(৬৮:৩৪) নিশ্চিতভাবে ১৯ মুত্তাকীদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে নিয়ামত ভরা জান্নাত৷
(৬৮:৩৫) আমি কি অনুগতদের অবস্থা অপরাধীদের মতো করবো?
(৬৮:৩৬) কি হয়েছে তোমাদের ? এ কেমন বিচার তোমরা করছো? ২০
(৬৮:৩৭) তোমাদের কাছে কি কোন কিতাব ২১ আছে যাতে তোমরা পাঠ করে থাকো যে,
(৬৮:৩৮) তোমাদের জন্য সেখানে তাই আছে যা তোমরা পছন্দ করো৷
(৬৮:৩৯) তোমাদের সাথে কি আমার কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ এমন কোন চুক্তি আছে যে, তোমরা নিজের জন্য যা চাইবে সেখানে তাই পাবে?
(৬৮:৪০) তাদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখো এ ব্যাপারে কে দায়িত্বশীল? ২২
(৬৮:৪১) তাদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখো এ ব্যাপারে কে দায়িত্বশীল? ২৩ হয়ে থাকে ৷
(৬৮:৪২) যেদিন কঠিন সময় এসে পড়বে ২৪ এবং সিজদা করার জন্য লোকদেরকে ডাকা হবে৷ কিন্তু তারা সিজদা করতে সক্ষম হবে না৷
(৬৮:৪৩) তাদের দৃষ্টি হবে অবনত ৷ হীনতা ও অপমানবোধ তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে৷ এর আগে যখন তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলো তখন সিজাদার জন্য তাদেরকে ডাকা হতো (কিন্তু তারা অস্বীকৃতি জানাতো)৷ ২৫
(৬৮:৪৪) তাই হে নবী! এ বাণী অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে আমার ওপর ছেড়ে দাও৷ ২৬ আমি ধীরে ধীরে এমনভাবে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, তারা বুঝতেই পারবে না৷ ২৭
(৬৮:৪৫) আমি ধীরে ধীরে এমনভাবে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, তারা বুঝতেই পারবে না৷ ২৮ অত্যন্ত মজবুত৷
(৬৮:৪৬) তুমি কি এদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবী করছো যে, সে জরিমানার বোঝা তাদের কাছে দুর্বহ হয়ে পড়েছে? ২৯
(৬৮:৪৭) তাদের কি গায়েবের বিষয় জানা আছে, যা তারা লিখে রাখছে? ৩০
(৬৮:৪৮) অতএব তোমার রবের চূড়ান্ত ফায়সালা পর্যন্ত ধের্যসহ অপেক্ষা করো৷ ৩১ এবং মাছওয়ার (ইউনুস আলাইহিস সালাম)মতো ৩২ হয়ো না, যখন সে বিষাদ ভরাক্রান্ত ৩৩ হয়ে ডেকেছিলো৷
(৬৮:৪৯) তার রবের অনুগ্রহ যদি তার সহায়ক না হতো তাহলে সে অপমানিত হয়ে খোলা প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হতো৷ ৩৪
(৬৮:৫০) অবশেষে তার রব তাকে বেছে নিলেন এবং নেক বান্দাদের অন্তরভুক্ত করলেন৷
(৬৮:৫১) এ কাফেররা যখন উপদেশবাণী (কুরআন) শোনে তখন এমনভাবে তোমার দিকে তাকায় যেন তোমার পদযুগল উৎপাটিত করে ফেলবে ৩৫ আর বলে যে, এ তো অবশ্যি পাগল৷
(৬৮:৫২) অথচ তা সারা বিশ্ব-জাহানের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়৷
১৯. মক্কার বড় বড় নেতারা মুসলমানদের বলতো, আমরা দুনিয়াতে যেসব নিয়ামত লাভ করছি তা প্রমাণ করে যে, আমরা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়৷ আর তোমরা যে দুর্দশার মধ্যে ডুবে আছো তা প্রমাণ করে যে, তোমরা আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত৷ তোমাদের বক্তব্য অনুসারে আখেরাত যদি হয়ও তাহলে সেখানেও মজা লুটবো আমরা৷ আযাব ভোগ করলে তোমরা করবে, আমরা নই৷ এ আয়াতগুলোতে একথারই জবাব দেয়া হয়েছে৷
২০. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা অনুগত ও অপরাধীর মধ্যে কোন পার্থক্য করবেন না, এটা বিবেক-বুদ্ধির পরিপন্থী৷ বিশাল-বিশ্ব জাহাননের স্রষ্টা এমন বিচার -বুদ্ধিহীন হবেন, এটা তোমরা ধারণা করলে কিভাবে? তোমরা মনে করে নিয়েছো, এ পৃথিবীতে কারা তাঁর হুকুম -আহকাম ও বিধি-বিধান মেনে চললো এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকলো আর কারা তার তোয়াক্কা না করে সব রকমের গোনাহ, অপরাধ এবং জুলুম -অত্যাচার চালালো তা তিনি দেখবেন না! তোমরা ঈমানদারদের দুর্দশা ও দূরবস্থা এবং নিজেদের স্বাচ্ছন্দ ও সচ্ছলতা দেখতে পেয়েছো ঠিকই কিন্তু নিজেদের এবং তাদের নৈতিক চরিত্র ও কাজ-কর্মের পার্থক্য তোমাদের নজরে পড়েনি৷ তাই আগাম বলে দিয়েছো যে, আল্লাহর দরবারেও এসব আনুগত্যদের সাথে অপরাধীদের ন্যায় আচরণ করা হবে৷ কিন্তু তোমাদের মত পাপীদের দেয়া হবে জান্নাত৷
২১. অর্থাৎ আল্লাহর পাঠানো কিতাব৷
২২. মূল আয়াতে --------(যাইম)শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ আরবী ভাষায় ------যাইম বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যে কোন বিষয়ের দায়িত্বশীল কিংবা কোন গোষ্ঠী বা দলের মুখপাত্র৷ কথাটার মানে হলো, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ কি এমন দাবী করে যে, সে তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট থেকে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছে?
২৩. অর্থাৎ নিজেদের সম্পর্কে তোমরা যা বলছো তার কোন ভিত্তি নেই৷ এটা বিবেক-বুদ্ধিরও পরিপন্থী৷ আল্লাহর কোন কিতাবে এরূপ লেখা আছে বলেও তোমরা দেখাতে পারবে না৷ তোমাদের মধ্যে থেকে কেউ এরূপ দাবীও করতে পারে না৷ এ মর্মে আল্লাহর নিকট থেকে কোন রকম প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে বলেও তোমাদের মধ্য থেকে কেউ দাবী করতে পারে না৷ কিংবা তোমরা যাদেরকে উপাস্য বানিয়ে রেখেছো তাদের কেউকে দিয়ে একথাও তোমরা বলাতে পারবে না যে, সে আল্লাহর নিকট থেকে তোমাদের জান্নাত দেয়ার দায়িত্ব ও ক্ষমতা লাভ করেছে৷ এসব সত্ত্বেও তোমরা কি করে এ ভ্রান্ত ধারণার শিকার হলে?
২৪. মূল আয়াতে আছে-------------- "যেদিন পায়ের গোছা অনাবৃত করা হবে"সাহাবা ও তাবেয়ীনগনের এক দলের মতে একথাটি প্রচলিত প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে৷ আরবী প্রবাদে দু'দিনের আগমনকে "পায়ের গোছা অনাবৃত করা" বলে বুঝানো হয়৷ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসও কথাটির একই অর্থ বর্ণনা করেছেন৷ আরবী ভাষা থেকে তিনি এর স্বপক্ষে প্রমাণও পেশ করেছেন৷ হযরত আবুদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং রাবী ইবনে আনাছ থেকে বর্ণিত অপর একটি ব্যাখ্যায় পায়ের গোছা অনাবৃত করার অর্থ করা হয়েছে সত্যকে আবরণ মুক্ত করা৷ এ ব্যাখ্যা অনুসারে অর্থ হবে,যেদিন সব সত্য উন্মুক্ত হবে এবং মানুষের সব কাজ কর্ম ষ্পষ্ট হয়ে সামনে আসবে৷
২৫. এর মানে হলো দুনিয়াতে কে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করতো আর কে তার বিরোধী ছিলো কিয়ামতের দিন প্রকাশ্যে তা দেখানো হবে৷ এ উদ্দেশ্যে লোকদেরকে আল্লাহ তাআলার সামনে সিজদাবনত হওয়ার আহবান জানানো হবে৷ যারা দুনিয়াতে আল্লাহর ইবাদত করতো তারা সাথে সাথে সিজদায় পড়ে যাবে৷ কিন্তু দুনিয়াতে যারা আল্লাহকে সিজদা করনি তাদের কোমর শক্ত ও অনমনীয় হয়ে যাবে৷ তাদের পক্ষে ইবাদতগুলোর বান্দা হওয়ার মিথ্যা প্রদর্শনী করা সম্ভব হবে না৷ তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে৷
২৬. অর্থাৎ তাদের সাথে বুঝাপড়া করার চিন্তা করো না৷ তাদের সাথে বুঝাপড়া করা আমার কাজ৷
২৭. অজ্ঞতাসারে কাউকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার পন্থা হলো ন্যায় ও সত্যের দুশমন এবং জালেমকে এ পৃথিবীতে অধিক পরিমাণে বিলাস সমগ্রী, স্বাস্থ্য, অর্থ-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি, ও পার্থিব, সাফল্য দান করা যাতে সে ধোঁকায় পড়ে যায় এবং মনে করে বসে সে যা করেছে ঠিকই করেছে৷ তার কাজে কোন ত্রুটি -বিচ্যুতি নেই৷ এভাবে সে ন্যায় ও সত্যের সাথে শত্রুতা এবং জুলুম-অত্যাচার ও সীমালংঘনের কাজে অধিক মাত্রায় মেতে উঠে এবং বুঝেই উঠতে পারে না যে, যেসব নিয়ামত সে লাভ করেছে তা পুরষ্কার নয়, বরং ধ্বংসের উপকরণ মাত্র৷
২৮. আয়াতে ----------(কাইদি)শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ এর অর্থ হলো কারো বিরুদ্ধে গোপনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা৷ কাউকে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এরূপ করা হলে তা খুব খারাপ কাজ৷অন্যথায় এরূপ কাজে কোন দোষ নেই৷ বিশেষ করে কোন ব্যক্তি যদি নিজেই নিজের বিরুদ্ধে এরূপ করার বৈধতা সৃষ্টি করে নিজেকে এর উপযুক্ত বানিয়ে নেয়৷
২৯. এখানে দৃশ্যত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করা হচ্ছে৷তবে মূল লক্ষ সেসব লোক যারা তাঁর বিরোধিতার ক্ষেত্রে সীমালংঘন করেছিলো৷ তাদেরকে বলা হয়েছেঃ আমার রসূর কি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবী করেছেন যে কারণে তোমরা এতটা বিগড়ে গিয়েছো? তোমরা জানো, তিনি একজন নিস্বার্থ ব্যক্তি৷ তিনি তোমাদের কাছে যা পেশ করেছেন তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ আছে বলে তিনি মনে করেন৷ আর এ জন্য তিনি তা পেশ করেছেন৷ তোমরা না চাইলে তা মানবে না৷ কিন্তু এর প্রচার ও তাবলীগের ব্যাপারে এতটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছো কেন? (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কোরআন, সূরা তূর,টীকা ৩১)
৩০. এ প্রশ্নটিও বাহ্যত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে করা হয়েছে৷ কিন্তু আসলে প্রশ্নটি তাঁর বিরোধীদের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে৷ এর অর্থ হলো, তোমরা কি গায়েবের পর্দার অন্তরালে উকি দিয়ে দেখে নিয়েছো যে, প্রকৃতপক্ষে তিনি আল্লাহর প্রেরিত রসূল নন৷ আর যেসব সত্য তিনি তোমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তাও ঠিক নয়৷ তাই তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য তোমরা এমন কোমর বেঁধে লেগেছো? (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, সূরা তূরের তাফসীর, টীকা৩২)
৩১. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তোমাদের বিজয় ও সাহায্য দেয়া এবং তোমাদের এসব বিরোধীদের পরাজিত করার চূড়ান্ত ফায়সালার সময় এখনও বহু দূরে৷ চূড়ান্ত ফায়সালার সে সময়টি আমার পূর্ব পর্যন্ত এ দীনের তাবলীগ ও প্রচারের পথে যত দুঃখ-কষ্ট ও মুসিবত আসবে তা ধৈর্যের সাথে বরদাশত করতে থাকো৷
৩২. অর্থাৎ ইউনূস আলাইহিস সালামের মত অধৈর্য হয়ে পড়ো না৷ অধৈর্য হয়ে পড়ার কারণে তাকে মাছের পেটে যেতে হয়েছিলো৷ আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়সালা না আসা পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়ার পরক্ষণেই "ইউনুস আলাইহিস সাল্লামের মত হয়ো না" বলা থেকে স্বতই ইংগিত পাওয়া যায় যে, আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়সালা আসার আগেই তিনি অধৈর্য হয়ে কোন কাজ করে ফেলেছিলেন৷ এবং এভাবে আল্লাহর অসন্তুষ্টি লাভ করেছিলেন৷(ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফমুল কুরআন, সূরা ইউনূস , আয়াত ৯৮ ,টীকা৯৯; সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৮৭-৮৮,টীকা ৮২ থেকে ৮৫;সূরা আস সাফ্ফাত, আয়াত ১৩৯ থেকে ১৪৮,টীকা ৭৮থেকে ৮৫৷
৩৩. সূরা আম্বিয়াতে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে৷ বলা হয়েছে, মাছের পেটের এবং সাগরের পানির অন্ধকারে হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উচ্চস্বরে এ বলে প্রার্থনা করলেনঃ------------ তোমার পবিত্র সত্তা ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই৷ আসলে আমিই অপরাধী"৷ আল্লাহ তাআলা তাঁর ফরিয়াদ গ্রহণ করলেন এবং তাকে এ দুঃখ ও মুসিবত থেকে মুক্তি দান করলেন৷ (আয়াত ৮৭-৮৮)
৩৪. এ আয়াতটিকে সূরা সাফ্ফাতের ১৪২ থেকে ১৪৬ পর্যন্ত আয়াতগুলোর পাশাপাশি রেখে পড়লে দেখা যাবে যে, যে সময় হযরত ইউনুস মাছের পেটে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তখন তিনি তিরষ্কারের পাত্র ছিলেন৷ কিন্তু যখন তিনি আল্লাহর তাসবীহ করলেন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করলেন তখন তাঁকে মাছের পেট থেকে বের করে অসুস্থ অবস্থায় এবং উন্মুক্ত ভুখণ্ডের ওপর নিক্ষেপ করা হলো৷ কিন্তু সে মুহুর্তে তিনি আর তিরষ্কারের পাত্র নন৷ মহান আল্লাহ তাঁর রহমতের সে জায়গায় একটি লতানো গাছ উৎপন্ন করে দিলেন, যাতে এ গাছের পাতা তাকে ছায়াদান করতে পারে এবং এর ফল খেয়ে তিনি ক্ষুধা ও পিপাসা নিবৃত করতে পারেন৷
৩৫. আমরা বলে থাকি,অমুক ব্যক্তি তার প্রতি এমনভাবে তাকালো যেন তাকে খেয়ে ফেলবে৷ একথাটিও ঠিক সেরকম৷ মক্কার কাফেরদের ক্রোধ ও আক্রোশের এ অবস্থা সূরা বনী ইসরাঈলের ৭৩ থেকে ৭৭ পর্যন্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে৷