(৫৪:৪১) ফেরাউনের অনুসারীদের কাছেও সাবধান বাণীসমূহ এসেছিল৷
(৫৪:৪২) কিন্তু তারা আমার সবগুলো নিদর্শনকে অস্বীকার করলো৷ অবশেষে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম৷ যেভাবে কোন মহা -পরাক্রমশালী পাকড়াও করে৷
(৫৪:৪৩) তোমাদের কাফেররা কি এ সব লোকদের চেয়ে কোন অংশে ভাল? ২৩ নাকি আসমানী কিতাবসমূহে তোমাদের জন্য কোন ক্ষমা লিখিত আছে?
(৫৪:৪৪) না কি এসব লোক বলে, আমরা একটা সংঘবদ্ধ শক্তি৷ নিজেরাই নিজেদের রক্ষার ব্যবস্থা করবো৷
(৫৪:৪৫) অচিরেই এ সংঘবদ্ধ শক্তি পরাজিত হবে৷ এবং এদের সবাইকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালাতে দেখা যাবে৷২৪
(৫৪:৪৬) এদের সাথে বুঝাপড়া করার জন্য প্রকৃত প্রতিশ্রুত সময় হচ্ছে কিয়ামত৷ কিয়ামত অত্যন্ত কঠিন ও অতীব তিক্ত সময়৷
(৫৪:৪৭) প্রকৃতপক্ষে এ পাপীরা ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত আছে৷ এদের বিবেক বুদ্ধি লোপ পেয়েছে৷
(৫৪:৪৮) যেদিন এদেরকে উবুড় করে আগুনের মধ্যে টেনে হেচঁড়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সেদিন এদের বলা হবে, এখন জাহান্নামের স্পর্শের স্বাদ আস্বাদন করো৷
(৫৪:৪৯) আমি প্রত্যেকটি জিনিসকে একটি পরিমাপ অনুযায়ী সৃষ্টি করেছি৷ ২৫
(৫৪:৫০) আমার নির্দেশ একটি মাত্র নির্দেশ হয়ে থাকে এবং তা চোখের পলকে কার্যকর হয়৷ ২৬
(৫৪:৫১) তোমাদের মত অনেককেই আমি ধ্বংস করেছি ২৭ আছে কি কোন উপদেশ গ্রহণকারী?
(৫৪:৫২) তারা যা করেছে সবই রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ আছে
(৫৪:৫৩) এবং প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়ই লিখিতভাবে বিদ্যমান আছে৷ ২৮
(৫৪:৫৪) আল্লাহর নাফরমানী থেকে আত্মরক্ষাকারীরা নিশ্চিতরূপে বাগান ও ঝর্নাসমূহের মধ্যে অবস্থান করবে,
(৫৪:৫৫) সত্যিকার মর্যাদার স্থানে মহা শক্তিধর সম্রাটের সান্নিধ্যে৷
২৩. কুরাইশদের সম্বোধন করা হয়েছে৷ এর অর্থ, তোমাদের মধ্যে এমন কি গুণ আছে এবং এমন কি মূল্যবান বৈশিষ্ট আছে যে, যে ধরনের কুফরী , সত্য প্রত্যাখ্যান ও হঠকারিতার আচরণের জন্য অন্যান্য জাতিসমূহকে শাস্তি দেয়া হয়েছে তোমরা সে একই নীতি ও আচরণ গ্রহণ করলেও তোমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না?
২৪. এটা একটা সুস্পষ্ট ভবিষ্যতবাণী৷ হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে এ ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিল৷ এত বলা হয়েছিল, কুরইশদের সংঘবদ্ধ শক্তি যে শক্তি নিয়ে তাদের গর্ব ছিল অচিরেই মুসলমানদের কাছে পরাজিত হবে৷ সে সময় কেউ কল্পনাও করতে পারতো না যে, অদূর ভবিষ্যতে কিভাবে এ বিপ্লব সাধিত হবে ৷ সে সময় মুসলমানরা এমন অসহায় অবস্থার মধ্যে নিপতিত ছিল যে, তাদের একটি দল দেশ ছেড়ে হাবশায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং অবশিষ্ট মুসলমান আবু তালেব গিরি গুহায় অবরুদ্ধ ছিল৷ কুরাইশদের বয়কট ও অবরোধ ক্ষুধায় তাদেরকে মৃতপ্রায় করে দিয়েছিল৷ এরূপ পরিস্থিতিতে কে কল্পনা করতে পারতো যে, মাত্র সাত বছরের মধ্যে অবস্থা পাল্টে যাবে৷ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের ছাত্র ইকরিমা বর্ণনা করেন যে, হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, যে সময় সূরা ক্বামারের এ আয়াত নাযিল হয় তখন আমি অস্থির হয়ে পড়েছিলাম যে, এটা কোন সংঘবদ্ধ শক্তি যা পরাজিত হবে৷ কিন্তু বদর যুদ্ধে যখন কাফেররা পরাজিত হয়ে পালাচ্ছিল সে সময় আমি দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ম পরিহিত অবস্থায় সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং তাঁর পবিত্র জবান থেকে উচ্চারিত হচ্ছে() তখণ আমি বুঝতে পারলাম এ পরাজয়ের খবরই দেয়া হয়েছিল৷ (ইবনে জারীর ইবনে আবী হাতেম) ৷
২৫. অর্থাৎ দুনিয়ার কোন জিনিসই উদ্দেশ্য ও লক্ষহীনভাবে সৃষ্টি করা হয়নি৷ বরং প্রত্যেক বস্তুরই একটা পরিমিতি ও অনুপাত আছে৷ সে অনুসারে প্রত্যেক বস্তু একটা নির্দিষ্ট সময় অস্তিত্ব লাভ করে, একটা বিশেষ রূপ ও আকৃতি গ্রহণ করে৷ একটা বিশেষ সীমা পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ও ক্রমবিকাশ লাভ করে, একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত টিকে থাকে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটে৷ এ বিশ্বজনীন নিয়ম-নীতি অনুসারে এ দুনিয়াটারও একটা 'তাকদীর' বা পরিমিতি ও অনুপাত আছে৷ সে অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তা চলেছে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়েই তার পরিসমাপ্তি ঘটতে হবে৷ এর পরিসমাপ্তির জন্য যে সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে তার এক মুহূর্ত পূর্বে এর পরিসমাপ্তি ঘটবে না কিংবা এক মুহুর্ত পারে তা অবশিষ্টও থাকবে না৷ এ পৃথিবী অনাদি ও চিরস্থায়ী নয় যে, চিরদিনই তা আছে এবং চিরদিন থাকবে৷ কিংবা কোন শিশুর খেলনাও নয় যে, যখনই তোমরা চাইবে তখনই তিনি এটাকে ধ্বংস করে দেখিয়ে দেবেন৷
২৬. অর্থাৎ কিয়ামত সংঘঠনের জন্য আমাকে কোন বড় প্রস্তুতি নিতে হবে না কিংবা তা সংঘটিত করতে কোন দীর্ঘ সময়ও ব্যয়িত হবে না৷ আমার পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ জারী হওয়ার সময়টুকু মাত্র লাগবে৷ নির্দেশ জারী হওয়া মাত্রই চোখের পলকে তা সংঘটিত হয়ে যাবে৷
২৭. অর্থাৎ তোমরা যদি মনে করে থাক যে, এ বিশ্ব কোন মহাজ্ঞানী ও ন্যায়বান আল্লাহর কর্তৃত্বের অধীন নয়, বরং এটা মগের মুল্লুক যেখানে মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কেউ নেই, -তাহলে তোমাদের চোখ খুলে দেয়ার জন্য মানবেতিহাসেই বিদ্যমান৷ এখানে এ নীতি অনুসারী জাতিসমূহকে একের পর এক ধ্বংস করা হয়েছে৷
২৮. অর্থাৎ এ লোকেরা যেন একথা ভেবে বিভ্রান্ত না হয় যে, তাদের সম্পাদিত কাজ-কর্ম বুঝি কোথাও উধাও হয়ে গিয়েছে৷ না, প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রত্যেক গোষ্ঠী এবং প্রত্যেক জাতির গোটা রেকর্ডই সংরক্ষিত আছে৷ যথা সময়ে তা সামনে এসে হাজির হবে৷