(৬:১৪১) তিনি আল্লাহই নানা প্রকার লতাগুল্ম ১১৬ ও বাগান সৃষ্টি করেছেন৷ খেজুর বীথি সৃষ্টি করেছেন৷ শস্য উৎপাদন করেছেন , তা থেকে নানা প্রকার খাদ্য সংগৃহিত হয়৷ যাইতুন ও ডালিম বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন, এদের ফলে মধ্যে বাহ্যিক সাদৃশ্য থাকলেও স্বাদ বিভিন্ন৷ এগুলোর ফল খাও যখন ফলবান হয় এবং এগুলোর ফসল কাটার সময় আল্লাহর হক আদায় করো আর সীমা অতিক্রম করো না৷ কারণ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে আল্লাহ পছ্ন্দ করেন না৷
(৬:১৪২) আবার তিনিই গবাদী পশুর মধ্যে এমন পশুও সৃষ্টি করেছেন, যাদের সাহায্যে যাত্রী ও ভার বহনের কাজ নেয়া হয় এবং যাদেরকে খাদ্য ও বিছানার কাজেও ব্যবহার করা হয়৷ ১১৭ খাও এ জিনিসগুলো থেকে, যা আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন এবং শয়তানের অনুসরণ করো না, কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু ৷ ১১৮
(৬:১৪৩) এ আটটি নর ও মাদী, দুটি মেষ শ্রেণীর ও দুটি ছাগল শ্রেণীর৷ হে মুহাম্মাদ! এদেরকে জিজ্ঞেস করো, আল্লাহ এদের নর দুটি হারাম করেছেন, না মাদী দুটি অথবা মেষ ও ছাগলের পেটে যে বাচ্চা আছে সেগুলো ? যথার্থ জ্ঞানের ভিত্তিতে আমাকে জানাও যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো৷ ১১৯
(৬:১৪৪) আর এভাবে দুটি উট শ্রেণীর ও দুটি গাভী শ্রেণীর মধ্য থেকে৷ জিজ্ঞেস করো, আল্লাহ এদের নর দুটি হারাম করেছেন, না মাদী দুটি, না সেই বাচ্চা যা উটনী ও গাভীর পেটে রয়েছে ? ১২০ তোমরা কি তখন কি উপস্থিত ছিলে যখন আল্লাহ তোমাদেরকে এদের হারাম হুকুম দিয়েছিলেন ? কাজেই তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হবে যে আল্লাহর নামে মিথ্যা কথা বলে? তার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সঠিক জ্ঞান ছাড়াই মানুষকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করা৷ নিসন্দেহে আল্লাহ এহেন জালেমদের সত্য-সঠিক পথ দেখান না৷
১১৬. আয়াতের মূল শব্দ হচ্ছে **** ৷ এর অর্থ হচ্ছে দু' ধরনের বাগান৷ এক ধরনের বাগান হচ্ছে লতানো গাছের, যেগুলো মাচানের ওপর বা কোন কিছুকে আশ্রয় করে বিস্তার লাভ করে৷ আর দ্বিতীয় ধরনের বাগান হচ্ছে এমন সব গাছের যেগুলো অন্যের সাহায্য ছাড়াই নিজের কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে৷ আমাদের ভাষায় বাগান শব্দটি কেবলমাত্র এ দ্বিতীয় ধরনের বাগানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়৷ তাই এখানে কেবল **** এর অনুবাদ করা হয়েছে বাগান৷ আর **** এর অর্থ করা হয়েছে লতাগুল্ম৷
১১৭. মূল আয়াতে ***** শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ এক ধরনের পশুকে ফর্‌শ বলা হয়েছে৷ এ অর্থে যে, তারা আকারে ছোট এবং যমীনের সাথে মিশে চলাফেরা করে৷ অথবা তাদেরকে এ জন্য ফরশ বলা হয়েছে যে, যবেহ করার সময় তাদেরকে যমীনের ওপর শোয়ানো হয়৷ অথবা তাদের চামড়া ও লোম থেকে ফরশ্‌ বা বিছানা বানানো হয় তাই তাদেরকে ফরশ বলা হয়েছে৷
১১৮. বক্তব্য বিষয়টির ধারাবাহিক বর্ণনার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে জানা যায়া, এখানে মহান আল্লাহ তিনটি কথা হৃদয়ংগম করাতে চান৷ এক, তোমরা এই যে, বাগান, ক্ষেত-খামার ও গবাদি পশু লাভ করেছো, এগুলো সবই আল্লাহর দান৷ এ দানে অন্য কারোর কোন অংশ নেই৷ তাই এ দানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ব্যাপারেও কারোর কোন অংশ থাকতে পারে না৷ দুই, এগুলো যেহেতু আল্লাহর দান তাই এগুলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রেই আল্লাহর বিধানের অনুগত্য করতে হবে৷ এগুলো ব্যবহারে ক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে কোন সীমা নির্ধারণ করে দেবার অধিকার কারোর নেই৷ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর নির্ধারিত রীতি ও নিয়মের অনুসরণ করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর সামনে অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে নযরানা পেশকরাই সীমা অতিক্রম করার নামান্তর এবং এটিই শয়তানে অনুসূতি৷ তিন, এসব জিনিস আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন মানুষের পানাহার ও ব্যবহার করার জন্য৷ এগুলোকে অযথা নিজের জন্য হারাম করে নেবার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়নি৷ নিজেদের আন্দাজ-অনুমান ও কুসংস্কারেরর ভিত্তিতে লোকেরা আল্লাহর দেয়া রিযিক এবং তাঁর প্রদত্ত বিভিন্ন জিনিসের ব্যবহারের ওপর যেসব বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সেগুলো সবই আল্লাহর উদ্দেশ্য বিরোধী৷
১১৯. অর্থাৎ আন্দাজ, অনুমান, ধারণা বা পৈত্রিক ঐতিহ্য ও সংস্কার করো না৷ বরং যথার্থ ও সুনিশ্চিত তথ্য ও জ্ঞান পেশ করো, যদি তা তোমাদের কাছে থাকে৷
১২০. তাদের নিজেদের ধারণা, অনুমান ও কুসংস্কার যাতে তাদের নিজেদের সামনে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে সে উদ্দেশ্যেই এ প্রশ্নগুলো এমন বিস্তারিতভাবে তাদের কাছে পেশ করা হয়েছে৷ একই শ্রেণীর পশুর নর হালাল ও মাদী হারাম অথবা মাদী হালাল ও নর হারাম বা পশটি হালাল কিন্তু তার গর্ভস্থিত বাচ্চাটি হারাম-এগুলো এমন সুস্পষ্ট অযৌক্তিক কথা যে, কোন সুস্থ বিবেক একথা মেনে নিতে অস্বীকার করবে৷ আল্লাহ কখনো এ ধরনের অর্থহীন বাজে হুকুম দিতে পারেন তা কোন বুদ্ধিমান মানুষ কল্পনাও করতে পারে না৷ তাছাড়া কুরআন যে পদ্ধতিতে আরববাসীদেরকে তাদের এ সমস্ত ধারণা কল্পনা ওকুসংস্কারের অযৌক্তিকতা বুঝাবার চেষ্টা করেছে ঠিক সে একই পদ্ধতিতে দুনিয়ার যেসব জাতির মধ্যে পানাহার দ্রব্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে হারাম-হালালের অযৌক্তিক বিধি-নিষেধ এবং অস্পৃশ্যতাবোধ ও ছোঁয়া ছুঁয়ির নিয়ম প্রচলিত রয়েছে, তাদের সেই সমস্ত কুসংস্কার ও ধারণা ও কল্পনার অযৌক্তিকতা সম্পর্কের তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া যেতে পারে৷