(৫৯:১৮) হে ২৮ ঈমানদাররা, আল্লাহকে ভয় করো৷ আর প্রত্যেককেই যেন লক্ষ রাখে, সে আগামীকালের জন্য কি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে৷ ২৯ আল্লাহকে ভয় করতে থাক৷ আল্লাহ নিশ্চিতভাবেই তোমাদের সেই সব কাজ সম্পর্কে অবহিত যা তোমরা করে থাক৷
(৫৯:১৯) তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার কারণে আল্লাহ তাদের নিজেদেরকেই ভুলিয়ে দিয়েছেন৷ ৩০ তারাই ফাসেক৷
(৫৯:২০) যারা দোযখে যাবে এবং যারা জান্নাতে যাবে তারা পরস্পর সমান হতে পারে না৷ যারা জান্নাতে যাবে তারাই সফলকাম৷
(৫৯:২১) আমি যদি এই কুরআনকে কোন পাহাড়ের ওপর নাযিল করতাম তাহলে তুমি দেখতে পেতে তা আল্লাহর ভয়ে ধসে পড়ছে এবং ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে৷ ৩১ আমি মানুষের সামনে এসব উদাহরণ এ জন্য পেশ করি যাতে তারা (নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে) ভেবে দেখে৷
(৫৯:২২) আল্লাহই সেই ৩২ মহান সত্তা যিনি ছাড়া আর কোন মা’বুদ নেই৷ ৩৩ অদৃশ্য ও প্রকাশ্য সবকিছুই তিনি জানেন৷ ৩৪ তিনিই রহমান ও রহীম৷৩৫
(৫৯:২৩) আল্লাহ-ই সেই মহান সত্তা যিনি ছাড়া কোন মা’বুদ নেই৷ তিনি বাদশাহ, ৩৬ অতীব পবিত্র, ৩৭ পূর্ণাঙ্গ শান্তি, ৩৮ নিরাপত্তাদানকারী, ৩৯ হিফাযতকারী, ৪০ সবার ওপর বিজয়ী, ৪১ শক্তি বলে নিজের নির্দেশ কার্যকরী করতে সক্ষম ৷ ৪২ এবং সবার চেয়ে বড় হয়েই বিরাজমান থাকতে সক্ষম৷ ৪৩ আল্লাহ সেই সব শিরক থেকে পবিত্র যা লোকেরা করে থাকে ৷ ৪৪
(৫৯:২৪) সেই পরম সত্তা তো আল্লাহ-ই যিনি সৃষ্টির পরিকল্পনাকারী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের র্নিদেশ দানকারী এবং সেই অনুপাতে রূপদানকারী৷ ৪৫ উত্তম নামসমূহ তাঁর-ই৷ ৪৬ আসমান ও যমীনের সবকিছু তাঁর তাসবীহ বা পবিত্রতা বর্ণনা করে চলেছে৷ ৪৭ তিনি পরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানী৷৪৮
২৮. কুরআন মজীদের নিয়ম হলো, যখনই মুনাফিক মুসলমানদের মুনাফিকসুলভ আচরণের সমালোচনা করা হয় তখনই তাদেরকে নসীহতও করা হয় ৷ যাতে তাদের যার যার মধ্যে এখনো কিছুটা বিবেক অবশিষ্ট আছে সে যেন তার এই আচরণে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহকে ভয় করে ধ্বংসের সেই গহবর থেকে উঠে আসার চিন্তা করে যার মধ্যে সে প্রকৃতির দাসত্বের কারণে নিক্ষিপ্ত হয়েছে ৷ এ রুকূ' পুরোটাই এ ধরনের নসীহতে পরিপূর্ণ ৷
২৯. আগামীকাল অর্থ আখেরাত ৷ দুনিয়ার এই গোটা জীবনকাল হলো, 'আজ' এবং কিয়ামতের দিন হলো আগামীকাল যার আগমণ ঘটবে আজকের এই দিনটির পরে ৷ এ ধরনের বাচনভঙ্গির মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত বিজ্ঞোচিতভাবে মানুষকে বুঝিয়েছেন যে, ক্ষণস্থায়ী আনন্দ উপভোগ করার জন্য যে ব্যক্তি তার সবকিছু ব্যয় করে ফেলে এবং কাল তার কাছে ক্ষমা নিবারণের জন্য খাদ্য আর মাথা গুঁজাবার ঠাই থাকবে কিনা সে কথা চিন্তা করে না সেই ব্যক্তি এ পৃথিবীতে বড় নির্বোধ ৷ ঠিক তেমনি ঐ ব্যক্তিও নিজের পায়ে কুঠারাঘাত করছে যে তার পার্থিব জীবন নির্মানের চিন্তায় এতই বিভোর যে আখেরাত সম্পর্কে একেবারেই গাফেল হয়ে গিয়েছে ৷ অথচ আজকের দিনটির পরে কালকের দিনটি যেমন অবশ্যই আসবে তেমনি আখেরাতও আসবে ৷ আর দুনিয়ার বর্তমান জীবনে যদি সে সেখানকার জন্য অগ্রিম কোন ব্যবস্থা না করে তাহলে সেখানে কিছুই পাবে না ৷ এর সাথে দ্বিতীয় জ্ঞানগর্ভ ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এ আয়াতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের হিসেব পরীক্ষক বানানো হয়েছে ৷ যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তির মধ্যে ভাল এবং মন্দের পার্থক্যবোধ সৃষ্টি না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আদৌ সে অনুভব করতে পারে না যে, সে যা কিছু করছে তা তার আখেরাতের জীবনকে সুন্দর ও সুসজ্জিত করছে, না ধ্বংস করছে ৷ তার মধ্যে এই অনুভূতি যখন সজাগ ও সচেতন হয়ে ওঠে তখন তার নিজেকেই হিসেব-নিকেশ করে দেখতে হবে, সে তার সময়, সম্পদ, শ্রম, যোগ্যতা, এবং প্রচেষ্টা যে পথে ব্যয় করছে তা তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে না জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ৷ এ বিষয়টি বিবেচনা করা তার নিজের স্বার্থেরই প্রয়োজন ৷ অন্যথায় সে নিজের ভবিষ্যত নিজেই ধ্বংস করবে ৷
৩০. অর্থাৎ আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার অনিবার্য ফল হলো নিজেকে ভুলে যাওয়া, সে কার বান্দা সে কথা যখন কেউ ভুলে যায়, তখন অনিবার্যরূপে সে দুনিয়ায় তার একটা ভুল অবস্থান ঠিক করে নেয় ৷ এই মৌলিক ভ্রান্তির কারণে তার গোটা জীবনই ভ্রান্তিতে পর্যবসতি হয় ৷ অনুরূপভাবে সে যখন একথা ভুলে যায় যে সে এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো বান্দা নয় তখন আর সে শুধু সেই এদের বন্দেগী করে না ৷ এমতাবস্থায় সে প্রকৃতই যার বান্দা তাকে বাদ দিয়ে যাদের সে বান্দা নয় এমন অনেকের বন্দেগী করতে থাকে ৷ এটা আর একটি মারাত্মক ও সর্বাত্মক ভুল যা তার গোটা জীবনকেই ভুলে পরিণত করে ৷ পৃথিবীতে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা ও অবস্থান হলো সে বান্দা বা দাস, স্বাধীন বা মুক্ত নয় ৷ সে কেবল এক আল্লাহর বান্দা, তার ছাড়া আর কারো বান্দা সে নয় ৷ একথাটি যে ব্যক্তি জানে না প্রকৃতপক্ষে সে নিজেই নিজেকে জানে না ৷ আর যে ব্যক্তি একথাটি জেনেও এক মুহূর্তের জন্যও তা ভুলে যায় সেই মুহূর্তে সে এমন কোন কাজ করে বসতে পারে যা কোন আল্লাহদ্রোহী বা মুশরিক অর্থাৎ আত্মবিস্মৃত মানুষই করতে পারে ৷ সঠিক পথের ওপর মানুষের টিকে থাকা পুরোপুরি নির্ভর করে আল্লাহকে স্মরণ করার ওপর ৷ আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে গাফেল হওয়া মাত্রই সে নিজের সম্পর্কেও গাফেল হয়ে যায় আর এই গাফলতিই তাকে ফাসেক বানিয়ে দেয় ৷
৩১. এই উপমার তাৎপর্য হলো, কুরআন যেভাবে আল্লাহর বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য এবং তাঁর কাছে বান্দার দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে পাহাড়ের মত বিশাল সৃষ্টিও যদি তার উপলদ্ধি লাভ করতে পরতো এবং কেমন পরাক্রমশালী ও সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী প্রভুর সামনে নিজের সব কাজকর্মের জবাবদিহি করতে হবে তা যদি জানতো তাহলে সেও ভয়ে কেঁপে উঠতো ৷ কিন্তু সে মানুষ কুরআনকে বুঝতে পারে এবং কুরআনের সাহায্যে সবকিছুর তাৎপর্য ও বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করছে, কিন্তু এরপরও তার মনে কোন ভয়-ভীতি সৃষ্টি হয় না কিংবা যে কঠিন দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে সে সম্পর্কে তার আল্লাহকে কি জবাব দেবে সে বিষয়ে আদৌ কোন তার মনে জাগে না ৷ বরং কোরআন পড়ার বা শোনার পরও সে এমন নির্লিপ্তি ও নিষ্ক্রীয় থাকে যেন একটি নিষ্প্রাণও অনুভূতিহীন পাথর ৷ শোনা, দেখা ও উলপব্দি করা আদৌ তার কাজ নয় ৷ মানুষের এই চেতানাহীনতা ও নিরুদ্বিগ্নতা বিষ্মরকর বৈকি ৷ (আরো ব্যাখার জন্য দেখুন তাফহিমূল কুরআন , সূরা আহযাব, টীকা ১২০) ৷
৩২. এ আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার কাছে এই কুরআন পাঠানো হয়েছে যিনি তোমার ওপর এসব দায়িত্ব অর্পণ করেছেন এবং যাঁর কাছে অবশেষে তোমাকে জবাবদিহি করতে হবে সেই আল্লাহ কেমন এবং তাঁর গুণাবলী কি? উপরোল্লেখিত বিষয়টি বর্ণনার পর পরই আল্লাহর গুণাবলীর বর্ণনা আপনা থেকেই মানুষের মধ্যে এই অনুভূতি সৃষ্টি করে যে, তার লেনদেন ও বুঝা পড়া কোন সাধারণ সত্তার সাথে নয়, বরং এমন এক জবরদস্ত সত্তার সাথে যিনি এসব গুণাবলীর অধিকারী ৷ এখানে এ বিষয়টি জেনে নেয়া দরকার যে, যদিও কোরআন মজীদে বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর গুণাবলী এমন অনুপম ভংগীতে বর্ণনা করা হয়েছে যা থেকে আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায় ৷ কিন্তু দুটি স্থান বিশেষভাবে এমন যেখানে আল্লাহ তা'আলার গুণাবলীর ব্যাপক অর্থব্যঞ্জক বর্ণনা পাওয়া যায় ৷ এর একটি হলো, সূরা বাকারার আয়াতুল কুরসী (২৫৫ আয়াত) অপরটি হলো সূরা হাশরের এই আয়াতগুলো ৷
৩৩. অর্থাৎ যিনি ছাড়া আর কারোই ক্ষমতা, পদমর্যাদা ও অবস্থান এমন নয় যে, তার বন্দেগী ও আরাধনা করা যেতে পারে ৷ যিনি ছাড়া আর কেউ আল্লাহর গুণাবলী ও ক্ষমতার মালিকই নয় যে, সে উপাস্য হওয়ার অধিকার লাভ করতে পারে ৷
৩৪. অর্থাৎ সৃষ্টির কাছে যা গোপন ও অজানা তিনি তাও জানেন আর যা তাদের কাছে প্রকাশ্য ও জানা তাও তিনি জানেন ৷ এই বিশ্ব-জাহানের কোন বস্তুই তার জ্ঞানের বাইরে নয় ৷ যা অতীত হয়ে গিয়েছে , যা বর্তমানে আছে যা ভবিষ্যতে হবে তার সবকিছুই তিনি সরাসরি জানেন ৷ এসব জানার জন্য তিনি কোন মাধ্যমের মুখাপেক্ষী নন ৷
৩৫. অর্থাৎ একমাত্র তিনিই এমন এক সত্তা যার রহমত অসীম ও অফুরন্ত সমগ্র বিশ্ব চরাচরব্যাপী পরিব্যাপ্ত এবং বিশ্ব-জাহানের প্রতিটি জিনিসই তার বদান্যতা ও অনুগ্রহই লাভ করে থাকে ৷ গোটা বিশ্ব-জাহনে আর একজনও এই সর্বাত্মক ও অফুরন্ত রহমতের অধিকারী নেই ৷ আর যেসব সত্তার মধ্যে দয়ামায়ার এই গুণটি দেখা যায় তা আংশিক ও সীমিত ৷ তাও আবার তার নিজস্ব গুণ বা বৈশিষ্ট নয় ৷ বরং স্রষ্টা কোন উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন সামনে রেখে তা তাকে দান করেছেন তিনি কোন সৃষ্টির মধ্যে দয়ামায়ার আবেগ অনুভূতি সৃষ্টি করে থাকলে তা এ জন্য করেছেন যে, তিনি একটি সৃষ্টিকে দিয়ে আরেকটি সৃষ্টির প্রতিপালন ও সুখ -স্বচ্ছন্দের ব্যবস্থা করতে চান ৷ এটাও তারই রহমতের প্রমাণ ৷
৩৬. মূল আয়াতে () শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ প্রকৃত বাদশাহ তিনিই ৷ তাছাড়া শুধু () শব্দ ব্যবহার করায় তার অর্থ দাঁড়ায় তিনি কোন বিশেষ এলাকা বা নির্দিষ্ট কোন রাজ্যের বাদশাহ নন, বরং সমগ্র বিশ্ব-জাহানের বাদশাহ ৷ তার ক্ষমতা ও শাসন কর্তৃত্ব সমস্ত সৃষ্টিজগতে জুড়ে পরিব্যাপ্ত ৷ প্রতিটি বস্তুর তিনিই মালিক ৷ প্রতিটি বস্তু তার ইখতিয়ার ক্ষমতা এবং হুকুমের অধিন ৷ তার কর্তৃত্ব তথা সার্বভৌম ক্ষমতাকে () সীমিত করার মত কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই ৷ কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তা'আলার বাদশাহীর এ দিকগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছেঃ

--------------------------

"আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তা সব তারই মালিকানাধীন ৷ সবাই তার নির্দেরশের অনুগত ৷ "(আর রুম-২৬)

----------------------------

"আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সব কাজের ব্যবস্থাপনা তিনিই পরিচালনা করে থাকেন ৷ "

------------------------------

"আসমান ও যমীনের বাদশাহী তাঁরই ৷ সব বিষয় আল্লাহর দিকেই রুজু করা হবে ৷ "

--------------------

"বাদশাহী ও সার্বভৌমত্বে কেউ তাঁর অংশীদার নয় ৷ "

---------------------------

"সবকিছুর কর্তৃত্ব ও শাসন ক্ষমতা তাঁরই হাতে" ৷ (ইয়াসীন-৮২)

-----------------

"যা ইচ্ছা তাই করতে সক্ষম"(আল বুরুজ-১৬)

-------------------------

"তিনি যা করেন তার জন্য তাকে কারো জবাবদিহি করতে হয় না ৷ তবে অন্য সবাইকে জবাবদিহি করতে হয় ৷ "

-----------------------------

"আল্লাহ ফায়সালা করেন ৷ তাঁর ফায়সালা পুনর্বিবেচনাকারী কেউ নেই ৷ "

-------------------------

"তিনিই আশ্রয় দান করেন ৷ তাঁর বিরুদ্ধে কেউ আশ্রয় দিতে পারে না ৷ (আল মু'মিনূন, ৮৮)

------------------------------------

"বলো , হে আল্লাহ , বিশ্ব-জাহানের মালিক! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান কর এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও ৷ তুমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদা দান করো আবার যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত কর ৷ সমস্ত কল্যাণ তোমার আয়ত্বে ৷ নিসন্দেহে তুমি সব বিষয়ে শক্তিমান ৷ "(আলে ইমরান, ২৬)

এসব স্পষ্ট ঘোষণা থেকে একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আল্লাহ তা'আলা বাদশাহী সার্বভৌমত্ব কোন সীমিত বা রূপক অর্থের বাদশাহী নয়, সত্যিকার বাদশাহী যা সার্বভৌমত্বের পূর্নাংগ অর্থ ও পূর্ণাংগ ধারণার মূর্তপ্রতীক ৷ সার্বভৌম ক্ষমতা বলতে প্রকৃতপক্ষে যা বুঝায় তার অস্তিত্ব তার বাস্তবে কোথাও থাকলে কেবলমাত্র আল্লাহ তা'আলার বাদশাহীতেই আছে ৷ তাঁকে ছাড়া আর যেখানেই সার্বভৌম ক্ষমতা থাকার দাবী করা হয় তা কোন বাদশাহী বা ডিক্টেটরের ব্যক্তি সত্তা, কিংবা কোন শ্রেনী বা গোষ্ঠী অথবা কোন বংশ বা জাতি যাই হোক না কেন প্রকৃত সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী নয় ৷ কেননা যে ক্ষমতা অন্য কারো দান , যা কোন সময় পাওয়া যায় এবং আবার এক সময় হাতছাড়া হয়ে যায়, অন্য কোন শক্তির পক্ষ থেকে যা বিপদের আশংকা করে, যার প্রতিষ্ঠা ও টিকে থাকা সাময়িক এবং অন্য বহু প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি যার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের গণ্ডি সীমিত করে দেয় এমন সরকার বা রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে আদৌ সার্বভৌম ক্ষমতা বলা হয় না ৷

কিন্তু কুরআন মজীদ শুধু একথা বলেই ক্ষান্ত হয় না যে, আল্লাহ তা'আলা গোটা বিশ্ব-জাহানের বাদশাহ ৷ এর সাথে পরবর্তী আয়াতাংশগুলোতে স্পষ্ট করে বলেছে, তিনি এমন বাদশাহ যিনি , 'কুদ্দুস', 'সালাম', 'মু'মিন', 'মুহাইমিন', 'আযীয', 'জাব্বার', 'মুতাকাব্বির', 'খালেক', 'বারী'এবং 'মুছাওবির' ৷
৩৭. মূল ইবারতে () শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যা আধিক্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয় ৷ এর মূল ধাতু () ৷ () অর্থ সবরকম মন্দ বৈশিষ্ট মুক্ত ও পবিত্র হওয়া ৷ () অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলার পবিত্র সত্তা কোন প্রকার দোষ-ত্রুটি অথবা অপূর্ণতা কিংবা কোন মন্দ বৈশিষ্টের অনেক উর্ধ্বে ৷ বরং তা এক অতি পবিত্র সত্তা যার মন্দ হওয়ার ধারণাও করা যায় না ৷ এখানে একথাটি ভালভাবে উপলদ্ধি করতে হবে যে, চরম পবিত্রতা প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌমত্বের প্রাথমিক অপরিহার্য বিষয়সমূহের অন্তরভূক্ত যে সত্তা দুষ্ট, দুশ্চরিত্র এবং বদনিয়াত পোষণকারী , যার মধ্যে মানব চরিত্রের মন্দ বৈশিষ্টসমূহ বিদ্যমান এবং যার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভের অধিনস্তরা কল্যাণ লাভের প্রত্যাশী হওয়ার পরিবর্তে অকল্যানের ভয়ে ভীত হয়ে ওঠে এমন সত্তা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে এটা মানুষের স্বাভাবিক বিবেক বুদ্ধি ও স্বাভাব -প্রকৃতি মেনে নিতে অস্বীকার করে ৷ এ কারণে মানুষ যাকেই সার্বভৌম ক্ষমতার আধার বলে স্বীকৃতি দেয় তার মধ্যে পবিত্রতা না থাকলেও তা আছে বলে ধরে নেয় ৷ কারণ পবিত্রতা ছাড়া নিরংকুশ ক্ষমতা অকল্পনীয় ৷ কিন্তু এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, আল্লাহ ছাড়া কোন চূড়ান্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি পবিত্র নয় এবং তা হতেও পারে না ৷ ব্যক্তিগত বাদশাহী , গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক শাসনপদ্ধতি , অন্য কোন পদ্ধতির মানবীয় সরকার যাই হোক না কেন কোন অবস্থায়ই তার সম্পর্কে চরম পবিত্রতার ধারণা করা যেতে পারে না ৷
৩৮. মূল আয়াতে () শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ শান্তি ৷ কাউকে 'সুস্থ'ও 'নিরাপদ'না বলে 'নিরাপত্তা'বললে আপনা থেকেই তার মধ্যে আধিক্য অর্থ সৃষ্টি হয়ে যায় ৷ যেমন কাউকে সুন্দর না বলে যদি সৌন্দর্য বলা হয় তাহলে তার অর্থ হবে সে আপাদমস্তক সৌন্দর্যমণ্ডিত ৷ সুতরাং আল্লাহ তা'আলাকে () বলার অর্থ তার গোটা সত্তাই পুরোপুরি শান্তি ৷ কোন বিপদ, কোন দুর্বলতা কিংবা অপূর্ণতা স্পর্শ করা অথবা তাঁর পূর্ণতায় কোন সময় ভাটা পড়া থেকে তিনি অনেক উর্ধে ৷
৩৯. মূল আয়াতে () শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ৷ এ শব্দটির মূল ধাতু হলো () ৷ () অর্থ ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ হওয়া ৷ তিনিই মু'মিন যিনি অন্যকে নিরাপত্তা দান করেন ৷ আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টিকে নিরাপত্তা দান করেন তাই তাঁকে মু'মিন বলা হয়েছে ৷ তিনি কোন সময় তাঁর সৃষ্টির ওপর জুলুম করবেন, কিংবা তার অধিকার নাস্যাত করবেন কিংবা তার পুরস্কার নষ্ট করবেন অথবা তার কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করবেন এ ভয় থেকে তার সৃষ্টি পুরোপুরি নিরাপদ ৷ আর কর্তার কোন কর্ম অর্থাৎ তিনি কাকে নিরাপত্তা দেবেন তা যেহেতু উল্লেখিত হয়নি বরং শুধু () বা নিরাপত্তা দানকারী বলা হয়েছে তাই আপনা থেকে এর অর্থ দাঁড়ায় গোটা বিশ্ব -জাহান ও তার সমস্ত জিনিসের জন্য তাঁর নিরাপত্তা ৷
৪০. মূল আয়াতে () শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ৷ এ শব্দটির তিনটি অর্থ হয় ৷ এক, তত্ত্বাবধান ও হিফাজতকারী ৷ দুই, পর্যবেক্ষণকারী, কে কি করছে তা যিনি দেখেছেন ৷ তিন, সৃষ্টির যাবতীয় বিষয়ের ব্যবস্থাপক , যিনি মানুষের সমস্ত প্রয়োজন ও অভাব পূরণ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ৷ এখানেও যেহেতু শুধু () শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই কর্তার কোন কর্ম নির্দেশ করা হয়নি ৷ অর্থাৎ তিনি কার তত্বাবাধানকারী ও সংরক্ষক, কার পর্যবেক্ষক এবং কার দেখা শোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তা বলা হয়নি ৷ তাই শব্দের এ ধরনের প্রয়োগে থেকে স্বতঃই যা অর্থ দাঁড়ায় তা হলো তিনি সমস্ত সৃষ্টির তত্বাবধান ও সংরক্ষণ করেছেন, সবার কাজকর্ম দেখেছেন এবং বিশ্ব -জাহানের সমন্ত সৃষ্টির দেখাশোনা , লালন -পালন এবং অভাব ও প্রয়োজন পুরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ৷
৪১. মূল ইবারতে () শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ৷ এর অর্থ এমন এক পরাক্রমশালী সত্তা যার মোকাবিলায় অণ্য কেউ মাথা তুলতে পারে না, যার সিদ্ধান্তসমূহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর সাধ্য করো নেই এবং যার মোকাবিলায় সবাই অসহায় ও শক্তিহীন ৷
৪২. মূল আয়াতে () শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ৷ এর শব্দমূল বা ধাতু হলো () ৷ () শব্দের অর্থ কোন বস্তুকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ঠিক করা, কোন জিনিসকে শক্তি দ্বারা সংশোধন করা ৷ যদিও আরবী ভাষায় () শব্দটির কোন কোন ক্ষেত্রে শুধু সংশোধন অর্থে এবং কোন কোন সময় শুধু জবরদস্তি বা বল প্রয়োগ অর্থে ব্যবহৃত হয় ৷ কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ হলো, সংস্কার ও সংশোধনের জন্য শক্তি প্রয়োগ করা ৷ সুতরাং আল্লাহ তা'আলাকে (জাব্বার ) বলার অর্থ হলো বল প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি সৃষ্ট বিশ্ব-জাহানের শৃংখলা রক্ষাকারী এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়নকারী, যদিও তাঁর ইচ্ছা সম্পূর্ণরূপে জ্ঞান ও যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ৷ তাছাড়া ও () শব্দটির মধ্যে বড়ত্ব ও মহত্ববোধক অর্থও বিদ্যমান ৷ খেজুরের যে গাছ অত্যন্ত উচুঁ হওয়ার কারণে তার ফল সংগ্রহ করা কারো জন্য সহজসাধ্য নয় আরবী ভাষায় তাকে জাব্বার বলে ৷ অনুরূপ যে কাজ অত্যন্ত গুরুত্ব বা জাকজমকপূর্ণ তাকে জাব্বার বা অতি বড় কাজ বলা হয় ৷
৪৩. মূল আয়াতে () শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ৷ এ শব্দটির দুটি অর্থ ৷ এক, যে প্রকৃতপক্ষে বড় নয়, কিন্তু খামাখা বড়ত্ব জাহির করে ৷ দুই, যে প্রকৃতপক্ষেই বড় এবং বড় হয়েই থাকে ৷ মানুষ হোক, শয়তান হোক, বা অন্য কোন মাখলুক হোক, যেহেতু প্রকৃতপক্ষে তার কোন বড়ত্ব মহত্ব নেই, তাই নিজেকে নিজে বড় মনে করা এবং অন্যদের কাছে নিজের বড়ত্ব ও মহত্ব জাহির করা একটা মিথ্যা দাবী ও জঘন্য দোষ ৷ অপর দিকে আল্লাহ তা'আলা প্রকৃতই বড়, বড়ত্ব বাস্তবে তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট এবং বিশ্ব-জাহানের সব বস্তু তাঁর সামনে ক্ষুদ্র ও নগণ্য ৷ তাই তাঁর বড় হওয়ার এবং বড় হয়ে থাকা নিছক কোন দাবী বা ভান নয় ৷ বরং একটি বাস্তবতা ৷ এটি কোন খারাপ বা মন্দ বৈশিষ্ট নয়, বরং একটি গুণ ও সৌন্দর্য যা তাঁর ছাড়া আর কারো মধ্যে নেই ৷
৪৪. অর্থাৎ যারাই তাঁর ক্ষমতা, ইখতিয়ার ও গুণাবলীতে কিংবা তাঁর সত্তায় অন্য কোন সৃষ্টিকে অংশীদার বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তারা অতিবড় এক মিথ্যা বলেছে ৷ কোন অর্থেই কেউ আল্লাহ তা'আলার শরীক বা অংশীদার নয় ৷ তিনি তা থেকে পবিত্র ৷
৪৫. অর্থাৎ সারা দুনিয়ার এবং দুনিয়ার প্রতিটি বস্তু সৃষ্টির প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে শুরু করে তার নির্দিষ্ট আকার আকৃতিতে অস্তিত্ব লাভ করা পর্যন্ত পুরোপুরি তাঁরই তৈরী ও লালিতপালিত ৷ কোন কিছুই আপনা থেকে অস্তিত্ব লাভ করেনি কিংবা আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়ে যায়নি অথবা তার নির্মাণ ও পরিপাটি কারণে অন্য কারো সামান্যতম অবদান ও নেই ৷ এখানে আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টিকর্মকে তিনটি স্বতন্ত্র পর্যায় বা স্তরে বর্ণনা করা হয়েছে ৷ যা ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হয়ে থাকে ৷ প্রথম পর্যায়টি হলো সৃষ্টি অর্থাৎ পরিকল্পনা করা ৷ এর উদাহরণ হলো, কোন ইঞ্জিনিয়ার কোন ইমারত নির্মাণের পূর্বে যেমন মনে মনে স্থির করে যে, অমুক বিশেষ উদ্দেশ্য তাকে এরূপ ও এরূপ একটি ইমরাত নির্মান করতে হবে ৷ সে তখণ মনে মনে তার নমুনা বা ডিজাইন চিন্তা করতে থাকে ৷ এ উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত ইমারতের বিস্তারিত ও সামগ্রিক কাঠামো কি হবে এ পর্যায়ে সে তা ঠিক করে নেয় ৷ দ্বিতীয় পর্যায় হলো, () ৷ এ শব্দটির প্রকৃত অর্থ হলো , পৃথক করা চিরে ফেলা, ফেড়ে ফেলা আলাদা করা ৷ স্রষ্টার জন্য 'বারী' শব্দটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তা হচ্ছে , তিনি তার পরিকল্পিত কাঠামোকে বাস্তবে রূপ দেন ৷ অর্থাৎ যে নকাশা তিনি নিজে চিন্তা করে রেখেছেন তাকে কল্পনা বা অস্তিত্বহীনতার জগত থেকে এনে অস্তিত্ব দান করেন ৷ এর উদাহরণ হলো, ইঞ্জিনায়ার ইমারতের যে কাঠামো ও আকৃতি তাঁর চিন্তার জগতে অংকন করেছিলেন সে অনুযায়ী ঠিকমত মাপজোঁক করে মাটিতে দাগ টানেন, ভিত খনন করেন, প্রাচীর গেঁথে তোলেন এবং নির্মাণের সকল বাস্তব স্তর অতিক্রম করেন ৷ তৃতীয় পর্যায় হলো, 'তাসবীর'এর অর্থ রূপদান করা ৷ এখানে এর অর্থ হলো, কোন বস্তুকে চূড়ান্ত , পূর্ণাঙ্গ আকৃতি, ও রূপ দান করা ৷ এখানে এর অর্থ হলো, কোন বস্তুকে চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ আকৃতি ও রূপ দান করা ৷ এই তিনটি পর্যায়ে আল্লাহ তা'আলার কাজ ও মানুষের কাজের মধ্যে আদৌ কোন মিল বা তুলনা হয় না ৷ মানুষের কোন পরিকল্পনাই এমন নয় যা পূর্বের কোন নমুনা থেকে গৃহীত নয় ৷ কিন্তু আল্লাহ তা'আলার প্রতিটি পরিকল্পনাই অনুপম এবং তাঁর নিজের আবিষ্কার ৷ মানুষ যা তৈরী করে তা আল্লাহ তা'আলার সৃষ্ট উপাদানসমূহের একটিকে আরেকটির সাথে জুড়ে করে ৷ অস্তিত্ব নেই এমন কোন জিনিসকে সে অস্তিত্ব দান করে না, বরং যা আছে তাকেই বিভিন্ন পন্থায় জোড়া দেয় ৷ পক্ষান্তরে আল্লাহ তা'আলা সমস্ত বস্তুকে অস্তিত্বহীনতা থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন এবং যে উপাদান দিয়ে তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সে উপাদানও তাঁর নিজের সৃষ্টি ৷ অনুরূপ আকার-আকৃতি দানের ব্যাপারেও মানুষ আবিষ্কর্তা নয়, বরং প্রকৃত আকার-আকৃতি দানকারী ও চিত্র অংকনকারী মহন আল্লাহ ৷ তিনি প্রতিটি জাতি, প্রজাতি এবং প্রতিটি ব্যক্তির অনুপম ও নজীরহীন আকার -আকৃতি বানিয়েছেন এবং কোন সময় একই আকার-আকৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটাননি ৷
৪৬. নামসমূহ অর্থ গুণবাচক নাম ৷ তাঁর উত্তম নাম থাকার অর্থ হলো, যেমন গুণবাচাক নাম দ্বারা তার কোন প্রকার অপূর্ণতা প্রকাশ পায় যেসব গুণবাচক নাম তাঁর উপযুক্ত নয় ৷ যেসব নাম তাঁর পূর্ণাংগ গুণ বৈশিষ্ট প্রকাশ করে সেই সব নামে তাকে স্মরণ করা উচিত ৷ কুরআন মজীদের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ তা'আলার এসব উত্তম নামের উল্লেখ করা হয়েছে ৷ হাদীসে তাঁর পবিত্র সত্তার ৯৯টি নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৷ হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে তিরমিযী ও ইবনে মাজা এসব নাম বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন ৷ কেউ যদি কুরআন ও হাদীস থেকে এসব নাম গভীর মনোনিবেশ সহকারে পড়ে তাহলে সে অতি সহজেই উপলদ্ধি করতে পারবে যে, পৃথিবীর অন্য কোন ভাষায় যদি পড়ে তাহলে সে অতি সহজেই উপলদ্ধি করতে পারবে যে, পৃথিবীর অন্য কোন ভাষায় যদি আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করতে হয় তাহলে সে জন্য কি ধরনের শব্দ উপযুক্ত হবে ৷
৪৭. অর্থাৎ মুখের ভাষায় ও অবস্থার ভাষায় বর্ণনা করছে যে, তারা স্রষ্টা সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটি , অপূর্ণতা, দুর্বলতা এবং ভূল-ভ্রান্তি থেকে পবিত্র ৷
৪৮. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমূল কোরআন সূরা হাদীদের ২নং টীকা ৷