(৭৯:২৭) তোমাদের ১৩ সৃষ্টি করা বেশী কঠিন কাজ , না আকাশের ? ১৪ আল্লাহই তাকে সৃষ্টি করেছেন ,
(৭৯:২৮) তার ছাদ অনেক উঁচু করেছেন৷ তারপর তার ভারসাম্য কায়েম করেছেন৷
(৭৯:২৯) তার রাতকে ঢেকে দিয়েছেন এবং তার দিনকে প্রকাশ করেছেন৷১৫
(৭৯:৩০) এরপর তিনি যমীনকে বিছিয়েছেন৷ ১৬
(৭৯:৩১) তার মধ্য থেকে তার পানি ও উদ্ভিদ বের করেছেন ১৭
(৭৯:৩২) এবং তার মধ্যে পাহাড় গেড়ে দিয়েছেন ,
(৭৯:৩৩) জীবন যাপনের সামগ্রী হিসেবে তোমাদের গৃহপালিত পশুদের জন্য ১৮
(৭৯:৩৪) তারপর যখন মহাবিপর্যয় ঘটবে৷ ১৯
(৭৯:৩৫) যেদিন মানুষ নিজে যা কিছু করেছে তা সব স্মরণ করবে ২০
(৭৯:৩৬) এবং প্রত্যেক দর্শনকারীর সামনে জাহান্নাম খুলে ধরা হবে ,
(৭৯:৩৭) তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছিল
(৭৯:৩৮) এবং দুনিয়ার জীবনকে বেশী ভালো মনে করে বেছে নিয়েছিল ,
(৭৯:৩৯) জাহান্নামই হবে তার ঠিকানা৷
(৭৯:৪০) আর যে ব্যক্তি নিজের রবের সামনে এসে দাঁড়াবার ব্যাপারে ভীত ছিল এবং নফসকে খারাপ কামনা থেকে বিরত রেখেছিল
(৭৯:৪১) তার ঠিকানা হবে জান্নাত ৷ ২১
(৭৯:৪২) এরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে , সেই সময়টি ( কিয়ামত ) কখন আসবে ? ২২
(৭৯:৪৩) সেই সময়টি বলার সাথে তোমার সম্পর্ক কি ?
(৭৯:৪৪) এর জ্ঞান তো আল্লাহ পর্যন্তই শেষ ৷
(৭৯:৪৫) তাঁর ভয়ে ভীত এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে সতর্ক করাই শুধুমাত্র তোমার দায়িত্ব ৷২৩
(৭৯:৪৬) যেদিন এরা তা দেখে নেবে সেদিন এর অনুভব করবে যেন ( এরা দুনিয়ায় অথবা মৃত অবস্থায় ) একদিন বিকালে বা সকালে অবস্থান করছে মাত্র ৷২৪
১৩. কিয়ামত ও মৃত্যুর পরের জীবন যে সম্ভব এবং তা যে সৃষ্টি জগতের পরিবেশ পরিস্থিতির যুক্তিসংগত দাবী একথার যৌক্তিকতা এখানে পেশ করা হয়েছে৷
১৪. এখানে সৃষ্টি করা মানে দ্বিতীয়বার মানুষ সৃষ্টি করা৷ আর আকাশ মানে সমগ্র উর্ধজগত , যেখানে রয়েছে অসংখ্য গ্রহ , তারকা , অগণিত সৌরজগত , নীহারিকা ও ছায়াপথ৷ একথা বলার অর্থ হচ্ছে : তোমরা মৃত্যুর পর আবার জীবিত করাকে বড়ই অসম্ভব কাজ মনে করছো৷ বারবার বলছো , আমাদের হাড়গুলো পর্যন্ত যখন পচে গলে যাবে , সে অবস্থায় আমাদের শরীরের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো আবার এক জায়গায় জমা করা হবে এবং তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা হবে , এটা কেমন করে সম্ভব ? তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো , এই বিশাল বিশ্ব জাহানের সৃষ্টি বেশী কঠিন কাজ , না তোমাদের একবার সৃষ্টি করার পর দ্বিতীয়বার সেই একই আকৃতিতে সৃষ্টি করা কঠিন ? যে আল্লাহর জন্য প্রথমটি কঠিন ছিল না তার জন্য দ্বিতীয়টি অসম্ভব হবে কেন ? মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে এই যুক্তিটিই কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পেশ করা হয়েছে৷ যেমন সূরা ইয়াসিনে বলা হয়েছে : " আর যিনি আকাশ ও পৃথিবী তৈরী করেছেন , তিনি কি এই ধরনেসর জিনিসগুলোকে ( পুনর্বার) সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন না ? কেন নয় ? তিনি তো মহাপরাক্রমশালী স্রষ্টা ৷ সৃষ্টি করার কাজ তিনি খুব ভালো করেই জানেন ৷ " ( ৮১ আয়াত) সূরা মু'মিনে বলা হয়েছে : " অবশ্যি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টির চাইতে অনেক বেশী বড় কাজ ৷ কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না ৷ ( ৫৭ আয়াত )
১৫. রাত ও দিনকে আকাশের সাথে সম্পর্কিত করেছেন৷ কারণ আকাশের সূর্য অস্ত যাওয়ার ফলে রাত হয় এবং সূর্য উঠার ফলে হয় দিন ৷ রাতের জন্য ঢেকে দেয়া শব্দটি এই অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে যে , সূর্য অস্ত যাওয়ার পর রাতে অন্ধকার পৃথিবীর ওপর এমনভাবে ছেয়ে যায় যেন ওপর থেকে তার ওপর পরদা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়৷
১৬. " এরপর তিনি যমীনকে বিছিয়েছেন " এর অর্থ এ নয় যে , আকাশ সৃষ্টি করার পরই আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন৷ এটা ঠিক এমনই একটা বর্ণনা পদ্ধতি যেমন আমরা বলে থাকি , " তারপর একথাটা চিন্তা করতে হবে ৷ " এর মানে এ নয় যে , প্রথমে ওই কথাটা বলা হয়েছে তারপর একথাটা বলা হচ্ছে৷ এভাবে আগের কথার সাথে একথাটার ঘটনামূলক ধারাবাহিক সম্পর্কের বিষয় বর্ণনা করা এখানে উদ্দেশ্যে নয় বরং দু'টি কথা একসাথে বলা হলেও এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যে হয় একটা কথার পরে দ্বিতীয় কথার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা ৷ এই বর্ণনা পদ্ধতির অসংখ্য নজীর কুরআন মজীদেই পাওয়া যাবে ৷ যেমন সূরা কলমে বলা হয়েছে : আরবী ----------------------------------------------"জালেম এবং তারপর বজ্জাত" এর অর্থ এ নয় যে , প্রথমে সে জালেম হয়েছে তারপর হয়েছে বজ্জাত ৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে , সে জালেম এবং তার ওপর অতিরিক্ত হচ্ছে সে বজ্জাতও ৷ এভাবে সূরা বালাদে বলা হয়েছে : আরবী -------------------------------------------- " দাসকে মুক্ত করে দেয়া ----------------------- তারপর মু'মিনদের অন্তরভুক্ত হওয়া৷ এর অর্থ এ নয় যে , প্রথমে সে ( দাস মুক্ত করে সৎকাজ করবে তারপর ঈমান আনবে৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে , এসব সৎকাজ করার প্রবণতার সাথে সাথে তার মধ্যে মু'মিন হবার গুণটিও থাকতে হবে৷ এখানে একথাটিও অনুধাবন করতে হবে যে , কুরআনে কোথাও পৃথিবী সৃষ্টির ব্যাপারটি আগে এবং আকাশ সৃষ্টির ব্যাপারটি পরে উল্লেখ করা হয়েছে৷ যেমন সূরা বাকারা ২৯ আয়াতে ৷ আবার কোথাও আকাশ সৃষ্টির ব্যাপারটি আগে এবং পৃথিবী সৃষ্টির ব্যাপারটিও পরে উল্লেখ করা হয়েছে৷ যেমন এই আয়াতগুলোতে আমরা দেখতে পাচ্ছি৷ এটি আসলে কোন বিপরীতধর্মী বক্তব্য নয়৷ কুরআনের এসব জায়গায় কোথাও কাকে আগে ও কাকে পরে সৃষ্টি করা হয়েছে একথা বলা মূল বক্তব্যের উদ্দেশ্য নয়৷ বরং সেখানে পরিবেশ ও পরিস্থিতির দাবী অনুযায়ী আল্লাহর অসীম ক্ষমতা সুস্পষ্ট করে তুলে ধরার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সেখানে আকাশসমূহের আলোচনা প্রথমে করা হয়েছে এবং পৃথিবীর আলোচনা করা হয়েছে পরে৷ আবার যেখানে ভাষণের ধারা অনুযায়ী পৃথিবীতে মানূষ যেসব নিয়ামত লাভ করছে সেগুলোর কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে৷ সেখানে পৃথিবীর আলোচনা করা হয়েছে আকাশের আগে ৷ ( আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য তাফহীমুল কুরআন , হাম মীম আস সাজদাহ ১৩ থেকে ১৪ টীকা দেখুন)
১৭. উদ্ভিদ বলতে শুধু প্রাণীদের খাদ্য উদ্ভিদের কথা বলা হয়নি বরং মানুষ ও পশু উভয়ের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত যাবতীয় উদ্ভিদের কথা বলা হয়েছে ৷ রা'আ ( আরবী) ও রতু'আ ( আবী) শব্দ যদিও সাধারণভাবে আরবী ভাষায় পশুদের চারণভূমির জন্য ব্যবহার করা হয় , তবুও কখনো কখনো মানুষের জন্য ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে৷ যেমন সূরা ইউসুফে হযরত ইউসুফের ( আ) ভাইয়েরা তাদের মহামান্য পিতাকে বলেন : আরবী ------------"আপনি আগামীকাল ইউসুফকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিন৷ কিছু চরে বেড়াবে এবং খেলাধূলাও করবে " ( ১৩ আয়াত) এখানে শিশু কিশোরের জন্য চরে বেড়ানো শব্দটি বনের মধ্যে চলাফেরা ও ঘোরাঘুরি করে গাছ থেকে ফল পাড়া ও খাওয়া অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে৷
১৮. এই আয়াতগুলোতে কিয়ামত ও মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য দুই ধরনের যুক্তি পেশ করা হয়েছে৷ এক , যে আল্লাহ আসাধারণ বিস্ময়কর ভারসাম্য সহকারে বিশাল বিস্তৃত বিশ্বজগত এবং জীবন যাপনের নানাবিধ উপকরণ সহকারে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন , তার অসীম ক্ষমতা বলে কিয়ামত ও মৃত্যুর পরের জীবনের অনুষ্ঠান মোটেই কঠিন ও অসম্ভব ব্যাপার নয়৷ দুই , এই মহাবিশ্বে ও এ পৃথিবীতে আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞানবত্তায় যেসব নিদর্শন সুস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে , তা একথাই প্রমাণ করে যে , এখানে কোন কাজই উদ্দেশ্যেহীনভাবে হচ্ছে না৷ মহাশূন্যে গ্রহ , তারকা , নীহারিকা ও ছায়াপথের মধ্যে যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত রয়েছে , তা একথারই সাক্ষ্য বহন করছে যে , এসব কিছু অকস্মাৎ হয়ে যায়নি ৷ বরং এর পেছনে একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত পরিকল্পনা কাজ করে যাচ্ছে৷ একটি নিয়মের অধীনে এই রাত ও দিনের আসা যাওয়া একথাই প্রমাণ করে যে , পৃথিবীতে জনবসতি গড়ে তোলার জন্য পূর্ণ বিজ্ঞতা সহকারে এই নিয়ম শৃংখলা কয়েম করা হয়েছে৷ এ পৃথিবীতেই এমন এলাকা আছে যেখানে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে দিন রাত্রির আবর্তন হয়ে৷ আবার এমন এলাকাও আছে যেখানে রাত হয় অতি দীর্ঘ এবং দিন ও হয় অতি দীর্ঘ ৷ পৃথিবীর জনবসতির অনেক বড় অংশ প্রথম এলাকায় অবস্থিত ৷ আবার যেখানে রাত ও দিন যত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে যেতে থাকে সেখানে জীবন যাপন ও হয় তত বেশী কঠিন ও কষ্টকর৷ ফলে জনবসতিও সেখানে তত বেশী কম হয়ে যেতে থাকে ৷ এমন কি যে এলাকায় ছয় মাস দিন ও ছয় মাস রাত হয় সে এলাকা জনবসতির মোটেই উপযোগী নয়৷ এ পৃথিবীতেই এ দুটি নমুনা দেখিয়ে দিয়ে মহান আল্লাহ এ সত্যটি প্রমাণ করেছেন যে , রাত ও দিনের যথা নিয়মে যাওয়া আসার ব্যবস্থা কোন ঘটনাক্রমিক ব্যাপার নয় বরং পৃথিবীকে মানুষের উপযোগী করার জন্য বিপুল জ্ঞান ও কলা কুশলতা সহকারে একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ীই এ ব্যাস্থা করা হয়ে‌ছে৷ অনুরূপভাবে পৃথিবীকে তিনি এমনভাবে বিছিয়ে দিয়েছেন যার ফলে তা মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে৷ তার মধ্যে এমন পানি সৃষ্টি করেছেন , যা মানুষ ও পশু পান করতে এবং যার সাহায্যে উদ্ভিদ জীবনী শক্তি লাভ করতে পারে৷ তার মধ্যে পাহাড় গেড়ে দিয়েছেন এবং এমন সব জিনিস সৃষ্টি করেছেন যা মানুষ ও সব ধরনের প্রাণীর জীবন ধারণের মাধ্যমে পরিণত হতে পারে৷ এসব কিছুই একথা প্রমাণ করে যে , এগুলো হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয় বা কোন বাজিকর ডুগডুগি বাজিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে এসব করে বসেনি৷ বরং এর প্রত্যেকটি কাজই বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পন্ন করেছেন একজন সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞান সম্পন্ন সত্তা৷ এখন কিয়ামত ও পরকালের জীবন অনুষ্ঠিত হওয়া বা না হওয়া কোনটা যুক্তিসংগত ও বুদ্ধি বিবেচনাসম্মত সুস্থবুদ্ধি বিবেক সম্পন্ন প্রতিটি ব্যক্তিই একথা চিন্তা করতে পারে৷ এ সমস্ত জিনিস দেখার পরও যে ব্যক্তি বলে আখেরাত অনুষ্ঠিত হবে না সে যেন বলতে চায় , এখানে অন্য সবকিছুই হিকমত তথা জ্ঞান বুদ্ধি বিচক্ষণতা ও বিশেষ উদ্দেশ্য সহকারে হচ্ছে , তবে শুধুমাত্র পৃথিবীতে মানুষকে যে বুদ্ধি , সচেতনতা ও ক্ষমতা ইখতিয়ার দিয়ে সৃস্টি করা হয়েছে এর পেছনে কোন উদ্দেশ্য ও বুদ্ধি বিচক্ষণতা নেই৷ কারণ এই পৃথিবীতে মানুষকে বিপুল ক্ষমতা ইখতিয়ার দিয়ে সব রকমের ভালো মন্দ কাজ করার স্বাধীনতা ও সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে কিন্তু কখনো তার কাজের কোন হিসেব নেয়া হবে না৷ এর চেয়ে বড় উদ্দেশ্যহীনতা ও অযৌক্তিক কথা আর কিছুই হতে পারে না৷
১৯. এই মহাবিপর্যয় হচ্ছে কিয়ামত৷ এ জন্য এখানে (আরবী --------------------------------) (আততাম্মাতুল কুবরা ) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ " তাম্মাহ " বলতে এমন ধরনের মহাবিপদ বুঝায় যা সবকিছুই ওপর ছেয়ে যায় ৷ এরপর আবার তার সাথে " কুবরা " ( মহা) শব্দ ব্যবহার করে একথা প্রকাশ করা হয়েছে যে সেই বিপদ ও বিপর্যয়ের ভয়াবহতা ও ব্যাপকতা বুঝাবার জন্য শুধুমাত্র " তাম্মাহ" শব্দ যথেষ্ট নয়৷
২০. অর্থাৎ যেদিন মানুষ দেখে নেবে যে , দুনিয়ায় যে হিসেব নিকেশের খবর তাকে দেয়া হয়েছিল সেদিনটি এসে গেছে৷ সে সময় আমলনামা হাতে দেবার আগে দুনিয়ায় সে যা কিছু করেছিল এক এক করে সবকিছু তার মনে পড়ে যাবে৷ কোন কোন লোক দুনিয়াতেও এ অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকে যে হঠাৎ তারা কোন ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি হয়৷ মৃত্যুকে তাদের একেবারে অতি নিকটে দেখতে পায় ৷ এ অবস্থায় নিজেদের সারা জীবনের সমস্ত কর্মকাণ্ডের চিত্র তাদের মানস পটে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে উঠে৷
২১. আখেরাতে আসল ফায়সালার ভিত্তি কি , সে কথা এখন কয়েকটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে বলে দেয়া হয়েছে৷ দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে একটি দৃষ্টিভংগী হচ্ছে , মানুষ দাসত্বের সীমানা অতিক্রম করে আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে এবং স্থির করে নিয়েছে যে , যেভাবেই হোক না কেন দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল ও দুনিয়ার স্বাদ আস্বাদন করাই তার লক্ষ৷ এ সম্পর্কে দ্বিতীয় দৃষ্টিভংগীটি হচ্ছে দুণিয়াবী জীবন যাপন করার সময় মানুষকে খেয়াল রাখতে হবে যে , একদিন তাকে নিজের রবের সামনে হাজির হতে হবে এবং প্রবৃত্তির অভিলাশ পূরণ করতে সে এ জন্য বিরত থাকবে যে , যদি এখানে সে নিজের প্রবৃত্তির দাবী মেনে নিয়ে কোন অবৈধ সুযোগ সুবিধা লাভ করে অথবা কোন অবৈধ ভোগবিলাসে লিপ্ত হয় , তাহলে নিজের রবের কাছে এর কি জবাব দেবে ? মানুষ দুনিয়ার জীবনে দু'টি দৃষ্টিভংগী মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণ করবে এরি ওপর আখেরাতের ফায়সালা নির্ভর করবে৷ যদি প্রথমটি গ্রহণ করে তাহলে তার স্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম ৷ আর যদি দ্বিতীয়টি গ্রহণ করে , তাহলে তার স্থায়ী ও চিরন্তন আবাস হবে জান্নাত৷
২২. মক্কার কাফেররা রসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বারবার এ প্রশ্ন করতো ৷ তাদের এ প্রশ্নটি করার উদ্দেশ্য ছিল কিয়ামত কবে হবে , তার সময় ও তারিখ জানা নয় বরং এ নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করা ৷ ( আরো বেশী ব্যাখ্যা জানার জন্য তাফহীমূল কুরআন , সূরা মূলক ৩৫ টীকা দেখুন)
২৩. এর ব্যাখ্যা ও সূরা মূলকের ৩৬ টীকায় আলোচিত হয়েছে৷ তবে এখানে তার ভয়ে ভীত প্রত্যক ব্যক্তিকে সতর্ক করে দেয়াই শুধুমাত্র তোমর দায়িত্ব একথা বলার অর্থ এ নয় যে , যারা ভীত নয় তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া তোমার দায়িত্ব নয়৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে , তোমাদের সতর্ক করে দেবার ফয়াদ তারাই লাভ করতে পাবে যারা সেদিনটির আসার ভয়ে ভীত থাকবে ৷
২৪. এ বিষয়বস্থটি এর আগেও কুরআনের আরো কয়েকটি জায়গায় বর্ণনা করা হয়েছে৷ সেগুলোর ব্যাখ্যা আমি সেখানে করে এসেছি৷ এ জন্য তাফহীমূল কুরআন সূরা ইউনুস ৫৩ টীকা , বনী ইসরাঈল ৫৬ টীকা , ত্বা - হা ৮০ টীকা , আল মু'মিনূন ১০১ টীকা , আর রূম ৮১ -- ৮২ টীকা ও ইয়াসীন ৪৮ টীকা দেখুন৷ এ ছাড়া ও সূরা আহকাফের ৩৫ আয়াতেও এ বিষয়বস্তুটি বর্ণিত হয়েছে৷ তবে সেখানে আমি এর ব্যাখ্যা করিনি৷ কারণ এর আগেও কয়েক জায়গায় এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে৷