(৪৭:২৯) যেসব লোকের মনে রোগ আছে তারা কি মনে করে নিয়েছে যে, আল্লাহ তাদের মনের ঈর্ষা ও বিদ্বেষ প্রকাশ করবেন না ?
(৪৭:৩০) আমি চাইলে তাদেরকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দিতাম আর তুমি তাদের চেহারা দেখেই চিনতে পারতে৷ তবে তাদের বাচনভঙ্গি থেকে তুমি তাদেরকে অবশ্যই চিনে ফেলবে৷ আল্লাহ তোমাদের সব আমল ভাল করেই জানেন৷
(৪৭:৩১) আমি তোমাদের কে অবশ্যই পরীক্ষা করবো যাতে আমি তোমাদের অবস্থা যাঁচাই করে দেখে নিতে পারি তোমাদের মধ্যে কে জিহাদকারী এবং কে ধৈর্যশীল৷
(৪৭:৩২) যারা কুফরী করেছে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং তাদের সামনে সঠিক পথ স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর রসূলের সাথে বিরোধ করেছে, প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না৷ বরং আল্লাহই তাদের সব কৃতকর্ম ধ্বংস করে দিবেন৷ ৩৯
(৪৭:৩৩) হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের আমল ধ্বংস করো না৷৪০
(৪৭:৩৪) কুফর অবলম্বনকারী, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টিকারী এবং কুফরীসহ, মৃত্যুবরণকারীকে আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না৷
(৪৭:৩৫) তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং সন্ধির জন্য আহ্বান করো না৷ ৪১ তোমরাই বিজয়ী থাকবে৷ আল্লাহ তোমাদের সাথে আছেন৷ তিনি তোমাদের আমল কখনো নষ্ট করবেন না৷
(৪৭:৩৬) দুনিয়ার এ জীবন তাতো খেল তামাশা মাত্র৷ ৪২ তোমরা যদি ঈমানদার হও এবং তাকওয়ার পথে চলতে থাক তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদেরকে তোমাদের ন্যায্য প্রতিদান অবশ্যই দিবেন৷ আর তিনি তোমাদের সম্পদ চাইবেন না৷ ৪৩
(৪৭:৩৭) তিনি যদি কখনো তোমাদের সম্পদ চান এবং সবটাই চান তাহলে তোমরা কৃপণতা করবে এবং তিনি তোমাদের ঈর্ষা পরায়ণতা প্রকাশ করে দিবেন৷ ৪৪
(৪৭:৩৮) দেখো, তোমাদেরকে আল্লাহর পথে অর্থ-সম্পদ ব্যয় করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে অথচ তোমাদের মধ্যকার কিছু লোক কৃপণতা করেছে৷ যারা কৃপণতা করে তারা প্রকৃতপক্ষে নিজের সাথেই কৃপণতা করছে৷ আল্লাহ যারা কৃপণতা করে তারা প্রকৃতপক্ষে নিজের সাথেই কৃপণতা করছে৷ আল্লাহ তো অভাব শূন্য৷ তোমরাই তার মুখাপেক্ষী৷ তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আল্লাহ তোমাদের স্থানে অন্য কোন জাতিকে নিয়ে আসবেন৷ তারা তোমাদের মত হবে না৷
৩৯. এ আয়াতাংশের দুটি অর্থ ৷ একটি অর্থ হলো, নিজেদের বিবেচনায় তারা যেসব কাজ-কর্মকে নেকীর কাজ মনে করে আঞ্জাম দিয়েছে আল্লাহ তা সবই ধ্বংস করে দিবেন এবং তার জন্য তারা আখেরাতেও কোন প্রারিশ্রমিক পাবে না ৷ অন্য অর্থটি হচ্ছে তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দীনের পথে বাধা সৃষ্টি করার জন্য যেসব কৌশল অবলম্বন করেছে তা সবই ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যাবে ৷
৪০. অন্য কথায় আমলসমূহের কল্যাণকর ও ফলপ্রসূ হওয়া সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের আনুগত্যের ওপর ৷ আনুগত্য থেকে ফিরে যাওয়ার পর কোন আমলই আর নেক আমল থাকে না ৷ তাই এ ধরনের ব্যক্তি সে আমলের জন্য প্রতিদানের উপযুক্তও হতে পারে না ৷
৪১. এখানে এ বিষয়টি মনে রাখা দরকার যে, এমন এক সময় একথাটি বলা হয়েছিল, যখন মদীনার ক্ষুদ্র জনপদে মুহাজির ও আনসারদের একটি ক্ষুদ্র দল ইসলামের পতাকা বহন করেছিলো ৷ তাদেরকে শুধু কুরাইশদের মত শক্তশালী গোত্রের মোকাবিলা করতে হচ্ছিলো না বরং গোটা আরবের ও মুশরিকদের মোকাবিলা করতে হচ্ছিলো ৷ এমন এক পরিস্থিতিতে বলা হচ্ছে সাহস হারিয়ে এ দুশমনদের সন্ধির আহবান জানাবে না, বরং জীবন বাজি রাখার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও ৷ মুসলমনারা কোন সময়ই সন্ধির জন্য আলোচনা করবে না একথার অর্থ তা নয় ৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে সন্ধির আলোচনা করা ঠিক নয় যখন তার অর্থ দাঁড়াবে নিজেদের দূর্বলতা প্রকাশ করা ৷ এবং তাতে শত্রু আরো দুঃসাহসী হয়ে উঠবে ৷ মুসলমানদের উচিত প্রথমে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়ে দেয়া ৷ এরপর সন্ধির জন্য আলোচনা করলে কোন ক্ষতি নেই ৷
৪২. অর্থাৎ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার অবস্থা কয়েকদিনের মন ভুলানোর চেয়ে অধিক কিছু নয় ৷ এখানকার সফলতা ও বিফলতা সত্যিকার ও স্থায়ী কোন কিছু নয় যা গুরুত্বের দাবী রাখে ৷ প্রকৃত জীবন হচ্ছে আখেরাতের জীবন ৷ সে জীবনের সফলতার জন্য মানুষের চিন্তা-ভাবনা করা উচিত ৷ ( অধিক জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন সূরা আনকাবুত, টীকা ১০২) ৷
৪৩. অর্থাৎ তিনি অভাব শূন্য ৷ তাঁর নিজের জন্য তোমাদের থেকে নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই ৷ তিনি যিনি তোমাদেরকে তার পথে কিছু ব্যয় করতে বলেন, তা নিজের জন্য বলেন না, বরং তোমাদেরই কল্যাণের জন্য বলেন ৷
৪৪. অর্থাৎ তিনি তোমাদেরকে এত বড় পরীক্ষায় ফেলেন না যা থেকে তোমাদের দূর্বলতাই শুধু প্রকাশ পেতো ৷