(৭৬:২৩) হে নবী ,আমিই তোমার এ কুরআনে অল্প অল্প করে নাযিল করেছি৷ ২৭
(৭৬:২৪) তাই তুমি ধৈর্যের সাথে তোমার রবের হুকুম পালন করতে থাকো৷ ২৮ এবং এদের মধ্যকার কোন দুষ্কর্মশীল এবং সত্য অমান্যকারীর কথা শুনবে না৷ ২৯
(৭৬:২৫) সকাল সন্ধ্যায় তোমার রবের নাম স্মরণ করো৷
(৭৬:২৬) রাতের বেলায়ও তার সামনে সিজদায় অবনত হও৷ রাতের দীর্ঘ সময় তাঁর তাসবীহ অর্থাৎ পবিত্র বর্ণনা করতে থাকো৷ ৩০
(৭৬:২৭) এসব লোক তো দ্রুত লাভ করা যায় এমন জিনিসকে (দুনিয়াকে)ভালবাসে এবং ভবিষ্যতে যে কঠিন দিন আসছে তাকে উপেক্ষা করে চলছে৷ ৩১
(৭৬:২৮) আমিই এদের সৃষ্টি করেছি এবং এদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও সন্ধিস্থল মজবুত করেছি৷ আর যখনই চাইবো তাদের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে দেব৷ ৩২
(৭৬:২৯) এটি একটি উপদেশ বাণী৷এখন কেউ চাইলে তার রবের দিকে যাওয়ার পথ অবলম্বন করতে পারে৷ ৩৩
(৭৬:৩০) তোমাদের চাওয়ার কিছুই হয় না যদি আল্লাহ না চান৷
(৭৬:৩১) আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সুবিজ্ঞ৷ যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে তাঁর রহমতের মধ্যে শামিল করেন৷ আর জালেমদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কঠিন শাস্তি৷ ৩৪
২৭. এখানে বাহ্যত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হলেও বক্তব্যের মূল লক্ষ কাফেররা৷ মক্কার কাফেররা বলতো, এ কুরআন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে চিন্তা-ভাবনা করে রচনা করেছেন৷ অন্যথায়, আল্লাহ তা"আলার পক্ষ থেকে কোন ফরমান এলে তা একেবারেই এসে যেতো৷ কুরআনে কোন কোন যায়গায় তাদের এ অভিযোগ উদ্ধৃত করে তার জবাব দেয়া হয়েছে৷ (উদাহরণস্বরূপ দেখুন, তাফহীমুল কুরআন,আল নাহল,টীকা ১০২,১০৪,১০৫,১০৬;বনী ইসরাঈল, টীকা ১১৯৷) এখানে তাদের অভিযোগ উদ্ধৃত না করেই আল্লাহ তা"আলা অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে ঘোষণা করেছেন যে, কুরআনের নাযিলকারী আমি নিজেই৷ অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রচয়িতা নন৷ আমি নিজেই তা ক্রমান্বয়ে নাযিল করেছি৷ অর্থাৎ আমার প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার দাবী হলো, আমার বাণীকে একই সাথে একটি গ্রন্থের আকারে নাযিল না করা অল্প অল্প করে নাযিল করা৷
২৮. অর্থাৎ তোমার "রব" তোমাকে যে বিরাট কাজ আঞ্জাম দেয়ার আদেশ দিয়েছেন তা আঞ্জাম দেয়ার পথে যে দুঃখ-যাতননা ও বিপদ-মুসিবত আসবে তার জন্য "সবর"করো৷ যাই ঘটুক না কেন সাহস ও দৃঢ়তার সাথে তা বরদাশত করতে থাকো৷ এবং এ দৃঢ়তা ও সাহসিকতায় যেন কোন বিচ্যুতি আসতে না পারে৷
২৯. অর্থাৎ তাদের কারো চাপে পড়ে দীনে হকের প্রচার ও প্রসারের কাজ থেকে বিরত হয়ো না এবং কোন দুষ্কর্মশীলের কারণে দীনের নৈতিক শিক্ষায় কিংবা সত্য অস্বীকারকারীর কারণে দীনের আকীদ-বিশ্বাসে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করতেও প্রস্তুত হয়ো না ৷ যা হারাম ও নাজায়েজ তাকে খোলাখুলি হারাম ও নাজায়েয বলো, এর সমালোচনার ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় হওয়ার জন্য কোন দুষ্কর্মশীল যতই চাপ দিক না কেন৷ যেসব আকীদা-বিশ্বাস বাতিল তাকে খোলাখুলি বাতিল বলে ঘোষণা করো৷ আর যা হক তাকে প্রকাশ্যে হক বলে ঘোষণা করো, এ ক্ষেত্রে কাফেররা তোমার মুখ বন্ধ করার জন্য কিংবা এ ব্যাপারে কিছুটা নমনীয়তা দেখানোর জন্য তোমার ওপর যত চাপই প্রয়োগ করুক না কেন৷
৩০. কুরআনের প্রতিষ্ঠিত রীতি হলো যেখানেই কাফেরদের মোকাবিলায় ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেখানোর উপদেশ দেয়া হয়েছে সেখানে এর পরপরই আল্লাহকে স্মরণ করার ও নামাযের হুকুম দেয়া হয়েছে৷ এ থেকে আপনা আপনি প্রকাশ পায় যে, সত্য দীনের পথে সত্যের দুশমনদের বাধার মোকাবিলা করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তা এভাবেই অর্জিত হয়৷ সকাল ও সন্ধায় আল্লাহকে স্মরণ করার অর্থ সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করাও হতে পারে৷ তবে সময় নির্দিষ্ট করে যখন আল্লাহকে স্মরণ করার হুকুম দেয়া হয় তখন তার অর্থ হয় নামায৷ এর আয়াতে আল্লাহ তা"আলা সর্বপ্রথম বলেছেনঃ-------আরবী ভাষায় বুকরাতান---- শব্দের অর্থ সকাল৷আর আছিলা শব্দটি সূর্য মাথার ওপর থেকে হেলে পড়ার সময় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় বুঝাতে ব্যবহার করা হয় যার মধ্যে যোহর এবং আসরের সময়ও শামিল৷এরপরে বলেছেনঃ -----------৷রাত শুরু হয় সূর্যাস্তের পরে৷ তাই রাতের বেলা সিজদা করার নির্দেশের মধ্যে মাগরিব এবং "ঈশার দু"ওয়াক্তের নামাযই অন্তরভুক্ত হয়ে যায়৷ এর পরের কথাটি "রাতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাঁর তাসবীহ বা পবিত্রতা বর্ণনা কর" তাহাজ্জুদ নামাযের প্রতি স্পষ্টভাবে ইংগিত করে৷ (আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন,বনী ইসরাঈল, টীকা ৯২ থেকে ৯৭; আল মুয্যাম্মিল ,টীকা ২৷)এ থেকে একথাও জানা গেল যে, ইসলামে প্রথম থেকে এগুলোই ছিল নামাযের সময়৷ তবে সময় ও রাক"আত নির্দিষ্ট করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে মে"রাজের সময়৷
৩১. অর্থাৎ কুরাইশ গোত্রের এসব কাফেররা যে কারণে আখলাক ও আকীদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে গোমরাহীকে আঁকড়ে ধরে থাকতে আগ্রহী এবং তাদের কান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের "দাওয়াতে হক" বা সত্যের আহবানের প্রতি অমনযোগী ,প্রকৃতপক্ষে সে কারণ হলো, তাদের দুনিয়া পূজা, আখেরাত সম্পর্কে নিরুদ্বিগ্নতা, উদাসীনতা ও বেপরোয়া ভাব৷ তাই একজন সত্যিকারের আল্লাহভীরু মানুষের পথ এবং এদের পথ এতটা ভিন্ন যে, এ দুটি পথের মধ্যে সমঝোতা কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না৷
৩২. মুল বাক্য হলো-------------------------৷এ আয়াতাংশের কয়েকটি অর্থ হতে পারে৷ একটি অর্থ হতে পারে যখনই ইচ্ছা আমি তাদের ধ্বংস করে তাদের স্থলে অন্য মানুষদের নিয়ে আসতে পারি ,যারা তাদের কাজ-কর্ম ও আচার -আচরণের এদের থেকে ভিন্ন প্রকৃতির হবে৷ এর দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে,যখনই ইচ্ছা আমি এদের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে দিতে পারি৷ অর্থাৎ আমি যেমন কাউকে সুস্থ ও নিখুঁত অংগ-প্রতংগের অধিকারী করে সৃষ্টি করতে সক্ষম তেমনি কাউকে পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিতে এবং কাউকে আংশিক পক্ষাঘাতের দ্বারা মুখ বাঁকা করে দিতে আবার কাউকে কোন রোগ বা দুর্ঘটনার শিকার বানিয়ে পংগু করে দিতেও সক্ষম৷ তৃতীয় অর্থ হলো, যখনই ইচ্ছা মৃত্যুর পর আমি এদেরকে পুনরায় অন্য কোন আকার আকৃতিতে সৃষ্টি করতে পারি৷
৩৩. ৩৩ . ব্যাখ্যার জন্য দেখুন,তাফহিমূল কুরআন,আল মুদ্দাস্সির ,টীকা ৪১ (তাছাড়াও দেখুন, সূলা আদ দাহরের ১নং পরিশিষ্ট)৷

পরিশিষ্ট-১
৩৩নং টীকার সাথে সংশ্লিষ্ট

","এ আয়াতগুলোতে তিনটি কথা বলা হয়েছে৷এক,কেউ চাইলে তার রবের দিকে যাওয়ার পথ অবলম্বন করতে পারে৷ দুই,যদি আল্লাহ না চান তাহলে শুধু তোমাদের চাওয়ার কিছুই হয় না৷ তিন,আল্লাহ অত্যন্ত কুশলী, সূক্ষ্মদর্শী ও মহাজ্ঞানী ৷ এ তিনটি কথা সম্পর্কে যদি ভালভাবে চিন্তা করা যায় তাহলে মানুষের বাছাই বা পছন্দ করার স্বাধীনতা এবং আল্লাহর ইচ্ছার মধ্যকার সম্পর্ক খুব ভালভাবেই বুঝা যায় এবং তাকদীর সম্পর্কে মানুষের মনে যেসব জটিলতা দেখা যায় তা পরিষ্কার হয়ে যায়৷

প্রথম আয়াত থেকে জানা যায় যে, এ পৃথিবীতে মানুষকে যে ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে তা শুধু এতটুকু যে, এখানে জীবন যাপনের জন্য যেসব ভিন্ন ভিন্ন পথ তার সামনে আসে তার মধ্য থেকে কোন একটি পথ অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নেবে৷ গ্রহণ বা বাছাই করার এরূপ অনেক স্বাধীনতা(Freedom of Choice)আল্লাহ তা"আলা তাকে দিয়েছেন৷যেমন,এক ব্যক্তির সামনে যখন তা জীবিকা উপার্জনের প্রশ্ন দেখা দেয় তখন তার সামনে অনেকগুলো পথ থাকে৷ এসব পথের মধ্যে কিছু সংখ্যক থাকে হালাল পথ৷যেমন,সবরকম বৈধ শ্রমকর্ম,চাকুরি-বাকুরি,ব্যবসায় -বাণিজ্য, অথবা শিল্প ও কারিগরি কিংবা কৃষি৷আবার কিছু সংখ্যক থাকে হারাম পথ৷ যেমন ,চুরি -ডাকাতি,রাহাজানি,পকেট মারা, ব্যভিচার, সুদখোরী, জুয়া, ঘুষ এবং হারাম প্রকৃতির সবরকম চাকুরি-বাকুরি ও ব্যবসায়-বাণিজ্য ইত্যাদি৷ এসব পথের মধ্যে থেকে কোন পথটি সে বেছে নেবে এবং কিভাবে সে তার জীবিকা উপার্জন করতে চায় সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইখতিয়ার মানুষকেই দেয়া হয়েছে৷ অনুরূপ নৈতিক চরিত্রেরও বিভিন্ন ঢং বা প্রকৃতি আছে৷ এক দিকে আছে দীনদারী, আমানতদারী, ভদ্রতা, শিষ্টাচার, ইনসাফ,দায়ামায়া, সমবেদনা এবং সতীত্ব ও পবিত্রতার মত উন্নত স্বভাব ও গুণাবলী৷ অন্যদিকে আছে বদমাইশী, নীচতা, জুলুম-অত্যাচার ,বেঈমানী, বখাটেপনা, বেহুদাপনা, ও অভদ্রতার মত হীন স্বভাবসমূহ৷ এর মধ্যে থেকে যে ঢং ও প্রকৃতির নৈতিক চরিত্রের পথ বা দোষ-গুণ সে অবলম্বন করতে চায় তা করার পূর্ণ স্বাধীনতা তার আছে ৷ আদর্শ ও ধর্মের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা৷ এ ক্ষেত্রেও মানুষের সামনে বহু পথ খোলা আছে৷নাস্তিকতা তথা আল্লাহকে অস্বীকার করা, শিরক ও মূর্তিপূজা, শিরক ও তাওহীদের বিভিন্ন সংমিশ্রণ এবং আল্লাহর আনুগত্যের একমাত্র নিখাদ ধর্ম কুরআন যার শিক্ষা দেয়৷ এর মধ্যে ও মানুষ কোনটিকে গ্রহণ করতে চায় সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ইখতিয়ার মানুষের হাতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে৷আল্লাহ তা"আলা জোর করে তার ওপরে কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না যে, সে নিজে হালাল রুজি খেতে চায় কিন্তু আল্লাহ তাকে হারাম খোর হতে বাধ্য করেছেন অথবা সে কুরআনের অনুসরণ করতে চায় কিন্তু আল্লাহ তা"আলা তাকে জোরপূর্বক নাস্তিক, মুশরিক অথবা কাফের বানিয়ে দিচ্ছেন৷অথবা সে চায় সৎ মানুষ হতে কিন্তু আল্লাহ তাকে খামাকা তাকে অসৎ বানিয়ে দিচ্ছেন৷

কিন্তু পছন্দ ও নির্বাচনের ও স্বাধীনতার পরেও মানুষের যা ইচ্ছা তাই করতে পারা আল্লাহর ইচ্ছা , তার অনুমোদন ও তাওফীক দানের ওপর নির্ভর করে৷ মানুষ যে কাজ করার আকাংখা, ইচ্ছা বা সংকল্প করেছে তা মানুষকে করতে দেয়ার ইচ্ছা যদি আল্লাহর থাকে তবেই সে তার করতে পারে৷অন্যথায় সে যত চেষ্টাই করুক না কেন আল্লাহর অনুমোদন ও তার ইচ্ছা ছাড়া সে কিছুই করতে সক্ষম নয়৷ দ্বিতীয় আয়াতে একথাটিই বলা হয়েছে৷এ ব্যাপারটিকে এভাবে বুঝতে চেষ্টা করুন যে, দুনিয়ার সব মানুষকে যদি সব ক্ষমতা ও ইখতিয়ার দিয়ে দেয়া হতো আর এ বিষয়টিও তার ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া হতো যে, সে যা ইচ্ছা করতে পারবে তাহলে সারা দুনিয়ার সব ব্যবস্থাপনা ও নিয়ম-শৃংখলা ধ্বংস এবং ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যেতো৷যাকে ইচ্ছা হত্যা করার অবাধ স্বাধীনতা পেলে একজন হত্যাকারীই সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে হত্যা করার জন্য যথেষ্ট ছিল৷একজন পকেটমারের যদি এ ক্ষমতা থাকতো যে, যার পকেট ইচ্ছা সে মারতে পারবে তাহলের পৃথিবীর কোন মানুষের পকেটেই তার হাতে থেকে রক্ষা পেতো না৷ কোন চোরের হাত থেকে কারো সম্পদ রক্ষা পেতো না, কোন ব্যভিচারীর হাতে থেকে কোন নারীর সতীত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষা পেতো না এবং কোন ডাকাতের হাত থেকে কারো বাড়ী-ঘর রক্ষা পেতো না,যদি এদের সবারই যথোচ্ছাচারের পূর্ণ ইখতিয়ার বা ক্ষমতা থাকতো৷ তাই মানুষ ন্যায় বা অন্যায় যে পথেই চলতে ইচ্ছা করুক না কেন সে পথে চলতে দেয়া না দেয়ার বিষয়টি আল্লাহ নিজের হাতেই রেখে দিয়েছেন৷যে ব্যক্তি গোমরাহীর পথ বর্জন করে সত্যের পথে চলার অবলম্বন করতে চায় আল্লাহর ইচ্ছা এবং তাওফীক লাভ করেই কেবল সে সত্য পথে চলার সৌভাগ্য লাভ করতে পারে৷ তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো ,গোমরাহীকে বর্জন করে হিদায়াতকে বাছাই ও গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত খোদ মানুষকেই নিতে হবে৷ তা না হলে আল্লাহ তাআলা জোরপূর্বক যেমন কাউকে চোর ,খুনী, নাস্তিক বা মুশরিক বানান না তেমনি জোরপূর্বক তাকে ঈমানদার ও বানান না৷

অতপর তৃতীয় আয়াতে এ ভ্রান্ত ধারাণার অপনোদন করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা"আলার এ ইচ্ছা আবার নিয়ম-বিধি মুক্ত স্বেচ্ছাচারমূলক (Arbitrary)ব্যাপার কিনা এ ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্য বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা"আলা ---এবং --------- অর্থাৎ তিনি যেমন সর্বজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী,তেমনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী, কুশলী ও প্রজ্ঞাময়৷ তিনি যা কিছু করেন জ্ঞান ও বিজ্ঞতার সাথেই করেন৷ তাই তাঁর সিদ্ধান্ত ভুল -ত্রুটি হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই৷ কাকে কি "তাওফীক" দিতে হবে এবং কি দিতে হবে না, কাকে কি কাজ করতে দেয়া উচিত আর কাকে দেয়া উচিত নয় সে সিদ্ধান্ত তিনি পূর্ণ জ্ঞান এবং যুক্তি ও কৌশলের ভিত্তিতে গ্রহণ করেন৷ মানুষকে তিনি যতটা অবকাশ দেন এবং উপায়-উপকরণকেও যতটা তার অনুকূল করে দেন ভাল হোক বা মন্দ হোক মানুষ নিজের ইচ্ছানুসারে ঠিক ততটা কাজই করতে পারে৷ হিদায়াত লাভের ব্যাপারটাও এ নিয়মের বাইরে নয়৷ কে হিদায়াদের উপযুক্ত আর কে নয় নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহ তা"আলাই তা জানেন এবং নিজের যুক্তি ও কৌলশের ভিত্তিতে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণও তিনিই করে থাকেন৷
৩৪. এ সূরার ভূমিকাতে আমরা এর ব্যাখ্যা করেছি৷ (তাছাড়া সূরা আদ দাহরের ২নং পরিশিষ্ট দেখুন৷)

পরিশিষ্ট-২
৩৪নং টীকার সাথে সম্পর্কিত

এ আয়াতে জালেম বলে সেসব লোককে বুঝানো হয়েছে যাদের কাছে আল্লাহর বাণী এবং তাঁর নবীর শিক্ষা আসার পর তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা ও বিচার -বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, তার আনুগত্য তারা করবে না৷ এর মধ্যে সেসব জালেমও আছে যারা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে আমরা এ বাণীকে আল্লাহর বাণী এবং এ নবীকে আল্লাহর নবী বলে মানি না৷ অথবা আল্লাহকেই আদৌ মানি না৷আবার সেসব জালেমও আছে যারা আল্লাহ, নবী ও কুরআনকে মানতে অস্বীকার করে না বটে কিন্তু সিদ্ধান্ত তাদের এটাই থাকে যে, তারা তার আনুগত্য করবে না৷ প্রকৃতপক্ষে এ দুটি গোষ্ঠিই জালেম ৷ প্রথম গোষ্ঠির ব্যাপারটা তো স্পষ্ট৷ কিন্তু দ্বিতীয় গোষ্টীও তাদের চেয়ে কোন অংশে কম জালেম নয়৷ বরং জালেম হওয়ার সাথে সাথে তারা মুনাফিক এবং প্রতারকও৷ তারা মুখে বলে, আমরা আল্লাহকে মানি,কুরআনকে মানি৷ কিন্তু তাদের মন ও মগজের ফায়সালা হলো, তারা অনুসরণ করবে না ৷ আর তারা কাজও করে এর পরিপন্থী৷ এ দু শ্রেণীর মানুষ সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলার ঘোষণা হলো, আমি তাদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি৷ দুনিয়াতে তারা যতই নির্ভীক ও বেপরোয়া চলুক, আরাম আয়েশে বিভোর থাকুক এবং নিজের বাহাদুরীর ডাংক বাজাক না কেন অবশেষে তাদের পরিণাম কঠোর শাস্তি ছাড়া কিছুই নয়৷ আল্লাহর রহমতের মধ্যে প্রবেশ করা তাদের ভাগ্যলিপিতেই নেই৷