(৪০:৫১) নিশ্চিত জানো, আমি এ পার্থিব জীবনে আমার রসূল ও ঈমানদারদের অবশ্যই সাহায্য করি ৬৭ এবং যেদিন সাক্ষীদের পেশ করা হবে ৬৮ সেদিনও করবো৷
(৪০:৫২) যেদিন ওজর ও যুক্তি পেশ জালেমদের কোন উপকারে আসবে না, তাদের ওপর লা’নত পড়বে এবং তাদের জন্য হবে জঘন্যতম ঠিকানা৷
(৪০:৫৩) অবশেষে দেখো, আমি মূসাকে পথনির্দেশনা দিয়েছিলাম ৬৯ এবং বনী ইসরাঈলদের এমন এক কিতাবের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিয়েছি৷
(৪০:৫৪) যা ছিল বুদ্ধিমান ও জ্ঞানীদের জন্য হিদায়াত ও নসিহত৷৭০
(৪০:৫৫) অতএব, হে নবী, ধৈর্যধারণ করো৷৭১ আল্লাহর ওয়াদা সত্য,৭২ নিজের ভূল-ত্রুটির জন্য মাফ চাও ৭৩
(৪০:৫৬) এবং সকাল সন্ধ্যা নিজের রবের প্রশংসার সাথে সাথে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকো৷৭৪ প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, যারা তাদের কাছে আসা যুক্তি-প্রমাণ ছাড়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে ঝগড়া করছে তাদের মন অহংকারে ভরা ৭৫ কিন্তু তারা যে বড়ত্বের অহংকার করে তারা তার ধারেও ঘেঁষতে পারবে না৷৭৬ তাই আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো ৭৭ তিনি সবকিছু দেখেন এবং শোনেন৷
(৪০:৫৭) মানুষ ৭৮ সৃষ্টি করার চেয়ে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করা নিসন্দেহে অনেক বড় কাজ৷ কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না৷৭৯
(৪০:৫৮) অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তির অধিকারী এক রকম হতে পারে না এবং ঈমানদার ও সৎকর্মশীল সমান হতে পারে না৷ কিন্তু তোমরা কমই বুঝতে পারো৷৮০
(৪০:৫৯) কিয়ামত নিশ্চয়ই আসবে, এতে কোন সন্দেহ নেই৷ কিন্তু অধিকাংশ লোক তা বিশ্বাস করে না৷৮১
(৪০:৬০) তোমাদের ৮২ রব বলেনঃ আমাকে ডাকো৷ আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো৷৮৩ যেসব মানুষ গর্বের কারণে আমার দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তারা অচিরেই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে৷৮৪
৬৭. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , আস সাফফাত , টীকা ৯৩ ৷
৬৮. অর্থাৎ যখন আল্লাহ আদালত কায়েম হবে এবং তাঁর সামনে সাক্ষী পেশ করা হবে৷
৬৯. অর্থাৎ আমি মূসাকে (আ) ফেরাউনের মোকাবিলায় পাঠিয়ে তাকে অসহায়ভাবে ছেড়ে দিয়েছিলাম না৷ বরং প্রতি পদে আমি তাকে পথনির্দেশনা দিচ্ছিলাম এবং এভাবে তাকে সাফল্যের দ্বার প্রান্তে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম৷ একথাটির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ইংগিত আছে৷ ইংগিতটি হচ্ছে , হে মুহাম্মাদ , (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আমি তোমার সাথে ও একই আচরণ করবো৷ তোমাকেও মক্কা নগরীতে কুরাইশ গোত্রের মধ্যে নবুয়াত দিয়ে পাঠানোর পর তোমাকে অসহায়ভাবে ছেড়ে দেইনি যে , এ জালেমরা তোমার সাথে যেমন ইচ্ছা আচরণ করবে ৷ বরং আমি নিজে তোমার পৃষ্ঠপোষক আছি এবং তোমাকে পথনির্দেশনা দান করছি৷
৭০. অর্থাৎ যেভাবে মূসার (আ) দাওয়াত প্রত্যাখ্যানকারীরা এ নিয়ামত ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলো এবং তাঁর প্রতি ঈমান পোষণ কারী বনী ইসরাঈলকেই কিতাবের উত্তরাধিকারী বানানো হয়েছে তেমনিভাবে এখন যারা তোমাকে অস্বীকার করবে তারা বঞ্চিত হবে এবং তোমার প্রতি ঈমনা পোষণকারীরাই কুরআনের উত্তরাধীকারী এবং পৃথিবীতে হিদায়াতে পতাকাবাহী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবে৷
৭১. অর্থাৎ তুমি যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছো তা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে প্রশান্ত মনে বরদাশত করতে থাকো ৷
৭২. " আমি এ পার্থিব জীবনেও আমার রসূল ও ঈমানদারদের অবশ্যই সাহায্য করি৷ " একটু আগেই ওপরে বর্ণিত এ বাক্যাংশের প্রতিশ্রুতির প্রতি ইংগিত করা হয়েছে৷
৭৩. এ প্রসংগে একথা বলা হয়েছে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করলে স্পষ্ট বুঝা যায় , এ ক্ষেত্রে ভুল - ত্রুটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে ধৈর্যহীনতার সে পরিস্থিতিকে যখন চরম বিরোধিতার সে পরিবেশে বিশেষ করে তাঁর সংগী সাথীদেরকে ক্রমাগত নির্যাতিত হতে দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছিলো৷ তিনি চাচ্ছিলেন শীঘ্রই এমন মু'জিযা দেখিয়ে দিতে যা দেখে কাফেররা স্বীকার করে নেবে কিংবা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে এমন কিছু প্রকাশ পাক যা দেখে বিরোধিতার এ আগুন নিভে যায়৷ এ ধরনের আকাংখা পোষণ করো গোনাহ ছিল না যে , সে জন্য তাওবা ও ইসতিগফারের প্রয়োজন পড়তো৷ তবে আল্লাহ তা'আলা নবীকে (সা) যে উচ্চ আসনে সমাসীন করেছিলেন এবং সে পদমর্যাদ যে উচ্চ ও মহত সংকল্পের দাবি করে সে দিকের বিচারে এ যৎসামান্য ধৈর্যচ্যুতি ও আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদর চেয়ে অনেক নীচু মনে হয়েছে৷ তাই বলা হয়েছে , এ দুর্বলতার জন্য তোমার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং পাথরের মত অটল হয়ে স্বীয় ভূমিকায় এমন অবিচল থাকো এমনটি তোমার মত মহত মর্যাদার লোকদের হওয়া প্রয়োজন ৷
৭৪. অর্থাৎ এ প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করাই সে উপায় যার মাধ্যমে আল্লাহর পথের কর্মীরা আল্লাহর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো দুঃখ কষ্টের মোকাবিলা করার শক্তি অর্জন করে৷ সকাল ও সন্ধ্যায় ' হামদ ' ও 'তাসবীহ' বা প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করার দু'টি অর্থ হতে পারে৷ এক , সদা সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো৷ দুই , এ নির্দিষ্ট সময় দু'টিতে নামায আদায় করো৷ দ্বিতীয় অর্থটি গ্রহণ করা হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে যা এ সূরা ‌নাযিল হওয়ার কিছুদিন পর সমস্ত ঈমানদারদের জন্য ফরয় করে দেয়া হয়েছিল৷ কারণ , আরবী ভাষায় (আরবী -----------) শব্দটি সূর্য মাথার ওপর থেকে হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের প্রথম অংশ পর্যন্ত সময় বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়৷ এ সময়ের মধ্যে যোহর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত চার ওয়াক্ত নামায অন্তরভুক্ত ৷ আর (আরবী ---------) শব্দটি ভোর বেলার ঊষার আলো প্রকাশ পাওয়ার সময় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়কে অর্থাৎ ফজরের নামাযের ওয়াক্তকে বলা হয়৷ (অধিক বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , আল বাকারা , টীকা ৫ , ৫৯ , ৬০ , ২৬৩ , হূদ , টীকা ১১৩ ; আল হিজর , টীকা ৫৩ ; বনী ইসরাঈল ভূমিকা এবং টীকা ১ , ৯১ থেকে ৯৮ ; ত্বা - হা , টীকা ১১১ ; আন নূর , টীকা ৮৪ থেকে ৮৯ ; আল আনকাবূত , টীকা ৭৬ থেকে ৭৯ ; আর রূম , টীকা ২৪ , ৫০ )৷
৭৫. অর্থাৎ এসব লোকের যুক্তি প্রমাণহীন বিরোধিতা এবং যুক্তিহীন কূট তর্কের মূল কারণ এ নয় যে , আল্লাহর আয়াতসমূহে যেসব সত্য এবং কল্যাণের কথা তাদের সামনে পেশ করা হচ্ছে তা তাদের বোধগম্য হয় না৷ সুতরাং তারা তা বুঝার জন্য সৎ নিয়তে তর্কে লিপ্ত হয়৷ বরং তাদের এহেন আচরণের মূল কারণ হচ্ছে , তাদের মনে গর্ব ও অহংকার একথা মেনে নিতে প্রস্তুত নয় যে তারা থাকতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্ব ও দিকনিদের্শনা মেনে নেয়া হবে এবং একদিন তাদের নিজেদেরকেও এ ব্যক্তি নেতৃত্ব মেনে নিতে হবে , যার তুলনায় নিজেদেরকেই তারা নেতৃত্বের অধিক উপযুক্ত মনে করে৷ তাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লামের নেতৃত্ব যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সে জন্য তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে৷ এ উদ্দেশ্য সাধনের জন জঘন্য থেকে জঘন্যতর কোন কৌশল কাজে লাগাতেও তারা দ্বিধান্বিত নয়৷
৭৬. অন্য কথায় এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ যাকে বড় বানিয়েছেন সেই বড় হয়ে থাকবে এবং এসব ছোট লোক নিজেদের বড়ত্ব কায়েম রাখার জন্য যে চেষ্টা সাধনা করছে তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে৷
৭৭. অর্থাৎ ফেরাউনের হুমকির মুখে মহাপরাক্রমশালী একমাত্র আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে মূসা (আ) যেমন চিন্তা মুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন তেমনি কুরাইশ নেতাদের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মুখে তুমিও তাঁর আশ্রয় নাও এবং চিন্তামুক্ত হয়ে তাঁর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাও৷
৭৮. ওপরে সাড়ে তিনটি রুকূতে কুরাইশ নেতাদের ষড়যন্ত্রসমূহ পর্যালোচনা করার পর এখান থেকে সাধারণ মানুষকে সম্বোধন করা হচ্ছে৷ তাদের বুঝানো হচ্ছে যে , মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদেরকে যেসব সত্য মেনে নেয়ার আহবান জানাচ্ছেন তা সম্পূর্ণরূপে যুক্তিসংগত ৷ তা মেনে নেয়ার মধ্যেই তোমাদের কল্যাণ এবং না মানা তোমাদের জন্য ধ্বংসাত্মক ৷ এ ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কথা বলে তার সপক্ষে যুক্তি প্রমাণ পেশ করা হয়েছে৷ কারণ , কাফেরদের কাছে এ বিশ্বাস ছিল অদ্ভুত ৷ একে তারা দুর্বোধ্য ও জ্ঞান বুদ্ধির পরিপন্থী বলে মনে করতো ৷
৭৯. এটি আখেরাত সম্ভব হওয়ার প্রমাণ ৷ কাফেরদের ধারণা ছিল যে , মৃত্যুর পর মানুষের পুনরায় জীবিত হওয়া অসম্ভব ৷ এর জবাবে বলা হচ্ছে , যারা এ ধরনের কথা বলে তারা প্রকৃতপক্ষে অজ্ঞ৷ যদি জ্ঞান বুদ্ধি কাজে লাগানো হয় তাহলে একথা বুঝা তাদের জন্য মোটেই কঠিন নয় যে , যে আল্লাহ এ বিশ্ব জাহান বানিয়েছেন মানুষকে পুনরায় জীবিত করা তাঁর জন্য কোন কঠিন কাজ হতে পারে না৷
৮০. এটি আখেরাতের অনিবার্যতার প্রমাণ৷ ওপরের আয়াতাংশে বলা হয়েছিলো যে , আখেরাত হতে পারে তা হওয়া অসম্ভব নয়৷ আর এ আয়াতাংশে বলা হচ্ছে যে , আখেরাত হওয়া অনিবার্য , অবধারিত ৷ জ্ঞান বুদ্ধি ও ইনসাফের দাবী হলো তা হতেই হবে৷ তা হওয়া নয় , না হওয়াই জ্ঞান বুদ্ধি ও ইনসাফের পরিপন্থী ৷ কোন যুক্তিবাদী মানুষ কি কখনো একথা সঠিক বলে মেনে নিতে পারে যে , যারা পৃথিবীতে অন্ধদের মত জীবন যাপন করে এবং নিজেদের দুশ্চরিত্র ও দুষ্কর্ম দ্বারা আল্লাহর পৃথিবীকে বিপর্যন্ত করে তোলে তারা তাদের ভুল আচার আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কোন খারাপ পরিণাম আদৌ দেখবে না এবং অনুরূপ যারা দুনিয়াতে ভালমন্দ বিচার করে চলে এবং ঈমান গ্রহণ করে নেক কাজ করে , তারা নিজেদের এ উত্তম কর্মকাণ্ডের কোন ভালে ফলাফল থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে ? এ বিষয়টি যদি জ্ঞান বুদ্ধি ও ইনসাফের পরিপন্থী হয় তাহলে আখেরাত অস্বীকৃতি আকীদাও অবশ্যই জ্ঞান বুদ্ধি ও ইনসাফের পরিপন্থী হতে হবে৷ কারণ , আখেরাত না হওয়ার অর্থ হচ্ছে ভাল ও মন্দ উভয় শ্রেণীর মানুষ মরে মাটিতে মিশে যাওয়া এবং উভয়ের একই পরিণতি লাভ করা৷ এরূপ হলে শুধু জ্ঞান বুদ্ধি ও ইনসাফকেই হত্যা করা হয় না , বরং নৈতিকতাও মূলোৎপাটিত হয়৷ কারণ , ভাল ও মন্দ উভয় শ্রেণীর মানুষের যদি একই পরিণাম হয় তাহলে মন্দ লোকেরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এ কারণে যে , তারা মৃত্যুর পূর্বে হৃদয় মনের সমস্ত কামনা বাসনা পূরণ করেছে৷ আর সৎলোকেরা অত্যন্ত নির্বোধ এ কারণে যে , তারা অযথা নিজেদের ওপরে নান রকমের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে রেখেছিলো ৷
৮১. এটা হচ্ছে আখেরাত সংঘটিত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা৷ এ ধরনের ঘোষণা যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে দেয়া যায় না শুধু জ্ঞানের ভিত্তিতে দেয়া যায়৷ আর আল্লাহর বাণী ছাড়া অন্য কোন বাণীতে এ বিষয়টি এমন অকাট্যভাবে বর্ণিত হতে পারে না৷ অহী বাদ দিয়ে শুধু জ্ঞান বু‌দ্ধির উদ্ভাবনী ক্ষমতা , যা বলা যেতে পারে , তা শুধু এতটুকু যে , আখেরাত সংঘটিত হতে পারে এবং হওয়া উচিত৷ এর চেয়ে অগ্রসর হয়ে আখেরাত অবশ্যই সংঘটিত হবে একথা কেবল সে মহান সত্তাই বলতে পারেন যার জানা আছে যে , আখেরাত হবে৷ আল্লাহ তা'আলা ছাড়া এমন সত্তা আর কেউ নেই৷ এখানে এসেই একথা পরিস্কার হয়ে যায় যে , অনুমান ও যুক্তি তর্কের পরিবর্তে নির্ভুল জ্ঞানের ওপর যদি দীনের ভিত্তি স্থাপিত হয় তবে তা হতে পারে শুধু আল্লাহর অহীর মাধ্যমে৷
৮২. আখেরাতের আলোচনার পর এখন তাওহীদ সম্পর্কে বক্তব্য শুরু হচ্ছে ৷ আর এটি ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কাফেরদের মাঝে বিরোধের দ্বিতীয় বিষয়৷
৮৩. অর্থাৎ দোয়া কবুল করা না করার সমস্ত ক্ষমতা ও ইখতিয়ার আমার কাছে ৷ অথবা তোমরা অন্যদের কাছে দোয়া করো না , আমার কাছে দোয়া করো৷ এ আয়াতটির মূল ভাবধারা সঠিকভাবে বুঝতে হলে তিনটি বিষয় ভালভাবে বুঝে নিতে হবে৷

প্রথমত , মানুষ দোয়া করে কেবল সে সত্তার কাছে যাকে সে (আরবী ------------------) (সর্বশ্রোতা ) (আরবী --------) (সর্বদ্রষ্টা ) এবং অতি প্রাকৃতিক ক্ষমতার (Super natural power ) অধিকারী মনে করে ৷ মূলত মানুষের আভ্যন্তরীণ অনুভূতি তাকে দোয়া করতে উদ্বুদ্ধ করে৷ বস্তুজগতের প্রাকৃতিক উপায় উপকরণ যখন তার কোন কষ্ট নিবারণ কিংবা কোন প্রয়োজন পূরণ করার জন্য যথেষ্ট নয় বা যথেষ্ট বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না তখন কোন অতি প্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী সত্তার ধর্ণা দেয়া অপরিহার্য ৷ তখনই মানুষ দোয়া করে এবং না দেখেই সে সত্তাকে ডাকে ; প্রতি মুহূর্তে , প্রতিটি জায়াগায় এবং সর্বাবস্থায় ডাকে৷ একাকী নির্জনে ডাকে , উচ্চস্বরেই শুধু নয় , চুপে চুপে ও ডাকে এবং মনে মনেও তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে ৷ একটি বিশ্বাসের ভিত্তিতেই তা হয়৷ বিশ্বাসটি হচ্ছে , সেই সত্তা তাকে সর্বত্র সর্বাবস্থায় দেখছেন৷ তাঁর মনের কথাও শুনছেন ৷ তিনি এমন অসীম ক্ষমতার অধিকারী যে , তাঁর কাছে প্রার্থনাকারী যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তিনি তাকে সাহায্য করতে পারেন , তার বিপর্যন্ত ভাগ্যকে পুনরায় তৈরী করতে পারেন৷ দোয়ার এ তাৎপর্য অনুধাবন করার পর মানুষের জন্য একথা বুঝা আর কঠিন থাকে না যে , যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্তাকে সাহায্যের জন্য ডাকে সে প্রকৃতই নিরেট নির্ভেজাল এবং স্পষ্ট শিরকে লিপ্ত হয়৷ কারণ , যেসব গুণাবলী কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট তা সেসব সত্তার মধ্যেও আছে বলে সে বিশ্বাস করে ৷ সে যদি তাদেরকে ঐ সব খোদায়ী গুণাবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শরীক না করতো তাহলে তার কাছে দোয়া করার কল্পনা পর্যন্ত তার মনে কখনো আসতো না৷

এ ব্যাপারে দ্বিতীয় যে কথাটি ভালভাবে বুঝে নিতে হবে তা হচ্ছে , কোন ব্যক্তি যদি কারো সম্পর্কে নিজের থেকেই একথা মনে করে বসে যে , সে অনেক ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের মালিক তাহলে অনিবার্য রূপেই সে ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের মালিক হয়ে যায় না৷ ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের মালিক হওয়া একটি বাস্তব ব্যাপার যা কারো মনে করা বা না করার ওপর নির্ভর করে না৷ আপনি মালিক মনে করেন আর না করেন প্রকৃতই যে ক্ষমতা ইখতিয়ারের মালিক সে সবাবস্থায়েই মালিক থাকবে৷ আর যে প্রকৃত মালিক নয় আপনি তাকে মালিক মনে করে বসলেও মনে করাটা তাকে ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের অতি সামান্য অংশ দিতে পারবে না৷ এটা বাস্তব ও সত্য যে , একমাত্র আল্লাহ ও সর্বদ্রষ্টা ৷ তিনিই সামগ্রিকভাবে সমস্ত ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের মালিক ৷ সমগ্র বিশ্ব জাহানে দ্বিতীয় এমন কোন সত্তাই নেই , যে দোয়া শোনার কোন যোগ্যতা ও ইখতিয়ার রাখে বা তা কবুল করা বা না করার ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে৷ মানুষ যদি এ বাস্তবতার পরিপন্থী কাজ করে নিজের পক্ষ থেকে নবী রসূল , আওলিয়া , ফেরেশতা , জিন গ্রহ উপগ্রহ ও মনগড়া দেবতাদেরকে ক্ষমতা ও ইখতিয়ারে অংশীদার মনে করে বসে তাতে বাস্তব অবস্থার সামান্যতম পরিবর্তনও হবে না৷ মালিক মালিকই থাকবনে এবং ক্ষমতা ও ইখতিয়ারহীন দাস দাসই থেকে যাবে৷

তৃতীয় কথাটি হচ্ছে , আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্যদের কাছে প্রার্থনা করা হুবহু এমন যেন কোন ব্যক্তি দরখাস্ত লিখে নিয়ে রাজ প্রাসাদে গেল কিন্তু ক্ষমতার প্রকৃত মালিককে বাদ দিয়ে সেখানে অন্য যেসব প্রার্থী নিজেদের অভাব পূরণের আশায় বসে আছে তাদের কারো সামেন দরখাস্ত পেশ করে করজোড়ে কাকুতি -মিনতি করে বলতে থাকলো৷ হুজুরই সবকিছু , এখানে তো আপনার হুকুমই চলে , আমার প্রয়োজন যদি আপনি পূরণ করেন তবেই পূরণ হতে পারে৷ প্রথমত এ আচরণ নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞাতার পরিচায়ক কিন্তু তখন যদি প্রকৃত ক্ষমতার ও ইখতিয়ারের মালিক শাসক সামনে বিদ্যমান থাকেন আর তার উপস্থিতিতে তাকে বাদ দিয়ে অন্য কারোর সামনে দরখাস্ত পেশ করে কাকুতি মিনতি করে প্রার্থনা করা হয় তাহলে এমন অবস্থায় তা চরম অশোভন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজ বলে পরিগণিত হয়৷ তাছাড়া এ অজ্ঞাতা চরমে পৌঁছে তখন , যখন যে ব্যক্তির সামনে দরখাস্ত পেশ করা হচ্ছে সে নিজে তাকে বারবার একথা বুঝায় যে , আমিও তোমার মত একজন প্রার্থী ৷ আমার কাছে কিছুই নেই৷ আসল শাসক তো সামনেই আছেন৷ তুমি তার কাছে দরখাস্ত পেশ কর৷ কিন্তু তার বুঝানো ও নিষেধ সত্ত্বেও এ নির্বোধ যদি বলতেই থাকে যে , আমার মালিক মনিব আপনি৷ আপনি যদি করে দেন তবেই আমার কাজ হবে৷ বস্তুত এরূপ অবস্থায়ই এ অজ্ঞাতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ৷

এ তিনটি বিষয় মনে রেখে আল্লাহ তা'আলার বাণী " আমাকে ডাকো৷ তোমাদের ডাকে সাড়া দানকারী আমি৷ তা গ্রহণ করা আমার কাজ ৷ " আল্লাহ তা'আলার এ বাণীটি বুঝার চেষ্টা করুন৷
৮৪. এ আয়াতের দু'টি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় ৷ একটি হচ্ছে , এখানে "দোয়া " ও " ইবাদাত " শব্দ দু'টিকে সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে৷ কেননা , প্রথম বাক্যাংশে যে জিনিসকে দোয়া শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে দ্বিতীয় বাক্যাংশে সে জিনিসকেই ইবাদাত শব্দ দ্বারা প্রকাশ হয়েছে৷ এ দ্বারা একথা পরিস্কার হয়ে গেল যে , দোয়াও ঠিক ইবাদাত তথা ইবাদাতের প্রাণ৷ দ্বিতীয়টি হচ্ছে , আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না এমন লোকদের জন্য "অহংকার ও গর্বভরে আমার ইবাদাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় " কথাটি প্রয়োগ করা হয়েছে৷ এ থেকে জানা যায় যে আল্লাহর কাছে দোয়া করা বন্দেগী বা দাসত্বের দাবী৷ এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার অর্থ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গর্ব ও অহংকারে ডুবে আছে৷ এ কারণে নিজের স্রষ্টা ও মনিবের কাছে দাসত্বের স্বীকৃতি দিতে দ্বিধা করে ৷ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাণীতে আয়াতের এ দু'টি বিষয় পরিস্কার বর্ণনা করেছেন৷ হযরত নু'মান ইবনে বাশীল (রা) বর্ণনা করেছেন যে , নবী (সা) বলেছেন : ............. (আরবী -----------------------------------------------------) অর্থাৎ দোয়াই ' ইবাদাত ' ৷ তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন৷ (তোমরা আমাকে ডাকো আমি সাড়া দেবো৷ আহমাদ , তিরমিযী , আবুদ দাউদ , নাসায়ী , ইবনে মাজাহ , ইবনে আবী হাতেম , ইবনে জারীর ) হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত ৷ নবী (সা) বলেছেন : (আরবী --------------) " দোয়া হচ্ছে ইবাদতের সারবস্তু " (তিরমিযী ) ৷ হযরত আবু হুরাইরা বলেন , নবী (সা) বলেছেন : (আরবী ----------------------) " যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হন " (তিরমিযী )

এ পর্যায়ে একটি সমস্যার ও সমাধান হয়ে যায় যা বহু সংখ্যক মানুষের মনে বেশীর ভাগ সময় দ্বিধা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে থাকে৷ দোয়া করার ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তাধারা হলো , তাকদীরের ভাল মন্দ যখন আল্লাহ ইকতিয়ারে তখন তিনি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে যে ফায়সালা করেছেন সেটাই অনিবার্যরূপে ঘটবে৷ সুতরাং আমর দোয়ার সমস্ত গুরুত্ব মুছে ফেলে৷ এ ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে পড়ে থেকে মানুষ যদি দোয়া করেও সেসব দোয়ায় কোন প্রাণ থাকে না ৷ কুরআন মজীদের এ আয়াতটি দুটি পন্থায় এ ভ্রান্ত ধারণা দূর করে ৷ প্রথমত, আল্লাহ তা' আলা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছেন, "আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো৷" এ থেকে জানা যায় , তাকদীর এমন কোন জিনিস নয়৷ আমাদের মত (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহ তা'আলার হাত পাও বেঁধে দিয়েছে এবং তিনি দোয়া কবুল করার ক্ষমতা ও ইখতিয়ার হারিয়ে ফেলেছেন ৷ নিসন্দেহে বান্দা আল্লাহর সিদ্বান্তসমূহ এড়ানো বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না ৷কিন্তু কোন বান্দার দোয়া ও আবেদন নিবেদন শুনে আল্লাহ নিজে তাঁর নিজের সিদ্বান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা অবশ্যই রাখেন ৷ এ আয়াতে দ্বিতীয় যে কথাটি বলা হয়েছে তা হলো দোয়া কবুল হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় তার একটি ছো‌ট বা বড় ফায়দা থাকে কোন অবস্থাই তা ফায়দাহীন ন্‌য়৷ সে ফায়দা হলো, বান্দা তার প্রভুর সামনে নিজের অভাব ও প্রয়োজন পেশ এবং দোয়া করে তাঁর প্রভুত্ব ও শ্রেষ্টত্ব মেনে নেয় এবং নিজের দাসত্ব ও অক্ষমতা স্বীকার করে ৷ নিজের দাসত্বের এ স্বীকৃতিই যথাস্থানে একটি ইবাদত তথা ইবাদতের প্রাণসত্তা৷ বান্দা যে উদ্দেশ্য দোয়া করলো সেই বিশেষ জিনিসটি তাকে দেয়া হোক বা না হোক কোন অবস্থাই সে তার এ দোয়ার প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে না ৷

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লামের হাদীস থেকে এ দু' টি বিষয়ের ব্যাখ্যা পেয়ে যাই৷ নিম্ন বর্নিত হাদীসগুলো প্রথমোক্ত বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে৷

হযরত সালমান ফারসী থেকে বণিত নবী (সা) বলেছেন : আরবী------------------------(--------------) " দোয়া ছাড়া আর কোন কিছুই তাকদীরকে পরিবর্তন করতে পারে না " অর্থাৎ কোন কিছুর মধ্যেই আল্লাহর ফায়সালা পরিবর্তনের ক্ষমতা নেই৷ কিন্তু আল্লাহ নিজে তাঁর ফায়সালা পরিবর্তন করতে পারেন৷ আর এটা হয় কেবল তখনি যখন বান্দা তার কাছে দোয়া করে৷

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ বলেন , নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

আরবী ----------------------------------------------------------------------------------------)

" বান্দা যখনই আল্লাহ কাছে দোয়া করে আল্লাহ তখন হয় তার প্রার্থিত জিনিস তাকে দান করেন কিংবা তার ওপরে সে পর্যায়ের বিপদ আসা বন্ধ করে দেন ---- যদি সে গোনাহর কাজে বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া না করে৷ "

আবু সা'ঈদ খুদরী (রা) কর্তৃক রসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণিত আরেকটি প্রায় অনুরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে৷ উক্ত হাদীস নবী (সা) বলেছেন :

আরবী -----------------------------------------------------------------------------

" একজন মুসলমান যখনই কোন দোয়া করে তা যদি কোন গোনাহ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া না হয় তাহলে আল্লাহ তা'আলা তা তিনটি অবস্থায় যে কোন এক অবস্থায় কবুল করে থাকেন৷ হয় তার দোয়া এ দুনিয়াতেই কবুল করা হয় , নয়তো আখেরাতে প্রতিদান দেয়ার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয় অথবা তার ওপরে ঐ পর্যায়ের কোন বিপদ আসা বন্ধ করা হয় ৷"

হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন , নবী (সা) বলেছেন :

আরবী -----------------------------------------------------------------------------

" তোমাদের কোন ব্যক্তি দোয়া করলে সে যেন এভাবে না বলে , হে আল্লাহ ! তুমি চাইলে আমাকে মাফ করে দাও , তুমি চাইলে আমর প্রতি রহম করো এবং তুমি চাইলে আমাকে রিযিক দাও৷ বরং তাকে নির্দিষ্ট করে দৃঢ় তার সাথে বলতে হবে ; " হে আল্লাহ , আমার অমুক প্রয়োজন পূরণ করো "

হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকেই আরেকটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে৷ হাদীটির ভাষা হচ্ছে নবী (সা) বলেছেন :

আরবী ----------------------------------------------------------------------------

" আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন এবং দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করো৷ "

আরেকটি হাদীসে হযরত আবু হুরাইরা (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বাণী উদ্ধৃত করেছেন যে ,

আরবী ----------------------------------------------------------------------------

" যদি গোনাহ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া না হয় এবং তাড়াহুড়া না করা হয় তাহলে বান্দার দোয়া কবুল করা হয়৷ " জিজ্ঞেস করা হলো : হে আল্লাহর রসূল , তাড়াহুড়া কি ? তিনি বললেন : তাড়াহুড়ো হচ্ছে ব্যক্তির একথা বলা যে , " আমি অনেক দোয়া করেছি৷ কিন্তু দেখছি আমার কোন দোয়াই কবুল হচ্ছেনা৷ এভাবে সে অবসন্ন গ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং দোয়া করা ছেড়ে দেয়৷ "

দ্বিতীয় বিষয়টিও নিম্নবর্ণিত হাদীসমূহ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়৷ হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত ৷ নবী (সা) বলেছেন :

আরবী -----------------------------------------------------------------------------

" আল্লাহর কাছে দোয়ার চাইতে অধিক সস্মানার্হ জিনিস আর কিছই নেই ৷" হযরত ইবনে সামউদ থেকে বর্ণিত ৷ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

আরবী ------------------------------------------------------------------------------

" যে বিপদ আপতিত হয়েছে তার ব্যাপারেও দোয়া উপকারী এবং যে বিপদ এখনো আপতিত হয়নি তার ব্যাপারেও দোয়া উপকারী৷ অতএব হে আল্লাহর বান্দারা , তোমাদের দোয়া করা কর্তব্য৷ " (তিরমিযী , মুসনাদে আহমাদ )

আরবী ------------------------------------------------------------------------------

" তোমাদের প্রত্যেকের উচিত তার রবের কাছে নিজের প্রয়োজন প্রার্থনা করা৷ এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে তাও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে৷ "

অর্থাৎ মানুষ যে ব্যাপারগুলো বাহ্যত নিজের ইখতিয়ারভুক্ত বলে মনে করে যেসব ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের আগে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে৷ কারণ , কোন ব্যাপারে আমাদের কোন চেষ্টা তদবীরই আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া সাফল্য লাভ করতে পারে না৷ চেষ্টা তাদবীর শুরু করার আগে দোয়া করার অর্থ হচ্ছে , বান্দা সর্বাবস্থায় তার নিজের অক্ষমতা ও আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করছে৷