(৭৪:৩২) কখ্খনো না, ২৭ চাঁদের শপথ ,
(৭৪:৩৩) আর রাতের শপথ যখন তার অবসান ঘটে৷
(৭৪:৩৪) ভোরের শপথ যখন তা আলোকোজ্জল হয়ে উঠে৷
(৭৪:৩৫) এ দোযখও বড় জিনিসগুলোর একটি ৷ ২৮
(৭৪:৩৬) মানুষের জন্য ভীতিকর ৷
(৭৪:৩৭) যে অগ্রসর হতে চায় বা পেছনে পড়ে থাকতে চায় ২৯ তাদের সবার জন্য৷
(৭৪:৩৮) প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের কাছে দায়বদ্ধ ৷ ৩০
(৭৪:৩৯) তবে ডান দিকের লোকেরা ছাড়া ৩১
(৭৪:৪০) যারা জান্নাতে অবস্থান করবে৷
(৭৪:৪১) সেখানে তারা অপরাধীদের জিজ্ঞসা করতে থাকবে ৩২
(৭৪:৪২) কিসে তোমাদের দোযখে নিক্ষেপ করলো৷
(৭৪:৪৩) তারা বলবোঃ আমরা নামায পড়তাম না ৷ ৩৩
(৭৪:৪৪) অভাবীদের খাবার দিতাম না৷ ৩৪
(৭৪:৪৫) সত্যের বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারীদের সাথে মিলে আমরাও রটনা করতাম;
(৭৪:৪৬) প্রতিফল দিবস মিথ্যা মনে করতাম৷
(৭৪:৪৭) শেষ পর্যন্ত আমরা সে নিশ্চিত জিনিসের মুখোমুখি হয়েছি৷ ৩৫
(৭৪:৪৮) সে সময় সুপারিশকারীদের কোন সুপারিশ তাদের কাজে আসবে না৷ ৩৬
(৭৪:৪৯) এদের হলো কি যে এরা এ উপদেশ বাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে
(৭৪:৫০) যেন তারা বাঘের ভয়ে
(৭৪:৫১) পালায়নপর বন্য গাধা ৷ ৩৭
(৭৪:৫২) বরং তারা প্রত্যেকে চায় যে, তার নামে খোলা চিঠি পাঠানো হোক৷ ৩৮
(৭৪:৫৩) তা কখ্খেনো হবে না৷ আসল কথা হলো , এরা আখেরাতকে আদৌ ভয় করে না৷ ৩৯
(৭৪:৫৪) কখ্খনো না ৪০ এতো একটি উপদেশ বাণী৷
(৭৪:৫৫) এখন কেউ চাইলে এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক৷
(৭৪:৫৬) আর আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তারা কোন শিক্ষা গ্রহণ করবে না৷ ৪১ একমাত্র তিনিই তাকওয়া বা ভয়ের যোগ্য৷ ৪২ এবং (তাকওয়ার নীতি গ্রহণকারীদের) ক্ষমার অধিকারী৷ ৪৩
২৭. অর্থাৎ এটা কোন ভিত্তিহীন কথা নয় যে তা নিয়ে এভাবে হাসি তামাসা বা ঠাট্রা -বিদ্রুপ করা যাবে৷
২৮. অর্থাৎ চন্দ্র এবং রাত-দিন যেমন আল্লাহর কুদরতের বিরাট বিরাট নিদর্শন ঠিক তেমনি দোযখও আল্লাহর বিশাল সৃষ্টিসমূহের একটি৷ চাঁদের অস্তিত্ব যদি অসম্ভব না হয়ে থাকে৷ রাত ও দিনের নিয়মানুবর্তিতার সাথে আগমণ তথা আবর্তন যদি অসম্ভব না হয় তাহলে তোমাদের মতে দোযখের অস্তিত্ব অসম্ভব হবে কি কারণে?রাত দিন সব সময় যেহেতু তোমরা এসব জিনিস দেখছো তাই এগুলো সম্পর্কে তোমাদের মনে কোন বিস্ময় জাগে না৷ অন্যথায় এগুলোর প্রত্যেকটি আল্লাহর কুদরতের একেকটি বিস্ময়কর মু"জিযা৷কোন সময় এসব জিনিস যদি তোমরা না দেখতে৷ আর এ অবস্থায় কেউ যদি তোমাদের বলতো যে, চাঁদের মত একটি জিনিস এ পৃথিবীতে আছে অথবা সূর্য এমন একটি বস্তু যা আড়ালে চলে গেলে দুনিয়া আঁধারে ঢাকা পড়ে এবং আড়াল থেকে বেরিয়ে আসলে দুনিয়া আলোকোদ্ভাসিত হয়ে ওঠে তাহলে একথা শুনেও তোমাদের মত লোকেরা অট্টহাসিতে ঠিক তেমনি ফেটে পড়তে যেমন দোযখের কথা শুনে আজ ফেটে পড়ছো৷
২৯. এটা প্রচলিত একটি আরবী প্রবাদ৷ বন্য গাধার বৈশিষ্ট হলো বিপদের আভাস পাওয়া মাত্র এত অস্থির হয়ে পালাতে থাকে যে আর কোন জন্তু তেমন করে না৷ এ জন্য আরবরা অস্বাভাবিক রকম অস্থির ও দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পলায়নপর ব্যক্তিকে বাঘের গন্ধ বা শিকারীর মৃদু পদশব্দ শোনামাত্র পলায়নরত বন্য গাধার সাথে তুলনা করে থাকে৷
৩০. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন,তাফহীমুল কোরআন সূরা তূরের ১৬নং টীকা৷
৩১. অন্য কথায় বাম দিকের লোকেরা তাদের কৃতকর্মের বিনিময়ে পাকড়াও হবে৷ কিন্তু ডান দেকের লোকেরা দায়বদ্ধ অবস্থা থেকে নিজেদের মুক্ত করে নেবে৷ (ডান বা বাঁম দিকের ব্যাখ্যার জন্য দেখুন,তাফহীমুল কোরআন,সূরা ওয়াকিয়া, টীকা, ৫ও ৬)৷
৩২. ইতিপূর্বে কুরআন মজীদের কয়েকটি স্থানে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে যে,জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীরা পরস্পর থেকে লাখ লাখ মাইল দূরে অবস্থান করা সত্ত্বেও যখনই ইচ্ছা করবে কোন যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই একে অপরকে দেখতে পাবে এবং সরাসরি কথাবার্তাও বলতে পারবে ৷ উদাহরণ হিসেবে দেখুন,তাফহীমুল করআন,সূরা আল আরাফ ,আয়াত ৪৪ থেকে ৫০,টীকা ৩৫;আস সাফ্ফাত ,আয়াত ৫০ থেকে ৫৭,টীকা ৩২৷
৩৩. এর অর্থ হলো,যেসব মানুষ আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং তাঁর কিতাবকে মেনে নিয়ে মানুষের কাছে আল্লাহর প্রাথমিক হক অর্থাৎ নামায ঠিকমত আদায় করেছে আমরা তাদের মধ্যে অন্তরভুক্ত ছিলাম না৷ এ ক্ষেত্রে একথাটি খুব ভাল করে বুঝে নেয়া দরকার যে,কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত নামায পড়তেই পারে না যতক্ষণ না সে ঈমান আনে৷তাই নামাযী হওয়ার অনিবার্য অর্থ হচ্ছে ঈমানাদার হওয়া৷ কিন্তু নামাযী না হওয়াকে দোযখে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করার মাধ্যমে স্পষ্ট করে একথাই বলা হয়েছে যে,কোন ব্যক্তি নামায না পড়লে ঈমানদার হওয়া সত্ত্বেও সে দোখয থেকে বাঁচতে পারবে না৷
৩৪. এ থেকে জানা যায় কোন মানুষকে ক্ষুধার্ত দেখার পর সামর্থ থাকা সত্ত্বেও খাবার না দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে কত বড় গোনাহ যে, মানুষের দোযখে যাওয়ার কারণসমূহের মধ্যে এটাকেও একটা কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷
৩৫. অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত আমরা এ নীতি ও কর্মপন্থা অনুসরণ করেছি৷ শেষ পর্যন্ত সে নিশ্চিত বিষয়টি আমাদের সামনে এসে হাজির হয়েছে যে সম্পর্কে আমরা গাফিল হয়ে পড়েছিলাম৷ নিশ্চিত বিষয় বলে মৃত্যু ও আখেরাত উভয়টিকেই বুঝানো হয়েছে৷
৩৬. অর্থাৎ যারা মৃত্যু পর্যন্ত এ নীতি অনুসরণ করেছে তাদের জন্য শাফায়াত করলেও সে ক্ষমা লাভ করতে পারবে না৷ শাফায়াত সম্পর্কে কুরআন মজীদের বহু স্থানে এত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে , কে শাফায়াত করতে সক্ষম আর কে সক্ষম নয়, কোন অবস্থায় শাফায়াত করা যায় আর কোন অবস্থায় যায় না৷ কার জন্য করা যায় আর কার জন্য যায় না এবং কার জন্য তা কল্যাণকর আর কার জন্য তা কল্যাণকর নয় তা জানা কারো জন্য কঠিন নয়৷ পৃথিবীতে মানুষের গোমরাহীর বড় বড় কারণের মধ্যে একটি হলো শাফায়াত সম্পর্কে ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস পোষণ৷ তাই বিষয়টি কুরআন এত খোলামেলা ও স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছে যে,এ ক্ষেত্রে সন্দেহের আর কোন অবকাশই বাকী রাখেনি৷ উদাহরণ স্বরূপ নিচে নির্দেশিত আয়াতসমূহ দেখুন, সূরা আল বাকাবারাহ, ২৫৫; আ আন"আম ,৯৪; আল আ"রাঠ,৫৩; ইউনুস, ৩ও ১৮; মারয়াম, ৮৭;ত্বা-হা ,১০৯; আল আম্বিয়া,২৮; সাবা ,২৩; আয যুমার ,৪৩ও ৪৪,আল মু"মিন, ১৮; আদ দুখান, ৮৬; আন নাজম ,২৬ এবং আন নাবা ,৩৭ ও ৩৮৷ যেসব স্থানে এসব আয়াত আছে তাফহিমূল কোরআনের সেসেব জায়গায় আমরা বিস্তারিতভাবে তার ব্যাখ্যা পেশ করেছি৷
৩৭. এটা প্রচলিত একটি আরবী প্রবাদ৷ বন্য গাধার বৈশিষ্ট হলো বিপদের আভাস পাওয়া মাত্র এত অস্থির হয়ে পালাতে থাকে যে আর কোন জন্তু তেমন করে না৷ এ জন্য আরবরা অস্বাভাবিক রকম অস্থির ও দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পলায়নপর ব্যক্তিকে বাঘের গন্ধ বা শিকারীর মৃদু পদশব্দ শোনামাত্র পলায়নরত বন্য গাধার সাথে তুলনা করে থাকে৷
৩৮. অর্থাৎ তারা চায় যে, আল্লাহ তা"আলা যদি সত্যি সত্যিই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী হিসেবে পাঠিয়ে থাকেন তাহলে তিনি মক্কার প্রত্যেক নেতা ও সমাজপতিদের কাছে যেন একখানা করে পত্র লিখে পাঠান যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যিই আমার নবী, তোমরা তাঁর আনুগত্য করো৷ পত্রখানা এমন হবে যেন তা দেখে তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, আল্লাহই এ পত্র লিখে পাঠিয়েছেন৷কুরআন মজীদের অন্য এক জায়গায় মক্কার কাফেরদের এ উক্তির ও উল্লেখ করা হয়েছে৷ যে, "আল্লাহর রসূলদের যা দেয়া হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত তা আমাদের দেয়া না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা মেনে নেব না৷" (আল আন"আম ২৪) অন্য এক জায়গায় তাদের এ দাবীও উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, "আপনি আমাদের চোখের সামনে আসমানের উঠে যান এবং সেখান থেকে লিখিত কিতাব নিয়ে আসেন,আমরা তা পড়ে দেখবো৷"(বনী ইসরাঈল,৯৩)
৩৯. অর্থাৎ এদের ঈমান না আনার আসল কারণ এটা নয় যে, তাদের এ দাবী পূরণ করা হচ্ছে না৷ বরং এর আসল কারণ হলো এরা আখেরাতের ব্যাপারে বেপরোয়া ও নির্ভীক৷ এরা এ পৃথিবীকেই পরম পাওয়া মনে করে নিয়েছে৷ তাই তাদের এ ধারণাটুকু পর্যন্ত নেই যে, এ দুনিয়ার জীবন শেষ হওয়ার পর আরেকটি জীবন আছে যেখানে তাদেরকে নিজ নিজ কৃতকর্মের হিসেব দিতে হবে৷ এ জিনিসটিই তাদেরকে এ পৃথিবীতে নিরুদ্বিগ্ন ও দায়িত্বহীন বানিয়ে দিয়েছে৷ হক ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যার প্রশ্নে তারা অর্থহীন মনে করে৷ কারণ দুনিয়াতে এমন কোন সত্য তারা দেখতে পায় না যা অনুসরণ করার ফলাফল এ দুনিয়াতে সবসময় ভাল হয়ে থাকে এবং এমন কোন বাতিল বা মিথ্যাও তারা দুনিয়াতে দেখতে পায় না যার ফলাফল এ দুনিয়াতে সবসময় মন্দই হয়ে থাকে৷ তাই প্রকৃতপক্ষে সত্য কি আর মিথ্যা কি তা নিয়ে চিন্তা -ভাবন করা তারা নিরর্থক মনে করে৷ যে ব্যক্তি দুনিয়াতর এ জীবনকে অস্থায়ী জীবন বলে মনে করে এবং সাথে সাথে এও বিশ্বাস করে যে, সত্যিকার এবং চিরস্থায়ী জীবন হলো আখেরাতের জীবন যেখানে সত্যের ফলাফল অনিবার্যরূপে ভাল এবং মিথ্যার ফলাফল অনিবার্যরূপে মন্দ হবে, হক ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যার প্রশ্নটি কেবলমাত্র সে ব্যক্তির কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে৷ এ প্রকৃতির লোক কুরআনের পেশকৃত যুক্তিপূর্ণ দলীল-প্রমাণ এবং পবিত্র শিক্ষাসমূহ দেখেই তার প্রতি ইমান আনবে এবং নিজের বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ করে বুঝার চেষ্টা করবে যে, কুরআন যেসব আকীদা-বিশ্বাস এবং কাজ-কর্মকে ভ্রান্ত বলছে তার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কি কি ভুল -ভ্রান্তি আছে৷ কিন্তু আখেরাতকে অস্বীকারকারী , যে সত্যের অনুসন্ধানে নিষ্ঠাবান নয় সে ঈমান গ্রহণ না করার জন্য নতুন নতুন দাবী পেশ করতে থাকবে৷ অথচ তার যে কোন দাবীই পূরণ করা হোক না কেন সত্যকে অস্বীকার করার জন্য সে আরেকটি নতুন বাহান খাড়া করবে৷ এ কথাটিই সূরা আন"আমে এভাবে বলা হয়েছেঃ "হে নবী ,আমি যদি কাগজে লিখিত কোন গ্রন্থও তোমার প্রতি নাযিল করতাম আর এসব লোকেরা তা হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখতো তার পরও যারা সত্যকে অস্বীকার করেছে তারা বলতো, এতো স্পষ্ট যাদু৷ "(সূরা আল"আম ,৭)
৪০. অর্থাৎ তাদের এ ধরনের কোন দাবী কখ্খনো পূরণ করা হবে না৷
৪১. অর্থাৎ নসীহত গ্রহণ করা শুধু কোন ব্যক্তির নিজের ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করে না বরং নসীহত গ্রহণ করার সৌভাগ্য সে তখনই লাভ করে যখন আল্লাহর ইচ্ছা তাকে নসীহত গ্রহণ করার সুমতি ও সুবুদ্ধি দান করে৷ অন্য কথায় এখানে এ সত্য তুলরে ধরা হয়েছে যে ,বান্দার কোন কাজই এককভাবে বান্দার নিজের ইচ্ছায় সংঘটিত হয় না৷ বরং প্রতিটি কাজ কেবল তখনই পূর্ণতা লাভ করে যখন আল্লাহর ইচ্ছা বান্দার ইচ্ছার অনুকূল হয়৷ এ সূক্ষ্ম বিষয়টি সঠিকভাবে না বুঝার কারণে মানুষের ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই হোঁচট খায়৷ অল্প কথায় বিষয়টি এভাবে বুঝা যেতে পারে, প্রতিটি মানুষ যদি পৃথিবীতে এতটা ক্ষমতা ও শক্তির অধিকারী হতো যে, সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে তাহলে গোটা পৃথিবীর নিয়ম শৃংখলা ভেঙে পড়তো৷ বর্তমানে এ পৃথিবীতে যে নিয়ম শৃংখলা আছে তা এ কারণেই আছে যে, আল্লাহর ইচ্ছা সব ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করছে৷ মানুষ যা-ই করতে ইচ্ছা করুক না কেন তা সে কেবল তখনই করতে পারে যখন আল্লাহর ইচ্ছা হয় যে, সে তা করুক৷ হিদায়াত ও গোমরাহীর ব্যাপারটাও ঠিক অনুরূপ৷ নিজের জন্য হিদায়াত কামনা করাই মানুষের হিদায়াত পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়৷ বরং সে হেদায়াত কেবল তখনই লাভ করে যখন আল্লাহ তার এ আকাংখা পূরণ করার ফায়সালা করেন৷ একইভাবে বান্দার পক্ষ থেকে গোমরাহীর পথে চলার ইচ্ছাই তার গোমরাহীর জন্য যথেষ্ট নয়৷ বরং তার মধ্যে গোমরাহীর দাবী ও আকাংখা দেখে আল্লাহর ইচ্ছা যখন তাকে গোমরাহীও ভ্রান্তির পথে চলার মঞ্জুরী ও ফায়সালা দেন তখনই কেবল সে ভ্রান্তি ও গোমরাহীর পথে চলতে থাকে৷ এভাবে সে গোমরাহীর সেসব পথে চলতে পারে যেসব পথে চলার অবকাশ আল্লাহ তাকে দেন৷ উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় , কেউ যদি চোর হতে চায়, তাহলে তার এ ইচ্ছাটুকুই এ জন্য যথেষ্ট নয় যে, সে যেখানে ইচ্ছা, সে ঘর থেকে ইচ্ছা এবং যা ইচ্ছা চুরি করে নিয়ে যেতে পারবে৷ বরং আল্লাহ তাঁর নিজের ব্যাপক জ্ঞান,যুক্তি ও প্রজ্ঞা অনুসারে তার এ ইচ্ছাকে যখন,যতটা এবং যেভাবে পূরণ করার সুযোগ দেন সে কেবল ততটুকুই পূরণ করতে পারে৷৷
৪২. অর্থাৎ আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে নসীহত তোমাদের করা হচ্ছে তা এ জন্য নয় যে , তাতে আল্লাহর নিজের কোন প্রয়োজন আছে এবং তোমরা তা না করলে আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে৷ বরং এ নসীহত করা হচ্ছে এ জন্য যে, বান্দা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করুক এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে না চলুক এটা আল্লাহর হক বা অধিকার৷
৪৩. অর্থাৎ কেউ আল্লাহর নাফরমানী যতই করে থাকুক না কেন যখনই সে এ আচরণ থেকে বিরত হয় তখন আল্লাহ তার প্রতি নিজের রহমতের হাত বাড়িয়ে দেন৷ যেহেতু তিনি বান্দা থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের কোন ইচ্ছা আদৌ পোষণ করেন না তাই এমন হঠকারী তিনি নন যে, কোন অবস্থাই তাকে ক্ষমা করবেন না বা শাস্তি না দিয়ে ছাড়বেন না৷