(৭২:২০) হে নবী, বলো "আমি শুধু আমার রবকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না৷ ২১
(৭২:২১) বলো,"আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করারও ক্ষমতা রাখি না, উপকার করারও না৷
(৭২:২২) বলো,আল্লাহর পাকড়াও থেকে কেউ আমাকে বাঁচাতে সক্ষম নয় এবং তাঁর কাছে কোন আশ্রয়ও আমি পাব না৷
(৭২:২৩) আল্লাহর বাণী ও হুকুম-আহকাম পৌঁছিয়ে দেয়া ছাড়া আমার কাজ আর কিছুই নয় ৷ ২২ এরপর যারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কথা অমান্য করবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন৷ এ ধরনের লোকেরা চিরকাল সেখানে থাকবে ৷ ২৩
(৭২:২৪) (এসব লোক তাদের এ আচরণ থেকে বিরত হবে না) এমনকি অবশেষে যখন তারা সে জিনিসটি দেখবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেয়া হচ্ছে, তখন তারা জানতে পারবে যে, কার সাহায্যকারী দুর্বল এবং কার দল সংখ্যায় কম ৷ ২৪
(৭২:২৫) বলো,আমি জানি না , যে জিনিসের প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হচ্ছে তা নিকটে , না তার জন্য আমার রব কোন দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করছেন৷২৫
(৭২:২৬) তিনি গায়েবী বিষয়ে জ্ঞানের অধিকারী৷ তিনি তাঁর গায়েবী বিষয়ের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না৷ ২৬
(৭২:২৭) তবে যে রসূলকে (গায়েবী বিষয়ের কোন জ্ঞান দেয়ার জন্য) মনোনীত করেছেন ২৭ তাকে ছাড়া৷ তিনি তার সামনে ও পেছনে প্রহরী নিয়োজিত করেন৷ ২৮
(৭২:২৮) যাতে তিনি নিশ্চিতরূপে জানতে পারেন যে,রসূলগণ তাদের রবের বাণীসমূহ পৌঁছিয়ে দিয়েছেন ২৯ তিনি তাদের গোটা পরিবেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত৷ আর তিনি প্রতিটি জিনিস গুণে গুণে হিসেব করে রেখেছেন৷ ৩০
২১. অর্থাৎ আল্লাহকে ডাকা এমন কোন আপত্তিকর কাজ নয় যার জন্য মানুষ এতটা রাগান্বিত ও উত্তেজিত হয়ে পড়বে৷ তবে কেউ যদি আল্লাহর সাথে তাঁর প্রভুত্ব ও উলুহিয়্যাতের ব্যাপারে কাউকে শরীক করে তাহলে তা নিসন্দেহে খারাপ৷ আর এ কাজ আমি করিনি৷ বরং যারা আল্লাহর নাম শুনে আমার ওপর হামলা করতে চায় তারাই এ কাজ করেছে৷
২২. অর্থাৎ আমি কখনো এ দাবী করি না যে, আল্লাহর প্রভুত্বে আমার কোন দখলদারী বা কর্তৃত্ব আছে৷ কিংবা মানুষের ভাগ্য ভাঙা বা গড়ার ব্যাপারে আমার কোন ক্ষমতা আছে ৷আমি তো আল্লাহর একজন রসূল মাত্র৷ আমার ওপর যে কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তা তোমাদের কাছে আল্লাহ তা"আলার বাণী পৌছিয়ে দেয়ার অধিক আর কিছুই নয়৷ আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ব্যাপার তো পুরোপুরি আল্লাহরই করায়ত্ব ৷ অন্য কারো কল্যাণ বা ক্ষতি সাধন তো দূরের কথা নিজের ক্ষতি ও কল্যাণের ব্যাপারটিরও আমার নিজের ইচ্ছাধীন নয়৷ আমি যদি আল্লাহর নাফরমাণী করি তাহলে তাঁর পাকড়াও থেকে আত্মরক্ষা করে কোথাও আশ্রয় লাভ করতে পারবো না৷ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে ছাড়া আমার আর কোন আশ্রয়স্থল নেই৷(অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমূল কোরআন, সূরা আশ্ শূরা ,টীকা ৭)
২৩. এর অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি গোনহ ও অপরাধের শাস্তিই হচ্ছে চিরস্থায়ী জাহান্নাম৷ বরং যে প্রসংগে একথাটি বলা হয়েছে তার আলোকে আয়াতের অর্থ হলো আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে তাওহীদের যে আহবান জানানো হয়েছে তা যে ব্যক্তি মানবে না এবং শিরককেও বর্জন করবে না তার জন্য অবধারিত আছে জাহান্নামের চিরস্থায়ী শাস্তি৷
২৪. এ আয়তটির পটভূমি হলো, সে যুগে যেসব লোক আল্লাহর পথের দিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আহবান শুনেই তাঁর ওপর মারমুখী হতো তারা এ খোশ খেয়ালে নিমগ্ন ছিল যে, তাদের দলবলই বড়৷অপরদিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আছে আঙুলে গোণা কয়েকজন লোক৷ সুতরাং তারা অতি সহজেই তাকে পরাভুত করতে সক্ষম হবে৷ তাই বলা হচ্ছে, আজ এসব লোক রসূলকে (সা) অসহায় ও বন্ধুহীন এবং নিজেদের সংখ্যাধিক্য দেখে ন্যায় ও সত্যের কণ্ঠ স্তদ্ধ করে দিতে দুঃসাহস দেখাচ্ছে৷কিন্তু যে সময় সম্পর্কে তাদের সাবধান করে দেয়া হচ্ছে সে দুঃসময়টি যখন আসবে, তখন তারা বুঝতে পারবে প্রকৃত পক্ষে অসহায় ও বন্ধুহীন কারা৷
২৫. বর্ণনাভংগী থেকেই বুঝা যায়, এটি একটি প্রশ্নের জওয়াব৷এখানে প্রশ্নটি উল্লেখ না করে শুধু তার জবাব দেয়া হয়েছে৷ সম্ভবত ওপরে উল্লেখিত কথা শুনে বিরোধীরা বিদ্রুপের ভঙ্গীতে প্রশ্ন করে থাকবে যে , যে সময়ের ভয় তিনি দেখাচ্ছেন সে সময়টি কখন আসবে? তার জবাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তাদের বলো, সে সময়টি আগমণ তো নিশ্চিত ,তবে তার আগমণের দিনক্ষণ আমাকে জানানো হয়নি৷ সে সময়টি অতি আসন্ন , না তার জন্য দীর্ঘ সময় নির্দিষ্ট রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ তা"আলাই জানেন৷
২৬. অর্থাৎ গায়েবী বিষয়ের সবটুকু জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট৷ গায়েবী বিষয়ের এ পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান তিনি কাউকেই দেন না৷
২৭. অর্থাৎ রসূল নিজে "আলেমুল গায়েব" বা গায়েবী বিষয়ে জ্ঞানের অধিকারী নন৷ বরং আল্লাহ তা"আলা যখন তাকে রিসালাতের দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়ার জন্য মনোনীত করেন তখন তিনি ইচ্ছামত তাঁকে অদৃশ্য বস্তুসমূহের জ্ঞান দান করেন৷
২৮. প্রহরী মানে ফেরেশতা৷ অর্থাৎ আল্লাহ তা"আলা যখন অহীর মাধ্যমে গায়েবী বিষয়ের গভীর জ্ঞান ও তাৎপর্য তাঁর রসূলের কাছে পাঠান তখন তার রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারাদারীর জন্য সবখানে ফেরেশতা মোতায়েব করেন ৷ যাতে সে জ্ঞানটি অত্যন্ত সুরক্ষিত পন্থায় রসূলের কাছে পৌছতে পারে এবং তার মধ্যে বাইরের কোন কিছু সংমিশ্রন হতে না পারে৷ ওপরে ৮ও ৯ নং আয়াতে একথাটিই বলা হয়েছে ৷ সেখানে বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির পর জিনরা দেখলো তাদের উর্ধ জগতে প্রবেশের সব পথ বন্ধ৷ তারা দেখলো সব জায়গায় কঠোর প্রহরা বসানো হয়েছে যার কারণে ছিটে ফোঁটা কিছু আভাস লাভের সুযোগও তাদের নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷
২৯. এর তিনটি অর্থ হতে পারে৷ এক, রসূল নিশ্চিতভাবে জানবেন যে, ফেরেশতারা তাঁর কাছে আল্লাহ তা"আলার বাণীসমূহ ঠিক ঠিক পৌছিয়ে দিয়েছে ৷ দুই, আল্লাহ তা"আলা জানবেন যে, ফেরেশতারা তাদের রবের বাণীসমুহ তাঁর রসূলের কাছে সঠিকভাবে পৌছিয়ে দিয়েছে ৷ তিন, আল্লাহ তাআলা জানবেন যে রসূলগণ তাঁদের রবের বাণীসমূহ তাঁর বান্দাদের কাছে ঠিকমত পৌছিয়ে দিয়েছেন৷ আয়াতটির শব্দমালা এ তিনটি অর্থেরই ধারক৷ অসম্ভব নয় যে,এখানে যুগপৎ এ তিনটি অর্থই বুঝানো হয়েছে৷ এ ছাড়াও আয়াতটির আরো দু"টি অর্থ হয়৷ প্রথমটি হলো রিসালাতের দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়ার জন্য রসূলের যতটুকু "ইলমে গায়েব" বা অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান দান করা জরুরী ততটুকু জ্ঞান দান করা৷ দ্বিতীয়টি হলো, যেসব ফেরেশতাকে প্রহরা কাজে নিয়োজিত করা হয় তারা রসূল পর্যন্ত সুরক্ষিত পন্থায় অহী পৌছে যাওয়ার ব্যাপারটুকুই শুধু তত্বাবধান করেন না বরং রসূল তাঁর রবের বাণীসমূহ তাঁর বান্দাদের কাছে যাতে পুরোপুরি পৌছিয়ে দিতে পারেন তার তত্বাবধানও করে থাকেন৷
৩০. অর্থাৎ আল্লাহর ক্ষমতা রসূল ও ফেরেশতা উভয়কে এমনভাবে পরিব্যাপ্ত করে আছে যে, তারা যদি তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুল পরিমাণ কাজও করেন তাহলে সংগে সংগে পাকড়াও হবেন৷ আর যে বাণীসমূহ আল্লাহ পাঠান তার প্রতিটি বর্ণ গোণা ও হিসেব করা৷ তার একটি বর্ণের হ্রাস-বৃদ্ধি করার ক্ষমতাও রসূল বা ফেরেশতা করো নেই৷