(৮:৩৮) হে নবী! এ কাফেরদের বলে দাও , যদি এখনো তারা ফিরে আসে ,তাহলে যা কিছু আগে হয়ে গেছে তা মাফ করা হবে৷ কিন্তু যদি তারা আগের আচরণের পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে অতীতের জাতিগুলোর সাথে যা কিছু ঘটে গেছে তা সবার জানা৷
(৮:৩৯) হে ঈমানদারগণ! এ কাফেরদের সাথে এমন যুদ্ধ করো যেন গোমরাহী ও বিশৃংখলা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়৷ ৩১
(৮:৪০) তারপর যদি তারা ফিতনা থেকে বিরত হয় তাহলে আল্লাহই তাদের আমল দেখবেন৷ আর যদি তারা না মানে তাহলে জেনে রাখো, আল্লাহ তোমাদের পৃষ্ঠপোষক এবং তিনি সবচেয়ে ভাল সাহায্য -সহায়তা দানকারী৷
(৮:৪১) আর তোমরা জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু গনীমাতের মাল লাভ করেছো তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ আল্লাহ, তাঁর রসূল , আত্মীয়স্বজন , এতীম মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত৷ ৩২ যদি তোমরা ঈমান এনে থাকো আল্লাহর প্রতি এবং ফায়সালার দিন অর্থাৎ উভয় সেনাবাহিনীর সামনা সামানি মোকাবিলার দিন আমি নিজের বান্দার ওপর যা নাযিল করেছিলাম তার প্রতি, ৩৩ (অতএব সানন্দে এ অংশ আদায় করো) আল্লাহ প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর শক্তিশালী৷
(৮:৪২) স্মরণ করো সেই সময়ের কথা যখন তোমরা উপত্যকার এদিকে ছিলে এবং তারা ছিল অন্যদিকে শিবির তৈরী করে আর কাফেলা ছিল তোমাদের থেকে নিচের(উপকূল) দিকে৷ যদি আগেভাগেই তোমাদের ও তাদের মধ্যে মোকাবিলার চুক্তি থাকতো তাহলে তোমরা অবশ্যি এ সময় পাশ কাটিয়ে যেতে৷ কিন্তু যা কিছু সংঘটিত হয়েছে তা এ জন্য ছিল যে, আল্লাহ যে বিষয়ের ফায়সালা করে ফেলেছিলেন তা তিনি কার্যকর করবেনই৷ এভাবে যাকে ধ্বংস হতে হবে সে সুষ্পষ্ট প্রমাণ সহকারে ধ্বংস হবে এবং যাকে জীবিত থাকতে হবে সে সুষ্পষ্ট প্রমাণ সহকারে জীবিত থাকবে৷ ৩৪ অবশ্যি আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও সবকিছু জানেন৷ ৩৫
(৮:৪৩) আর স্মরণ করো, যখন হে নবী, আল্লাহ তোমাদের স্বপ্নের মধ্যে তাদেরকে সামান্য সংখক দেখাচ্ছিলেন৷ ৩৬ যদি তিনি তোমাকে তাদের সংখ্যা বেশী দেখিয়ে দিতেন তাহলে নিশ্চয়ই তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধ করার ব্যাপরে ঝগড়া শুরু করে দিতে৷ কিন্তু আল্লাহই তোমাদের এ থেকে রক্ষা করেছেন৷ অবশ্যি তিনি মনের অবস্থাও জানেন৷
(৮:৪৪) আর স্মরণ করো, যখন সমানাসমানি যুদ্ধের সময় আল্লাহ তোমাদের দৃষ্টিতে শত্রুদের সামান্য সংখ্যক দেখিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টিতেও তোমাদের কম করে দেখিয়েছেন , যাতে যে বিষয়টি অনিবার্য ছিল তাকে আল্লাহ প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত সমস্ত আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়৷
৩১. ইতিপূর্বে সূরা আল বাকারার ১৯৩ আয়াতের মুসলমানদের যুদ্ধের যে একটি উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছিল এখানে আবার সেই একই উদ্দেশ্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে৷ এ উদ্দেশ্যের নেতিবাচক দিক হচ্ছে, ফিতনার অস্তিত্ব থাকবে না, আর এর নৈতিক উদ্দেশ্য এবং এ উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করা মুমিনদের জন্যে শুধু বৈধই নয় বরং ফরযও৷ এ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য যুদ্ধ করা জায়েয নয় এবং মুমিনদের জন্যে তা শোভনীয়ও নয়৷ (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্যে সূরা বাকারার ২০৪ও ২০৫ টীকা দেখুন)৷
৩২. এ ভাষণটির শুরুতেই গনীমতের মাল সম্পর্কে বলা হয়েছিল যে, তা আল্লাহর পক্ষে থেকে পুরষ্কার এবং তার ব্যাপারে ফায়সালা করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রসূলই রাখেন৷ এখানে এ গনীমতের মাল বন্টনের আইন কানুন বর্ণনা করা হয়েছে এখানে এ ফায়সালাটিও শুনিয়ে দেয়া হয়েছে যে, যুদ্ধের পরে সকল সৈনিকের সব ধরনের গনীমতের মাল এনে আমীর বা ইমামের কাছে জমা দিতে হবে৷ কোন একটি জিনিসও তারা লূকিয়ে রাখতে পারবে না৷ তারপর এ সম্পদ থেকে পাঁচ ভাগের এক ভাগ করে নিতে হবে ৷ আয়াতে যে উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে এ দিয়ে তা পূর্ণ করতে হবে৷ বাকী চার অংশ যারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে বন্টন করে দিতে হবে ৷ কাজেই এ আয়াত অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হামেশা যুদ্ধের পর ঘোষনা দিতেনঃ

------------------------------------

"এ গনীমতের সম্পদগুলো তোমাদের জন্যই৷ এক পঞ্চমাংশ ছাড়া এর মধ্যে আমার নিজের কোন অধিকার নেই৷ আর এই এক পঞ্চামাংশ ও তোমাদেরই সামগ্রিক কল্যানার্থেই ব্যয়িত হয়৷ কাজেই একটি সুই ও একটি সূতা পর্যন্তও এনে রেখে দাও৷ কোন ছোট বা বড় জিনিস লুকিয়ে রেখো না৷ কারণ এমনি করা কলংকের ব্যাপার এবং এর পরিণাম জাহান্নাম" ৷

এ বন্টনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অংশ একটিই৷ এ অংশটিকে আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা এবং সত্য দীন প্রতিষ্ঠিত কাজে ব্যয় করাই মূল লক্ষ৷

আত্মীয় স্বজন বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় তো তাঁর আত্মীয় স্বজনই বুঝোতো৷ কারণ তিনি নিজের সবটুকু সময় দীন প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যয় করতেন৷ নিজের অন্ন সংস্থানের জন্যে কোন কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভবপর ছিল না৷ একারনে তাঁর নিজের তাঁর পরিবারের লোকদের এবং যেসব আত্মীয়ের ভরণ পোষনের দায়িত্ব তাঁর ওপর ছিল তাদের সবার প্রয়োজন পূরণ করার কোন একটা ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন ছিল৷ তাই খুমুস তথা এক পঞ্চামাংশের তাঁর আত্মীয়ের অংশ রাখা হয়েছে কিন্তু নবী (সা) এর ইন্তেকালের পর আত্মীয় স্বজনদের এ অংশটি কাদেরকে দেয়া হবে এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে৷ এক দলের মতে নবী (সা) পর এ অংশ বাতিল হয়ে গেছে ৷ দ্বিতীয় দলের মতে, নবী(সা) এর পরে যে ব্যক্তি তাঁর খেলাফতের দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত হবেন তার আত্মীয় স্বজনরা এ অংশটি পাবে৷ তৃতীয় দলটির মতে, এ অংশটি নবীর বংশের ফকীর -মিসকীনদের মধ্যে বন্টন করা হতে থাকবে৷ আমার নিজস্ব গবেষনা -অনুসন্ধানের ফলে যেটুকু আমি জানতে পেরেছি, তাতে দেখা যায় যে, খোলাফায়ের রাশেদীনের যামানায় এ তৃতীয় মতটিই কার্যকর হতে থেকেছে৷
৩৩. অর্থাৎ যে সাহায্য -সমর্থনের মাধ্যমে তোমরা বিজয় অর্জন করেছো৷
৩৪. অর্থাৎ প্রমাণ হয়ে যাবে যে, যে জীবিত আছে তার জীবিত থাকাই উচিত ছিল এবং যে ধ্বংস হয়ে গেছে তার ধ্বংস হয়ে যাওয়াই সমীচীন ছিল৷ এখানে জীবিত থাকা ধ্বংস হওয়া বলতে ব্যক্তিদেরকে নয় বরং ইসলাম ও জাহেলিয়াতকে বুঝানো হয়েছে৷
৩৫. অর্থাৎ আল্লাহ অন্ধ ,বধির ও বেখবর নন ৷ বরং তিনি জ্ঞানী -সবকিছু জানেন এবং সবকিছু দেখেন ৷ তাঁর রাজত্বে অন্ধের মত আন্দাজে কাজ কারবার হচ্ছে না ৷
৩৬. এটা এমন এক সময়ের কথা যখন নবী (সা) মুসলমানদের নিয়ে মদীনা থেকে বের হচ্ছিলেন পথে কোন মনযিলে অবস্থান করেছিলেন তখন কাফেদের যথার্থ সৈন্য সংখ্যা জানা যায়নি৷ এ সময় নবী (সা) স্বপ্নে কাফেরদের সেনাবাহিনী দেখলেন ৷ তাঁর সামনে যে দৃশ্যপট পেশ করা হয় তাতে শত্রু সেনাদের খুব বেশী নয় বলে তিনি অনুমান করতে পারলেন৷ এ স্বপ্নের বিচরণ তিনি মুসলমানদের শুনালেন৷ এতে মুসলমানদের হিম্মত বেড়ে গেলো৷ এবং তারা তাদের অগ্রযাত্র অব্যহত রাখলো৷