(৪৮:১১) হে নবী (সা)! বদ্দু আরবদের ২০ মধ্যে যাদেরকে পিছনে ছেড়ে যাওয়া হয়েছিল এখন তারা এসে অবশ্যই তোমাকে বলবেঃ “আমাদেরকে আমাদের ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততিদের চিন্তা-ই ব্যস্ত রেখেছিল, আপনি আমাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করুন৷” এ লোকেরা নিজেদের মুখে সেসব কথা বলছে যা তাদের অন্তরে থাকে না৷ ২১ তাদেরকে বলো ঠিক আছে৷ ইহাই যদি সত্য হয়ে থাকে তা হলে তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালাকে কার্যকর হওয়া থেকে বাধাদানের সামান্য ক্ষমতা কি কারো আছে যদি তিনি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে চান ; অথবা চান কোন কলাণ দান করতে ? তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে তো আল্লাহই ভালভাবে অবহিত ২২
(৪৮:১২) (কিন্তু আসল কথা তো তা নয় যা তোমরা বলছো); বরং তোমরা মনে করি নিয়েছে যে, রসূল ও মু’মিনগণ নিজেদের ঘরে কখনই ফিরতে পারবে না৷ এ খেয়ালটা তোমাদের অন্তরে খুব ভাল লেগেছিল ২৩ এবং তোমরা খুবই খারাপ ধারণা মনে স্থান দিয়েছো, আসলে তোমরা খুবই খারাপ মন-মানসিকতার লোক৷২৪
(৪৮:১৩) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি যারা ঈমান আনেনি এমন কাফেরদের জন্য আমরা দাউ দাউ করে জ্বলা অগ্নি কুণ্ডলি তৈরী করে রেখেছি৷২৫
(৪৮:১৪) আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবীর বাদশাহীর (প্রভূত্ব ও প্রশাসন ক্ষমতা) একচ্ছত্র মালিক একমাত্র আল্লাহ৷ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন৷ আল্লাহ-ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷২৬
(৪৮:১৫) তোমরা যখন গনীমাতের মাল লাভ করার জন্য যেতে থাকবে তখন এ পিছনে রেখে যাওয়া লোকেরা তোমাকে অবশ্যই বলবে যে, আমাদরকেও তোমাদের সাথে যেতে দাও৷ ২৭ এরা আল্লাহর ফরমান পরিবর্তন করে দিতে চায়৷ ২৮ এদের স্পষ্ট ভাষায় বলে দাওঃ ‘তোমরা কখনই আমাদের সাথে যেতে পারো না, আল্লাহ তো আগেই একথা বলে দিয়েছেন৷” ২৯ এর বলবেঃ “না, তোমরাই বরং আমাদের প্রতি হিংসা পোষণ কর৷” (অথচ এটা কোন হিংসার কথা নয়) আসলে সঠিক কথা খুব কমই বুঝে৷
(৪৮:১৬) এ পিছনে রেখে যাওয়া বদ্দু আরবদেরকে বলে দাওঃ “খুব শীঘ্রই তোমাদেরকে এমন সব লোকের সাথে লড়াই করার জন্য ডাকা হবে যারা বড়ই শক্তি সম্পন্ন৷” তোমাদেরকে তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে, কিংবা তারা অনুগত হয়ে যাবে৷ ৩০ সে সময় তোমরা জিহাদের নির্দেশ পালন করলে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম সওয়াব দিবেন৷ আর যদি তোমরা পিছনে হটে যাও যেমন পূর্বে হটে গিয়েছিল, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি দেবেন৷
(৪৮:১৭) যদি অন্ধ, পংগু ও রোগাক্রান্ত লোক জিহাদে না আসে তাহলে কোন দোষ নেই ৷৩১ যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে সেসব জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেসবের নিম্নদেশে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহমান থাকবে৷ আর যে মুখ ফিরিয়ে থাকবে আল্লাহ তাকে মর্মান্তিক আযাব দেবেন৷
২০. এটা মদীনার আশেপাশে সেসব কথা যাদেরকে উমরা যাত্রার প্রস্তুতিকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে রওনা হবার আহবান জানিয়েছিলেন ৷ কিন্তু ঈমানের দাবীদার হওয়া সত্ত্বেও তারা বাড়ী ছেড়ে শুধু এ কারণে বের হয়নি যে, নিজেদের প্রাণ ছিল তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ৷ বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায় , এরা ছিল আসলাম, মুযাইনা, জুহাইন, গিফার, আশজা, দীন প্রভৃতি গোত্রের লোক ৷
২১. এর দু'টি অর্থ ৷ একটি হচ্ছে, তোমার মদীনায় পৌছার পর এসব লোক এখন থেকে উমরা যাত্রায় শরীক না হওয়ার যে অজুহাত পেশ করবে তা হবে একটি মিথ্যা বাহানা মাত্র ৷ প্রকৃতপক্ষে কি কারণে তারা যায়নি তা তারা খুব ভাল করেই জানে ৷ অপরটি হচ্ছে, আল্লাহর রসূলের কাছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করা মৌখিক জমা খরচ ছাড়া আর কিছুই নয় ৷ প্রকৃতপক্ষে তারা যেমন নিজেদের এ আচরণের জন্য লজ্জিত নয়, তেমনি তাদের এ অনুভূতিও নেই যে, আল্লাহর রসূলকে সহযোগিতা না করে তারা কোন গোনাহর কাজ করেছে ৷ এমনকি তাদের অন্তরে ক্ষমতা লাভের কোন আকংখাও নেই ৷ নিজেরা কিন্তু মনে করে যে, এ বিপজ্জনক সফরে না গিয়ে তারা যারপর নেই বুদ্ধিমত্তার কাজ করেছে ৷ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ক্ষমার পরোয়াই যদি তারা করতো তাহলে বাড়ীতে বসে থাকতে পারতো না ৷
২২. অর্থাৎ তোমাদের আমলের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহর যে জ্ঞান, সে জ্ঞানের ভিত্তিতেই তিনি ফায়সালা করবেন ৷ তোমাদের আমল যদি শাস্তি পাওয়ার মত হয় আর আমি তোমাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করি তাহলেও আমার দোয়া আল্লাহর শাস্তি থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করবে না ৷ আর তোমাদের আমল যদি শাস্তি পাওয়ার মত না হয় আর আমি তোমাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া না করি তাহলে আমার দোয়া না করায় তোমাদের কোন ক্ষতি হবে না ৷ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আমার নয় আল্লাহর ৷ কারো মুখের কথা তাকে প্রতারিত করতে পারে না ৷ তাই আমি যদি তোমাদের বাহ্যিক কথাবার্তাকে সত্য বলে স্বীকার করেও নেই এবং তার ভিত্তিতে তোমাদের মাগফিরাতের জন্য দোয়াও করি তাতেও কোন ফায়দা নেই ৷
২৩. অর্থাৎ তোমরা এই ভেবে খুশী হয়েছো, যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহায্যকারী ঈমানদারগণ যে বিপদের মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন তা থেকে তোমরা নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছো ৷ তোমাদের মতে এটা ছিল খুবই বুদ্ধিমত্তার কাজ ৷ তাছাড়া একথা ভেবে খুশী হতে তোমাদের একটুও লজ্জাবোধ হলো না, যে, রসূল ও ঈমানদারগণ এমন এক অভিযানে যাচ্ছেন যা থেকে জীবিত আর ফিরে আসতে পারবেন না ৷ ঈমানের দাবীদার হয়েও তোমরা এতে উদ্বিগ্ন হলে না ৷ বরং নিজেদের এ আচরণের তোমাদের এতই ভাল মনে হলো যে, তোমরা অন্তত, রসূলের সাথে এ বিপদের মধ্যে নিজেদেরকে নিক্ষেপ করোনি ৷
২৪. মূল আয়াতাংশ হচ্ছে ( ) ৷ ( ) শব্দটি ( ) শব্দের বহুবচন ৷ ( ) শব্দের দুটি অর্থ ৷ একটি অর্থ হচ্ছে পাপী ও বিকৃত ব্যাক্তি যে কোন ভাল কাজের যোগ্য নয়, যার উদ্দেশ্যে অসৎ ও বিকৃত ৷ অপরটি হচ্ছে, ধ্বংসকারী, মন্দ পরিণাম এবং ধ্বংসের পথগামী ৷
২৫. আল্লাহ এখানে সুস্পষ্ট ভাষায় এমন সব মানুষকে কাফের ও ঈমানহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন যারা আল্লাহ ও তাঁর দীনের ব্যাপারে একনিষ্ঠ নয় এবং পরীক্ষার সময় দীনের জন্য নিজের প্রাণ, সম্পদ ও স্বার্থের ঝুঁকি এড়িয়ে চলে ৷ কিন্তু একথা মনে রাখতে হবে যে, এটা এমন কুফরী নয় যার ভিত্তিকে এ পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে ইসলাম থেকে খারিজ বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে ৷ এটা বরং এমন ধরনের কুফরী যার কারণে সে আখেরাতে বেঈমান বলে ঘোষিত হবে ৷ এর প্রমাণঃ এ আয়াত নাযিলের পরেও যাদের সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়েছিলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেসব লোককে ইসলাম থেকে খারিজ ঘোষনা করেননি কিংবা কাফেরদের সাথে যে ধরনের আচরণ করা যায় সে রকম আচরণও করেননি ৷
২৬. ওপরে উল্লেখিত চরম সাবধান বানীর পর আল্লাহর -'গাফুর' ( ক্ষমাশীল) ও 'রাহীম' ( পরম দয়ালু) হওয়ার উল্লেখের মধ্যে উপদেশের একটি সূক্ষ্ম দিক বিদ্যমান ৷ এর অর্থ হচ্ছে, এখনো যদি তোমরা নিজেদের অসৎ ও নিষ্ঠাহীন আচরণ পরিত্যাগ করে সৎ ও নিষ্ঠার পথে আস তাহলে দেখবে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু ৷ তিনি তোমাদের অতীত ক্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেবেন এবং নিজেদের নিষ্ঠার কারণে তোমরা যে আচরণ পাওয়ার যোগ্য হবে ভবিষ্যতে তিনি তোমাদের সাথে সেই আচরণই করবেন ৷
২৭. অর্থাৎ অচিরেই এমন সময় আসছে যখন এসব লোক -যারা আজ তোমার সংগে এ বিপজ্জনক অভিযানে অংশ গ্রহণ এড়িয়ে গেল-তোমাকে এমন এক অভিযানে যেতে দেখবে যাতে তারা সহজ বিজয় এবং প্রচুর গনীমতের সম্পদ হস্তগত হচ্ছে বলে মনে করবে ৷ তখন তারা নিজেরাই দৌড়ে এসে বলবে, আমাদেরকেও সাথে নিয়ে চলুন ৷ বস্তুত হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তির তিন মাস পরই সে সুযোগ আসলো যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম খায়বারের বিরুদ্ধে অভিযানে চালিয়ে অতি সহজেই তা দখল করে নিলেন ৷ সে সময় প্রত্যেকেই স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলো, কুরাইশদের সাথে সন্ধিচুক্তি সম্পাদনের পর এখন শুধু খায়বারই নয়, তায়ামা, ফাদাক, ওয়াদিউল কুরা এবং উত্তর হিজাযের অন্য সব ইহুদীও মুসলমানদের শক্তির মোকাবিলা করতে পারবে না ৷ এসব জনপদ এখন পাকা ফলের মতো সহজেই মুসলমানদের দখলে চলে আসবে ৷ তাই আল্লাহ তা'আলা এসব আয়াতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আগেই এ মর্মে সতর্ক করে দিলেন যে, মদীনার আশেপাশের সুযোগ সন্ধানী লোকেরা এসব সহজ বিজয় অর্জিত হতে দেখে তাতে ভাগ বসানোর জন্য এসে হাজির হবে ৷ কিন্তু তুমি তাদেরকে পরিস্কার বলে দেবে যে, তোমাদেরকে এতে ভাগ বসানোর সুযোগ দেখা কখনো দেয়া হবে না ৷ এটা তাদের প্রাপ্য যারা বিপদ -মুসিবতের মোকাবিলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এসেছিলো ৷
২৮. আল্লাহর ফরমান অর্থ খায়বার অভিযানে নবীর ( সা) সাথে কেবল তাদেরকেই যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে যারা হুদাইবিয়া অভিযানেও তাঁর সাথে গিয়েছিলেন এবং বাইয়াত রিদওয়ানেও তাঁর সাথে শরীক হয়েছিলেন ৷ আল্লাহ তায়ালা খাইবারের গনীমতের সম্পদ তাদের জন্যই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন ৷ পরবর্তী ১৮ আয়াতে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ৷
২৯. "আল্লাহ পূর্বেই একথা বলেছেন", কথাটি দ্বারা লোকের মনে এ মর্মে একটি ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, এ আয়াতের আগে এ বিষয়বস্তু সম্বলিত আরো কোন নির্দেশ নাযিল হয়ে থাকবে ৷ এখানে সে দিকেই ইংগিত দেয়া হয়েছে ৷ আর যেহেতু এ সূরার মধ্যে এ বিষয় সম্বলিত কোন নির্দেশ এর আগে পাওয়া যায় না ৷ তাই তারা কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানে তা অনুসন্ধান করতে শুরু করে এবং সূরা তাওবার ৮৪ আয়াত তারা পেয়ে যায় যাতে আরেকটি প্রসংগে এ একই বিষয়ে কথা বলা হয়েছে ৷ কিন্তু প্রকৃপক্ষে ঐ আয়াত এ ব্যাপারে প্রযোজ্য নয় ৷ কারণ, ঐ আয়াত তাবুক যুদ্ধের প্রসংগে নাযিল হয়েছিলো ৷ আর তা নাযিল হয়েছিলো সূরা ফাতহ নাযিল হওয়ার তিন বছর পর ৷ প্রকৃত ব্যাপার হলো, এ আয়াতটিতে এ সূরারই ১৮ ও ১৯ আয়াতের প্রতি ইংগিত দেয়া হয়েছে ৷ আর "ইতিপূর্বেই আল্লাহ বলছেন" কথাটির অর্থ এ আয়াতের পূর্বে বলা নয়, বরং পেছনে রেখে যাওয়া লোকদের সাথে এ কথাবার্তা হতে যাচ্ছিলো -যে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আগেই দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে- খায়বার অভিযানে যাওয়ার সময় ৷ অথচ সম্পূর্ণ সূরাটির -যার মধ্যে ১৮ ও ১৯ আয়াত আছে -তার তিন মাস পূর্বে হুদাইবিয়া থেকে ফিরে আসার সময় পথিমধ্যে নাযিল হয়েছিলো ৷ বক্তব্যের ধারা যদি পাঠক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে বুঝতে পারবেন, আল্লাহ তা'আলা এখানে তাঁর রসূলকে এই বলে নির্দেশনা দিচ্ছিন যে, তোমার মদীনায় ফিরে যাওয়ার পর পিছনে থেকে যাওয়া এসব লোক যখন তোমার কাছে এসে এসব ওজর পেশ করবে তখন তাদেরকে এ জবাব দিবে এবং খায়বার অভিযানে যাত্রাকালে যখন তারা তোমার সাথে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করবে তখন তাদের একথা বলবে ৷
৩০. মূল আয়াতে ব্যবহৃত বাক্যাংশ হচ্ছে ( ) ৷ এর দুটি অর্থ হতে পারে এবং এখানে দুটি অর্থই উদ্দেশ্য ৷ একটি অর্থ হচ্ছে , তারা ইসলাম গ্রহণ করবে ৷ অপরটি হচ্ছে, তারা ইসলামী সরকারের বশ্যতা স্বীকার করবে ৷
৩১. অর্থাৎ জিহাদে অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির সামনে প্রকৃতই কোন ওজর প্রতিবন্ধক হবে তার কোন দোষ নেই ৷ কিন্তু সুঠাম ও সবলদেহী মানুষ যদি ছল-ছুতার ভিত্তিতে বিরত থাকে তাহলে তাকে আল্লাহ ও তাঁর দীনের ব্যাপারে নিষ্ঠাবান বলে স্বীকার করা যায় না ৷ তাকে এ সুযোগও দেয়া যায় না যে, সে মুসলিম সমাজের অন্তরভুক্ত হওয়ার সমস্ত সুযোগ -সুবিধা ভোগ করবে , কিন্তু যখন ইসলামের জন্য কুরবানী পেশ করার সময় আসবে তখন নিজের জান ও মালের নিরাপত্তার চিন্তায় বিভোর হবে ৷ এখানে জেনে নেয়া দরকার যে, শরীয়াতে যাদেরকে জিহাদে অংশ গ্রহণ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে তারা দু'ধরনের মানুষ ৷ এক, যারা দৈহিকভাবে যুদ্ধের উপযুক্ত নয় ৷ যেমন অপ্রাপ্ত বয়স্ক, বালক, নারী, পাগল , অন্ধ, সামরিক সেবা দিতে অক্ষম এমন রোগগ্রস্ত লোক এবং হাত পা অকেজো হওয়ার কারণে যুদ্ধের অংশ গ্রহণ করতে অক্ষম ব্যক্তিরা ৷ দুই, অন্য কিছু যুক্তিসংগত কারণে যাদের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত , কিন্তু যুদ্ধাস্ত্র এবং অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ সংগ্রহ করতে অক্ষম ৷ অথবা এমন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, অতি সত্বর যার ঋণ পরিশোধ করা দরকার এবং ঋণদাতা যাকে অবকাশ দিচ্ছে না ৷ অথবা এমন ব্যক্তি যার পিতা -মাতা বা তাদের কোন একজন জীবিত আছে এবং তারা তার সেবা -যত্নের মুখাপেক্ষী ৷ এ ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেয়া প্রয়োজন যে, পিতা-মাতা যদি মুসলমান হয় তাহলে তাদের অনুমতি ছাড়া সন্তানের জিহাদে যাওয়া উচিত নয় ৷ তবে তারা যদি কাফের হয়, তাহলে তাদের বাধা দেয়ার কারো জিহাদ থেকে বিরত থাকা জায়েজ নয় ৷