শরাব ও আনন্দ উল্লাসের মাহফিল জমিয়ে তুলেছিল৷ পথে যেসব গোত্র ও জনবসতির ওপর দিয়ে তারা যাচ্ছিল তাদের ওপর নিজেদের শান শওকত, সংখ্যাধিক্য ও শক্তির দাপট এবং যুদ্ধ সরঞ্জামের ভীতি ও প্রভাব বিস্তার করে চলছিল৷ তারা এমনভাবে বাহাদুরী দেখাচ্ছিল যেন তাদের সামনে দাঁড়াবার মত কেউ নেই৷ এমনি একটা উৎকট অহংকারের ভাব তাদের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠছিল৷ এ ছিল তাদের নৈতিক অব্স্থা৷ আর যে উদ্দেশ্যে তারা ঘর থেকে বের হয়েছিল তা ছিল তাদের এ নৈতিক অবস্থার চাইতেও আরো বেশী নোংরা ও অপবিত্র এবং তা তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল অতিরিক্ত অভিশাপের বোঝা৷ তারা সত্য, সততা ও ইনসাফের ঝাণ্ডা বুলন্দ করার জন্য ধন ও প্রাণ উৎসর্গ করতে এগিয়ে আসেনি৷ বরং এ ঝাণ্ডা বুলন্দ না হয় এবং যে একটি মাত্র দল সত্যের এ লক্ষে পৌছার জন্যে এগিয়ে এসেছে তাকেও যাতে খতম করা যায় সেই উদ্দেশ্যেই তারা বের হয়েছিল৷ তারা চাইছিল দুনিয়ায় এ ঝাণ্ডা বহনকারী আর কেউ থাকবে না৷ এ ব্যাপারে মুসলমানদের সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে যে, তোমরা এমনটি হয়ে যেয়ো না৷ আল্লাহ তোমাদের ঈমান ও সত্য প্রিয়তার যে নিয়ামত দান করেছন তার দাবী অনুযায়ী তোমাদের চরিত্র যেমন পাক-পবিত্র হতে হবে তেমনি তোমাদের যুদ্ধের উদ্দেশ্যও এ নির্দেশ শুধুমাত্র সেই যুগের জন্যে নির্দিষ্ট ছিল না৷ আজকের জন্যও এবং চিরকালের জন্যে এ নির্দেশ প্রযোজ্য৷ সেদিন কাফেরদের সেনাবাহিনীর যে অবস্থা ছিল আজো তার মধ্যে কোন পরিবর্তন হয়নি৷ বেশ্যালয় ,ব্যভিচারের আড্ডা ও মদের পিপা যেন অবিচ্ছেদ্য অংগের মত তাদের সাথে জড়িয়ে আছে৷ গোপনে নয়, প্রকাশ্যে তারা অত্যন্ত নির্লজ্জতার সাথে মেয়েও মদের বেশী বেশী বরাদ্দ দাবী করে ৷ তাদের সৈন্যরা নিজেদের জাতির কাছে যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নিজেদের সমাজের বেশী সংখ্যক যুবতী মেয়েদেরকে তাদের হাতে তুলে দেবার দাবী জানাতে লজ্জাবোধ করে না৷ এ অবস্থায় অন্য জাতিরা এদের থেকে কি আশা করতে পারে যে, এরা নিজেদের নৈতিক আবর্জনার ফাঁকে তাদেরকে ডুবিয়ে দেবার ব্যাপারে কোন প্রকার চেষ্টার ক্রটি করবে না? আর এদের দম্ভ ও অহংকারের ব্যাপারে বলা যায়, এদের প্রত্যেকটি সৈনিক ও অফিসারের চালচলন ও কাথাবার্তার ধরন থেকে তা একেবারে পরিস্কার দেখা যেতে পারে৷ আর এদের প্রত্যেক জাতির নেতৃস্থানীয় পরিচালকবৃন্দের বক্তৃতাবলীতে--------- (আজ তোমাদের ওপর বিজয়ী হতে পারে দুনিয়াতে এমন কেউ নেই)এবং ------------(কে আমাদের চেয়ে শক্তিশালী? ) ধরনের দম্ভোক্তিই শ্রুত হয়ে থাকে৷ এদের যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও লক্ষ এ নৈতিক পূতিগন্ধময় আবর্জনা থেকেও বেশী কুৎসিত ও নোংরা ৷ এদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত প্রতারণাপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করে দুনিয়াবাসীকে একথার নিশ্চয়তা দিয়ে যায় যে, মানবতার কল্যাণ ছাড়া তার সামনে আর কোন লক্ষ নেই ৷ কিন্তু আসলে শুধুমাত্র মানবতার কল্যাণটাই তাদের লক্ষ্যের অন্তরভুক্ত নয়, বাকী সবকিছুই সেখানে আছে৷এদের যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তার এ পৃথিবীতে সমগ্র মানব জাতির জন্যে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার জাতি একাই হবে তার ওপর দখলদার এবং অন্যদের তার চাকর ও কৃপাপ্রার্থী হয়ে থাকতে হবে৷ কাজেই এখানে ঈমানদারদেরকে কুরআন এ স্থায়ী নির্দেশ দিয়েছে যে, এ ফাসেক ও ফাজেরদের আচার আচরণ থেকেও দূরে থাকো৷ আবার যেসব অপবিত্র ও পূতিগন্ধময় উদ্দেশ্য নিয়ে এরা যুদ্ধে লিপ্ত হয় সেই ধরনের উদ্দশ্যে নিজেদের ধন-প্রাণ উৎসর্গ করতে উদ্যোগী হয়ো না৷