(৪০:৬৯) তুমি কি সেসব লোকদের দেখনি যারা আল্লাহর বিধানাবলী নিয়ে ঝগড়া করে, তাদেরকে কোথা থেকে ফিরানো হচ্ছে ? ৯৯
(৪০:৭০) যারা এ কিতাবকে অস্বীকার করে এবং আমি আমার রসূলদের যা দিয়ে পাঠিয়েছিলাম ১০০ তাও অস্বীকার করে ? এসব লোক অচিরেই জানতে পারবে
(৪০:৭১) যখন তাদের গলায় থাকবে গ্রীবা বন্ধনী ও শৃঙ্খল,
(৪০:৭২) এসব ধরে টানতে টানতে তাদেরকে ফুটন্ত পানির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং দোযখের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে৷১০১
(৪০:৭৩) অতপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে ; এখন তোমাদের সেসব ইলাহ কোথায় যাদেরকে তোমরা শরীক করতে৷১০২
(৪০:৭৪) তারা জবাব দেবে, তারা আমাদের থেকে হারিয়ে গেছে৷ এর আগে আমরা যাদেরকে ডাকতাম তারা কিছুই না৷১০৩ আল্লাহ এভাবে কাফেরদের ভ্রষ্টতাকে কার্যকর করে দেবেন৷
(৪০:৭৫) তাদের বলা হবে, তোমাদের এ পরিণতির কারণ হচ্ছে, তোমরা পৃথিবীতে অসত্য নিয়ে মেতে ছিলে এবং সে জন্য গর্ব প্রকাশ করতে৷১০৪
(৪০:৭৬) এখন অগ্রসর হয়ে জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো৷ তোমাদেরকে চিরদিন সেখানেই থাকতে হবে৷ অহংকারীদের জন্য তা অতীব জঘন্য জায়গা৷
(৪০:৭৭) হে নবী, ধৈর্য্য অবলম্বন করো৷১০৫ আল্লাহর ওয়াদা সত্য৷ আমি তাদেরকে যে মন্দ পরিণতির ভয় দেখাচ্ছি এখন তোমার সামনেই এদেরকে তার কোন অংশ দেখিয়ে দেই কিংবা (তার আগেই) তোমাকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নেই, সর্বাবস্থায় এদেরকে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে৷১০৬
(৪০:৭৮) হে নবী, ১০৭ তোমার আগে আমি বহু রসূল পাঠিয়েছিলাম৷ আমি তাদের অনেকের কাহিনী তোমাকে বলেছি আবার অনেকের কাহিনী তোমাকে বলিনি৷ আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন নিদর্শন দেখানোর ক্ষমতা কোন রসূলেরই ছিল না৷১০৮ অতপর যখন আল্লাহর হুকুম এসেছে তখন ন্যায়সংগতভাবে ফায়সালা করা হয়েছে এবং ভ্রান্ত কাজে লিপ্ত ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷১০৯
৯৯. অর্থাৎ ওপরের বক্তব্য শোনার পরও কি তুমি একথা উপলীব্ধ করতে পারনি যে , এসব লোকের ভ্রান্তি ও ভ্রান্ত আচরণের মূল উৎস কোথায় এবং তারা কোথায় ঠোকর খেয়ে গোমরাহীর এ গভীর গর্তে নিক্ষিপ্ত হয়েছে ? (প্রকাশ থাকে যে , এখানে তুমি শব্দটি দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লামকে সম্বোধন করা হয়নি , বরং এ আয়াত ক'টি পাঠকারী ও শ্রবণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে সম্বোধন করা হয়েছে )৷
১০০. এটা হচ্ছে তাদের হোঁচট খাওয়ার মূল কারণ৷ তাদের কুরআন এবং আল্লাহর রসূলদের আনীত শিক্ষা না মানা এবং আল্লাহর নিদর্শনসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করার পরিবর্তে ঝগড়াটেপনা দিয়ে তার মোকাবেলা করা এসব মৌলিক কারণই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে এবং তাদের সোজা পথে আসার সমস্ত সম্ভবনা নিঃশেষ করে দিয়েছে৷
১০১. অর্থাৎ তারা যখন তীব্র পিপাসায় বাধ্য পানি চাইবে তখন দোযখের কর্মচারীরা তাদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে টেনে হেচড়ে এমন র্ঝণাধারার দিকে নিয়ে যাবে , যা থেকে টগবগে গরম পানি বেরিয়ে আসছে৷ অতপর তাদের সে পানি পান করা শেষ হলে আবার তারা তাদেরকে টেনে হেঁচড়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং দোযখের আগুনে নিক্ষেপ করবে৷
১০২. অর্থাৎ তারা যদি সত্যিই রব হয়ে থাকে কিংবা প্রভুত্বে শরীক থেকে থাকে এবং বিপদের মুহূর্তে তারা তোমাদের কাজে আসবে এ আশায় তোমরা তাদের দাসত্ব করে থাকো তাহলে এখন তারা তোমাদেরকে উদ্ধার করছে না কেন ?
১০৩. একথার অর্থ এই নয় যে , আমরা দুনিয়াতে শিরক করতাম না৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে , এখন আমাদের কাছে একথা পরিস্কার হয়ে গেছে যে , দুনিয়ায় আমরা যাদের ডাকতাম তারা কিছুই ছিল না , নগণ্য ছিল , মূল্যহীন ছিল৷
১০৪. অর্থাৎ যা ন্যায় ও সত্য ছিল না তোমরা শুধু তার আনুগত্য ও অনুসরণ করেই ক্ষান্ত হওনি বরং সে অসত্য নিয়ে তোমরা এতটা মগ্ন ছিলে যে , তোমাদের সামনে ন্যায় ও সত্য পেশ করা হলে সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করোনি এবং নিজেদের বাতিল পূজার জন্য উল্টো গর্ব করেছো৷
১০৫. অর্থাৎ যারা ঝগড়া ও বির্তক দ্বারা তোমাদের মোকাবিলা করছে এবং হীন চক্রান্তের মাধ্যমে তোমাদেরকে হেয় করতএ চাচ্ছে তাদের কথা ও আচরণের জন্য ধৈর্য অবলম্বন করো৷
১০৬. অর্থাৎ যে ব্যক্তিই তোমাকে পরাভূত করার জন্য চেষ্টা করেছে তাকেই এ পৃথিবীতে এবং তোমার জীবদ্দশাতেই আমি শাস্তি দেবো তা জরুরী নয়৷ কেউ এখানে শাস্তি পাক বা না পাক সে আমার শাস্তি থেকে কোন অবস্থায়ই রক্ষা পেতে পারে না৷ মৃত্যুর পর তাকে আমার কাছেই আসতে হবে৷ তখন সে তার কৃতকর্মের পুরো শাস্তি ভোগ করবে৷
১০৭. এখান থেকে ভিন্ন একটি বিষয় শুরু হচ্ছে ৷ মক্কার কাফেররা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতো , আমাদের দাবিকৃত মু'জিযা না দেখানো পর্যন্ত আমরা আপনাকে আল্লাহর রসূল বলে মেনে নিতে পারি না৷ তাদের একথা উল্লেখ না করেই পরবর্তী আয়াতসমূহ তার জবাব দেয়া হচ্ছে৷ (তারা যে ধরনের মু'জিযা দেখানোর দাবি করতো তার কয়েকটি নমুনার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , হূদ , টীকা ১৩ ; আল হিজর , টীকা ৪ ও ৫ ; নবী ইসরাঈল , টীকা ১০৫ ও ১০৬ ও আল ফুরকান , টীকা ৩৩ )
১০৮. অর্থাৎ কোন নবীই নিজের ইচ্ছা মত কখনো কোন মু'জিযা দেখাননি৷ তাছাড়া নিজের পক্ষে থেকে মু'জিযা দেখানোর ক্ষমতাও কোন নবীর নেই৷ কোন নবীর মাধ্যমে মু'জিযা কেবল তখনই প্রকাশ পেয়েছে যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর মাধ্যমে কোন অবাধ্য কওমকে দেখাতে চেয়েছেন ৷ এটা কাফেরদের দাবির প্রথম জবাব৷
১০৯. অর্থাৎ খেল - তামাসা হিসেবে কখনো মু'জিযা দেখানো হয়নি৷ মু'জিযা তো একটি সিদ্ধান্ত সূচক জিনিস ৷ তা প্রকাশ পাওয়ার পরও কোন কওম যখন মানে না তখন তাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়৷ তোমরা শুধু তামাশা দেখার জন্য মু'জিযা দাবী করছো ৷ কিন্তু তোমরা বুঝতে পারছো না যে , এভাবে দাবীর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেদের দুর্ভাগ্যকে ডেকে আনছো৷ এটা কাফেরদের এ ধরনের দাবীর দ্বিতীয় জবাব৷ ইতিপূর্বে কুরআনের কয়েকটি স্থানে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে ৷ (দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , আল হিজর , টীকা ৫ ও ৩০ ; বনী ইসরাঈল , টীকা ৬৮ ও ৬৯ ; আল আম্বিয়া , টীকা ৭ ও ৮ ; আল ফুরকান , টীকা ৩৩ ও আশ শু'আরা , টীকা ৪৯ ) ৷