(৭০:৩৬) অতএব হে নবী, কি ব্যাপার যে, এসব কাফের তোমর দিকে ছুটে আসছে? ২৪
(৭০:৩৭) ডান দিকে ও বাম দিক হতে দলে দলে
(৭০:৩৮) তাদের প্রত্যেকে কি এ আশা করে যে, তাকে প্রাচুর্যে ভরা জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হবে? ২৫
(৭০:৩৯) কখখনো না৷ আমি যে জিনিস দিয়ে তাদের সৃষ্টি করেছি তারা নিজেরা তা জানে৷ ২৬
(৭০:৪০) অতএব না, ২৭ আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের মালিকের ৷ ২৮ আমি তাদের চাইতে উৎকৃষ্টতর লোকদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করতে সক্ষম৷
(৭০:৪১) আমাকে পেছনে ফেলে যেতেপারে এমন কেউ -ই নেই৷ ২৯
(৭০:৪২) অতএব তাদেরকে অর্থহীন কথাবার্তা ও খেল- তামাসায় মত্ত থাকতে দাও, যেদিনটির প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হচ্ছে যতদিন না সেদিনটির সাক্ষাত তারা পায়৷
(৭০:৪৩) সেদিন তারা কবর থেকে বেরিয়ে এমনভাবে দৌড়াতে থাকবে যেন তারা নিজেদের দেব-প্রতিমার আস্তানার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে৷ ৩০
(৭০:৪৪) সেদিন চক্ষু হবে আনত, লাঞ্চনা তাদের আচ্ছন্ন করে রাখবে৷ ঐ দিনটিই সেদিন যার প্রতিশ্রুতি এদেরকে দেয়া হচ্ছে৷
২৪. যে সমস্ত লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ দেখে এবং কুরাআনের বক্তব্য শুণে তা নিয়ে হাসি-তামাসা করা এবং তার প্রতি বিদ্রুপবান নিক্ষেপ করার জন্য চারদিক থেকে ছুটে আসতো এখানে তাদের কথা বলা হয়েছে৷
২৫. অর্থ হলো যেসব লোকের বৈশিষ্ট ও গুণাবলী এই মাত্র বর্ণনা করা হলো আল্লাহর জান্নাত তো তাদের জন্য নির্দিষ্ট৷ কিন্তু যারা সত্যের বাণী শোনা পর্যন্ত পছন্দ করে না এবং ন্যায় ও সত্যের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য এভাবে ছুটে আসছে তারা জান্নাতের দাবীদার কিভাবে হতে পারে?আল্লাহ কি এমন সব লোকদের জন্যই তার জান্নাত তৈরী করেছেন? এ পর্যায়ে সূরা আল কলমের ৩৪ থেকে ৪১ আয়াত সামনে থাকা দরকার৷ মক্কার কাফেররা বলতো, আখেরাত যদি থাকেও তাহলে এ দুনিয়ায় তারা যেভাবে আমোদ প্রমোদ মত্ত থাকছে সেখানেও একইভাবে মত্ত থাকবে৷ আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান পোষণকারী লোকেরা দুনিয়ায় যেভাবে দুরবস্থার শিকার হয়ে আছে সেখানেও ঠিক তাই থাকবে৷ উল্লেখিত আয়াতসূহে কাফেরদের এ ধ্যান-ধারণার জবার দেয়া হয়েছে৷
২৬. এখানে এ আয়াতাংশের দুটি অর্থ হতে পারে৷ আগে বর্ণিত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ধরে নিলে এর অর্থ হবে, যে উপাদানে এসব লোককে সৃষ্টি করা হয়েছে সে হিসেবে সব মানুষ সমান৷ জান্নাতে যাওয়ার কারণ যদি ঐ উপাদানটি হয় তাহলে সৎ ও অসৎ , জালেম ও ন্যায়নিষ্ঠা , অপরাধী ও নিরপাধ সবারই জান্নাতে যাওয়া উচিত৷ কিন্তু জান্নাতে যাওয়ার অধিকার যে, মানুষের সৃষ্টির উপাদানের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় না বরং শুধু তার গুণাবলীর ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়৷ এ বিষয়টির ফায়সালার জন্য সাধারণ বিবেক-বুদ্ধিই যথেষ্ট৷ আর এ আয়াতাংশকে যদি পরবর্তী বিষয়ের পুর্বাভাস বা ভূমিকা হিসেবে ধরে নেয়া হয় তাহলে তার অর্থ হবে এসব লোক নিজেরাই নিজেদেরকে আমার আযাব থেকে নিরাপদ মনে করছে আর যে ব্যক্তি আমরা কাছে জাবাবদিহি সম্পর্কে তাদেরকে সাবধান করে দেয় তাকে বিদ্রুপ ও হাসি -তামাসা করছে৷ অথচ আমি চাইলে যখন ইচ্ছা দুনিয়াতেও তাদেরকে আযাব দিতে পারি আবার যখন ইচ্ছা মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেও উঠাতে পারি৷ তারা জানে নগন্য এক ফোটা বীর্য দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টির সূচনা করেছি এবং তারপর তাদেরকে সচল ও সক্ষম মানুষ বানিয়েছি৷ তাদের এ সৃষ্টি কৌশল সম্পর্কে যদি তারা চিন্তা-ভাবনা করতো তাহলে কখনো এ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী তারা হতো না যে, এখন তারা আমার কর্তৃত্বের গণ্ডির বাইরে কিংবা আমি তাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম নই৷
২৭. অর্থাৎ তারা যা মনে করে বসে আছে ব্যাপার আসলে তা নয়৷
২৮. এখানে মহান আল্লাহ নিজেই নিজের সত্তার শপথ করেছেন৷ "উদয়াচলসমূহ ও অস্তাচলসমূহ" এ শব্দ ব্যবহারের কারণ হলো, গোটা বছরের আবর্তন কালে সুর্য প্রতিদিনই একটি নতুন কোণ থেকে উদিত হয় এবং একটি নতুন কোণে অস্ত যায়৷ তাছাড়া ও ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে সূর্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্রমাগত উদিত ও অস্তমিত হতে থাকে৷ এ হিসেবে সূর্যের উদয় হওয়ার ও অস্ত যাওয়ার স্থান একটি নয়, অনেক ৷ আরেক হিসেবে উত্তরও দক্ষিণ দিকের তুলানায় একটি দিক হলো পূর্ব এবং আরেকটি দিক হলো পশ্চিম৷ তাই সূরা শূ"আরার ২৮ আয়াতে এবং সূরা মুয্যাম্মিলের ১৯ আয়াতে -------রাব্বিল মাশরিকি ওয়াল মাগরিবি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ আরেক বিচারে পৃথিবীর দু"টি উদয়াচল এবং দুটি অস্তাচল আছে৷ কারণ পৃথিবীর এক গোলার্ধে যখন সূর্য অস্ত যায় তখন অপর গোলার্ধে উদিত হয়৷ এ কারণে সূরা আর রহমানের ১৭ আয়াতে ------------রাব্বুল মাশরিকাইনি ওয়া রাব্বুল মাগরিবাইনিশব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ (অধিক ব্যাখ্যার জন্য, দেখুন, তাফহিমুল কোরআন ,সূরা আর রহমান, টীকা ১৭)৷
২৯. একথাটির জন্যই আল্লাহ তাআলা তাঁর দুটি উদয়াচল ও দুটি অস্তাচলের মালিক হওয়ার শপথ করেছেন৷ এর অর্থ হলো, আমি যেহেতু উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের মালিক তাই গোটা পৃথিবীই আমার কর্তৃত্বধীন৷ আমার কর্তৃত্ব ও পাকড়াও থেকে রক্ষা পাওয়া তোমাদের সাধ্যাতীত৷ যখন ইচ্ছা আমি তোমাদের ধ্বংস করতে পারি এবং তোমাদের চাইতে উৎকৃষ্টতর কোন জাতির উত্থান ঘটিয়ে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারি৷
৩০. মূল আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ হলো ------------------৷ নুছুব শব্দের অর্থের ব্যাপারে মুফাস্সিরগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন৷ অনেকে এর অর্থ করেছেন মূর্তি বা প্রতিম৷ তাদের মতে এর অর্থ হলো, তারা হাশরের অধিপতি নির্ধারিত জায়গার দিকে দৌড়িয়ে অগ্রসর হতে থাকবে ঠিক; আজ যেমন তারা তাদের দেব-দেবীর আস্তানার দিকে ছুটে যায়৷ আবার অন্য আরেক দল মুফাস্সিরের মতে এর অর্থ দৌড়ে অংশ গ্রহণকারীদের জন্য চিহ্নিত গন্তব্য স্থল৷ প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী যাতে সবার আগে সেখানে পৌছতে চেষ্টা করে৷