(৬৬:৮) হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর কাছে তাওবা করো, প্রকৃত তাওবা৷ ১৯ অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ তোমাদের দোষত্রুটিসমুহ দুর করে দিবেন এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করবেন যারা পাদদেশ দিয়ে ঝরণাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে৷ ২০ সেটি হবে এমন দিন যেদিন আল্লাহ তাঁর নবী এবং নবীর সঙ্গী ঈমানদারদের লাঞ্ছিত করবেন না৷ ২১ তাদের ‘নূর’ তাদের সামনে ও ডান দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে থাকবে এবং তারা বলতে থাকবে, হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের ‘নূর’ পূর্ণাঙ্গ করে দাও ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও৷ তুমি সব কিছু করতে সক্ষম৷ ২২
(৬৬:৯) হে নবী, কাফের ও মুনাফিকরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো এবং তাদের কঠোরতা দেখাও৷ ২৩ তাদের ঠিকানা জাহান্নাম৷ তা অত্যন্ত মন্দ ঠিকানা৷
(৬৬:১০) আল্লাহ কাফেরদের ব্যাপারে নূহ এবং লুতের স্ত্রীদেরকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন৷ তারা আমার দুই নেক্‌কার বান্দার স্ত্রী ছিল৷ কিন্তু তারা তাদের স্বামীর সাথে খেয়ানত ২৪ করেছিল৷ তারা আল্লাহর মোকাবিলায় তাদের কোন কাজেই আসতে পারেনি৷ দু’জনকেই বলে দেয়া হয়েছে : যাও, আগুনে প্রবেশকারীদের সাথে তুমিও প্রবেশ কর৷
(৬৬:১১) আর ঈমানদারদের ব্যাপারে ফেরাউনের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করছেন৷ যখন সে দোয়া করলো, হে আমার রব, আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও৷ আমাকে ফেরাউন ও তার কাজকর্ম থেকে রক্ষা করো ২৫ এবং জালেম কওমের হাত থেকে বাঁচাও৷
(৬৬:১২) ইমরানের কন্যা ২৬ মারয়ামের উদাহরণও পেশ করেছেন, যে তার লজ্জাস্থানকে হিফাজত করেছিল৷ ২৭ অতপর আমি আমার পক্ষ থেকে তার মধ্যে রূহ ফুঁৎকার করছিলাম৷ ২৮ সে তার বাণীসমুহ এবং কিতাবসমুহের সত্যতা প্রতিপন্ন করেছে৷ সে ছিল আনুগত্যকারীদের অন্তরভুক্ত৷ ২৯
১৯. মূল আয়াতে () শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ৷ আরবী ভাষায় () শব্দের অর্থ নিষ্কলুষতা ও কল্যাণকামিতা ৷ খাঁটি মধু যা মোম ও অন্যান্য আবর্জনা থেকে মুক্ত করা হয়েছে তাকে আরবীতে () বলা হয় ৷ ছেঁড়া কাপড় সেলাই করে দেয়া এবং ফাঁটা ফাঁটা কাপড় ঠিক করে দেয়া বুঝাতে আরবী () শব্দ ব্যবহার করা হয় ৷ অতএব , তাওবা শব্দের সাথে () বিশেষণ যুক্ত করলে হয় তার আভিধানিক অর্থ হবে এমন তাওবা যার মধ্যে প্রদর্শনী বা মুনাফিকীর লেশমাত্র নেই ৷ অথবা তার অর্থ হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের কল্যাণ কামনা করবে এবং গোনাহ থেকে তাওবা করে নিজেকে মন্দ পারিণাম থেকে রক্ষা করবে ৷ অথবা তার অর্থ হবে গোনাহর কারণে তার দীনদারীর মধ্যে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে তাওবা দ্বারা তা সংশোধন করবে ৷ অথবা সে তাওবা করে নিজের জীবনকে এমন সুন্দর করে গড়ে তুলবে যে, অন্যের জন্য সে উপদেশ গ্রহণের কারণ হবে এবং তাকে দেখে অন্যরাও তার মত নিজেদেরকে সংশোধন করে নেবে ৷ 'তাওবায়ে নাসূহ'-এর আভিধানিক অর্থ থেকে এ অর্থসমূহই প্রতিভাত হয় ৷ এরপর অবশিষ্ট থাকে তাওবায়ে নাসূহ এর শরয়ী অর্থ ৷ আমরা এর শরয়ী অর্থের ব্যাখ্যা পাই যির ইবনে হুবাইশের মাধ্যমে ইবনে আবী হাতেম কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীসে ৷ যির ইবনে হুবাইশ বলেনঃ আমি উবাই ইবনে কা'বের (রা) কাছে 'তাওবায়ে নাসূহ' এর অর্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃআমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একই প্রশ্ন করেছিলাম ৷ তিনি বললেনঃ এর অর্থ হচ্ছে, কখনো তোমার দ্বারা কোন অপরাধ সংঘটিত হলে তুমি নিজের গোনাহর জন্য লজ্জিত হবে ৷ তারপর লজ্জিত হয়ে সে জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং ভবিষ্যতে আর কখনো ঐ কাজ করো না ৷ হযরত উমর (রা) , হযরত আবদুল্লাহ (রা) ইবনে মাসউদ এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকেও এ অর্থই উদ্ধৃত হয়েছে ৷ অন্য একটি বর্ণনা অনুসারে হযরত উমর 'তাওবায়ে নাসূহ'র সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবেঃ তাওবার পরে পুনরায় গোনাহ করা তো দূরের কথা তা করার আকাংখা পর্যন্ত করবে না ৷ (ইবনে জারীর) ৷ হযরত আলী (রা) একবার এক বেদুঈনকে মুখ থেকে ঝটপট করে তাওবা ও ইসতিগফারের শব্দ উচ্চারণ করতে দেখে বললেন, এতো মিথ্যাবাদীদের তাওবা ৷ সে জিজ্ঞেস করলো, তাহলে সত্যিকার তাওবা কি? তিনি বললেন সত্যিকার তাওবার সাথে ছয়টি জিনিস থাকতে হবে(১) যা কিছু ঘটেছে তার জন্য লজ্জিত হও ৷ (২) নিজের যে কর্তব্য ও করণীয় সম্পর্কে গাফলীতি করছ তা সম্পাদন কর ৷ (৩) যার হক নষ্ট করেছ তা ফিরিয়ে দাও ৷ (৪) যাকে কষ্ট দিয়েছ তার কাছে মাফ চাও ৷ (৫) প্রতিজ্ঞা করো ভবিষ্যতে এ গোনাহ আর করবে না ৷ এবং (৬) নফসকে এতদিন পর্যন্ত যেভাবে গোনাহর কাজে অভ্যস্ত করেছ ঠিক তেমনি ভাবে আনুগত্যে নিয়োজিত কর ৷ এতদিন পর্যন্ত নফসকে যেভাবে আল্লাহর অবাধ্যতার মজায় নিয়োজিত রেখেছিলে এখন তাকে তেমনি আল্লাহর আনুগত্যের তিক্ততা আস্বাদন করাও(কাশশাফ) ৷ তাওবা সম্পর্কিত বিষয়ে আরো কয়েকটি জিনিস ভালভাবে বুঝে নেয়া দরকার ৷ প্রথমত, প্রকৃতপক্ষে তাওবা হচ্ছে কোন গোনাহের কারণে এ জন্য লজ্জিত হওয়া যে, তা আল্লাহর নাফরমানী ৷ কোন গোনাহের কাজ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অথবা বদনামের কারণ অথবা আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়ায় তা থেকে বিরত থাকার সংকল্প করা তাওবার সংজ্ঞায় পড়ে না ৷ দ্বিতীয়ত, যখনই কেউ বুঝতে পারবে যে, তার দ্বারা আল্লাহর নাফরমানী হয়েছে, তার উচিত তৎক্ষনাৎ তাওবা করা, এবং যেভাবেই হোক অবিলম্বে তার ক্ষতিপূরণ করা কর্তব্য, তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয় ৷ তৃতীয়ত, তাওবা করে বারবার তা ভঙ্গ করা, তাওবাকে খেলার বস্তু বানিয়ে নেয়া এবং যে গোনাহ থেকে তাওবা করা হয়েছে বার বার তা করতে থাকা তাওবা মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ ৷ কেননা, তাওবার প্রাণ সত্তা হচ্ছে, কৃত গোনাহ সম্পর্কে লজ্জিত হওয়া কিন্তু বার বার তাওবা ভঙ্গ করা প্রমাণ করে যে, তার মধ্যে লজ্জার অনুভূতি নেই ৷ চতুর্থত, যে ব্যক্তি সরল মনে তাওবা করে পুনরায় ঐ গোনাহ না করার সংকল্প করেছে মানবিক দুর্বলতার কারণে যদি পুনরায় তার দ্বারা সেই গোনাহর পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে এ ক্ষেত্রে পূর্বের গোনাহ পুনরুজ্জীবিত হবে না তবে পরবর্তী গোনাহের জন্য তার পুনরায় তাওবা করা উচিত ৷ পঞ্চমত, যখনই গোনাহর কথা মনে পড়বে তখনই নতুন করে তাওবা করা আবশ্যক নয় ৷ কিন্তু তার প্রবৃত্তি যদি পূর্বের পাপময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে আনন্দ পায় তাহলে গোনাহের স্মৃতিচারণ তাকে আনন্দ দেয়ার পরিবর্তে লজ্জাবোধ সৃষ্টির কারণ না হওয়া পর্যন্ত তার বার বার তাওবা করা উচিত ৷ কারণ, যে ব্যক্তি সত্যিই আল্লাহর ভয়ে গোনাহ থেকে তাওবা করেছে সে অতীতে আল্লাহর নাফরমানী করেছে এই চিন্তা করে কখনো আনন্দ অনুভব করতে পারে না ৷ তা থেকে মজা পাওয়া ও আনন্দ অনুভব করা প্রমাণ করে যে, তার মনে আল্লাহর ভয় শিকড় গাড়তে পারেনি ৷
২০. এ আয়াতের কথাটি ভেবে দেখার মত ৷ এখানে এ কথা বলা হয়নি যে, তাওবা করলে তোমাদের অবশ্যই মাফ করে দেয়া হবে ৷ এবং তোমাদেরকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে ৷ বরং তাদের এই প্রত্যাশা দেয়া হয়েছে যে, যদি তোমরা সরল মনে তাওবা করো তাহলে অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ তোমাদের সাথে এই আচরণ করবেন ৷ এর অর্থ হলো, গোনাহগার বান্দার তাওবা কবুল করা এবং তাকে শাস্তি দেয়ার পরিবর্তে জান্নাত দান করা আল্লাহর জন্য ওয়াজিব নয় ৷ বরং তিনি যদি মাফ করে দেন এবং পুরস্কারও দেন তাহলে তা হবে সরাসরি তার দয়া ও মেহেরবানী ৷ বান্দার তাঁর ক্ষমালাভের আশা অবশ্যই করা উচিত ৷ কিন্তু তাওবা করলে ক্ষমা পাওয়া যাবে এই ভরসায় গোনাহ করা উচিত নয় ৷
২১. অর্থাৎ তার উত্তম কার্যাবলীর পুরস্কার নষ্ট করবেন না ৷ কাফের মুনাফিকদের এ কথা বলার সুযোগ মোটেই দেবেন না যে, আল্লাহর বন্দেগী করে এসব লোক কি প্রতিদান লাভ করেছে? লঞ্ছনা ও অপমান পড়বে, বিদ্রোহী ও নাফরমানদের ভাগে, বিশ্বাসী ও অনুগত্যেদের ভাগে তা পড়বে না ৷
২২. এ আয়াতটি সূরা হাদীদের ১২ ও ১৩ নং আয়াতের সাথে মিলিয়ে পড়লে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, ঈমানদারগণ যখন হাশরের ময়দান থেকে জান্নাতের দিকে যেতে থাকবেন তখনই তাদের আগে আগে 'নূর' অগ্রসর হওয়ার এই ঘটনা ঘটবে ৷ সেখানে চারদিকে থাকবে নিকষ কালো অন্ধকার ৷ যাদের জন্য দোযখের ফায়সালা হবে তারাই কেবল সেখানে অন্ধকারে ঠোকর খেতে থাকবে ৷ আলো কেবল ঈমানদারদের সাথেই থাকবে ৷ সেই আলোর সাহায্যে তারা পথ অতিক্রম করতে থাকবে ৷ এই নাজুক পরিস্থিতিতে অন্ধকারে হাতড়িয়ে বেড়ানো লোকদের আর্তনাদ ও বিলাপ শুনে শুনে ঈমানদারদের ওপর হয়তো ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে থাকবে, এবং নিজেদের ক্রটি-বিচ্যুতির কথা স্মরণ করে তারাও আশংকা করতে থাকবে যে, তাদের 'নূর' আবার ছিনিয়ে নেয়া না হয় এবং দুর্ভাগাদের মত তাদেরকেও অন্ধকারে হাতড়িয়ে মরতে না হয় ৷ তাই তারা দোয়া করতে থাকবে, হে আমাদের রব, আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দাও এবং জান্নাতে না পৌছা পর্যন্ত আমাদের 'নূর' কে অবশিষ্ট রাখ ৷ ইবনে জারীর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যে, () এর অর্থ হচ্ছে, যতক্ষণ তারা সহী সালামতে পুলসেরাত অতিক্রম করে না যায় ততক্ষণ যেন তাদের নূর অবশিষ্ট থাকে এবং নিভে না যায় ৷ হযরত হাসান বসরী, মুজাহিদ এবং দাহহাকের তাফসীরেও প্রায় অনুরূপ ৷ ইবনে কাসীর তাদের এই উক্তি উদ্ধৃত করেছেন, ঈমানদারগণ যখন দেখবেন মুনাফিকরা 'নূর' থেকে বঞ্চিত হয়ে গিয়েছে তখন তারা নিজেদের 'নূরের' পূর্ণতার জন্য দোয়া করতে থাকবে (আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহিমূল কুরআন, সূরা আল হাদীদ, টীকা ১৭) ৷
২৩. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা আত তাওবা, টীকা -৮২ ৷
২৪. এখানে খেয়ানতের অর্থ এ নয় যে, তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল ৷ এখানে খেয়ানতের অর্থ হচ্ছে তার হযরত নূহ (আ) ও লূতের (আ) সাথে ঈমানের পথে চলেনি, বরং তাদের বিরুদ্ধে দীন ইসলামের শত্রুদের সহযোগিতা করে এসেছে ৷ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ কোন নবীর স্ত্রী কখনো ব্যভিচারী ছিল না ৷ প্রকৃতপক্ষে এ দু'জন মহিলার খেয়ানত ছিল দীনের ব্যাপারে ৷ তারা হযরত নূহ (আ) ও লূতের (আ) দীন গ্রহণ করেনি ৷ হযরত নূহের (আ) স্ত্রী তার কওমের জালেমদের কাছে ঈমান গ্রহণকারী সম্পর্কে খবর পৌছাত এবং হযরত লূতের (আ) স্ত্রী তার স্বামীর কাছে আগত লোকদের খবর তার কওমের দুশ্চরিত্র লোকদের কাছে পৌছে দিত ৷ (ইবনে জারীর) ৷
২৫. অর্থাৎ ফেরাউন যেসব খারাপ কাজ কর্ম করে আমাকে তার মন্দ পরিণামের অংশীদার করো না ৷
২৬. হয়তো হযরত মারয়ামের বাপের নাম ইমরান ছিল, অথবা তাঁকে ইমরানের কন্যা বলার কারণ হচ্ছে, তিনি ইমরানের বংশধর ছিলেন ৷
২৭. এটা ইহুদীদের অপবাদের জবাব ৷ ইহুদীদের অপবাদ ছিল, তাঁর গর্ভে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম (নাউযুবিল্লাহ) কোন গোনাহর ফল ছিল ৷ সূরা নিসার ১৫৬ আয়াতে এই জালেমদের এই অপবাদকে () মারাত্মক অপবাদ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে ৷ (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, সূরা আন নিসা, টীকা -১৯০) ৷
২৮. অর্থাৎ কোন পুরুষের সংস্পর্শ ছাড়াই তার গর্ভাশয়ে নিজের পক্ষ থেকে একটি প্রাণ সৃষ্টি করা হয়েছিল ৷ (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমুল কুরআন , সূরা আন -নিসা, টীকা ২১২ ও ২১৩; সূরা আল -আম্বিয়া, টীকা -৮৯) ৷
২৯. যে উদ্দেশ এই তিন শ্রেনীর নারীর উদাহরণ পেশ করা হয়েছে এই সূরার ভূমিকায় তার ব্যাখ্যা করেছি ৷ তাই এখানে তা পুনরালোচনার প্রয়োজন নেই ৷