(৪০:২১) এসব লোক কি কখনো পৃথিবীর বুকে ভ্রমণ করেনি তাহলে ইতিপূর্বে যারা অতীত হয়েছে তাদের পরিণাম দেখতে পেতো? তারা এদের চেয়ে বেশী শক্তিশালী ছিল এবং এদের চেয়েও বেশী শক্তিশালী স্মৃতিচিহ্ন পৃথিবীর বুকে রেখে গিয়েছে৷ কিন্তু গোনাহর কারণে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছেন৷ আল্লাহর হাত থেকে তাদের রক্ষাকারী কাউকে পাওয়া যায়নি৷
(৪০:২২) তাদের এহেন পরিণতির কারণ হলো তাদের কাছে তাদের রসূল স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ৩৪ নিয়ে এসেছিলো আর তারা তা মানতে অস্বীকার করেছিলো৷ অবশেষে আল্লাহ তাদের পাকড়াও করলেন৷ নিসন্দেহে তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কঠোর শাস্তিদাতা৷
(৪০:২৩) আমি মূসাকে ৩৫ ফেরাউন, হামান ৩৬ ও কারূণের কাছে আমার নিদর্শনসমূহ এবং
(৪০:২৪) আমার পক্ষ থেকে আদিষ্ট হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ ৩৭ সহ পাঠিয়ছিলাম৷ কিন্তু তারা বললোঃ জাদুকর, মিথ্যাবাদী৷
(৪০:২৫) অতপর যখন সে আমার পক্ষ থেকে সত্য এসে হাজির করলো ৩৮ তখন তারা বললো, যারা ঈমান এনে তার সাথে সামিল হয়েছে তাদের ছেলেদের হত্যা করো এবং মেয়েদের জীবিত রাখো৷ ৩৯ কিন্তু কাফেরদের চক্রান্ত ব্যর্থই হয়ে গেল৷ ৪০
(৪০:২৬) একদিন ৪১ ফেরাউন তার সভাসদদের বললোঃ আমাকে ছাড়ো, আমি এ মূসাকে হতা করবো৷ ৪২ সে তার রবকে ডকে দেখুক৷ আমার আশংকা হয়, সে তোমাদের দীনকে পাল্টে দেবে কিংবা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে৷” ৪৩
(৪০:২৭) মূসা বললো, যেসব অহংকারী হিসেবের দিনের প্রতি ঈমান পোষণ করে না, তাদের প্রত্যেকের মোকাবিলায় আমি আমার ও তোমাদের রবের আশ্রয় গ্রহণ করেছি৷৪৪
৩৪. স্পষ্ট নিদর্শন বলতে তিনটি জিনিস বুঝানো হয়েছে৷ এক , এমন সুস্পষ্ট চিহ্ন ও নিদর্শন যা তাঁদের আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক আদিষ্ট হওয়ার প্রমাণ৷ দুই , এমন সব উজ্জল প্রমাণ যা তাঁদের আনীত শিক্ষার সত্যতা প্রমাণ করছিলো৷ তিন , জীবনের বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা সম্পর্কে এমন সব সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা যা দেখে যে কোন যুক্তিবাদী মানুষ বুঝতে পারতো যে , কোন স্বার্থপর মানুষ এরূপ পবিত্র শিক্ষা দিতে পারে না৷
৩৫. হযরত মূসার (আ) কাহিনীর আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , আল বাকারাহ , টীকা ৬৪ থেকে ৭৬ ; আন নিসা , টীকা ২০৬ ;আল মা-য়েদা , টীকা ৪২ ; আল আ'রাফ , টীকা ৯৩ থেকে ১১৯ ; ইউনুস , টীকা ৭২ থেকে ৯৪ ; হূদ , টীকা ১৯ , ১০৪ , ১১১, ; ইউসুফ , ভূমিকা ; ইবরাহীম টীকা ৮ থেকে ১৩ ; বনী ইসরাঈল ,টীকা ১১৩ থেকে ১১৭ ;আল কাহফ , টীকা ৫৭ থেকে ৫৯ ; মারয়াম , টীকা ২৯ থেকে ৩১ , ত্বাহা , ভূমিকা , টীকা ৫ থেকে ৭৫ ; আল মু'মিনূন , টীকা ৩৯ -৪২ ; আশ শু'আরা , টীকা ৭ থেকে ৪৯ ; আন নামল , টীকা ৮ থেকে ১৭১ ;আল কাসাস , ভূমিকা , টীকা ১ থেকে ৫৭ ; আল আহযাব আয়াত ৬৯ ;আস সাফফাত , আয়াত ১১৪ থেকে ১২২ ৷
৩৬. হামান সম্পর্কে ভিন্ন মতাবলম্বীদের আপত্তির জবাব ইতিপূর্বে সূরা কাসাসের টীকাসমূহে দেয়া হয়েছে৷
৩৭. অর্থাৎ এমন স্পষ্ট নিদর্শনসহ যা দেখে এ বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকতো না যে , তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত আর তাঁর পক্ষে আছে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা মহান আল্লাহ শক্তি৷ যে নিদর্শনগুলোকে এখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত মূসার (আ) আদিষ্ট হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে সেগুলো কি কুরআন মজীদে হযরত মূসার (আ) কাহিনীর যে বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে সে দিকে গভীরভাবে লক্ষ করলে তা বুঝা যায় ৷ প্রথমত এটা একটা বিস্ময়কর ব্যাপার যে কয়েক বছর আগে যে ব্যক্তি ফেরাউনের কওমের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো এবং যার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল সে একখানা লাঠি হাতে হঠাৎ সোজা ফেরাউনের ভরা দরবারে নির্ভীক ও নিশষ্কচিত্তে হাজির হচ্ছে এবং সাহসিকতার সাথে বাদশাহ ও তার সভাসদদের সম্বোধন করে আহবান জানাচ্ছেন যে , তারা যেন তাঁকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেয় এবং তার নির্দেশনা অনুসারে কাজ করে৷ কিন্তু তার গায়ে হাত তোলার সাহস কারো হচ্ছে না৷ অথচ মূসা (আ) যে কওমের লোক তার এমন নিদারুনভাবে গোলামীর যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিলো যে , হত্যার অভিযোগে যদি তৎক্ষণাৎ তাকে গ্রেফতার করা হতো তাহলে তার কওমের বিদ্রোহ করা তো দূরের কথা প্রতিবাদের জন্য মূখ খোলারও কোন আশংখা ছিল না৷ এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় , লাঠি ও " ইয়াদে বায়দা"র (শ্বেত-শুভ্র হাত ) মু'জিযা দেখারও পূর্বে ফেরাউন এবং তার সভাসদরা হযরত মূরার (আ) আগমনেই ভীত হয়ে পড়েছিলো ৷ প্রথম দর্শনেই তারা উপলব্দি করতে পেরেছিলো যে , এ ব্যক্তি অন্য কোন শক্তির ভরসায় এখানে এসেছে ৷ অতপর তার হাতে একের পর এক বিস্ময়কর যেসব মু'জিযা সংঘটিত হলো তার প্রত্যেকটি এ বিশ্বাস দৃঢ়মূল করার জন্য যথেষ্ট ছিল যে , এটা জাদুশক্তি নয় , বরং খোদায়ী শক্তির বিস্ময়কর প্রকাশ৷ এমন কোন জাদু আছে যার জোরে লাঠি সত্যিকার আজদাহায় রূপান্তরিত হতে পারে ? কিংবা গোটা একটা দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হতে পারে ? কিংবা একটি নোটিশ দেয়ার সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ বর্গ মাইল বিস্তৃত একটি এলাকায় নানা ধরনের ঝড় তুফান আসতে পারে এবং আরেকটি নোটিশে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে ? কুরআন মজীদের বর্ণনা অনুসারে এ কারণে ফেরাউন ও তার দায়িত্বশীল লোকজন মুখে যত অস্বীকার করুক না কেন , মন তাদের পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পেরেছিলো যে , হযরত মূসা (আ) সত্যিই আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট৷ (বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমুল কুরআন , আল আ'রাফ , টীকা ৮৬ থেকে ৮৯ ; ত্বা-হা , টীকা ২৯ থেকে ৫৩ ; আশ শু'আরা , টীকা ২২ থেকে ৪১ ; আন নামল , টীকা ১৬ )
৩৮. অর্থাৎ যখন হযরত মূসা (আ) একের পর এক মু'জিযা ও নিদর্শনসমূহ দেখিয়ে পুরোপুরি প্রমাণ করলেন যে , তিনি আল্লাহর প্রেরিত রসূল এবং মজবুত প্রমাণাদি দ্বারা তাঁর সত্য হওয়ার সুস্পষ্ট করে দিলেন৷
৩৯. পূর্বেই সূরা আ'রাফের ১২৭ আয়াতে একথা উল্লেখিত হয়েছে যে , ফেরাউনের দরবারের লোকজন তাকে বলেছিলো , মূসাকে এভাবে অবাধে তৎপরতা চালানোর অধিকার আর কতদিন দেয়া যাবে এবং তার জবাবে ফেরাউন বলেছিলো অচিরেই আমি বনী ইসরাঈলদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করার এবং কন্যা সন্তানরদের জীবিত রাখার নির্দেশ দিতে যাচ্ছি ৷ (তাফহীমুল কুরআন , আল আ'রাফ , টীকা ৯৩ )৷ এ আয়াতটি থেকে জানা যাচ্ছে যে , ফেরাউনের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত যে নির্দেশ জারী করা হয়েছে তার উদ্দেশ্য ছিল হযরত মূসা (আ) এবং তাঁর সহযোগী ও অনুসারীদের এতটা ভীত সন্ত্রন্ত করে দেয়া যে , তারা যেন ভয়ের চোটে তার পক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়৷
৪০. মূল আয়াতাংশ হচ্ছে (আরবী -----------------------------------------) ৷ এ আয়তাংশের আরেকটি অর্থ হতে পারে এই যে , ঐ কাফেরদের চক্রান্ত ছিল গোমরাহী , জুলুম -নির্যাতন এবং ন্যায় ও সত্যের বিরোধিতার খাতিরে ৷ অর্থাৎ ন্যায় ও সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়া এবং মনে মনে তার সমর্থক হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও নিজেদের জিদ ও হঠকারিতা বৃদ্ধিই পেয়েছে এবং সত্যকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য তারা জঘন্য থেকে জঘন্যতম পন্থা অবলম্বন করতেও দ্বিধান্বিত হয়নি৷
৪১. এখান থেকে যে ঘটনার বর্ণনা শুরু হচ্ছে তা বনী ইসরাঈল জাতির ইতিহাসের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ৷ অথচ বনী ইসরাঈল নিজেরাই তা বিস্মৃত হয়ে বসেছে৷ বাইবেল এবং তালমুদে এর কোন উল্লেখ নেই এবং অন্যান্য ইসরাঈলী বর্ণনায় ও তার কোন নাম গন্ধ পর্যন্ত দেখা যায় না৷ ফেরাউন এবং হযরত মূসার (আ) মধ্যকার সংঘাতের যুগে এক সময় এ ঘটনাটিও যে সংঘটিত হয়েছিলো বিশ্ববাসী কেবল কুরআন মজীদের মাধ্যমেই তার জানতে পেরেছে ৷ ইসলাম ও কুরআরে বিরুদ্ধে শত্রুতায় অন্ধ হয়ে না থাকলে যে ব্যক্তিই এ কাহিনী পাঠ করবে সে একথা উপলব্ধি না করে পারবে না যে , ন্যায় ও সত্যের দিকে আহবানের দৃষ্টিকোণ থেকে এ কাহিনী অত্যন্ত মূল্যবান ও বিশেষ মর্যাদার দাবীদার ৷ তাছাড়া হযরত মূসার (আ) ব্যক্তিত্ব , তাঁর তাবলীগ ও প্রচার এবং তাঁর মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া বিস্ময়কর মু'জিযাসমূহ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ফেরাউনের নিজের সভাসদদের মধ্য থেকে কারো সংগোপনে ঈমান গ্রহণ করা এবং মূসাকে (আ) হত্যার ব্যাপার ফেরাউনকে উদ্যোগী হতে দেখে আত্মসংবরণ করতে না পারা বুদ্ধি বিবেক ও যুক্তি বিরোধীও নয়৷ কিন্তু পাশ্চাত্যের প্রাচ্যবিদরা জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার লম্বা চাওড়া দাবি সত্ত্বেও গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতায় অন্ধ হয়ে কুরআনের সুস্পষ্ট সত্যসমূহের ধামাচাপা দেয়ার প্রচেষ্টা চালায়৷ ইনসাইক্লোপোডিয়া অব ইসলামের " মূসা" নামক প্রবন্ধের লেখক এ শিরোনামের প্রবন্ধে যা লিখেছেন তা থেকেই একথা বুঝা যায় ৷ তিনি লিখছেন :

"ফেরাউনের দরবারে একজন বিশ্বাসী মূসাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন , কুরআনের বর্ণিত এ কাহিনী সুস্পষ্ট নয় (সূরা ৪০ , আয়াত ২৮ )৷ আমরা কি তাহলে হাগগাদায় বর্ণিত কাহিনীর বিষয়বস্তুর সাথে এ কাহিনীর তুলনা করবো যাতে ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে কাজ করার জন্য ইয়েথরো ফেরাউনের দরবারে পরামর্শ দিয়েছিলো? "

জ্ঞান গবেষণার এসব দাবিদারদের কাছে এটা যেন স্বতঃসিদ্ধ যে , কুরআনের প্রতিটি বিষয়ে অবশ্যই খুঁত বের করতে হবে৷ কুরআনের কোন বক্তব্যের মধ্যে যদি কেন খুঁত বের করার সুযোগ না - ই পাওয়া যায় তাহলে ও অন্তত এতটুকু যেন বলা যায় যে , এ কাহিনী পুরোপুরি স্পষ্ট নয়৷ এভাবে ধীরে ধীরে পাঠকদের মনে এ সন্দেহ ও সৃষ্টি করে দেয়ার চেষ্টা করা যে , ইয়েথরো কর্তৃক মূসার (আ) জন্ম পূর্ব যে কহিনী হাগগাদায় বর্ণিত হয়েছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হয়তো কোথাও থেকে তা শুনে থাকবেন এবং সেটাই এখানে এভাবে বর্ণনা করে থাকবেন৷ এটা হচ্ছে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার একটা বিশেষ ষ্টাইল যা এসব লোকেরা ইসলাম , কুরআন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে অবলম্বন করে চলেছে৷
৪২. একথার দ্বারা ফেরাউন এ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছে যেন কিছু লোক তাকে বিরত রেখেছে আর সেই কারণে সে মূসাকে (আ) হত্যা করছে না৷ তারা যদি বাধা না দিতো তাহলে বহু পূর্বেই সে তাঁকে হত্যা করে ফেলতো ৷ অথচ প্রকৃতপক্ষে বাইরের কোন শক্তিই তাকে বাধা দিচ্ছিলো না৷ তার মনের ভীতিই তাকে আল্লাহর রসূলের গায়ে হাত তোলা থেকে বিরত রেখেছিলো৷
৪৩. অর্থাৎ আমি তার পক্ষ থেকে বিপ্লবের আশংকা করছি৷ আর সে যদি বিপ্লব করতে নাও পারে তাহলে এতটুকু বিপদাশঙ্কা অন্তত অবশ্যই আছে যে , তার কর্ম - তৎপরতার ফলে দেশে অবশ্যই বিপর্যয় দেখা দেবে৷ তাই সে মৃত্যুদণ্ড লাভের মত কোন অপরাধ না করলেও শুধু দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার (Maintenance of public order ) খাতিরে তাকে হত্যা করা প্রয়োজন ৷ সে ব্যক্তির ব্যক্তি সত্তা আইন শৃঙ্খলার জন্য সত্যিই বিপজ্জনক কিনা তা দেখার দরকার নেই৷ সে জন্য শুধু " হিজ ম্যাজেষ্টি " র সন্তুষ্টিই যথেষ্ট৷ মহামান্য সরকার যদি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন যে , এ লোকটি বিপজ্জনক তাহলে মেনে নিতে হবে , সে সত্যিই বিপজ্জনক এবং সে জন্য শিরোচ্ছেদের উপযুক্ত৷ এ স্থানে "দীন পাল্টে দেয়া"র অর্থও ভালভাবে বুঝে নিন , যার আশঙ্কায় ফেরাউন হযরত মূসাকে (আ) হত্যা করতে চাচ্ছিলো৷ এখানে দীন অর্থ শাসন ব্যবস্থা৷ তাই ফেরাউনের কথার অর্থ হলো (আরবী -------------------------------) ৷ অন্য কথায় , ফেরাউন ও তার খান্দানের চূড়ান্ত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ভিত্তিতে ধর্ম , রাজনীতি , সভ্যতা ও অর্থনীতির যে ব্যবস্থা মিসরে চলছিলো তা ছিল তৎকালে ঐ দেশের 'দীন ' ৷ ফেরাউন হযরত মূসার আন্দোলনের কারণে এ দীন পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলো৷ কিন্তু প্রত্যেক যুগের কুচক্রী ও ধূরন্ধর শাসকদের মত সেও একথা বলছে না যে , আমার হাত থেকে ক্ষমতা চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছি৷ তাই আমি মূসাকে হত্যা করতে চাই৷ বরং পরিস্থিতিকে সে এভাবে পেশ করছে যে , হে জনগণ , বিপদ আমার নয় , তোমাদের৷ কারণ মূসার আন্দোলন যদি সফল হয় , তাহলে তোমাদের দীন বদলে যাবে৷ নিজের জন্য আমার চিন্তা নেই৷ আমি তোমাদের চিন্তায় নিশেষ হয়ে যাচ্ছি এই ভেবে যে , আমার ক্ষমতার ছত্রছায়া থেকে বঞ্চিত হলে তোমাদের কি হবে ৷ তাই যে জালেমের দ্বারা তোমাদের ওপর থেকে এ ছত্রছায়া উঠে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাকে হত্যা করা প্রয়োজন ৷ কারণ সে দেশ ও জাতি উভয়ের শত্রু ৷
৪৪. এখানে দু'টি সমান সম্ভাবনা বিদ্যমান৷ এ দু'টি সম্ভাবনার কোনটিকেই অগ্রাধিকার দেয়ার কোন ইংগিত এখানে নেই৷ একটি সম্ভাবনা হচ্ছে , হযরত মূসা নিজেই সে সময় দরবারে উপস্থিত ছিলেন৷ তাঁর উপস্থিতিতেই ফেরাউন তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং হযরত মূসা (আ) তাকে ও তার সভাসদদের উদ্দেশ করে তখনই সবার সামনে প্রকাশ্যে এ জবাব দেন ৷ অপর সম্ভাবনাটি হচ্ছে , ফেরাউন হযরত মূসার (আ) অনুপস্থিতিতে তার সরকারের দায়িত্বশীল লোকদের কোন মজলিসে একথা প্রকাশ করে এবং হযরত মূসাকে (আ) তার এ আলোচনার খবর কিছু সংখ্যক ঈমানদার লোক পৌঁছিয়ে দেয় , আর তা শুনে তিনি তাঁর অনুসারীদের একথা বলেন ৷ এ দু'টি অবস্থার যেটিই বাস্তবে ঘটে থাকুক না কেন হযরত মূসার (আ) কথায় স্পষ্টত প্রকাশ পাচ্ছে যে , ফেরাউনের হুমকি তাঁর মনে সামান্যতম ভীতিভাবও সৃষ্টি করতে পারেনি৷ তিনি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তার হুমকিও জবাব তার মুখের ওপরেই দিয়ে দিয়েছেন৷ যে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কুরআন মজীদে এ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে আপনা আপনি একথা প্রকাশ পায় যে , " হিসেবের দিন " সম্পর্কে বেপরোয়া হয়ে যেসব জালেমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছিলো তাদের জন্যও সে একই জবাব৷