(৪৪:৪৩) ‘যাককূম ৩৮
(৪৪:৪৪) গাছ হবে গোনাগারদের খাদ্য৷
(৪৪:৪৫) তেলের তলানির মত৷৩৯
(৪৪:৪৬) পেটের মধ্যে এমনভাবে উথলাতে থাকবে যেমন ফুটন্তপানি উথলায়৷
(৪৪:৪৭) পাকড়াও করো একে এবং টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যখানে৷
(৪৪:৪৮) তারপর ঢেলে দাও তার মাথার ওপর ফুটন্ত পানির আযাব৷
(৪৪:৪৯) এখন এর মজা চাখো৷ তুমি বড় সম্মানী ব্যক্তি কিনা, তাই৷
(৪৪:৫০) এটা সেই জিনিস যার আমার ব্যাপারে তোমরা সন্দেহ পোষণ করতে৷
(৪৪:৫১) আল্লাহভীরু লোকেরা শান্তি ও নিরাপত্তার জায়গায় থাকবে ৪০
(৪৪:৫২) বাগান ও ঝর্ণা ঘেরা জায়গায়৷
(৪৪:৫৩) তারা রেশম ও মখমলের ৪১ পোশাক পরে সামনাসামনি বসবে৷
(৪৪:৫৪) এটা হবে তাদের অবস্থা৷ আমি সুন্দরী হরিণ নয়না ৪২ নারীদের সাথে তাদের বিয়ে দেবো৷
(৪৪:৫৫) সেখানে তারা নিশ্চিন্তে মনের সুখে সবরকম সুস্বাদু জিনিস চেয়ে চেয়ে নেবে৷৪৩
(৪৪:৫৬) সেখানে তারা কখনো মৃত্যুর স্বাদ চাখবে না৷
(৪৪:৫৭) তবে দুনিয়াতে যে মৃত্যু এসেছিলো তা তো এসেই গেছে৷ আর আল্লাহ তাঁর করুনায় তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন৷ ৪৪ এটাই বড় সফলতা৷
(৪৪:৫৮) হে নবী, আমি এই কিতাবকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি যাতে এই লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে৷
(৪৪:৫৯) এখন তুমিও অপেক্ষা করো, এরাও অপেক্ষা করছে৷৪৫
৩৮. 'যাককুম'-এর ব্যাখ্যা জানার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, সূরা সাফফাত, টীকা ৩৪৷
৩৯. মূল আয়াতে আরবী...... শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যার কয়েকটি অর্থ আছে : গলানো ধাতু, পুঁজ, রক্ত, গলানো আলকাতরা, লাভা এবং তেলের তলানি৷ আরবী ভাষাভাষী এবং মুফাসসিরগণ এই ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বর্ণনা করেছেন৷ আমাদের দেশে যাকে ফনীমনসা বলা হয় 'যাককুম' বলতে যদি সেই জিনিসকেই বুঝানো হয়ে থাকে তাহলে তা চিবালে যে রস নির্গত হবে তা তেলের তলানির সাথে বেশী সার্দশ্য পূর্ণ হবে৷
৪০. শান্তি ও নিরাপত্তার জায়গা অর্থ এমন জায়গা যেখানে কোন প্রকার আশংকা থাকবে না৷ কোন দুঃখ, অস্থিরতা, বিপদ, আশংকা এবং পরিশ্রম ও কষ্ট থাকবে না৷ হাদীসে আছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : "জান্নাতবাসীদের বলে দেয়া হবে, তোমরা এখানে চিরদিন সুস্থ থাকবে, কখনো রোগাক্রান্ত হবে না, চিরদিন জীবিত থাকবে, কখনো মরবে না, চিরদিন সুখী থাকবে, কখনো দুর্দশাগ্রস্ত হবে না এবং চিরদিন যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না"৷ (মুসলিম - আবু হুরাইরা ও আবু সাঈদ খুদরী বর্ণিত হাদীস)৷
৪১. মূল আয়াতে........ আরবী ও ....... শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ আরবী ভাষায় সূক্ষ্ম রেশমী কাপড়কে আরবী... বলে৷ .........ফারসী শব্দ এর আরবী রূপ৷ মোটা রেশমী কাপড় বুঝাতে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়৷
৪২. মূল শব্দ হচ্ছে আরবী ...... ৷ ........শব্দটি ........আরবি শব্দের বহুবচন৷ আরবী ভাষায় সুন্দরী নারীকে আরবী..... বলা হয়৷ আরবী..... শব্দটি আরবী শব্দের বহুবচন৷ এ শব্দটি বড় চোখ বিশিষ্ট নারীদের বুঝাতে ব্যবহার হয়৷ (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, সূরা সাফফাত, টীকা ২৬ ও ২৯) ৷
৪৩. 'নিশ্চিন্তে মনের সুখে' চাওয়ার অর্থ যে জিনিস যত পরিমাণে ইচ্ছা দ্বিধাহীনভাবে জান্নাতের খাদেমদেরকে তা আনার নির্দেশ দেবে এবং তা এনে হাজির করা হবে৷ দুনিয়াতে হোটেল তো দূরের কথা কোন ব্যক্তি নিজের বাড়িতেও এরূপ নিশ্চিন্তে ও মনের সুখে কোন কিছু এমনভাবে চাইতে পারে না যেমন সে জান্নাতে চাইবে৷ কারণ, এখানে কারো কাছেই কোন জিনিসের অফুরন্ত ভাণ্ডার থাকে না৷ এবং ব্যক্তি যাই ব্যবহার করে তার মূল্য তাকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়৷ জান্নাতে সম্পদ হবে আল্লাহর এবং ব্যক্তিকে তা ব্যবহারের অবাধ অনুমতি দেয়া হবে৷ কোন জিনিসের ষ্টক শেষ হয়ে যাওয়ার বিপদ যেমন থাকবে না তেমনি পরে বিল আসারও কোন প্রশ্ন থাকবে না৷
৪৪. এ আয়াতে দুটি বিষয় লক্ষনীয় :

এক-জান্নাতের নিয়ামত সমূহের উল্লেখ করার পর জাহান্নাম থেকে রক্ষা করার কথা আলাদা করে বিশেষভাবে বলা হয়েছে৷ অথচ কোন ব্যক্তির জান্নাত লাভ করাই আপনা আপনিই তার জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়াকে অনিবার্য করে তোলে৷ এর কারণ, মানুষ আনুগত্যের পুরস্কারে মূল্য পুরোপুরি তখনই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় যখন নাফরমানিতে লিপ্ত হয়ে সে কোথায় পৌঁছেছে এবং কোন ধরনের মন্দ পরিণতি থেকে রক্ষা পেয়েছে তা তার সামনে থাকে৷

দ্বিতীয় লক্ষনীয় বিষয়টি হচেছ, এ লোকদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়া এবং জান্নাত লাভ করাকে আল্লাহ তাঁর দয়ার ফলশ্রুতি বলে আখ্যায়িত করছেন৷ এর দ্বারা মানুষকে এই সত্য সম্পর্কে অবহিত করা উদ্দেশ্য যে, আল্লাহর অনুগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তির ভাগ্যেই এই সফলতা আসতে পারে না৷ ব্যক্তি তার সৎকর্মের পুরস্কার লাভ করবে৷ কিন্তু প্রথমত আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া ব্যক্তি তার সৎকর্ম করার তাওফীক বা সামর্থ কিভাবে লাভ করবে৷ তাছাড়া ব্যক্তি দ্বারা যত উত্তম কাজই সম্পন্ন হোক না কেন তা পূর্ণাঙ্গ ও পূর্ণতার হতে পারে না৷ সুতরাং সে কাজ সম্পর্কে দাবী করে একথা বলা যাবে না যে তাতে কোন ক্রটি বা অপূর্ণতা নেই৷ এটা আল্লাহর অনুগ্রহ যে তিনি বান্দার দুর্বলতা এবং তার কাজকর্মের অপূর্নতাসমূহ উপেক্ষা করে তার খেদমত কবুল করেন এবং তাকে পুরস্কৃত করে ধন্য করেন৷ অন্যথায়, তিনি যদি সূক্ষ্মভাবে হিসেব নিতে শুরু করেন তাহলে কার এমন দুঃসাহস আছে যে নিজের বাহুবলে জান্নাত লাভ করার দাবী করতে পারে? হাদীসে একথাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে৷ তিনি বলেন :

আরবী...........................................................................

"আমল করো এবং নিজের সাধ্যমত সর্বাধিক সঠিক কাজ করার চেষ্টা করো৷ জেনে রাখো, কোন ব্যক্তিকে শুধু তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না৷"

লোকেরা বললো : হে আল্লাহর রসূল, আপনার আমলও কি পারবে না? তিনি বললেন :

আরবী.................................................

"হাঁ, আমিও শুধু আমার আমলের জোরে জান্নাতে যেতে পারবো না৷ তবে আমার রব যদি তাঁর রহমত দ্বারা আমাকে আচ্ছাদিত করেন"৷
৪৫. অর্থাৎ এখন যদি এসব লোক উপদেশ গ্রহণ না করে তাহলে দেখো, কিভাবে তাদের দুর্ভাগ্য আসে৷ আর তোমার এই দাওয়াতের পরিণাম কি হয় তা দেখার জন্য এরাও অপেক্ষমান৷