(৫৭:১১) এমন কেউ কি আছে যে আল্লাহকে ঋণ দিতে পারে? উত্তম ঋণ যাতে আল্লাহ তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে ফেরত দেন৷ আর সেদিন তার জন্য রয়েছে সর্বোত্তম প্রতিদান ১৬
(৫৭:১২) যেদিন তোমরা ঈমানদার নারী ও পুরুষদের দেখবে, তাদের ‘নূর’ তাদের সামনে ও ডান দিকে দৌড়াচ্ছে৷ ১৭ (তাদেরকে বলা হবে) “আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ৷” জান্নাতসমূহ থাকবে যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে৷ যেখানে তারা চিরকাল থাকবে৷ এটাই বড় সফলতা৷
(৫৭:১৩) সেদিন মুনাফিক নারী পুরুষের অবস্থা হবে এই যে, তারা মু’মিনদের বলবেঃ আমাদের প্রতি একটু লক্ষ কর যাতে তোমাদের ‘নূর’ থেকে আমরা কিছু উপকৃত হতে পারি৷ ১৮ কিন্তু তাদের বলা হবেঃ পেছনে চলে যাও৷ অন্য কোথাও নিজেদের ‘নূর’ তালাশ কর৷ অতপর একটি প্রাচীর দিয়ে তাদের মাঝে আড়াল করে দেয়া হবে৷ তাতে একটি দরজা থাকবে৷ সে দরজার ভেতরে থাকবে রহমত আর বাইরে থাকবে আযাব৷ ১৯
(৫৭:১৪) তারা ঈমানদারদের ডেকে ডেকে বলবে আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? ২০ ঈমানদাররা জওয়াব দেবে হাঁ, তবে তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ফিতনার মধ্যে নিক্ষেপ করেছিলে , ২১ সুযোগের সন্ধানে ছিলে,২২ সন্দেহে নিপতিত ছিলে ২৩ এবং মিথ্যা আশা-আকাংখা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিলো৷ শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ফায়সালা এসে হাজির হলো ২৪ এবং শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সে বড় প্রতারক ২৫ আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা করে চললো৷
(৫৭:১৫) অতএব, তোমাদের নিকট থেকে আর কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না৷ আর তাদের নিকট থেকেও গ্রহণ করা হবে না যারা সুস্পষ্টভাবে কুফরীরতে লিপ্ত ছিল৷ ২৬ তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম ৷ সে (জাহান্নাম) তোমাদের খোঁজ খবর নেবে৷ ২৭ এটা অত্যন্ত নিকৃষ্ট পরিণতি৷
(৫৭:১৬) ঈমান গ্রহণকারীদের জন্য, এখনো কি সে সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের মন বিগলিত হবে, তাঁর নাযিলকৃত মহা সত্যের সামনে অবনত হবে ২৮ এবং তারা সেসব লোকদের মত হবে না যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল৷ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে তাদের মন কঠোর হয়ে গিয়েছে এবং আজ তাদের অধিকাংশই ফাসেক হয়ে গেছে৷ ২৯
(৫৭:১৭) খুব ভাল করে জেনে নাও, আল্লাহ ভূ-পৃষ্ঠকে মৃত হয়ে যাওয়ার পর জীবন দান করেন৷ আমরা তোমাদেরকে স্পষ্টভাবে নির্দশনসমূহ দেখিয়ে দিয়েছি যাতে তোমরা বিবেক-বুদ্ধি কাজে লাগাও৷ ৩০
(৫৭:১৮) দান সাদকা প্রদানকারী নারী ও পুরুষ ৩১ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে, নিশ্চয়ই কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে তাদেরকে ফেরত দেয়া হবে৷ তাছাড়াও তাদের জন্য আছে সর্বোত্তম প্রতিদান৷
(৫৭:১৯) যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছে ৩২ তারাই তাদের রবের কাছে ‘সিদ্দীক’ ৩৩ ও ‘শহীদ’ ৩৪ বলে গণ্য৷ তাদের জন্য তাদের পুরস্কার ও ‘নূর’ রয়েছে৷ ৩৫ আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতকে অস্বীকার করেছে তারাই দোযখের বাসিন্দা৷
১৬. এটা আল্লাহ তা'আলার চরম উদরতা ও দানশীলতা যে, মানুষ যদি তাঁরই দেয়া সম্পদ তাঁর পথে ব্যয় করে তাহলে তিনি তা নিজের জন্য ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেন৷ অবশ্য শর্ত এই যে, তা "কর্জে হাসানা" (উত্তম ঋণ) হতে হবে৷ অর্থাৎ খাঁটি নিয়তে কোন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ছাড়াই তা দিতে হবে৷ তার মধ্যে কোন প্রকার প্রদর্শনীর মনোবৃত্তি খ্যাতি ও নামধামের আকাংখা থাকবে না, তা দিয়ে কাউকে খোঁটা দেয়া যাবে না, দাতা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই দেবে এবং এছাড়া অন্য কারো প্রতিদান বা সন্তুষ্টি লক্ষ হবে না৷ এ ধরনের ঋণের জন্য আল্লাহর দুটি প্রতিশ্রুতি আছে৷ একটি হচ্ছে, তিনি তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে ফেরত দেবেন৷ অপরটি হচ্ছে, এজন্য তিনি নিজের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম পুরস্কার দান করবেন৷ হাদীসে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে, এ আয়াত যখন নাযিল হয় এবং নবীর (সা) পবিত্র মুখ থেকে লোকজন তা শুনতে পায় তখন হযরত আবদ দাহদাহ আনসারী জিজ্ঞেস করেনঃ হে আল্লাহর রসূল, আল্লাহ কি আমাদের কাছে ঋণ চান? জবাবে নবী (সা) বলেনঃ হে আবুদ দাহদাহ, হাঁ'৷ তখন তিনি বললেনঃ আপনার হাত আমাকে একটু দেখান৷ নবী (সা) তার দিকে নিজে হাত বাড়িয়ে দিলেন৷ আবুদ দাহদাহ নবীর (সা) হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বললেনঃ "আমি আমার রবকে আমার বাগান ঋণ দিলাম"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেনঃ সেই বাগানে ৬ শত খেজুর গাছ ছিল৷ বাগানের মধ্যেই ছিল আবুদ দাহদাহের বাড়ী৷ তার ছেলে মেয়েরা সেখানেই থাকতো৷ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এসব কথাবার্তা বলে তিনি সোজা বাড়ীতে গিয়ে হাজির হলেন এবং স্ত্রীকে ডেকে বললেনঃ "দাহদাহর মা, বেরিয়ে এসো৷ আমি এ বাগান আমার রবকে ঋণ হিসেবে দিয়ে দিয়েছি৷ স্ত্রী বললোঃ "দাহদাহর বাপ, তুমি অতিশয় লাভজনক কারবার করেছো" এবং সেই মুহূর্তেই সব আসবাবপত্র ও ছেলেমেয়েকে সাথে নিয়ে বাগান ছেড়ে চলে গেলেন" (ইবনে আবী হাতেম) ৷ এ ঘটনা থেকে অনুমান করা যায় সে সময় প্রকৃত মু'মিনের কর্ম পদ্ধতি কেমন ছিল৷ এ থেকে একথাও বুঝা যায় যে, যে কর্জে হাসানাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে ফেরত দেয়ার এবং তাছাড়াও আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সম্মানজনক পুরস্কার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা কেমন৷
১৭. এ আয়াতটি এবং পরবর্তী আয়াতসমূহ থেকে জানা যায় হাশরের ময়দানে শুধুমাত্র নেককার ঈমানদারদেরই 'নূর' থাকবে৷ কাফের, মুনাফিক, ফাসেক ও ফাজেররা দুনিয়াতে যেমন অন্ধকারে পথ হারিয়ে হাতড়িয়ে মরেছে, সেখানেও তেমনি অন্ধকারে হাতড়িয়ে মরতে থাকবে৷ যেখানে আলো যেটুকু হবে তা সৎ আকীদা-বিশ্বাস ও সৎ আমলের৷ ঈমানের সততা এবং সৎচরিত্র ও কর্মের পবিত্রতাই 'নূরে' রুপান্তরিত হবে যার কারণে সৎ লোকদের ব্যক্তিত্ব ঝলমলিয়ে উঠবে৷ যার কর্ম যতটা উজ্জল হবে তার ব্যক্তিসত্তার আলোক রশ্মিও তত বেশী তীব্র হবে৷ সে যখন হাশরের ময়দান থেকে জান্নাতের দিকে যাত্রা করবে তখন তার 'নূর' বা আলো তা আগে আগে ছুটতে থাকবে৷ এর সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হচ্ছে কাতাদা বর্ণিত একটি মুরসাল হাদীস৷ উক্ত হাদীসে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ "কারো কারো 'নূর' এত তীব্র হবে যে, মদীনা থেকে "আদন"এর সম পরিমাণ দূরত্ব পৌছতে থাকবে৷ তাছাড়া কারো 'নূর' পৌছবে মদীনা থেকে সান'আ পর্যন্ত কারো তার চেয়েও কম এমনকি এমন মুমিন থাকবে যার নূর তার পায়ের তলা থেকে সামনে যাবে না" (ইবনে জারীর) অণ্য কথায় যার মাধ্যমে পৃথিবীর যত বেশী কল্যাণ হবে তার 'নূর' তত বেশী উজ্জ্বল হবে এবং পৃথিবীর যেসব স্থানে তার কল্যাণ পৌছবে হাশরের ময়দানেও তার নূরের আলো ততটা দূরত্ব পর্যন্ত দৌড়াতে থাকবে৷

এখানে একটি প্রশ্ন মানুষের মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে৷ প্রশ্নটি হচ্ছে, নূর বা আলোক রশ্মির আগে আগে দৌড়ানোর ব্যাপারটি বোধগম্য হয়৷ কিন্তু শুধু ডান পাশে নূর দৌড়ানো অর্থ কি? তবে কি তাদের বাঁ দিকে অন্ধকার থাকবে? এ প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, কেউ যদি তার ডান হাতে আলো নিয়ে পথ চলতে থাকে তাহলে তার বাঁ দিকটাও কিন্তু আলোকিত হবে৷ অথচ বাস্তব ঘটনা এই যে, আলো আছে তার ডান হাতে৷ হযরত আবু যার ও আবুদ দারদা কর্তৃক বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদীস থেকে এর সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ৷ নবী (সা) বলছেনঃ

-------------------

"আমি সেখানে আমার উম্মতের নেককার লোকদের তাদের নূরের সাহায্যে চিনতে পারবো -যে নূর তাদের সামনে ডানেও বাঁয়ে দৌড়াতে থাকবে" (হাকেম, ইবনে আবী হাতেম, ইবনে মারদুইয়া) ৷
১৮. অর্থ হচ্ছে, মু'মিনগণ যখন জান্নাতের দিকে যেতে থাকবেন তখন আলো থাকবে তাদের সামনে আর মুনাফিকরা পেছনে অন্ধকারে ঠোকর খেতে থাকবে৷ সে সময় তারা ঈমানাদারদেরকে ডেকে ডেকে বলতে থাকবে৷ আমাদের দিকে একটু ফিরে তাকাও যাতে আমরাও কিছু আলো পেতে পারি৷ কারণ এ মুনাফিরকরা দুনিয়াতে ঈমানদারদের সাথে একই মুসলিম সমাজে বসবাস করতো৷
১৯. এর অর্থ হচ্ছে, জান্নাতবাসীগণ ঐ দরজা ঐ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে৷ দরজার এক দিকে থাকবে জান্নাতের নিয়ামতসমূহ আর অপরদিকে থাকবে দোযখের আযাব৷ যে সীমারেখার জান্নাত ও দোযখের মাঝে আড়াল হয়ে থাকবে মুনাফিকদের পক্ষে তা অতিক্রম করা সম্ভব হবে না৷
২০. অর্থাৎ আমরা কি তোমাদের সাথে একই মুসলিম সমাজের অন্তরভুক্ত ছিলাম না? আমরা কি কালেমায় বিশ্বাসী ছিলাম না? তোমাদের মত আমরাও কি নামায পড়তাম না? রোযা রাখতাম না? হজ্জ ও যাকাত আদায় করতাম না? আমরা তোমাদের মজলিসে শরীক হতাম না? তোমাদের সাথে কি আমাদের বিয়ে শাদী ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না ? তাহলে আমাদের ও তোমাদের মাঝে আজ এ বিচ্ছিন্নতা আসলো কিভাবে?
২১. অর্থাৎ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তোমরা খাঁটি মুসলমান হও নাই, বরং ঈমানও কুফরের মাঝে দোদুল্যমান ছিলে, কুফরী ও কাফেরদের প্রতি তোমাদের আকর্ষণ কখনো ছিন্ন হয়নি এবং তোমরা নিজেদেরকে কখনো ইসলামের সাথে পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করনি৷
২২. আয়াতে মূল শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে () ৷ আরবী ভাষায় () বলে অপেক্ষা করা ও সুযোগ লাভের প্রতীক্ষায় থাকাকে৷ কেউ যখন দুটি পথের কোন একটিকে চলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, বরং এই ভেবে অপেক্ষা করতে থাকে যে, যেদিকে যাওয়া লাভজনক বলে মনে সেদিকেই যাবে তখন হয় সে () এ পড়ে আছে৷ কুফর ও ইসলামের মধ্যকার সে নাজুক যুগে মুনাফিকরা এ ভূমিকাই গ্রহণ করেছিল৷ তারা খোলাখুলি কুফরের পক্ষেও অবলম্বন করেছিল না৷ আবার পূর্ণ তৃপ্তি ও প্রশান্তির সাথে নিজের শক্তিকে ইসলামের সাহায্যে সহযোগিতায় কাজে লাগাচ্ছিলো না৷ বরং যথারীতি বসে বসে দেখছিলো, এ শক্তি পরীক্ষায় কোন দিকের পাল্লা শেষ পর্যন্ত ভারী হয়৷ যাতে ইসলামের বিজয়ী হচ্ছে বলে মনে হলে সে ইসলামের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়তে পারে এবং মুসলমানদের সাথে কালেমায় বিশ্বাস করার যে সম্পর্ক আছে তা কাজে লাগে৷ আর যদি কুফরী শক্তি বিজয়ী হয় তাহলে তার সহযোগিদের সাথে যেয়ে শামিল হতে পারে এবং তখন ইসলামের পক্ষ থেকে যুদ্ধে কোন প্রকার অংশ গ্রহণ না করা তার জন্য কল্যাণকর প্রমাণিত হয়৷
২৩. এর অর্থ বিভিন্ন রকম সংশয় -সন্দেহ৷ মুনাফিকরা এ ধরনের সংশয় -সন্দেহে আক্রান্ত হয়ে থাকে৷ এগুলোই মুনাফিকীর মূল কারণ৷ সে আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণ করে৷ রসূলের রিসালাতে সন্দেহ পোষণ করে, কুরআন যে আল্লাহর কিতাব তাতেও সন্দেহ পোষণ করে৷ আখেরাত, আখেরাতের জবাবদিহি এবং প্রতিদান ও শাস্তির ব্যাপারেও সন্দেহ পোষন করে এবং তার মনে এরূপ সন্দেহও সৃষ্টি হয় যে, হক ও বাতিলের দ্বন্দ্বের সত্যিই কি কোন স্বার্থকতা আছে? না কি এসবই একটা ঢং ৷ সত্য শুধু এত টুকুই যে, সুখে স্বচ্ছন্দে থাকে৷ এটাই সত্যিকারের জীবন ৷ যতক্ষণ না কেউ এ ধরনের সন্দেহ সংশয়ে নিমজ্জিত হবে ততক্ষণ সে মুনাফিক হতে পারে না৷
২৪. এর দুটি অর্থ হতে পারে৷ একটি অর্থ হচ্ছে, তোমাদের মৃত্যু এসে গেল এবং তোমরা মৃত্যুর মুহুর্ত পর্যন্ত এ প্রতারণার ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারোনি৷ আরেকটি অর্থ হচ্ছে, ইসলাম বিজয় লাভ করলো আর তোমরা তামাশার মধ্যেই ডুবে রইলে৷
২৫. অর্থাৎ শয়তান৷
২৬. এখানে এ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আখেরাতে কাফেরের পরিণতি যা হবে মুনাফিকের পরিণতিও ঠিক তাই হবে৷
২৭. মূল আয়াতে ব্যবহৃত কথাটি হচ্ছে, () "দোযখই তোমাদের () ৷ এর দুটি অর্থ হতে পারে৷ একটি হচ্ছে, সেটিই তোমাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা৷ আরেকটি অর্থ হচ্ছে, তোমরা তো আল্লাহকে তোমাদের অভিভাবক বানাওনি যে, তিনি তোমাদের তত্বাবধান করবেন৷ এখন দোযখই তোমাদের অভিভাবক ৷ সে-ই তোমাদের যথোপযুক্ত তত্বাবধান করবে৷
২৮. এখানেও "ঈমান গ্রহণকারী" কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক কিন্তু তা দ্বারা সব মুসলমানকে বুঝানো হয়নি, বরং মুসলমানদের সে বিশেষ গোষ্ঠীকে বুঝানো হয়েছে যারা ঈমান গ্রহণের অঙ্গীকার করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারীদের মধ্যে শামিল হয়েছিলো, এবং তা সত্তেও ইসলামের জন্য তাদের মনে কোন দরদ ছিল না৷ তারা নিজ চোখে দেখছিলো সমস্ত কুফরী শক্তি ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বদ্ধ পরিকার হয়েছে, মুমিনদের ক্ষুদ্র একটি দলকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে৷ আরব ভূমির বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের জুলুম-নির্যাতনের শিকার বানানো হচ্ছে৷ দেশের নানা স্থান থেকে নির্যাতিত মুসলমানরা নিতান্ত সহায় সম্বলহীন অবস্থায় আশ্রয়লাভের জন্য মদীনার দিকে ছুটে আসছে৷ এসব মজলুমের সহায়তা দিতে দিতে সত্যিকার মুসলমানদের কোমর ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে৷ এরাই আবার জীবন বাজি রেখে শত্রুর মোকাবিলা করছে৷ কিন্তু এসব দেখে ঈমানের দাবীদার এ লোকগুলোর মধ্য কোন পরিবর্তনই আসছে না৷ এ জন্য তাদেরকে ধিক্কার দিয়ে বলা হচ্ছে, তোমরা কেমন ঈমানদার? ইসলামের জন্য পরিস্থিতি নাজুক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে৷ আল্লাহার কথা শুনে তোমাদের অন্তর বিগলিত হবে, তাঁর দীনের জন্য তোমাদের অন্তর ত্যাগ ও কুরবানীর মনোভাব প্রবল হবে এবং সে জন্য প্রাণপাত করতে আবেগ উদ্বলিত হয়ে উঠবে, এখনো কি তোমাদের জন্য সে সময় আসেনি? ঈমান গ্রহণকারীরা কি এমনই হয়ে থাকে যে, আল্লাহর দীনের জন্য চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির দেখা দিলেও সেজন্য সামান্যতম দরদও অনুভব করবে না? আল্লাহর নাম নিয়ে তাদের আহবান জানানো হবে, কিন্তু তারা আপন স্থান থেকে একটুও নড়বে না? আল্লা তাঁর নাযিলকৃত কিতাবে নিজে দান করার জন্য আহবান জানিয়ে তাকে নিজের জন্য ঋণ হিসেবে ঘোষণা করবেন এবং স্পষ্টভাবে এও জানিয়ে দেবেন যে, এ পরিস্থিতিতে যারা তাদের অর্থ সম্পদকে আমার দীনের চেয়ে প্রিয় মনে করবে তারা মু'মিন নয়, মুনাফিক-এতেও তাদের অন্তর আল্লাহর ভয়ে কেঁপেও উঠবে না, তাঁর নির্দেশের আগে তাদের মাথাও নত হবে না?
২৯. অর্থাৎ নবীদের তিরোধানের শত শত বছর পর তোমরা ইহুদী ও খৃস্টানদের চেতনাহীন মৃত আত্মা, এবং নৈতিকভাবে মৃত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছ৷ অথচ তোমাদের রসূল তোমাদের মধ্যে বর্তমান, আল্লাহর কিতাব নাযিল হচ্ছে তোমাদের ঈমান গ্রহণের পর দীর্ঘ দিনও অতিবাহিত হয়নি, অথচ তোমাদের অবস্থা ঠিক তেমনি হয়ে যাচ্ছে, শত শত বছর ধরে আল্লাহর দীন ও তাঁর আয়াত নিয়ে খেল তামাশা করতে থাকার পর ইহুদী ও খৃস্টানদের অবস্থা যা হয়েছে৷
৩০. এখানে যে প্রসংগে একথাটি বলা হয়েছে তা ভালভাবে বুঝে নেয়া দরকার৷ কুরআন মজীদে বেশ কিছু জায়গায় নবুওয়াত ও কিতাব নাযিলকে বৃষ্টির বরকতের সাথে তুলনা করা হয়েছে৷ কেননা, ভু-পৃষ্ঠের ওপর বৃষ্টিপাত যে কল্যাণ বয়ে আনে নবুওয়াত এবং কিতাবও মানবজাতির জন্য সে একই রকমের কল্যাণ বয়ে আনে৷ মৃত ভূ-পৃষ্ঠে যেমন রহমতের বৃষ্টির এক বিন্দু পড়তেই শস্য শ্যামল হয়ে ওঠে৷ ঠিক তেমনি আল্লাহর রহমতে যে দেশে নবী প্রেরিত হন এবং অহী ও কিতাব নাযিল হওয়া শুরু হয় সেখানে মৃত মানবতা, অকস্মাত জীবন লাভ করে৷ তার এমন সব প্রতিভা ও গুণাবলীর বহির্প্রকাশ ঘটতে থাকে, যা জাহেলিয়াত দীর্ঘদিন থেকে মাটিতে মিশিয়ে রেখেছিলো৷ তার মধ্য থেকে মহত নৈতিক চরিত্রের ঝর্ণাধারা ফুটে বের হতে থাকে এবং কল্যাণ ও সৎকর্মের ফুলবাগিচা শ্যামলিমায় ভেসে উঠে৷ এখানে যে উদ্দেশ্যে এ সত্যটির প্রতি ইংগিত করা হয়েছে তা হচ্ছে, দুর্বল ঈমান মুসলমানদের চোখ যেন খুলে যায় এবং তারা যেন নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে দেখে৷ নবুওয়াত ও অহীর কল্যাণময় বৃষ্টিধারা থেকে মানবতার মধ্যে যেভাবে নতুন প্রাণের সঞ্চার হচ্ছিলো এবং যেভাবে তার আঁচল কল্যাণে ভরে উঠছিলো তা তাদের জন্য সুদূর অতীতের কোন কাহিনী ছিল না ৷ সাহাবা কিরামের (রা) পুত পবিত্র সমাজে তারা নিজ চোখে তা দেখছিলো৷ এ ব্যাপারে তারা দিনরাত সর্বক্ষণ অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলো৷ জাহেলিয়াত ও তার সমস্ত অকল্যাণসহ তাদের সামনে বর্তমান ছিল এবং জাহেলিয়াতের মোকাবিলায় ইসলাম থেকে যে গুণাবলী ও কল্যাণ উৎসারিত হয়ে পূর্ণরূপে বিকশিত হচ্ছিলো৷ তাই এসব বিষয় তাদেরকে বিস্তারিত বলার কোন প্রয়োজন ছিল না৷ অতএব, মৃত'ভূ-পৃষ্ঠে আল্লাহ তা'আলা রহমতের বারিধারা দ্বারা কিভাবে জীবন দান করেন তোমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে তার নিদর্শন দেখিয়ে দেয়া হয়েছে৷ এ কারণে সেদিকে শুধু ইংগিত করাই যথেষ্ট ছিল ৷ এখন তোমরা বুদ্ধি বিবেক খাটিয়ে নিজেদের অবস্থা ভেবে দেখ যে, এ নিয়ামত দ্বারা তোমরা কতখানি উপকৃত হচ্ছো৷
৩১. বাংলা ভাষায় সাদকা শব্দটি অত্যন্ত খারাপ অর্থে বলা হয়ে থাকে৷ কিন্তু ইসলামের পরিভাষায় 'সাদকা' বলা হয় এমন দানকে যা সরল মনে খাঁটি নিয়তে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিতে দেয়া হয়৷ যার মধ্যে কোন প্রদর্শনীর মনোভাব থাকে না, কাউকে উপকার করে খোঁটা দেয়া হয় না৷ দানকারী তার রবের দাসত্ব ও আনুগত্যের খাঁটি মনোবৃত্তি পোষণ করেন বলেই দেন৷ এ শব্দটি () শব্দটি থেকে গৃহীত৷ তাই এর পেছনে কাজ করে সততা৷ কোন দান বা কোন অর্থ ব্যয় ততক্ষণ 'সাদকা' বলে গন্য হয় না যতক্ষণ তার মধ্যে "ইনফাক ফী সাবীলিল্লাহ"আল্লাহর পথে ব্যয় করার খাঁটি নিয়ত এবং নির্ভেজাল আবেগ ও ভাবধারা কার্যকর না থাকে৷
৩২. এখানে ঈমান গ্রহণকারী অর্থ সেসব লোক যারা ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী এবং যাদের কর্মপদ্ধতি ঈমানের মিথ্যা দাবীদার ও দুর্বল ঈমানের লোকদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল৷ সে সময় যারা একে অন্যের তুলনায় অধিক আর্থিক কুরবানী পেশ করছিলো এবং আল্লাহর দীনের জন্য জীবণপণ সংগ্রামে লিপ্ত ছিল৷
৩৩. এটি () শব্দের অর্থের আধিক্য প্রকাশক শব্দ৷ () অর্থ সত্যবাদী, এবং () অর্থ অতিশয় সত্যবাদী৷ কিন্তু একথা ভালভাবে বুঝে নিতে হবে যে, () কেবল সত্য ও বাস্তাবের সাথে সমঞ্জস্যপূর্ণ কথাকেই বলে না৷ যে কথা যথাস্থানে সত্য, যার বক্তা মুখে যা বলছে অন্তরেও সেটাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে কেবল সে কথার ক্ষেত্রেই এ শব্দটি প্রযোজ্য৷ যেমনঃ কেউ যদি বলে যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রসূল, তা হলে তা বাস্তাবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কথা৷ কারণ তিনি তো সত্যকির অর্থেই আল্লাহর রসূল৷ কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে একথার ক্ষেত্রে কেবল তখনই সত্যবাদী বলা যাবে যখন সে বিশ্বাস করবে যে, সত্যিই তিনি আল্লাহর রসূল৷ সুতরাং কোন কথা সত্য হতে হলে প্রয়োজন বাস্তবের সাথে এবং বক্তার মন ও বিবেকের সাথে তার মিল থাকা৷ অনুরূপভাবে () শব্দের অর্থের মধ্যে বিশ্বস্ততা, সরলতা, এবং বাস্তব কাজ কর্ম সততাও অন্তরভুক্ত৷ () প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যবাদী, সে ব্যক্তিকে বলা হবে যে কার্যত তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে৷ () (সত্যিকার বন্ধু) তাকেই বলা হবে যে বিপদের সময় বন্ধুত্বের হক আদায় করেছে এবং কেউ কখনো তার থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা লাভ করেনি৷ যুদ্ধে () (খাঁটি সৈনিক) কেবল সেই ব্যক্তিকেই বলা বে যে তার কাজ দ্বারা নিজের বীরত্ব প্রমাণ করেছে৷ বক্তার কাজ তার কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াটাও () শব্দের অর্থ ও তাৎপর্যের অন্তরভুক্ত৷ যে ব্যক্তি তার কথার পরিপন্থী কাজ করে তাকে সত্যবাদী বলা যেতে পারে না৷ এ কারণে যে ব্যক্তি বলে এক কথা কিন্তু করে ভিন্ন কিছু, তাকে সবাই মিথ্যাবাদী বলে৷ এখন ভেবে দেখা দরকার যে, () ও () শব্দের অর্থ যেখানে এই সেখানে () (অতিশয় সত্যবাদী) এ আধিক্য প্রকাশক শব্দটি বলার অর্থ কি হবে৷ এর অনিবার্য অর্থ হবে এমন সত্যবাদী লোক যার মধ্যে কেন ভেজাল নেই, যে ন্যায় ও সত্যের পথ থেকে কখনো বিচ্যুতি হয়নি৷ যার নিকট থেকে বিবেকের বিরুদ্ধে কোন কথা আশাই করা যায় না, যে কোন কথা মেনে নিয়ে থাকলে পূর্ণ সততার সাথেই মেনে নিয়েছে, যথার্থভাবে তা পালন করেছে এবং নিজের কাজ দ্বারা প্রমাণ করেছে যে, একজন মান্যকারীকে বাস্তবে যা হওয়া উচিত সে তেমনি একজ মান্যকারী (আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আন নিসা, টীকা-৯৯) ৷
৩৪. এ আয়াতের তাফসীর বড় বড় মুফাসসিরদের মধ্যে মতানৈক্য আছে৷ ইবনে আব্বাস (রা) , মাসরূক, দাহহাক, মুকাতিল ইবনে হাইয়ান, প্রমুখ, মুফাসসিরদের মতে () পর্যন্ত একটি বাক্য শেষ হয়েছে৷ এরপর () পর্যন্ত কথাগুলো একটা স্বতন্ত্র বাক্য৷ এ ব্যাখ্যা অনুসারে আয়াতের অনুবাদ হবে "যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান এনেছে তারাই 'সিদ্দীক'৷ আর শহীদদের জন্য তাদের রবের কাছে তাদের পুরস্কার ও 'নূর' রয়েছে৷ পক্ষান্তরে মুজাহিদ এবং আরো কিছু সংখ্যক মুফাসসির এ পুরা বক্তব্যকে একটা বাক্য বলে মনে করেন তাদের ব্যাখ্যা অনুসারে আয়াতের অনুবাদ হবে তাই যা আমি ওপরে আয়াতের অনুবাদে লিখেছি৷ উভয় ব্যাখ্যার মধ্যে ভিন্নতার কারণ হচ্ছে, প্রথমোক্ত দল শহীদ বলতে আল্লাহর পথে নিহতদের বুঝেছেন৷ তারা এও দেখেছেন যে, প্রত্যেক মু'মিন আল্লাহর পথে নিহত হয় না৷ তাই তারা () কথাটিকে একটি পূর্ণাংগ বাক্য ধরে নিয়েছেন৷ কিন্তু শেষোক্ত দলটি 'শহীদকে' আল্লাহর পথে নিহত অর্থে গ্রহণ করেননি, বরং সত্যের সাক্ষদাতা অর্থে গ্রহণ করেছেন৷ এ বিচারে প্রত্যেক নিষ্ঠাবান মু'মিনই শহীদ হিসেবে গণ্য৷ আমাদের এ দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিই অগ্রাধিকার লাভের যোগ্য৷ কুরআন ও হাদীসেও এর সমর্থন পাওয়া যায়৷ কুরআন মজীদে বলা হয়েছেঃ

-------------------

"আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি যেন তোমরা লোকদের জন্য সাক্ষী হতে পার এবং রসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন৷ " (আল বাকারা ১৪৩) ৷

------------------------------

"আল্লাহ পূর্বেও তোমাদের নাম রেখেছিলেন মুসলমান৷ এ কুরআনেও (তোমাদের এ নাম-ই রাখা হয়েছে৷ ) যেন রসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন আর তোমারাও মানুষের জন্য সাক্ষী হও৷ " (আল হজ্জ ৭৮) ৷

হাদীসে হযরত বারা ইবনে আযেব বর্ণনা করেছে যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একথা বলতে শুনেছেন যে, () "আমার উম্মাদের মু'মিনগণই শহীদ৷ " তারপর নবী (সা) সূরা হাদীদের এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন (ইবনে জারীর) ইবনে মারদুইয়া হযরত আবুদ দারদা থেকে এই একই অর্থের একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

-------------------------

"যে ব্যক্তি তার প্রাণ ও দীন বিপন্ন হবে ও কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে এ আশংকায় কোন দেশ বা ভূ-খণ্ড ছেড়ে চলে যায় তাকে আল্লাহর কাছে 'সিদ্দীক'বলে লেখা হয়৷ আর সে যখন মারা যায় তখণ আল্লাহ শহীদ হিসেবে তার রূহ কবজ করেন৷ একথা বলার পর নবী (সা) এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন (শাহাদাতের এই অর্থ বিশদভাবে বুঝার জন্য দেখুন, তাফহীমূল কুরআন, সূরা বাকারা, টীকা, ১৪৪ আন নিসা, টীকা৯৯. আল আহযাব, টীকা ৮২) ৷
৩৫. অর্থাৎ তাদের মধ্যে থেকে যে যে মর্যাদার পুরস্কার ও যে মর্যদার 'নূরের'উপযুক্ত হবে তা সে পাবে৷ তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ পুরস্কার ও 'নূর' লাভ করবে৷ তাদের প্রাপ্য অংশ এখন থেকেই তাদের জন্য সংরক্ষিত আছে৷