(৭:১) আলিফ,লাম,মীম, সোয়াদ ৷
(৭:২) এটি তোমার প্রতি নাযিল করা একটি কিতাব৷ কাজেই তোমার মনে যেন এর সম্পর্কে কোন সংকোচ না থাকে৷ এটি নাযিল করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এর মাধ্যমে তুমি (অস্বীকারকারীদেরকে )ভয় দেখাবে এবং মুমিনদের জন্যে এটি হবে একটি স্মারক৷
(৭:৩) হে মানব সমাজ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার অনুসরণ করো এবং নিজেদের রবকে বাদ দিয়ে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না৷ কিন্তু তোমরা খুব কমই উপদেশ মেনে থাকো৷
(৭:৪) কত জনপদ আমি ধ্বংস করে দিয়েছি৷ তাদের ওপর আমার আযাব অকস্মাত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রাতের বলা অথবা দিনের বেলা যখন তারা বিশ্রামরত ছিল৷
(৭:৫) আর যখন আমার আযাব তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল তখন তাদের মুখে এ ছাড়া আর কোন কথাই ছিল না যে, সত্যিই আমরা জালেম ছিলাম৷
(৭:৬) কাজেই যাদের কাছে আমি রসূল পাঠিয়েছি তাদেরকে অবশ্যি জিজ্ঞাসাবাদ করবো৷ এবং রসূলকেও জিজ্ঞাসা করবো (তারা পয়গাম পৌছিয়ে দেবার দায়িত্ব কতটুকু সম্পাদন করেছে এবং এর কি জবাব পেয়েছে)
(৭:৭) তারপর আমি নিজেই পূর্ণ জ্ঞান সহকারে সমুদয় কার্যাবিবরণী তাদের সামনে পেশ করবো৷ আমি তো আর সেখানে অনুপস্থিত ছিলাম না!
(৭:৮) আর ওজন হবে সেদিন যথার্থ সত্য৷
(৭:৯) যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম এবং যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা নিজেরাই হবে নিজেদের ক্ষতি সাধনকারী৷ কারণ তারা আমার আয়াতের সাথে জালেম সূলভ আচরণ চালিয়ে গিয়েছিল৷
(৭:১০) তোমাদেরকে আমি ক্ষমতা-ইখতিয়ার সহকারে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি৷ এবং তোমাদের জন্যে এখানে জীবন ধারণের উপকরণ সরবরাহ করেছি৷কিন্তু তোমরা খুব কমই শোকর গুজারী করে থাকো৷
১. কিতাব বলতে এখানে এই সূরা আরাফকেই বুঝোনো হয়েছে৷
২. অর্থাৎ কোন প্রকার সংকোচ, ইতস্ততভাব ও ভীতি ছাড়াই একে মানুষের কাছে পৌছিয়ে দাও৷ বিরুদ্ধবাদীরা একে কিভাবে গ্রহণ করবে তার কোন পরোয়া করবে না ৷তারা ক্ষেপে যায় যাক, বিদ্রূপ করে করুক, নানান আজেবাজে কথা বলে বলুক এবং তাদেরকে শত্রুতা আরো বেড়ে যায় যাক৷ তোমরা নিশ্চিন্তে ও নিসংকোচে তাদের কাছে এ পয়গাম পৌছিয়ে দাও৷ এর প্রচারে একটুও গড়িমসি করো না৷

এখানে যে অর্থে আমরা সংকোচ শব্দটি ব্যবহার করেছি, মূল ইবারতে তার জন্যে----- হারজ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ 'হারজ' শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, এমন একটি ঘন ঝোপঝাড়, যার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলা কঠিন৷ মনে 'হারজ' হবার মানে হচ্ছে এই যে, বিরোধিতা ও বাধা -বিপত্তির মধ্য দিয়ে নিজের পথ পরিষ্কার না দেখে মানুষের মন সামনে এগিয়ে চলতে পারে না, থেমে যায়৷ কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়বস্তুকে ---------------শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে৷ যেমন বলা হয়েছেঃ

-------------------

"হে মুহাম্মাদ! আমি জানি এরা যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছে তাতে তোমার মন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে"৷ অর্থাৎ যারা জিদ, হঠকারিতা, ও সত্য বিরোধিতায় এ পর্যায়ে নেমে এসেছে যে তাদেরকে কিভাবে সোজা পথে আনা যাবে, এ চিন্তায় তুমি পেরেশান হয়ে পড়েছো৷ অন্যত্র বলা হয়েছেঃ

--------------------------------

"এমন যেন না হয় যে, তোমার দাওয়াতের জবাবে তারা তোমার কাছে কোন ধনভাণ্ডার অবতীর্ণ হয়নি কেন? তোমার সাথে কোন ফেরেশতা আসেনি কেন? একথা বলবে ভেবে তুমি তোমার প্রতি নাযিল করা কোন কোন অহী প্রচার করা বাদ দিয়ে দেবে এবং বিব্রত বোধ করবে৷"

৩. এর অর্থ হচ্ছে , এ সূরার আসল উদ্দেশ্য তো ভয় দেখানো৷ অর্থাৎ রসূলের দাওয়াত গ্রহণ না করার পরিণাম সম্পর্কে লোকদেরকে সতর্ক করা ও ভয় দেখানো এবং গাফেলদেরকে সজাগ করা ৷ তবে এটি যে মুমিনদের জন্যে স্মারকও , (অর্থাৎ তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়) সেটি এর একটি আনুসঙ্গিক লাভ, ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এটি আপনা আপনিই অর্জিত হয়ে যায়৷
৪. এটি হচ্ছে এ সূরার কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়৷ এ ভাষণটিতে যে আসল দাওয়াত দেয়া হয়েছে সেটি হচ্ছেঃ দুনিয়ায় মানুষের জীবন যাপনের জন্যে যে হেদায়াত ও পথ-প্রদর্শনার প্রয়োজন , নিজের ও বিশ্বজাহানের স্বরূপ এবং নিজের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুধাবন করার জন্যে তার যে জ্ঞানের প্রয়োজন এবং নিজের আচার -আচারণ , চরিত্র, -নৈকিকতা,সমাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন ধারাকে সঠিক ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্যে সে যেসব মূলনীতির মুখাপেক্ষী সেগুলোর জন্যে তাকে একমাত্র আল্লাহ বাব্বুল আলামীনকেই নিজের পথপদর্শক হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং আল্লাহ তার রসূলের মাধ্যমে যে হেদায়াত ও পথ -পদর্শনা দিয়েছেন একমাত্র তারই অনুসরণ করতে হবে৷ আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারোর দিকে পথ -নির্দেশনা লাভ করার জন্য মুখ ফিরানো এবং তার নেতৃত্বের আওতায় নিজেকে সমর্পণ করা মানুষের একটি মৌলিক ভ্রান্ত কর্মপদ্ধতি ছাড়া আর কিছুই নয়৷ এর পরিণামে মানুষকে সব সময় ধ্বংসের সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাকে সবসময় এই একই পরিণামের সম্মুখীন হতে হবে৷ এখানে "আউলিয়া" (অভিভাবকগণ) শব্দটি এ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যে, মানুষ সাধারণত যার নির্দেশে ও নেতৃত্বে চলে তাকে আসলে নিজের 'ওলি' তথা অভিভাবকে পরিণত করে৷ মুখে সে তার প্রশংসা করতে পারে বা তার প্রতি অভিশাপও বর্ষণ করতে পারে, আবার তার অভিভাবকত্বের স্বীকৃতি দিতে পারে বা কঠোরভাবে তা অস্বীকার ও করতে পারে৷ (আরো ব্যাখার জন্যে দেখুন আশশূরা , টীকা নং ৬)
৫. অর্থাৎ তোমাদের শিক্ষার জন্য এমন সব জাতির দৃষ্টান্ত রয়েছে যারা আল্লাহর হেদায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে মানুষ ও শয়তানের নেতৃত্বে জীবন পথে এগিয়ে চলেছে ৷অবশেষে তারা এমনভাবে বিপথগামী ও বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছে যার ফলে পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব এক দুঃসহ অভিশাপে পরিণত হয়েছে এবং আল্লাহর আযাব এসে তাদের নাপাক অস্তিত্ব থেকে দুনিয়াকে মুক্ত করেছে৷ শেষ বাক্যটির উদ্দেশ্য দুটি বিষয়ে সতর্ক করে দেয়াঃ এক, সংশোধনের সময় অতিক্রম হবার পর কারোর সচেতন হওয়া এবং নিজের ভূল স্বীকার করা অর্থহীন৷ যে ব্যক্তি ও জাতি গাফিলতিতে লিপ্ত ও ভোগের নেশায় মত্ত হয়ে স্বেচ্ছাচারী জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে আল্লাহর দেয়া অবকাশ ও সুযোগ হারিয়ে বসে, সত্যের আহবায়কতের আওয়াজ যাদের অচেতন কানের পর্দায় একটুও সাড়া জাগায় না এবং আল্লাহর হাত মজবুতভাবে পাকড়াও করার পরই যারা সচেতন হয় তাদের চাইতে বড় নাদান ও মুর্খ আর কেউ নেই৷ দুই, ব্যক্তি ও জাতিদের জীবনের দু একটি নয়, অসংখ্য দৃষ্টান্ত তোমাদের সামনে এসে গেছে ৷ কারোর অসৎ কর্মের পেয়ালা যখন পরিপুর্ণ হয়ে যায় এবং তার অবকাশের সীমা শেষ হয়ে যায় তখন অকস্মাৎ এক সময় আল্লাহ তাকে পাকড়াও করেন৷ আর আল্লাহ একবার কাউকে পাকড়াও করার পর আর তার মুক্তি লাভের কোন পথই থাকে না৷ তাছাড়া মানব জাতির ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এক দু বার নয় , শত শত বার, হাজার হাজার বার ঘটে গেছে৷ এ ক্ষেত্রে মানুষের জন্যে বারবার সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করার যৌক্তিকতা কোথায়? সচেতন হবার জন্যে সে কেনই বা সেই শেষ মুহূর্তেরই অপেক্ষা করতে থাকবে যখন কেবলমাত্র আক্ষেপ করা ও মর্মজ্বালা ভোগ করা ছাড়া সচেতন হবার আর কোন স্বার্থকতাই থাকে না৷
৬. এখানে জিজ্ঞাসাবাদ বলতে কিয়ামতের হিসেব -নিকেশ বুঝানো হয়েছে৷ অসৎ ব্যক্তিও জাতিদের ওপর দুনিয়ায় যেসব আযাব আসে সেগুলো তাদের অসৎকর্মের চূড়ান্ত ফল নয় এবং সেগুলো তাদের অপরাধের পূর্ণ শাস্তিও নয়৷ বরং এটাকে এ অবস্থার পর্যায়ে ফেলা যেতে পারে যে, একজন অপরাধী স্বাধীনভাবে অপরাধ করে বেড়াচ্ছিল, তাকে অকস্মাত গ্রেফতার করে তার আরো বেশী জুলুম , অন্যায় ও ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করার সুযোগ ছিনিয়ে নেয়া হলো৷ মানব জাতির ইতিহাসে এ ধরনের গ্রেফতারীর অসংখ্য নজীর পাওয়া যায়৷ এ নজীরগুলো এ কথারই এক একটি সুষ্পষ্ট আলামত যে, মানুষকে এ দুনিয়ায় যেখানে চরে বেড়াবার এবং যাচ্ছে তাই করে বেড়াবার জন্য লাগামহীন উটের মতো স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া হয়নি৷ বরং সবার ওপরে কোন এক শক্তি আছে যে একই বিশেষ সীমারেখা পর্যন্ত তার রশি আলগা করে রাখে৷ অসৎ প্রবণতা থেকে ফিরে আসার জন্যে একের পর এক সতর্ক সিগন্যাল দিয়ে যেতে থাকে৷ আর যখন দেখা যায় ,সে কোনক্রমেই সৎ পথে ফিরে আসছে না তখন হঠাৎ এক সময় তাকে পাকড়াও করে ফেলে৷ তারপর এ ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার ওপর চিন্তা-ভাবনা করলে কোন ব্যক্তি সহজেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে যে , এ বিশ্ব জাহানের ওপর যে শাসনকর্তা শাসণ চলছে তিনি নিশ্চয়ই এমন একটি সময় নির্ধারিত করে রেখে থাকবেন যখন এসব অপরাধীদের বিচার করা হবে এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্যে তাদের জবাবাদিহি করতে হবে৷ এ কারণে ওপরের যে আয়াতটিতে পার্থিব আযাবের কথা বলা হয়েছে , তাকে কাজেই শব্দটি দ্বারা পরবর্তী আয়াতের সাথে সংযক্ত করা হয়েছে৷ অর্থাৎ পার্থিব আযাব বার বার আসা যেন আখেরাতে জবাবদিহি নিশ্চয়তার একটি প্রমাণ৷
৭. এ থেকে জানা গেলো, আখেরাতে জিজ্ঞাসাবাদ সরাসরি রিসালাতের ভিত্তিহেই অনুষ্ঠিত হবে৷ একদিকে নবীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, মানব সম্প্রদায়ের কাছে আল্লাহর পয়গাম পৌছিয়ে দেবার জন্যে তোমরা কি কি কাজ করেছো? অন্যদিকে যাদের কাছে, রসূলের দাওয়াত পৌছে গেছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, এ দাওয়াতের সাথে তোমরা কি ব্যবহার করছো?যেসব ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের কাছে নবীদের বাণী পৌছেনী তাদের মামলার নিষ্পত্তি কিভাবে হবে, সে সম্পর্কে কুরআন মজীদ আমাদের কিছুই বলেনি৷ এ ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর ফায়সালা সংরক্ষিত করে রেখেছেন৷ কিন্তু যেসব ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের কাছে নবীদের শিক্ষা পৌছে গেছে তাদের সম্পর্কে কুরআন পরিষ্কার ঘোষণা করেছে যে তারা নিজেদের কুফরী , অবাধ্যতা , অস্বীকৃতি, ফাসিকী, ও নাফরমানীর স্বপক্ষে কোন যুক্তি-প্রমাণ পেশ করতে পারবে না৷ আর লজ্জায় আক্ষেপে ও অনুতাপে কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে জাহান্নামের পাথে এগিয়ে চলা ছাড়া কিয়ামতের দিন তাদের জন্যে দ্বিতীয় কোন পথ থাকবে না৷
৮. অর্থাৎ আল্লাহর ন্যায় তুলাদণ্ডে সেদিন ওজন ও সত্য হবে পরস্পরের সমার্থক৷ সত্য বা হক ছাড়া কোন জিনিসের সেখানে কোন ওজন থাকবে না৷ আর ওজন ছাড়াও কোন জিনিস সত্য সাব্যস্ত হবে না৷ যার সাথে যতটুকু সত্য থাকবে সে হবে ততটুকু ওজনদান ও ভারী৷ ওজনের পরিপ্রক্ষিতেই সব কিছু ফায়সালা হবে৷ অন্য কোন জিনিসের বিন্দুমাত্রও মর্যাদা ও মূল্য দেয়া হবে না৷ মিথ্যা ও বাতিলের স্থিতিকাল দুনিয়ায় যতই দীর্ঘ ও বিস্তৃত থাকুক না কেন এবং আপাতদৃষ্টিতে তার পেছনে যতই জাঁকজমক, শান-শওকত ও আড়ম্বর শোভা পাক না কেন, এ তুলাদণ্ডে তা একেবারেই ওজনহীন প্রমাণিত হবে৷ বাতিলপন্থীদেরকে যখন এ তুলাদণ্ডে ওজন করা হবে, তারা নিজেদের চোখেই দেখে নেবে দুনিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে তারা যা কিছু করেছিল তার ওজন একটি মাছির ডানার সমানও নয়৷ সূরা কাহাফের শেষ তিনটি আয়াতে একথাটিই বলা হয়েছে৷ সেখানে বলা হয়েছে যারা দুনিয়ার জীবনে সবকিছু দুনিয়ারই জন্যে করে গেছে এবং আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করে এ ভেবে কাজ করেছে যে, পরকাল বলে কিছু নেই, কাজেই কারোর কাছে নিজের কাজের হিসেব দিতে হবে না, আখেরাতে আমি তাদের কার্যকলাপের কোন ওজন দেবো না৷
৯. এ বিষয়টিকে এভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে যে, মানুষের জীবনের সমগ্র কার্যাবলী দুটি অংশে বিভক্ত হবে৷ একটি ইতিবাচক বা সৎ কাজ এবং অন্যটি নেতিবাচক বা অসৎ কাজ৷ ইতিবাচক অংশের অন্তর্ভুক্ত হবে সত্যকে জানা ও মেনে নেয়া এবং সত্যের অনুসরণ করে সত্যের খাতিরে কাজ করা৷ আখেরাতে একমাত্র এটিই হবে ওজনদান , ভারী ও মূল্যবান ৷অন্যদিকে সত্য থেকে গাফিল হয়ে অথবা সত্য থেকে বিচ্যূত হয়ে মানুষ নিজের নফস- প্রবৃত্তি বা অন্য মানুসের ও শয়তানের অনুসরণ করে অসত্য অংশটি কেবল যে, মূল্যহীনই হবে তাই নয় বরং এটাই মানুষের ইতিবাচক অংশের মর্যাদাও কমিয়ে দেবে৷ কাজেই মানুষের জীবনের সমুদয় কার্যাবলীর ভাল অংশ যদি তার মন্দ অংশের ওপর বিজয় লাভ করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অনেক কিছু দেবার পরও তার হিসেবে কিছু না কিছু অবশিষ্ট থাকে , তবেই আখেরাতে তার সাফল্য লাভ করা সম্ভব ৷ আর যে ব্যক্তির জীবনের মন্দ কাজ সমস্ত ভাল কাজকে মূল্যহীন করে দেবে তার অবস্থা হবে সেই দেউলিয়া ব্যবসায়ীর মত যার সমুদয় পূঁজি ক্ষতিপূরণ ও দাবী পূরণ করতে করতেই শেষ হয়ে যায় এবং এরপরও কিছু কিছু দাবী তার জিম্মায় অনাদায়ী থেকে যায়৷