(৫৩:২৬) আসমানে তো কত ফেরেশতা আছে যাদের সুপারিশও কোন কাজে আসতে পারে না যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ ইচ্ছায় যাকে খুশী তার জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দান করেন৷ ২১
(৫৩:২৭) কিন্তু যারা আখেরাত মানে না তারা ফেরেশতাদেরকে দেবীদের নামে নামকরণ করে৷ ২২
(৫৩:২৮) অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞানই নেই৷ তারা কেবলই বদ্ধমূল ধারণার অনুসরণ করছে৷ ২৩ আর ধারণা কখনো জ্ঞানের প্রয়োজন পূরণে কোন কাজে আসতে পারে না৷
(৫৩:২৯) সুতরাং হে নবী, যে আমার উপদেশ বাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ২৪ এবং দুনিয়ার জীবন ছাড়া যার আর কোন কাম্য নেই তাকে তার আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও৷ ২৫
(৫৩:৩০) এদের ২৬ জ্ঞানের দৌড় এতটুকুই৷২৭ তোমরা রবই অধিক জানেন-কে তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হয়েছে আর কে সঠিক পথে আছে৷
(৫৩:৩১) যমীন ও আসমানের প্রতিটি জিনিসের মালিক একমাত্র আল্লাহ ২৮ -যাতে ২৯ আল্লাহ অন্যায়কারীদেরকে তাদের কাজের প্রতিদান দেন এবং যারা ভাল নীতি ও আচরণ গ্রহণ করেছে তাদের উত্তম প্রতিদান দিয়ে পুরস্কৃত করেন৷
(৫৩:৩২) যারা বড় বড় গোনাহ ৩০ এবং প্রকাশ্য ও সর্বজনবিদিত অশ্লীল কাজ ৩১ থেকে বিরত থাকে -তবে ছোটখাট ক্রুটি -বিচ্যুতি হওয়া ভিন্ন কথা ৩২ নিশ্চয়ই তোমার রবের ক্ষমাশীলতা অনেক ব্যাপক৷ ৩৩ যখন তিনি মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন৷ এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রূণ আকারে ছিলে তখন থেকে তিনি তোমাদের জানেন৷ অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্রতার দাবী করো না৷ সত্যিকার মুত্তাকী কে তা তিনিই ভাল জানেন৷
২১. অর্থাৎ তোমাদের এসব মনগড়া উপাস্যদের সুপারিশ উপকারে আসা তো দূরের কথা, সমস্ত ফেরেশতা মিলেও যদি কারো জন্য সুপারিশ করে তথাপিও তা তার কাজে আসবে না৷ প্রভুত্বের এখতিয়ারসমূহ সবই পুরোপুরি আল্লাহর হাতে৷ যদি আল্লাহ তা'আলা কারো পক্ষে সুপারিশ করতে কাউকে অনুমতি না দেন এবং কারো পক্ষে সুপারিশ শুনতে সম্মত না হন তাহলে ফেরেশতাও তাঁর কাছে কারো জন্য সুপারিশ করার সাহস দেখাতে পারে না৷
২২. অর্থাৎ তাদের একটি নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, তারা এখতিয়ার ও ক্ষমতাহীন ফেরেশতাদের উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে যারা আল্লাহ তা'আলার কাছে সুপারিশ পর্যন্ত করার সামর্থ ও সাহস রাখে না৷ তাছাড়া আরো নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, এই যে, তারা তাদেরকে নারী বলে মনে করে এবং আল্লাহর কন্যা বলে আখ্যায়িত করে৷ এসব অজ্ঞতায় নিমজ্জিত হওয়ার মৌলিক কারণ হলো, তারা আখেরাতকে বিশ্বাস করে না৷ তারা যদি আখেরাতে বিশ্বাস করতো তাহলে এ ধরনের দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলতে পারতো না৷ আখেরাতের অস্বীকৃতি তাদেরকে পরিণাম সম্বন্ধে নিরুদ্বিগ্ন করে দিয়েছে৷ তারা মনে করে, আল্লাহকে মানা বা না মানা কিংবা হাজার জন খোদাকে মানায় কোনই পার্থক্য নেই৷ কারণ, তারা এসব আকীদা-বিশ্বাসের কোনটিরই কোন ভাল বা মন্দ পরিণাম দুনিয়ার বর্তমান জীবন প্রতিফলিত হতে দেখে না৷ আল্লাহদ্রোহী মুশরিক কিংবা তাওহীদবাদী যাই হোক না কেন এখানে সবার ফসলই পাকতে এবং ধ্বংস হতে দেখা যায়৷ সবাই রোগাক্রান্ত হয় আবার সুস্থও হয়ে ওঠে৷ সব রকম ভাল ও মন্দ পরিস্থিতি সবার জন্যই আসে৷ তাই কোন ব্যক্তি কাউকে উপাস্য মানুক বা না মানুক কিংবা যত ও যেভাবে ইচ্ছা উপাস্য বানিয়ে নিক এটা তাদের কাছে কোন বড় গুরুত্বপূর্ণ বা সুবিবেচনা পাওয়ার মত বিষয় নয়৷ তাদের মতে হক এবং বাতিলের ফায়সালা যখন এ দুনিয়াতেই হতে হবে আর এ দুনিয়াতে প্রকাশিত ফলাফল দ্বারাই তা নিরূপিত হবে তখন একথা স্পষ্ট যে, এখানে প্রকাশিত ফলাফল কোন আকীদা-বিশ্বাসের ন্যায় ও সত্য হওয়ার চূড়ান্ত ফায়সালাও দেয় না৷ কাজেই এরূপ লোকদের পক্ষে একটি আকীদা -বিশ্বাস গ্রহণ করা এবং আরেকটিকে প্রত্যাখ্যান করা মনের খেয়ালীপনা ছাড়া আর কিছুই নয়৷
২৩. অর্থাৎ ফেরেশতারা যে স্ত্রীলোক এবং আল্লাহর কন্যা এ বিশ্বাসটি তারা জ্ঞান অর্জনের কোন একটি মাধ্যম ছাড়া জানতে পেরেছে বলে অবলম্বন করেনি৷ বরং নিজেদের অনুমান ও ধারণার ওপর ভিত্তি করে এ বিষয়টি স্থির করে নিয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই এসব আস্তানা গড়ে নিয়েছে৷ তাদের কাছেই মনের কামনা বাসনা পূর্ণ করার জন্য প্রার্থনা করছে এবং নযর-নেওয়াজ পেশ করা হচ্ছে৷
২৪. এখানে 'যিকর' শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে৷ এর অর্থ কুরআন হতে পারে কিংবা শুধু উপদেশবানী হতে পারে এবং আয়াতের অর্থ এও হতে পারে যে, আল্লাহর কথা শুনতে একদম পছন্দ করে না৷
২৫. অর্থাৎ তার পিছে লেগে থেকো না এবং তাকে বুঝানোর জন্য নিজের সময় নষ্ট্ করো না৷ কেননা এ প্রকৃতির লোক এমন কোন দাওয়াত বা আন্দোলনকে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হবে যার ভিত্তি আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা দুনিয়ার বস্তুগত লাভের চেয়ে অনেক উচ্চতর উদ্দেশ্য ও মূল্যমানের দিকে আহবান জানায় এবং আখেরাতের চিরস্থায়ী সাফল্য ও সৌভাগ্যই যার মূল লক্ষ৷ এ ধরনের বস্তু পূজারী এবং আল্লাহ বিমুখ মানুষের পেছনে নিজের শ্রম ব্যয় করার পরিবর্তে যারা আল্লাহর কথা শুনতে প্রস্তুত এবং দুনিয়া পূজার ব্যধিতে আক্রান্ত নয় তাদের দিকে মনোযোগ দাও৷
২৬. এটি পূর্বাপর প্রসংগহীন একটি বাক্য যা কথার ধারাবাহিকতা ছিন্ন করে আগের কথার ব্যাখ্যা হিসেবে পেশ করেছে৷
২৭. অর্থাৎ এসব লোক দুনিয়া এবং দুনিয়াবী স্বার্থের উর্ধে আর কিছুই জানে না এবং কিছু চিন্তাও করতে পারে না৷ তাই তাদের পেছনে পরিশ্রম করা বৃথা৷
২৮. অন্য কথায় কোন মানুষের পথভ্রষ্ট বা সুপথপ্রাপ্ত হওয়ার ফায়সালা যেমন এ পৃথিবীতে হবে না তেমনি এর ফায়সালা দুনিয়ার মানুষের মতামতের ওপর ছেড়ে দেয়াও হয়নি৷ এর ফায়সালা একমাত্র আল্লাহর হাতে৷ তিনিই যমীন ও আসমানের মালিক এবং দুনিয়ার মানুষ ভিন্ন ভিন্ন যেসব পথে চলেছে তার কোনটি হিদায়াতের পথ এবং কোনটি গোমরাহীর পথ তা কেবল তিনিই জানেন৷ অতএব আরবের এসব মুশরিক এবং মক্কার কাফেরা যে তোমাকে বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট বলে আখ্যায়িত করছে আর নিজেদের জাহেলিয়াতকে হিদায়াত বলে মনে করছে সে জন্য তুমি মোটেই পরোয়া করবে না৷ এরা যদি নিজেদের এ ভ্রান্ত ধারণা মধ্যো ডুবে থাকতে চায় তাহলে তাদের ডুবে থাকতে দাও৷ তাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করে সময় নষ্ট করা এবং মাথা ঘামানো কোন প্রয়োজন নেই৷
২৯. আগে থেকেই যে বক্তব্য চলছিলো এখান থেকে পুনরায় তার ধারাবাহিকতা শুরু হচ্ছে৷ সুতরাং মাঝখানে পূর্বাপর প্রসংগহীন কথাটা বাদ দিলে বাক্যের অর্থ দাঁড়ায় এরূপঃ "তাকে তার আপন অবস্থায় চলতে দাও৷ যাতে আল্লাহ অন্যায়কারীকে তার কাজের প্রতিফল দান করেন৷ "
৩০. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমূল কুরআন, আন নিসা, টীকা ৫৩ ৷
৩১. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমূল কুরআন, আল আনআম টীকা ১৩০, আন নাহল, টীকা ৮৯) ৷
৩২. মূল শব্দ হচ্ছে () ৷ কোন জিনিসের অতি সামান্য পরিমাণ কিংবা নগন্য প্রভাব অথবা শুধু নৈকট্য বা সমান্য দেরী থাকা বুঝাতে আরবী ভাষায় () শব্দটি ব্যবহৃত হয়৷ যেমন বলা হয় () সে অমুন স্থানে সামান্য কিছু সময় মাত্র অবস্থান করেছে কিংবা সামান্য সময়ের জন্য গিয়েছে () সে সামান্য খাবার খেয়েছে৷ () তার মস্তিষ্কে কিছুটা বিকৃতি আছে কিংবা তাতে কিছু উন্মাদনা ভাব আছে৷ কেউ যখন কোন কাজে লিপ্ত হওয়ার নিকটবর্তী হয় কিন্তু কাজটি তখনো করা হয়নি এমন অবস্থা বুঝাতে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়৷ ফাররা বলেন, আমি আরবদেরকে এভাবে বলতে শুনেছি () অমুক ব্যক্তি তাকে মেরেছে যে, কেবল হত্যা করা বাকি আছে৷ এবং () অমুক ব্যক্তি এ কাজ প্রায় করেই ফেলেছিলো৷ কবি বলেছেনঃ () "সে মুহুর্তের জন্য আসলো, সালাম দিল, উঠলো এবং বিদায় হয়ে গেল৷ "

এসব ব্যবহারের দিক লক্ষ করে তাফসীরকারদের মধ্যে কেউ কেউ এ আয়াতের () শব্দের অর্থ গ্রহণ করেছেন ছোট গোনাহ ৷ কেউ কেউ এর অর্থ বলেছেন যে, ব্যক্তির কার্যত বড় গোনাহের নিকবর্তী হওয়া সত্ত্বেও তাতে লিপ্ত না হওয়া ৷ কেউ কেউ একে ক্ষণিকের জন্য গোনাহে লিপ্ত হয়ে পরে তা থেকে বিরত হওয়া অর্থে গ্রহণ করেছেন৷ কারো কারো মতে এর অর্থ হচ্ছে, ব্যক্তি গোনাহের কল্পনা, ইচ্ছা কিংবা সংকল্প করবে ঠিকই কিন্তু কার্যত কোন পদক্ষেপ নেবে না৷ এ বিষয়ে সাহাবা ও তাবেয়ীদের মতামত নিম্বরূপঃ

যায়েদ ইবনে আসলাম ও ইবনে যায়েদ বলেনঃ এর অর্থ মানুষ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে জাহেলী যুগে যেসব গোনাহ করেছে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর তা পরিত্যাগ করেছে৷ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের (রা) একটি মতও তাই৷

ইবনে আব্বাসের (রা) দ্বিতীয় মতটি হচ্ছে, ব্যক্তির কোন বড় গোনাহ বা অশ্লীল কাজে অল্প সময়ের জন্য কিংবা ভুলক্রমে কখনো লিপ্ত হয়ে পড়া এবং পরে তা পরিত্যাগ করা৷ হযরত আবু হুরাইরা (রা) , হযরত আবদুল্লাহ (রা) ইবনে আমর ইবনে আস, মুজাহিদ (রা) হাসাব বাসরী (র) এবং আবু সালেহের (র) মতও তাই৷

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) , মাসরূক এবং শা'বী বলেনঃ এর অর্থ কোন ব্যক্তির কোন বড় গোনাহের নিকটবর্তী হওয়া এবং তার প্রাথমিক পর্যায়সমূহ অতিক্রম করা কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়ে বিরত থাকা৷ যেমনঃ কেউ চুরি করার উদ্দেশ্যে বের হলো কিন্তু চুরি করা থেকে বিরত থাকলো৷ কিংবা পরনারীর সাথে মেলামেশা করলো কিন্তু ব্যভিচার করতে অগ্রসর হলো না৷ নির্ভরযোগ্য বর্ণনা সুত্রে হযরত আবু হুরাইরা এবং আবদুল্লাহ আব্বাস থেকেও এ মতটি উদ্ধৃত হয়েছে৷

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের, ইকরিমা, কাতাদা এবং দাহহাক বলেনঃ এর অর্থ এমন ছোট ছোট গোনাহ যার জন্য দুনিয়াতে কোন শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়নি এবং আখেরাতেও আযাব দেয়ার কোন ভয় দেখানো হয়নি৷

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়েব বলেনঃ এর অর্থ মনে গোনহের চিন্তার উদ্রেক করা কিন্তু কার্যত তাতে লিপ্ত না হওয়া৷

এগুলো হচ্ছে, সম্মানিত সাহাবা ও তাবেয়ীদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা যা বিভিন্ন রেওয়ায়াতে উদ্ধৃত হয়েছে৷ পরবর্তী তাফসীরকার, ইমাম ও ফিকাহবিদদের অধিকাংশই এ মত পোষণ করেন, যে এ আয়াত এবং সূরা নিসার ৩১ আয়াত সুস্পষ্টরূপে গোনাহকে সগীরা ও কবীরা এই দুটি বড় ভাগে বিভক্ত করেছেন৷ এ দুটি আয়াত মানুষকে আশান্বিত করে যে, তারা যদি বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাদের ছোট ছোট্ গোনাহ মাফ করে দেবেন৷ যদিও দুয়েকজন বড় আলেম মত প্রকাশ করেছেন যে, কোন গোনাহই ছোট নয়৷ আল্লাহর অবাধ্যতা মাত্রই বড় গোনাহ৷ কিন্তু ইমাম গাযযালী (র) বলেছেনঃ কবীরা ও সগীরা গোনাহের পার্থক্য এমন একটি বিষয় যা অস্বীকার করা যায় না৷ কারণ, যেসব উৎস থেকে শরীয়াতের হুকুম-আহকাম সম্পর্কিত জ্ঞান লাভ করা যায় তার সবগুলোতেই এর উল্লেখ আছে৷

এখন প্রশ্ন হলো, সগীরা ও কবীরা গোনাহর মধ্যে পার্থক্য কি? এবং কি ধরনের গোনাহ সগীরা আর কি ধরনের গোনাহ কবীরা? এ ব্যাপারে কবীরা ও সগীরা গোনাহর যে সংজ্ঞায় আমরা পূর্ণরূপে নিশ্চিত ও পরিতৃপ্ত তা হচ্ছে, "যে গোনাহকে কিতাব ও সুন্নাহর কোন সুষ্পষ্ট উক্তিতে হারাম বলা হয়ছে অথবা যে গোনাহর জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসূল দুনিয়াতে কোন শাস্তি নির্দিষ্ট করেছেন অথবা যে গোনাহের কারণে আখেরাতের আযাবের ভয় দেখিয়েছেন বা অভিশাপ দিয়েছেন অথবা তাতে লিপ্ত ব্যক্তির ওপর আযাব নাযিলের খবর দিয়েছেন৷ "এ ধরনের সমস্ত গোনাহই কবীরা গোনাহ৷ এ প্রকৃতির গোনাহ ছাড়া শরীয়াতের দৃষ্টিতে আর যত রকমের অপছন্দনীয় কাজ আছে তার সবই সগীরা গোনাহের সংজ্ঞায় পড়ে৷ একই ভাবে কেবলমাত্র গোনাহের আকাংখা পোষণ করা কিংবা ইচ্ছা করাও কাবীরা গোনাহ নয়, সগীরা গোনাহ৷ এমন কি কোন বড় গোনাহের প্রাথমিক পর্যায়সমূহ অতিক্রম করাও ততক্ষণ পর্যন্ত কাবীরা গোনাহ নয় যতক্ষণ না ব্যক্তি কার্যত তা করে বসবে৷ তবে সগীরা গোনাও যখন ইসলামী বিধানকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য করা হয়, আল্লাহ তা'আলার মোকাবিলায় অহংকারের মনোবৃত্তি নিয়ে করা হয় এবং যে শরীয়াত একে খারাপ কাজ বলে আখ্যায়িত করেছে তাকে আদৌ গুরুত্ব দেয়ার উপযুক্ত মনে করা না হয় তখণ তা কবীরা গোনাহে রূপান্তরিত হয়৷
৩৩. অর্থাৎ সগীরা গোনাহকারী ব্যক্তিকে মাফ করে দেয়ার কারণ এ নয় যে, সগীরা গোনাহ কোন গোনাহই নয়৷ বরং এর কারণ হলো, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাহদের সাথে সংকীর্ণচেতার মত আচরণ এবং ছোট ছোট ব্যাপারে পাকড়াও করার নীতি গ্রহণ করেন না৷ বান্দা যদি নেকীর পথ অনুসরণ করে এবং বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে তাহলে ছোট ছোট ব্যাপারে তিনি তাকে পাকড়াও করবেন না৷ অশেষ রহমতের কারণে তাকে ক্ষমা করে দেবেন৷