(৬৮:১) নূন, শপথ কলমের এবং লেখকরা যা লিখে চলেছে তার৷
(৬৮:২) তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি পাগল নও৷
(৬৮:৩) আর নিশ্চিতভাবেই তোমার জন্য এমন পুরস্কার রয়েছে যা কখনো ফুরাবে না৷
(৬৮:৪) নিসন্দেহে তুমি নৈতিকতার অতি উচ্চ মর্যাদার সমাসীন৷
(৬৮:৫) অচিরে তুমিও দেখতে পাবে এবং তারাও দেখতে পাবে যে,
(৬৮:৬) তোমাদের উভয়ের মধ্যে কারা পাগলামীতে লিপ্ত৷
(৬৮:৭) তোমার রব তাদেরকে ও ভাল করে জানেন যারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে৷ আর তাদেরকেও ভাল করে জানেন যারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়েছে৷
(৬৮:৮) কাজেই তুমি মিথ্যাচরীদের অনুসরণ করো না৷
(৬৮:৯) তারা তো চায় তুমি নমনীয়তা দেখালে তারাও নমনীয়তা দেখাবে৷
(৬৮:১০) তুমি অবদমিত হয়ো না তার দ্বারা যে কথায় কথায় শপথ করে, যে মর্যাদাহীন,
(৬৮:১১) যে গীবত করে, চোগল খোরী করে বেড়ায়,
(৬৮:১২) কল্যাণের কাজে বাধা দেয়, জুলুম ও বাড়াবাড়িতে সীমালংঘন করে,
(৬৮:১৩) চরম পাপিষ্ঠ ঝগড়াটে ও হিংস্র এবং সর্বোপরি বজ্জাত৷
(৬৮:১৪) কারণ সে সম্পদশালী ও অনেক সন্তানের পিতা ১০
(৬৮:১৫) তাকে যখন আমার আয়াতসমূহ শোনানো হয় তখন সে বলে এ তো প্রাচীনকালের কিস্সা-কাহিনী৷
(৬৮:১৬) শিগগীরই আমি তার শুঁড় দাগিয়ে দেবো৷ ১১
(৬৮:১৭) আমি এদের (মক্কাবাসী)-কে পরীক্ষায় ফেলেছি যেভাবে পরীক্ষায় ফেলেছিলাম ১২ বাগানের মালিকদেরকে, যখন তারা শপথ করেছিল যে, তারা খুব ভোরে গিয়ে অবশ্যি নিজেদের বাগানের ফল আহরণ করবে৷
(৬৮:১৮) তারা এ ব্যাপারে কোন ব্যতিক্রমের সম্ভবনা স্বীকার করেছিলো না৷ ১৩
(৬৮:১৯) অতপর তোমার রবের পক্ষ থেকে একটি বিপর্যয় এসে সে বাগানে চড়াও হলো৷তখন তারা ছিলো নিদ্রিত৷
(৬৮:২০) বাগানের অবস্থা হয়ে গেলো কর্তিত ফসলের ন্যায়৷
(৬৮:২১) ভোরে তারা একে অপরকে ডেকে বললোঃ
(৬৮:২২) তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও তাহলে সকাল সকাল ফসলের মাঠের দিকে বেরিয়ে পড়ো৷ ১৪
(৬৮:২৩) সুতরাং তারা বেরিয়ে পড়লো৷ তারা নীচু গলায় একে অপরকে বলছিলো,
(৬৮:২৪) আজ যেন কোন অভাবী লোক বাগানে তোমাদের কাছে না আসতে পারে৷
(৬৮:২৫) তারা কিছুই না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব ভোরে এমনভাবে দ্রুত ১৫ সেখানে গেল যেন তারা (ফল আহরণ করতে)সক্ষম হয়৷
(৬৮:২৬) কিন্তু বাগানের অবস্থা দেখার পর বলে উঠলোঃ আমরা রাস্তা ভুলে গিয়েছি৷
(৬৮:২৭) তাও না- আমার বরং বঞ্চিত হয়েছি৷ ১৬
(৬৮:২৮) তাদের মধ্যকার সবচেয়ে ভাল লোকটি বললোঃ আমি কি তোমাদের বলিনি তোমরা তাসবীহ করছো না কেন? ১৭
(৬৮:২৯) তখন তারা বলে উঠলোঃ আমাদের রব অতি পবিত্র৷ বাস্তবিকই আমরা গোনাহগার ছিলাম৷
(৬৮:৩০) এরপর তারা সবাই একে অপরকে তিরষ্কার করতে লাগলো৷ ১৮
(৬৮:৩১) অবশেষে তারা বললোঃ "আমাদের এ অবস্থার জন্য আফসোস! আমরা তো বিদ্রোহী হয়ে গিয়েছিলাম৷
(৬৮:৩২) বিনিময়ে আমাদের রব হয়তো এর চেয়েও ভাল বাগান আমাদের দান করবেন৷ আমরা আমাদের রবের দিকে রুজু করছি
(৬৮:৩৩) আযাব এরূপই হয়ে থাকে৷ আখেরাতের আযাব এর চেয়েও বড়৷ হায়! যদি তারা জানতো৷
১. তা'ফসীরের ইমাম মুজাহিদ বলেনঃ কলম মানে যে কলম দিয়ে যিকর অর্থাৎ কুরআন মজীদ লেখা হচ্ছিলো৷ এ থেকে বুঝা যায়, যা লেখা হচ্ছিলো তা ছিল কুরআন মজীদ৷
২. একথাটির জন্যই কলম ও কিতাবের নামে শপথ করা হয়েছে৷ অর্থাৎ অহী লেখক ফেরেশতাদের হাত দিয়ে কুরআন মজীদ লিপিবদ্ধ হচ্ছে৷ কুরাআন মজীদ ফেরেশতাদের হাতে লিপিবদ্ধ হওয়াই কাফেরদের এ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে, নাউযুবিল্লাহ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাগল৷ নবুওয়াত দাবী করার পূর্বে মক্কাবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কওমের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ মনে করতো৷ তারা তাঁর দীনদারী, আমানতদারী, বিবেক-বুদ্ধি ও দূরদর্শিতার ওপর আস্থাশীল ছিলো৷ কিন্তু তিনি তাদের সামনে কুরআন মজীদ পেশ করতে শুরু করলে তারা তাঁকে পাগল বলে অভিহিত করতে লাগলো৷ এর সোজা অর্থ হলো, রসূলের (সা) প্রতি পাগল হওয়ার যে অপবাদ তারা আরোপ করতো তাদের দৃষ্টিতে তার মূল কারণ ছিলো কুরআন৷ তাই বলা হয়েছে, কুরআনই এ অপবাদের অসারতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট৷ নাউযুবিল্লাহ! তিনি পাগল হয়ে গিয়েছেন একথা প্রমাণ করা তো দূরে থাক অতি উচ্চমানের বিশুদ্ধ ও অলংকারপূর্ন ভাষায় এরূপ উন্নত বিষয়বস্তু পেশ করাই বরং একথা প্রমাণ করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানী বর্ষিত হয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে লক্ষনীয় বিষয় হলো বাহ্যিকভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে বক্তব্য পেশ করা হলেও মূল লক্ষ হলো কাফেরদেরকে তাদের অপবাদের জবাব দেয়া৷ অতএব, কারো মনে যেন এ সন্দেহ দানা না বাঁধে যে, এ আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পাগল নন এ মর্মে তাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য নাযিল হয়েছে৷নবী (সা) নিজের সম্পর্কে এমন কোন সন্দেহ পোষণ করতেন না যা নিরসনের জন্য তাঁকে এরূপ সান্তনা দেয়ার প্রয়োজন ছিলো৷ বরং এর লক্ষ কাফেরদেরকে এতোটুকু জানিয়ে দেয়া যে, কুরআনের কারণে তোমরা কুরআন পেশকারীকে পাগল বলে আখ্যায়িত করছো৷ তোমাদের এ অভিযোগ যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খোদ কুরআনই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ৷ (আরো বেশী জানতে হলে দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, সূরা তূর,টীকা ২২)
৩. অর্থাৎ এ জন্য তাঁকে দেয়া হবে অগণিত ও চিরস্থায়ী নিয়ামত৷ কারণ আল্লাহর বান্দাদের হিদায়াতের জন্য তিনি চেষ্টা-সাধনা করেছেন৷ বিনিময়ে তাঁকে নানা রকম কষ্টদায়ক কথা শুনতে হচ্ছে৷ এসব সত্ত্বও তিনি তাঁর এ কর্তব্য পালন করে চলেছেন৷
৪. এখানে এ আয়াতটির দুটি অর্থ৷ একটি হলো, আপনি নৈতিক চরিত্রের সর্বোচ্চ মানের ওপর অধিষ্ঠিত৷ তাই আপনি আল্লাহর বান্দাদের হিদায়াতের কাজে এতো দুঃখ-কষ্ট বরদাশত করেছেন৷ একজন দুর্বল নৈতিক চরিত্রের মানুষ এ কাজ করতে সক্ষম হতো না৷ অন্যটি হলো,কাফেররা আপনার প্রতি পাগল হওয়ার যে অপবাদ আরোপ করেছে তা মিথ্যা হওয়ার আরেকটি সুষ্পষ্ট প্রমাণ আপনার উন্নত নৈতিক চরিত্র৷ কারণ উন্নত নৈতিক চরিত্র ও মস্তিস্ক বিকৃতি একসাথে একই ব্যক্তির মধ্যে থাকতে পারে না৷ যার বুদ্ধি-বিবেক ও চিন্তার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে এবং মেজাজে সমতা নেই সেই পাগল৷ পক্ষান্তরে মানুষের উন্নত নৈতিক চরিত্র প্রমাণ করে যে, তার মস্তিষ্ক ও বিবেক -বুদ্ধি ঠিক আছে এবং সে সুস্থ ও স্বাভাবিক৷ তার মন-মানস ও মেজাজ অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ৷ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নৈতিক চরিত্র কেমন তা মক্কার প্রতিটি বিবেকসম্পন্ন মানুষ চিন্তা করতে বাধ্য হবে যে, তারা কতই নির্লজ্জ৷ নৈতিক চরিত্রের দিক দিযে এতো উন্নত একজন মানুষকে তারা পাগল বলে আখ্যায়িত করেছে৷ তাদের এ অর্থহীন কথাবার্তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য নয় বরং তাদের নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর ৷কারণ শত্রুতার আক্রোশে উন্মাত্ত হয়ে তারা তাঁর সম্পর্কে এমন কথা বলেছিলো , যা কোন বিবেকবান ব্যক্তি কল্পনাও করতে পারে না৷ এ যুগের জ্ঞান -গবেষণার দাবীদারদের ব্যাপারও ঠিক তাই৷ তারাও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মৃগী রোগগ্রস্ত ও বিকৃত মস্তিষ্ক হওয়ার অপবাদ আরোপ করছে৷ দুনিয়ার সব জায়গায় কুরআন শরীফ পাওয়া যায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন বৃত্তান্তও সবিস্তরে লিপিবদ্ধ আছে৷ যে কোন লোক তা অধ্যায়ন করলেই বুঝতে পারবে, যে এ অনুপম গ্রন্থ পেশকারী এবং এরূপ উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী মানুষটিকে মানসিক রোগী বলে আখ্যায়িত করে তারা শত্রুতার অন্ধ আবেগে আক্রান্ত হয়ে কি ধরনের অর্থহীন ও হাস্যকর প্রলাপ বকে চলেছে৷

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নৈতিক চরিত্রের সর্বোত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা৷ তিনি বলেছেনঃ ---------(কোরআনই ছিলো তাঁর চরিত্র৷ ইমাম আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, দারেমী ও ইবনে জারীর সামান্য কিছু শাব্দিক তারতাম্যসহ তাঁর এ বাণীটি বিভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন৷ এর মানে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার সামনে শুধু কুরআনের শিক্ষাই পেশ করেননি৷ বরং তিনি নিজেকে তার জীবন্ত নমুনা হিসেবে পেশ করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন ৷ কুরআনে যেসব নির্দেশ দেয়া হয়েছে সবার আগে তিনি নিজে সে মোতাবেক কাজ করেছেন৷ এতে যেসব বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে তিনি নিজে তা সবার আগে বর্জন করেছেন৷ কুরআন মজীদে যে নৈতিক গুণাবলীকে মর্যাদার কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেসব গুণে তিনি ছিলেন সবার চেয়ে বেশী গুণান্বিত৷ আর কুরআন মজীদে যেসব বিষয়কে অপছন্দনীয় আখ্যায়িত করা হয়েছে তিনি নিজে ছিলেন তা থেকে সবচেয়ে বেশী মুক্ত৷ আরেকটি বর্ণনায় হযরত আয়েশা বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কোন খাদেমকে মারেননি, কোন নারীর গায়ে হাতে তোলেননি, জিহাদের ক্ষেত্র ছাড়া নিজ হাতে কখনো কাউকে হত্যা করেননি৷১ তাঁকে কেউ কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি কখনো তার প্রতিশোধ নেননি৷ কেবল আল্লাহর হারাম করা বিষয়ে সীমালংঘন করলে তিনি তার শাস্তি দিয়েছেন৷ তাঁর নীতি ছিলো, কোন দুটি বিষয়ের একটি গ্রহণ করতে হলে তা যদি গোনাহের কাজ না হতো তাহলে তিনি সহজতর বিষয়টি গ্রহণ করতেন৷ গোনাহের কাজ থেকে তিনি সবচেয়ে বেশী দুরে থাকতেন৷ (মুসনাদে আহমাদ) হযরত আনাস বর্ণনা করেছেন, আমি দশ বছর যাবত রসূলুল্লাহর খেদমতে নিয়োজিত ছিলাম৷ আমার কোন কাজ সম্পর্কে তিনি কখনো উহ! শব্দ পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি৷ আমার কোন কাজ দেখে কখনো বলেননিঃ তুমি এ কাজ করলে কেন? কিংবা কাজ না করলে কখনো বলেননিঃ তুমি এ কাজ করলে না কেন? (বুখারীও মুসলিম)

১.সীরাতে ইবনে হিশাম সংক্ষিপ্ত সংষ্কারণ বাংলা অনুবাদ পৃষ্ঠা -১৯২ দেখুন৷(অনুবাদক)
৫. অর্থাৎ ইসলাম প্রচারের কাজে তুমি কিছু শিতিলতা দেখালে এরাও তোমার বিরোধিতায় কিছুটা নমনীয়তা দেখাবে৷ কিংবা তাদের গোমরাহীকে প্রশ্রয় দিয়ে যদি দীনের মধ্যে কিছুটা কাটছাঁট করতে রাজী হয়ে যাও তাহলে এরাও তোমার সাথে আপোষ রফা করে নেবে৷
৬. মূল আয়াতে --------(মাহিনিন)শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ এ শব্দটি নগণ্য , তুচ্ছ এবং নীচু লোকদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়৷ এটা কথায় কথায় শপথকারী ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট৷ সে কথায় কথায় কসম খায়৷ কারণ সে নিজেই বুঝে যে লোকে তাকে মিথ্যাবাদী মনে করে৷ কসম না খাওয়া পর্যন্ত লোকে তাকে বিশ্বাস করবে না৷ তাই সে নিজের বিবেকের কাছে হীন এবং সমাজের কাছেও তার কোন মর্যাদা নেই৷
৭. আয়াতে ----------(মান্নাইল্লিলখায়ের ) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ আরবী ভাষায় অর্থ -সম্পদ ও যাবতীয় ভাল কাজকেও --------(খায়ের ) বলা হয়৷ তাই শব্দটিকে যদি অর্থ-সম্পদ অর্থে গ্রহণ করা হয় তাহলে তার মানে হবে সে অত্যন্ত বখীল এবং কৃপণ৷ কাউকে কানাকড়ি দেয়ার মত উদরতা এবং মন -মানসও তার নেই৷ আর যদি -------খায়ের শব্দটি নেকী ও ভাল কাজের অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তার একটি অর্থ হতে পারে, সে প্রতিটি কল্যাণের কাজে বাধা সৃষ্টি করে৷ আরেকটি অর্থ হতে পারে সে ইসলাম থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখতে অত্যন্ত তৎপর৷

৮. আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ হলো--------- (ওতুল্লিন) ৷ আরবী ভাষায় ------ওতুল বলা হয় এমন লোককে যে অত্যন্ত সুঠামদেহী ও অধিকমাত্রায় পানহারকারী৷ অধিকন্তু চরম দুশ্চিত্র ঝগড়াটে এবং হিংস্র ও পাষণ্ড৷
৯. মূল আয়াতে --------(যানীম) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ আরবদের ভাষায় এ শব্দটি এমন অবৈধ সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে পরিবারের লোক নয়, কিন্তু তাদের মধ্যে অন্তরভুক্ত হয়ে গিয়েছে৷ সাঈদ ইবনে জুবাইর এবং শাবী বলেনঃ এ শব্দটি এমন লোকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যে তার অন্যায় ও দুষ্কৃতির কারণে বেশ প্রসিদ্ধ লাভ করেছে৷

এসব আয়াতে বর্ণিত বৈশিষ্টগুলো যে ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তার সম্পর্কে মুফাসিসরগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন৷ কেউ বলেছেন যে, সে ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা৷ কেউ আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগুসের নাম উল্লেখ করেছেন৷ কেউ আখনাস ইবনে শুরাইককে এই ব্যক্তি বলে চিহ্নিত করেছেন৷ আবার কেউ কেউ অন্য ব্যক্তির প্রতিও ইংগিত করেছেন৷ কিন্তু কুরআন মজীদে তার নাম উল্লেখ না করে শুধু বৈশিষ্টগুলো বর্ণনা করা হয়েছে ৷ এ থেকে বুঝা যায় এসব বৈশিষ্টের কারণে সে মক্কায় বেশ পরিচিত ছিল৷ তাই তার নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল না৷ এসব বৈশিষ্ট উল্লেখ করা মাত্র যে কোন লোক বুঝতে পারতো , কার প্রতি ইংগিত করা হচ্ছে৷

১০. এ আয়াতটির সম্পর্কে পূর্বোক্ত আয়াতগুলোর সাথেও হতে পারে এবং পরের আয়াতের সাথেও হতে পারে৷ পূর্বোক্ত আয়াতগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ হবে, বিপুল অর্থ-সম্পদ এবং অনেক সন্তান আছে বলে এ ধরনের লোকের দাপট ও প্রভাব-প্রতিপত্তি মেনে নিয়ো না৷ পরবর্তী আয়াতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ হবে, বিপুল অর্থ-সম্পদ ও অনেক সন্তান থাকার কারণে সে অহংকারী হয়েছে৷ তাকে আমার আয়াত শুনালে সে বলে এসব তো প্রাচীনকালের কিস্সা কাহিনী মাত্র৷
১১. সে যেহেতু নিজেকে খুব মর্যাদাবান মনে করতো তাই তার নাককে শুঁড় বলা হয়েছে৷ নাক দাগিয়ে দেয়ার অর্থ হচ্ছে লাঞ্ছিত করা৷ অর্থাৎ আমি তাকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গাতেই এমন লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবো যে, এ লাঞ্ছনা ও অপমান থেকে সে কখনো নিষ্কৃতি পাবে না৷
১২. এখানে সূরা কাহাফের পঞ্চম রুকূর আয়াতগুলো সামনে রাখতে হবে৷ সেখানেও একইভাবে উপদেশ দেয়ার জন্য দুই বাগান মালিকের উদাহরণ পেশ করা হয়েছে৷
১৩. অর্থাৎ নিজেদের ক্ষমতাও যোগ্যতার ওপর তাদের এমন আস্থা ছিল যে, শপথ করে দ্বিধাহীন চিত্তে বলে ফেললো, কালকে আমরা অবশ্যই আমাদের বাগানের ফল আহরণ করবো৷ আল্লাহর ইচ্ছা থাকলে আমরা এ কাজ করবো এতটুকু কথা বলার প্রয়োজনও তারা বোধ করেনি৷
১৪. এখানে ক্ষেত শব্দ ব্যবহার করার কারণ সম্ভবত এই যে, বাগানে বৃক্ষরাজির ফাঁকে ফাঁকে কৃষিক্ষেতও ছিলো৷
১৫. আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ হলো--------(আলা হারদিন)৷ আরবী ভাষায় --হারদ শব্দটি বাধা দান করা এবং না দেয়া বুঝাতেও বলা হয়, ইচ্ছা এবং সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত বুঝাতেও বলা হয় এবং তাড়াহুড়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়৷ সুতরাং অনুবাদ করতে আমরা তিনটি অর্থের প্রতিই লক্ষ রেখেছি৷
১৬. অর্থাৎ বাগান দেখে প্রথমে তারা বিশ্বাসই করতে পারেনি যে, সেটিই তাদের বাগান৷ তাই তারা বলেছে, আমরা পথ ভূলে হয়তো অন্য কোথাও এসে পৌছেছি৷ পরে চিন্তা করে যখন তারা বুঝতে পারলো সেটি তাদের নিজেদেরই বাগান তখন চিৎকার করে বলে উঠলোঃ আমাদের কপাল পুড়ে গেছে!
১৭. এর মানে যখন তারা শপথ করে বলেছিলো যে, আগামী দিন আমরা অবশ্যই বাগানের ফল আহরণ করবো তখন এ ব্যক্তি তাদেরকে সাবধান করে দিয়েছিলো৷ সে বলেছিলো, তোমরা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছো৷ তোমরা ইনশাআল্লাহ বলছো না কেন? কিন্তু তারা সে কথায় কর্ণপাত ও করলো না৷ পুনরায় যখন তারা দুস্থ ও অসহায়দের কিছু না দেয়ার জন্য সলাপরামর্শ করেছিলো তখনো সে তাদেরকে উপদেশ দিয়ে বললোঃ আল্লাহর কথা স্মরণ করো এবং এ খারাপ মনোভাব পরিত্যাগ করো৷ কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল রইলো৷
১৮. অর্থাৎ তারা একে অপরকে এই বলে দোষারোপ করতে শুরু করলো, আমরা অমুকের প্ররোচনায় আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিলাম্ এবং এ কুমতলব এঁটেছিলাম৷