(৭:১২৭) ফেরাউনকে তার জাতির প্রধানরা বললোঃ “তুমি কি মূসা ও তার জাতিকে এমনিই ছেড়ে দেবে যে, তারা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াক এবংতোমার ও তোমার মাবুদের বন্দেগী পরিত্যাগ করুক? ”ফেরউন জবাব দিলঃ “আমি তাদের পুত্রদের হত্যা করবো এবং তাদের কন্যাদের জীবিত রাখবো৷ ৯৩ আমরা তাদের ওপর প্রবল কর্তৃত্বের অধিকারী৷”
(৭:১২৮) মূসা তার জাতিকে বললোঃ “আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং সবর করো৷ এ পৃথীবী তো আল্লাহরই৷ তিনি নিজের বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে চান তাকে এর উত্তরাধিকারী করেন৷ আর যারা তাঁকে ভয় করে কাজ করে চুড়ান্ত সাফল্য তাদের জন্যে নির্ধারিত৷ ”
(৭:১২৯) তার জাতির লোকেরা বললোঃ “তোমার আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং এখন তোমার আসার পরও নির্যাতিত হচ্ছি৷” সে জবাব দিলঃ “শীঘ্রই তোমাদের রব তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করে দেবেন এবং পৃথিবীতে তোমাদের খলীফা করবেন, তারপর তোমরা কেমন কাজ করো তা তিনি দেখবেন৷”
৯৩. এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, হযরত মূসা (আ) এর জন্মের পূর্বে দ্বিতীয় রামেসাসের আমলে নির্যাতনের একটা যুগ অতিবাহিত হয়৷ আর নির্যাতনের দ্বিতীয় যুগটি শুরু হয় হযরত মূসার নবুওয়াত লাভের পর৷ এ উভয় যুগেই বনী ইসরাঈলেরদের ছেলেদের হত্যা করা এবং মেয়েদেরকে জীবিত রাখা হয়৷এভাবে পর্যায়ক্রমে তাদের বংশধারা বিলুপ্ত করার এবং এ জাতিটিকে অন্যজাতির মধ্যে বিলিন করে দেবার ব্যবস্থা করা হয়৷ ১৮৯৬ সালে প্রাচীন মিসরের ধ্বংসাবশেষ খনন করার সময় সম্ভবত এ যুগেরই একটি শিলালিপি পাওয়া যায়৷ তাতে এ মিনফাতাহ ফিরাউন নিজের কৃতিত্ব ও বিজয় ধারা বর্ণনা করার পর লিখেছে , আর ইসরাঈলকে বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে ৷ তার বীজও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে৷ (আরো জানার জন্যে পড়ুন সূরা আল মুমিনূন ২৫আয়াত)৷