(৫৪:২৩) সামূদ সাবধান বাণীসমূহ অস্বীকার করলো
(৫৪:২৪) এবং বলতে লাগলো “এখন কি আমরা আমাদেরই মধ্যকার এক ব্যক্তিকে এককভাবে মেনে চলবো? ১৭ আমরা যদি তার আনুগত্য গ্রহণ করি তাহলে তার অর্থ হবে আমরা বিপথগামী হয়েছি এবং আমাদের বিবেক-বুদ্ধির মাথা খেয়েছি৷
(৫৪:২৫) আমাদের মধ্যে কি একা এই ব্যক্তিই ছিল যার ওপর আল্লাহর যিকির নাযিল করা হয়েছে? না বরং এ চরম মিথ্যাবাদী ও দাম্ভিক৷ ১৮
(৫৪:২৬) (আমি আমার নবীকে বললাম) কে চরম মিথ্যাবাদী ও দাম্ভিক তা এরা কালকেই জানতে পারবে৷
(৫৪:২৭) আমি উটনীকে তাদের জন্য ফিতনা বানিয়ে পাঠাচ্ছি৷ এখন একটু ধৈর্য ধরে দেখ, এদের পরিণতি কি হয়৷
(৫৪:২৮) তাদের জানিয়ে দাও, এখন তাদের ও উটনীর মধ্যে পানি ভাগ হবে এবং প্রত্যেকেই তার পালার দিনে পানির জন্য আসবে৷ ” ১৯
(৫৪:২৯) শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের লোকটিকে ডাকলো, সে এ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করলো এবং উটনীকে হত্যা করলো, ২০
(৫৪:৩০) দেখ, কেমন ছিল আমার আযাব আর কেমন ছিল আমার সাবধান বাণীসমূহ৷
(৫৪:৩১) আমি তাদের ওপর একটি মাত্র বিকট শব্দ পাঠালাম এবং তারা খোঁয়াড়ের মালিকের শুষ্ক ও পদদলিত শস্যের মত হয়ে গেল৷ ২১
(৫৪:৩২) আমি এ কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের সহজ উৎস বানিয়ে দিয়েছি৷ এখন উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
(৫৪:৩৩) লূতের কওম সাবধান বাণীসমূহ অস্বীকার করলো৷
(৫৪:৩৪) আমি তাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী বাতাস পাঠালাম৷
(৫৪:৩৫) শুধু লূতের পরিবারের লোকেরা তা থেকে রক্ষা পেল৷ আমি নিজের অনুগ্রহে তাদেরকে রাতের শেষ প্রহরে বাঁচিয়ে বের করে দিলাম৷ যারা কৃতজ্ঞ আমি তাদের সবাইকে এভাবে প্রতিদান দিয়ে থাকি৷
(৫৪:৩৬) লূত তার কওমের লোকদেরকে আমার শাস্তি সম্পর্কে সাবধান করেছিল৷ কিন্তু তারা সবগুলো সাবধানবাণী সম্পর্কে সন্দেহ পোষন করলো এবং কথাচ্ছলেই উড়িয়ে দিল৷
(৫৪:৩৭) অতপর তারা তাকে তার মেহমানদের হিফাজত করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করলো৷ শেষ পর্যন্ত আমি তাদের চোখ অন্ধ করে দিলাম৷ এখন তোমরা আমার আযাব ও সাবধানবাণীর স্বাদ আস্বাদন করো৷ ২২
(৫৪:৩৮) খুব ভোরেই একটি অপ্রতিরোধ্য আযাব তাদের ওপর আপতিত হলো৷
(৫৪:৩৯) এখন আমার আযাব ও সাবাধান বাণীসমূহের স্বাদ আস্বাদন করো৷
(৫৪:৪০) আমি এ কুরআনকে উপদেশ গ্রহনের সহজ উৎস বানিয়ে দিয়েছি৷ উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
১৭. অন্য কথায় তিনটি কারণে তারা হযরত সালেহ (আ) এর অনুসরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল৷ প্রথম কারণ, তিনি মানুষ, মানব সত্তার উর্ধে নন যে, আমরা তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেব৷ দ্বিতীয় কারণ, তিনি আমাদের কওমেরই একজন মানুষ৷ আমাদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কোন কারণ নেই, তৃতীয় কারণ, তিনি একা, এক ব্যক্তি৷ আমাদের সাধারণ মানুষদেরই একজন৷ তিনি কোন নেতা নন৷ তাঁর সাথে কোন বড় দল বা সৈন্য সামন্ত নেই, সেবক সেবিকাও নেই৷ তাই আমরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে পারি না৷ তাদের মনে নবী হবে মানব সত্তার উর্ধে৷ আর তিনি যদি মানুষ হন তাহলে আমাদের নিজের দেশ ও জাতির মধ্যে জন্মগ্রহণ করবেন না, উপর থেকে নেমে আসবেন অথবা বাইরে থেকে পাঠানো হবে৷ তাও যদি না হয় তাহলে অন্তত তিনি হবেন নেতা৷ তাঁর অস্বাভাবিক শান শওকত ও জাঁকজমক থাকবে৷ এ কারণে মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তা'আলা তাঁকে মনোনীত করেছেন বলে মেনে নেয়া হবে৷ মক্কার কাফেররাও এই মূর্খতার মধ্যেই নিমজ্জিত ছিল৷ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষ৷ সাধারণ লোকদের মতই তিনি বাজারে চলাফেরা করেন৷ কাল আমাদের মাঝেই তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন এবং আজ দাবী করেছেন যে, আল্লাহ আমাকে নবী বানিয়েছেন৷ মক্কার কাফেররা এ যুক্তির ভিত্তিতেই তাঁর রিসালাত মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলো৷
১৮. মুল আয়াতে () শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ আত্মগর্বী ও দাম্ভিক ব্যক্তি যার মগজে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছে এবং এ কারণে সে গর্ব প্রকাশ করে থাকে৷
১৯. "আমি উটনীকে তাদের জন্য ফিতনা বানিয়ে পাঠাচ্ছি"এটা এ কথার ব্যাখ্যা৷ ফিতনাটা ছিল এই যে, হঠাৎ একটি উটনী এনে তাদের সামনে পেশ করে তাদেরকে বলে দেয়া হলো যে, একদিন একটি একা পানি পান করবে৷ অন্যদিন তোমরা সবাই নিজের ও তোমাদের জীব জন্তুর জন্য পানি নিতে পারবে৷ যেদিন উটনীর পানি পানের পালা সেদিন তোমাদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি নিজেও কোন ঝর্ণা বা কূপির ধারে পানি নিতে আসবে না৷ এবং তাদের জীবজন্তুকেও পানি পান করানোর জন্য আনবে না৷ এ চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল সে ব্যক্তির পক্ষ থেকে যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেরাই বলতো যে, তার না আছে কোন সৈন্য সামন্ত , না আছে কোন বড় দল৷
২০. এ শব্দগুলো থেকে আপনা আপনি একটি পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যায়৷ তাহলো ঐ উটনীটা অনেক দিন পর্যন্ত তাদের জনপদে দৌরাত্ম্য চালিয়েছে৷ তার পানি পানের নির্দিষ্ট দিনে পানির ধারে কাছে যাওয়ার সাহস কারো হতো না৷ অবশেষে তারা তাদের কওমের একজন দুঃসাহসী নেতাকে ডেকে বললোঃ তুমি তো অত্যন্ত সাহসী বীরপুরুষ৷ কথায় কথায় হাতা গুটিয়ে মারতে ও মরতে প্রস্তুত হয়ে যাও৷ একটু সাহস করে এ উটনীর ব্যাপারটা চুবিয়ে দাও তো৷ তাদের উৎসাহ দানের কারণে সে একাজ সমাধা করার দায়িত্ব গ্রহণ করলো এবং উটনীকে মেরে ফেললো৷ এর পরিস্কার অর্থ হচ্ছে, উটনীর কারণে তারা অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত ছিল৷ তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, এর পেছনে অস্বাভাবিক কোন শক্তি কাজ করছে৷ তাই তাকে আঘাত করতে তারা ভয় পাচ্ছিল৷ এ কারণে একটি উটনীকে হত্যা করা, তাদের কাছে একটি অভিযান পরিচালনার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না৷ অথচ উটনীটা পেশ করেছিলেন একজন নবী যার কোন সেনাবাহিনী ছিল না, যার ভয়ে তারা ভীত ছিল৷ (আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আল আ'রাফ , টীকা-৫৮ , আশ শূ'আরা, টীকা ১০৪, ১০৫) ৷
২১. যারা গবাদী পশু পালে তারা পশুর খোঁয়াড়ের সংরক্ষণ ও হিফাজতের জন্য কাঠ ও গাছের ডাল পালা দিয়ে বেড়া তৈরী করে দেয়৷ এ বেড়ার কাঠ ও গাছ গাছালীর ডালপালা আস্তে আস্তে শুকিয়ে ঝড়ে পড়ে এবং পশুদের আসা যাওয়ার পদদলিত হয়ে করাতের গুড়াঁর মত হয়ে যায় ৷ সামূত জাতির দলিত মথিত লাশসমূহকে করাতের ঐ গূঁড়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে৷
২২. এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা সূরা হূদ (আয়াত ৭৭ থেকে ৮৩ ) ও সূরা হিজরে (আয়াত ৬১ থেকে ৭৪) পূর্বেই দেয়া হয়েছে৷ ঘটনার সার সংক্ষেপ হলো, আল্লাহ তা'আলা এ জাতির ওপর আযাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে কয়েকজন ফেরেশতাকে অত্যন্ত সুদর্শন বালকের আকৃতিতে হযরত লূতের বাড়ীতে মেহমান হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন৷ কওমের লোকজন তাঁর কাছে এত সুশ্রী মেহমান আসতে দেখে তাঁর বাড়ীতে গিয়ে চড়াও হলো এবং তাঁর কাছে দাবী করলো যে , তিনি যেন তাঁর মেহমানের সাথে কুকর্ম করার জন্য তাদের হাতে তুলে দেন৷ হযরত লূত এ জঘন্য আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের কাছে অত্যন্ত কাকুতি-মিনতি ও অনুরোধ -উপরোধ করলেন৷ কিন্তু তারা তা মানলো না এবং ঘরে প্রবেশ করে জোর পূর্বক মেহমানদের বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো৷ এ পর্যায়ে হঠাৎ তারা অন্ধ হয়ে গেল৷ এ সময় ফেরেশতারা হযরত লূতকে বললেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন ভোর হওয়ার পূর্বেই যেন এ জনপদের বাইরে চলে যান৷ তারা জনপদের বাইরে চলে যাওয়া মাত্র ঐ জাতির ওপর ভয়ানক আযাব নেমে আসে৷ বাইবেলেও ঘটনাটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে৷ বাইবেলের ভাষা হচ্ছেঃ তখন তাহারা লোটের উপরে ভারী চড়াও হইয়া কবাট ভাংগিতে গেল৷ তখন সেই দুই ব্যক্তি হস্ত বাড়াইয়া লোটকে গৃহের মধ্যে আপনাদের নিকটে টানিয়া লইয়া কবাট বন্ধ করিলেন; এবং গৃহদ্বারের নিকটবর্তী ক্ষুদ্র ও মহান সকল লোককে অন্ধতায় আহত করিলেন৷ ৷ তাহাতে তাহারা দ্বার খূঁজিতে খূঁজিতে পরিশ্রান্ত হইল৷ (আদি পুস্তক ১৯: ৯-১১) ৷