(৭:১৮২) আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে তাদেরকে আমি এমন পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, তারা জানতেও পারবে না৷
(৭:১৮৩) আমি তাদেরকে ঢিল দিচ্ছি৷ আমার কৌশল অব্যর্থ৷
(৭:১৮৪) তারা কি কখনো চিন্তা করে না, তাদের সাথীর ওপর উন্মাদনার কোন প্রভাব নেই? সে তো একজন সতর্ককারী মাত্র, (অশুভ পরিণতির উদ্ভব হবার আগেই) সুষ্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিচ্ছি৷
(৭:১৮৫) তারা কি কখনো আকাশ ও পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে চিন্তা করেনি এবং আল্লাহর সৃষ্ট কোন জিনিসের দিকে চোখ মেলে তাকায়নি? ১৪৩ আর তারা কি এটাও ভেবে দেখেনি যে, সম্ভবত তাদের জীবনের অবকাশেকাল পূর্ণ হবার সময় ঘনিয়ে এসেছে? ১৪৪
(৭:১৮৬) তাহলে নবীর এ সতর্কীকরণের পর আর এমন কি কথা থাকতে পারে যার প্রতি তারা ঈমান আনবে?আল্লাহ যাকে পথনির্দশনা থেকে বঞ্চিত করেন তার জন্যে আর কোন পথ নির্দেশক নেই৷ আর আল্লাহ তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে উদভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াবার জন্যে ছেড়ে দেন৷
(৭:১৮৭) তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, কিয়ামত কবে ও কখন হবে? বলে দাও, একমাত্র আমার রবই এর জ্ঞান রাখেন৷ সঠিক সময়ে তিনিই তা প্রকাশ করবেন৷ আকাশ ও পৃথিবীতে তা হবে ভয়ংকর কঠিন সময়৷ সহসাই তা তোমাদের ওপর এসে পড়বে৷ তারা তোমার কাছে এ ব্যাপারে এমনভাবে জিজ্ঞেস করছে যেন তুমি তার সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছ? বলে দাও, একমাত্র আল্লাহরই এর জ্ঞান রাখেন৷ কিন্তু অধিকাংশ লোক এ সত্যটি জানে না৷
(৭:১৮৮) হে মুহাম্মাদ ! তাদেরকে বলো,নিজের জন্য লাভ -ক্ষতির কোন ইখতিয়ার আমার নেই৷ একমাত্র আল্লাহই যা কিছু চান তাই হয়৷ আর যদি আমি গায়েবের খবর জানতাম, তাহলে নিজের জন্যে অনেক ফায়দা হাসিল করতে পারতাম এবং কখনো আমার কোন ক্ষতি হতো না৷ ১৪৫ আমি তো যারা আমার কথা মেনে নেয় তাদের জন্য নিছক একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা মাত্র৷
১৪৩. সাথী বলতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝানো হয়েছে৷তিনি তাদের মধ্যেই জন্মলাভ করেন৷তাদের মধ্যে বসবাস করেন৷শৈশব থেকে যৌবন এবং যৌবন থেকে বার্ধক্যে পদার্পণ করেন৷নবুওয়াত লাভের পূর্বে সমগ্র জাতি তাঁকে একজন অত্যন্ত-শান্ত-শিষ্ট-ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাব প্রকৃতি ও সুস্থ- মন-মগজধারী মানুষ বলে জানতো৷ নবুওয়াত লাভের পর যে-ই তিনি মানুষের কাছে আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছাতে শুরু করলেন, অমনি তাকে পাগল বলা আরম্ভ হয়ে গেল৷ একথা সুস্পষ্ট,নবী হবার আগে তিনি যেসব কথা বলতেন সেগুলো জন্যে তাঁকে পাগল বলা হয়নি বরং নবী হবার পর তিনি যেসব কথা প্রচার করতে থাকেন সেগুলোর জন্যে তাঁকে পাগল বলা হতে থাকে৷ তাই এখানে বলা হচ্ছে, তারা কি কখনো ভেবে দেখেছে, যে কথা গুলো তিনি বলছেন তার মধ্যে কোনটি পাগলামির কথা? কোন কথাটি অর্থহীন ,ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক? যদি তারা আসমান ও যমীনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তা করতো অথবা আল্লাহর তৈরী যে কোন একটি জিনিসকে গভীর দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করতো, তাহলে তারা নিজেরাই বুঝতে পারতো যে, শিরকের মতবাদ খণ্ডন , তাওহীদের প্রমাণ ,রবের বন্দেগীর দাওয়াত এবং মানুষের দায়িত্ব পালন ও জবাবদিহি সম্পর্কে তাদের ভাই তাদেরকে যা কিছু বুঝাচ্ছেন এই সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থা ও আল্লাহর সৃষ্টিলোকের প্রতিটি অনুকণিকা তারই সত্যতার সাক্ষ দিয়ে যাচ্ছে৷
১৪৪. অর্থাৎ এ নির্বোধরা এতটুকুও চিন্তা করে না যে, মৃত্যুর সময় কারোর জানা নেই৷ কেউ জানে না কার মৃত্যু কখন এসে পড়বে৷ তারপর যখন কারেরা মৃত্যুর সময় এসে যাবে এবং তার কর্মনীতির সংশোধন করার জন্যে ইহকালীন জীবনকালের যে অবকাশটুকু সে পেয়েছিল তাকে যদি সে গোমরাহী ও অসৎকাজে নষ্ট করে দিয়ে তাকে তাহলে তার পরিণাম কি হবে?
১৪৫. এর অর্থ হচ্ছে, কিয়ামতের সঠিক তারিখ একমাত্র সে-ই বলতে পারে, যে গায়েবের জ্ঞান রাখে, আর আমার অবস্থা এমন যে, আমি আগামীকাল আমার ও আমার পরিববারর্গের কি অবস্থা হবে তাও বলতে পারি না৷ তোমরা নিজেরাই বুঝতে পারো, যদি আমি এ জ্ঞানের অধিকারী হতাম তাহলে পূর্বাহ্নে অবগত হয়ে বহু ক্ষতির হাত থেকে আমি বেঁচে যেতাম এবং নিছক আগেভাগে জানতে পারার কারণে নিজের বহু স্বার্থোদ্ধার করা আমার পক্ষে সহজতর হতো৷ এ অবস্থা দেখার ও জানার পরও তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করছো- কিয়ামত কবে হবে? এটা তোমাদের কত বড় অজ্ঞতার পরিচায়ক৷