(৭৮:৩১) অবশ্যি মুত্তাকীদের ১৯ জন্য সাফল্যের একটি স্থান রয়েছে৷
(৭৮:৩২) বাগ - বাগিচা , আঙুর ,
(৭৮:৩৩) নবযৌবনা সমবয়সী তরুণীবৃন্দ ২০
(৭৮:৩৪) এবং উচ্ছসিত পানপাত্র৷
(৭৮:৩৫) সেখানে তারা শুনবে না কোন বাজে ও মিথ্যা কথা৷২১
(৭৮:৩৬) প্রতিদান ও যথেষ্ট পুরস্কার ২২ তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ,
(৭৮:৩৭) সেই পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি পৃথিবী ও আকাশসমূহের এবং তাদের মধ্যবর্তী প্রত্যেকটি জিনিসের মালিক , যার সামনে কারো কথা বলার শক্তি থাকবে না৷২৩
(৭৮:৩৮) যেদিন রূহ ২৪ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে৷ পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যে ঠিক কথা বলবে, সে ছাড়া আর কেউ কথা বলবে না৷২৫
(৭৮:৩৯) সেদিনটি নিশ্চিতভাবেই আসবে৷ এখন যার ইচ্ছ নিজের রবের দিকে ফেরার পথ ধরুক৷
(৭৮:৪০) যে আযাবটি কাছে এসে গেছে সে সম্পর্কে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিলাম৷২৬ যেদিন মানুষ সেসব কিছুই দেখবে যা তার দুটি হাত আগেই পাঠিয়ে দিয়েছে এবং কাফের বলে উঠবে , হায় ! আমি যদি মাটি হতাম ৷২৭
১৯. এখানে মুত্তকী শব্দটি এমন সব লোকের মোকাবিলায় ব্যবহার করা হয়েছে না যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের দুনিয়ার কার্যক্রমের হিসেব দেবার কোন ধারণা পোষণ করতো না৷ এবং যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল৷ তাই নিশ্চিতভাবেই এ আয়াতে এমন সব লোকের কথা বলা হয়েছে যারা আল্লাহর আয়াতকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিল এবং একথা মনে করে দুনিয়ার সমস্ত কাজের হিসেব দিতে হবে৷
২০. এর অর্থ এও হতে পারে যে , তারা পরস্পর সমবয়স্কা হবে ৷ আবার এ অর্থ ও হতে পারে যে , তাদেরকে যেসব পুরুষের স্ত্রী হিসেবে দেয়া হবে তারা সে সব স্বামীদের সমবয়স্কা হবে৷ ইতিপূর্বে সূরা সা'দ এর ৫২ আয়াতে এবং সূরা ওয়াকিয়ার ৩৭ আয়াতেও এ বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে৷
২১. জান্নাতে মানুষ কোন বাজে , নোংরা , মিথ্যা ও অর্থহীন কথা শুনবে না৷ মানুষের কান এ থেকে সংরক্ষিত থাকবে৷ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়টিকে জান্নাতের বিরাট নিয়ামত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে৷ জান্নাতে কোন কটুকথা ও আজেবাজে গপসপ হবে না৷ কেউ করোর সাথে মিথ্যা কথা বলবে না এবং কারোর কথাকে মিথ্যাও বলবে না৷ দুনিয়ায় গালিগালাজ , মিথ্যা দোষারোপ , অভিযোগ , কুৎসা প্রচার ও অন্যের ওপর মিথ্যা দোষ চাপিয়ে দেবার যে ব্যাপক প্রচেষ্টা মানুষের সমাজে চলছে তার ছিঁটে ফোটাও সেখানে থাকবে না৷ ( আরো বেশী ব্যাখ্যা জানার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন , সূরা মারয়াম ৩৮ টীকা এবং আল ওয়াকিয়াহ ১৩ ও ১৪ টীকা)৷
২২. প্রতিদান শব্দের পরে আবার যথেষ্ট পুরস্কার দেবার কথা বলার অর্থ এ দাঁড়াবে যে , তারা নিজেদের সৎকাজের বিনিময়ে যে প্রতিদান লাভের অধিকারী হবে কেবলমাত্র ততটুকুই তাদেরকে দেয়া হবো না বরং তার ওপর অতিরিক্ত পুরস্কার এবং অনেক বেশী পুরস্কার দেয়া হবে৷ বিপরীত পক্ষে জাহান্নামবাসীদের জন্য কেবলমাত্র এতটুকুই বলা হয়েছে যে, তাদেরকে তাদের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে৷ অর্থাৎ তাদের যে পরিণাম অপরাধ তার চেয়ে বেশী শাস্তি দেয়া হবে না৷ এবং কমও দেয়া হবে না৷ কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে একথা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে৷ যেমন সূরা ইউনুস ২৬ -- ২৭ আয়াত , আন নামল ৮৯ - ৯০ আয়াত, আল কাসাস ৮৪ আয়াত , সাবা ৩৩ আয়াত এবং আল মু'মিন ৪০ আয়াত৷
২৩. অর্থাৎ হাশরের ময়দানে আল্লাহর দরবারের শান শওকত , প্রভাব ও প্রতিপত্তি এমন পর্যায়ের হবে যার ফলে পৃথিবী বা আকাশের আধিবাসী কারোর আল্লাহর সামনে কথা বলার অথবা তাঁর আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার সাহস হবে না৷
২৪. অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে এখানে জিব্রীল আলাইহিস সালামের কথা বলা হয়েছে৷ আল্লাহর দরবারে তিনি উন্নত মর্যাদার অধিকারী হবার কারণে এখানে অন্যান্য ফেরেশতাদের থেকে আলাদাভাবে তাঁর কথা বলা হয়েছে৷ (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন সূরা আল মা'আরিজ ৩ টীকা৷ )
২৫. এখানে কথা বলা মানে শাফায়াত করা বলা হয়েছে , কেবলমাত্র দু'টি শর্ত সাপেক্ষে সেদিন এ শাফায়াত সম্ভব হবে৷ এক , যে ব্যক্তিকে যে গুনাহগারের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফায়াত করার অনুমতি দেয়া হবে একমাত্র সে ই তার জন্য শাফায়াত করতে পারবে৷ দুই , শাফায়াতকারীকে সঠিক ও যথার্থ সত্য কথা বলতে হবে৷ অন্যায় সুপারিশ করতে পারবে না৷ দুনিয়ায় কমপক্ষে সত্যের কালেমার সমর্থক অর্থাৎ নিছক গুনাহগার ছিল , কাফের ছিল না , এমন ব্যক্তির পক্ষে সুপারিশ করতে হবে৷ ( অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন আল বাকারাহ ২৮১ টীকা , ইউনুস ৫ টীকা , হূদ ১০৬ টীকা , মারয়াম ৫২ টীকা ,ত্বা - হা ৮৫ - ৮৬ টীকা , আল আম্বিয়া ২৭ টীকা , সাবা ৪০ - ৪১ আল মু'মিন ৩২ টীকা , আয যুখরুফ ৬৮ টীকা , আন নাজন ২১ টীকা এবং আল মুদদাসসির ৩৬ টীকা )
২৬. আপাতদৃষ্টিতে এক ব্যক্তি এখানে একথা চিন্তা করতে পারে যে যাদেরকে সম্বোধন করে একথা বলা হয়েছিল তারা চৌদ্দ'শ বছর আগে দুনিয়া থেকে চলে গেছে এবং এখনো বলা যেতে পারে না , কিয়ামত আগামী কত শত , হাজার বা লক্ষ বছর পরে আসবে , তাহলে একথাটি কোন অর্থে বলা হয়েছে যে ,যে আযাবটি কাছে এসে গেছে সে সম্পর্কে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিলাম ? তাছাড়া সূরার সূচনায় কেমন করে একথা বলা হলো যে , শীঘ্রই তারা জানতে পারবে ? এর জবাব এই যে মানুষ যতক্ষণ এ দুনিয়ার স্থান ও কালের সীমানায় রক্ত মাংসের শরীর নিয়ে অবস্থান করে কেবল ততক্ষণই তার মধ্যে সময়ের অনুভূতি থাকে৷ মরণের পরে যখন শুধুমাত্র রূহই বাকি থেকে যাবে তখন আর সময়ের চেতনা ও অনুভূতি থাকবে না৷ আর কিয়ামতের দিন মানুষ যখন পুনর্বার জীবিত হয়ে উঠবে তখন তার মনে হবে যেন এখনি ঘুমের মধ্যে কেউ তাকে জাগিয়ে দিয়েছে৷ হাজার হাজার বছর পরে তাকে আবার জীবিত করা হয়েছে , এ অনুভূতির লেশমাত্রও তখন তার মধ্যে থাকবে না৷ (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন , সূরা আন নামল ২৬ টীকা , বনি ইসরাঈল ৫৬ টীকা , ত্বা - হা ৮০ টীকা এবং ইয়াসীন ৪৮ টীকা )
২৭. অর্থাৎ দুনিয়ার জন্মই না হতো অথবা মরে গিয়ে মাটিতে মিশে যেতাম এবং আবার জীবিত হয়ে ওঠার সুযোগ না হতো৷