(৪০:১০) যারা কুফরী করেছে কিয়ামতের দিন তাদের ডেকে বলা হবে, “আজ তোমরা নিজেদের ওপর যতটা ক্রোধান্বিত হচ্ছো, আল্লাহ তোমাদের ওপর তার চেয়েও অধিক ক্রোধান্বিত হতেন তখন যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান জানানো হতো আর তোমরা উল্টা কুফরী করতে৷” ১৪
(৪০:১১) তারা বলবেঃ হে আমাদের রব, প্রকৃতই তুমি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছো এবং দু’বার জীবন দান করেছো৷ ১৫ এখন আমরা অপরাধ স্বীকার করছি৷ ১৬ এখন এখান থেকে বের হওয়ার কোন উপায় কি আছে? ১৭
(৪০:১২) (জবাব দেয়া হবে) এ অবস্থা যার মধ্যে তোমরা আছ, তা এ কারণে যে, যখন একমাত্র আল্লাহর দিকে ডাকা হতো তখন তোমরা তা মানতে অস্বীকার করতে৷ কিন্তু যখন তাঁর সাথে অন্যদেরকেও শামিল করা হতো তখন মেনে নিতে৷ এখন তো ফায়সালা মহান ও মর্যাদাবান আল্লাহর হাতে৷ ১৮
(৪০:১৩) তিনিই তো তোমাদের নিদর্শনসমূহ দেখান ১৯ এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে রিযিক নাযিল করেন ২০ (কিন্তু এসব নিদর্শন দেখে) কেবল তারাই শিক্ষা গ্রহণ করে যারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী ২১
(৪০:১৪) (সুতরাং হে প্রত্যাবর্তনকারীরা,) দীনকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে ২২ তাঁকে ডাকো, তোমাদের এ কাজ কাফেরদের কাছে যতই অসহনীয় হোক না কেন৷
(৪০:১৫) তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ২৩ আরশের অধিপতি৷ ২৪ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার কাছে ইচ্ছা নিজের হুকুমে ‘রূহ’ নাযিল করেন ২৫ যাতে সে সাক্ষাতের দিন ২৬ সম্পর্কে সাবধান করে দেয়৷
(৪০:১৬) সেটি এমন দিন যখন সব মানুষের সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়বে৷ আল্লাহ কাছে তাদের কোন কথাই গোপন থাকবে না৷ (সেদিন ঘোষণা দিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে)৷ আজ রাজত্ব কার? ২৭ (সমস্ত সৃষ্টি বলে উঠবে) একমাত্র আল্লাহর যিনি কাহ্‌হার৷
(৪০:১৭) (বলা হবে,) আজ প্রত্যেক প্রানীকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হবে৷ আজ কারো প্রতি কোন জুলুম হবে না৷ ২৮ আল্লাহ অতি দ্রুত হিসেব গ্রহণকারী৷ ২৯ হে নবী,
(৪০:১৮) এসব লোকদের সেদিন সম্পর্কে সাবধান করে দাও যা সন্নিকটবর্তী হয়েছে৷ ৩০ যেদিন কলিজা মুখের মধ্যে এসে যাবে আর সব মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত ও দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে৷ জালেমদের জন্য না থাকবে কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু,৩১ না থাকবে কোন গ্রহণযোগ্য শাফায়াতকারী৷ ৩২
(৪০:১৯) আল্লাহ চোখের চুরি ও মনের গোপন কথা পর্যন্ত জানেন৷
(৪০:২০) আল্লাহ সঠিক ও ন্যায় ভিত্তিক ফায়সালা করবেন৷ আর (এ মুশরিকরা) আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেকে ডাকে৷ তারা কোন কিছুরই ফায়সালাকারী নয়৷ নিসন্দেহে আল্লাহই সবকিছু শোনেন ও দেখেন৷৩৩
১৪. অর্থাৎ কিয়ামতের দিন কাফেররা যখন দেখবে যে , তারা পৃথিবীতে শিরক , নাস্তিকতা , আখেরাত অস্বীকৃতি এবং নবী রসূলদের বিরোধিতার ওপর নিজেদের গোটা জীবনের তৎপরতা ভিত্তি স্থাপন করে যারপর নাই নির্বুদ্ধিতার কাজ করেছে এবং সে নির্বুদ্ধিতার কারণে এখন চরম অকল্যাণকর ও অশুভ পরিণামের সম্মুখীন হয়েছে তখন তারা নিজেদের আঙ্গুল কামড়াতে থাকবে এবং বিরক্ত হয়ে নিজেরাই নিজেদেরই অভিশাপ দিতে থাকবে৷ তখন ফেরেশতারা তাদের ডেকে বলবে , আজ তোমরা নিজেরাই নিজেদের ওপর অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হচ্ছো৷ কিন্তু ইতিপূর্বে পৃথিবীতে তোমাদেরকে এ পরিণাম থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ তা'আলা এবং সৎকর্মশীল লোকেরা সঠিক পথের দিকে আহবান জানাতেন আর তোমরা সে আহবান প্রত্যাখ্যান করতে তখন আল্লাহ তা'আলার ক্রোধ এর চেয়েও বেশী করে প্রজ্জ্বলিত হতো৷
১৫. দু'বার মৃত্যু এবং দু'বার জীবন বলতে সূরা বাকারার ২৮ আয়াতে যা বলা হয়েছে তাই বুঝানো হয়েছে৷ সেখানে বলা হয়েছে , তোমরা আল্লাহর সাথে কি কুফরী করো , অথচ তোমরা প্রাণহীন ছিলে , তিনি তোমাদের প্রাণ দান করেছেন৷ এপর তিনি পুনরায় তোমাদের মৃত্যু দিবেন এবং পরে আবার জীবন দান করবেন৷ কাফেররা এসব ঘটনার প্রথম তিনটি অস্বীকার করে না৷ কারণ , ঐগুলো বাস্তবে প্রত্যক্ষ করা যায় এবং সে জন্য অস্বীকার করা যায় না৷ কিন্তু তারা শেষোক্ত ঘটনাটির সংঘটন অস্বীকার করে৷ কারণ , এখনো পর্যন্ত তারা তা প্রত্যক্ষ করেনি এবং শুধু নবী রসূলগণই এটির খবর দিয়েছেন৷ কিয়ামতের দিন এ চতুর্থ অবস্থাটিও তারা কার্যত দেখতে পারে এবং তখন স্বীকার করবে যে , আমাদেরকে যে বিষয়ের খবর দেয়া হয়েছিলো তা প্রকৃতই সত্যে পরিণত হলো৷
১৬. অর্থাৎ এ দ্বিতীয় জীবনটির কথা অস্বীকার করে আমরা যে ভুল করেছি এবং এ ভ্রান্ত মতবাদ অনুসারে কাজ করে আমাদের জীবন যে পাপে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে তা আমরা স্বীকার করি৷
১৭. অর্থাৎ এখন আমরা আযাবের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি আমাদের পক্ষ থেকে অপরাধের স্বীকৃতিকে গ্রহণ করে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন সম্ভাবনা কি আছে ?
১৮. অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রভুত্ব মেনে নিতে তোমরা রাজি ছিলে না সেই একমাত্র অল্লাহর হাতেই এখন ফায়সালা৷ আর ইলাহী ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে যাদেরকে অংশীদার বানাতে তোমরা জিদ ধরেছিলে , ফায়সালার ক্ষেত্রে এখন তাদের কোন হাত নেই৷ (একথাটা বুঝার জন্য সূরা যুমারের ৪৫ আয়াত এবং তার ৬৪ নং টীকার প্রতিও লক্ষ রাখতে হবে ) এ আয়াতংশের মধ্যে আপনা থেকে এ অর্থও অন্তরভুক্ত হয়ে আছে যে , এখন আযাবের এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন পথও নেই৷ কারণ , তোমরা শুধু আখেরাত অস্বীকার করেছিলে তাই নয় , বরং তোমাদের স্রষ্টা ও পালনকর্তা আল্লাহর প্রতিও ছিল তোমাদের চরম বিদ্রূপভাব৷ তাছাড়া তাঁর সাথে অন্যদের শরীক করা ছাড়া তোমরা আদৌ কোন মানসিক তৃপ্তি লাভ করতে পারতে না৷
১৯. নিদর্শনসমূহ বলতে সেসব নিদর্শনকে বুঝানো হয়েছে যা থেকে এ বিশ্ব - জাহানের নির্মাতা , কারিগর , প্রশাসক ও ব্যবস্থাপক যে একমাত্র আল্লাহ তা'আলা তা জানা যায়৷
২০. এখানে রিযিক অর্থ বৃষ্টিপাত ৷ কেননা , মানুষ এ পৃথিবীতে যত প্রকার রিযিক লাভ করে থাকে তা সবই বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে৷ আল্লাহ তা'আলা তাঁর অসংখ্য নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে এ একটি মাত্র নিদর্শনের কথা তুলে ধরে এ মর্মে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে , তোমরা যদি কেবল এ একটি জিনিসের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করো তাহলে বুঝতে পারবে , কুরআনে তোমাদেরকে বিশ্ব জাহানের ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিধানের যে ধারণা দেয়া হচ্ছে সেটিই বাস্তব ও সত্য৷ পৃথিবী ও তার সমস্ত সৃষ্টিকুল এবং পানি ,বাতাস , সূর্য , উষ্ণতা ও শীতলতা সবকিছুর স্রষ্টা যদি একমাত্র আল্লাহ হন কেবল সে ক্ষেত্রেই এ ধরনের ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিধান সম্ভব৷ আর সে অনাদি অনন্ত আল্লাহই যদি চালু রাখেন কেবল তখনই এ ব্যবস্থা লক্ষ কোটি বছর পর্যন্ত একাধারে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে পারে৷ এ ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠাকারী কেবল একমাত্র আল্লাহই হতে পারেন যিনি মহাজ্ঞানী , অতি দয়াবান ও পালনকর্তা ৷ যিনি পৃথিবীতে মানুষ , জীবজন্তু ও উদ্ভিদরাজি সৃষ্টি করার সাথে সাথে তাদের প্রয়োজন অনুসারে পানিও সৃষ্টি করেছেন এবং তা নিয়মিতভাবে পৃথিবী পৃষ্ঠে পৌঁছিয়ে দেয়া ও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিস্ময়কর এ ব্যবস্থাপনাও দিয়েছেন৷ যে ব্যক্তি এসব দেখে শুনেও আল্লাহকে অস্বীকার করে কিংবা আরো কিছু সত্তাকে তাঁর প্রভুত্বে অংশীদার বানায় তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে ?
২১. অর্থাৎ আল্লাহ বিমুখ ব্যক্তি যার জ্ঞান বুদ্ধির ওপর গাফলতি এবং গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার পর্দা পড়ে আছে সে কোন জিনিস দেখেও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না৷ তার পশু - চক্ষু এ দৃশ্য অবশ্যই দেখবে যে , বাতাস বয়ে গেল , মেঘরাশি উড়ে আসলো , বিদ্যুৎ চমকালো ও বজ্র ধ্বনি হলো এবং বৃষ্টিপাত হলো কিন্তু তার মানবিক মন মগজ ভেবে দেখবে না , এসব কেন হচ্ছে , কে করছে এবং আমার কাছে তার কি কি অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে৷
২২. দীনকে আল্লাহর জন্য নিবেদিত করার বিস্তারিত ব্যাখ্যা সূরা যুমারের ৩ নং টীকায় করা হয়েছে৷
২৩. অর্থাৎ সমস্ত সৃষ্টি থেকে তার মর্যাদা অনেক উচ্চে৷ এ বিশ্ব - জাহানে বিদ্যমান কোন সত্তাই সে ফেরেশতা , নবী , অলী বা অন্য কোন সৃষ্টি যাই হোক না কেন আর তার মর্যাদা অন্য সব সৃষ্টিকুলের তুলনায় যত উচ্চ ও উন্নতই হোক না কেন , আল্লাহ তা'আলার গুণাবলী এবং ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের তাঁর শরীক হওয়ার ধারণা করা তো দূরের কথা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার ধারে কাছে পৌঁছার কথাও কল্পনা করা যায় না৷
২৪. অর্থাৎ সমগ্র বিশ্ব জাহানের বাদশাহ ও শাসক এবং এ সাম্রাজ্যের সিংহাসনের অধিপতি৷ (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , আল আ'রাফ , টীকা টীকা ৪১; ইউনুস , টীকা ৪; আর রা'দ , টীকা ৩ ; ত্বা-হা , টীকা ২ ) ৷
২৫. রূহ অর্থ অহী ও নবুওয়াত ৷ (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , আন নাহল , টীকা ২ ; নবী ইসরাঈল , টীকা ১০৩ ৷) আর " আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার ওপর ইচ্ছা ও রূহ নাযিল করেন৷ " এ বাণীর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ মেহেরবাণী ও অনুগ্রহের ওপর করোর কোন ইজারাদারী নেই৷ অমুক ব্যক্তিকে সৌন্দর্য দান করা হয়েছে কেন এবং অমুক ব্যক্তিকে স্মরণ শক্তি বা অসাধারণ মেধা শক্তি দান করা হয়েছে কেন , একথা বলার অধিকার যেমন কেউ রাখে না , তেমনি কেউ একথা বলারও অধিকার রাখে না যে , অমুক ব্যক্তিকে নবুওয়াতের পদমর্যদার জন্য বাছাই করা হয়েছে কেন এবং আমরা যাকে চাই তাকে নবী বানানো হয়নি কেন ?
২৬. অর্থাৎ সেদিন সমস্ত মানুষ , জিন ও শয়তান একই সময় তাদের রবের সামনে উপস্থিত হবে এবং তাদের কাজ কর্মের সমস্ত সাক্ষীও উপস্থিত হবে৷
২৭. অর্থাৎ পৃথিবীতে তো বহু অহংকারী ভ্রান্ত লোক নিজেদের বাদশাহী ও শক্তিমত্তার ডঙ্কা বাজাতো আর বহু সংখ্যক নির্বোধ তাদের বাদশাহী শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতো৷ এখন বলো প্রকৃতপক্ষে বাদশাহী কার ? ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রকৃত মালিক কে ? আর হুকুমই বা চলে কার ? এটা এমন একটা বিষয় যে কোন ব্যক্তি যদি তা বুঝার চেষ্টা করে তাহলে সে যত বড় বাদশাহ কিংবা একনায়ক হয়ে থাকুক না কেন , ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে এবং তার মন মজগ থেকে শক্তিমত্তার সমস্ত অহংকার উবে যাবে৷ এখানে ঐতিহাসিক এ ঘটনাটা উল্লেখ্য যে , সামনী খান্দারের শাসক নাসর ইবনে আহমাদ (৩০১-৩৩১হিঃ) নিশাপুরে প্রবেশ করলে একটি দরবার ডাকেন এবং সিংহাসনে বসার পর কুরআন মজীদ তিলাওয়াতের মাধ্যমে কাজকর্ম শুরু হবে বলে আদেশ দেন৷ একথা শুনে একজন সম্মানিত জ্ঞানী ব্যক্তি অগ্রসর হন এবং এ রুকূ'টি তিলাওয়াত করেন৷ যখন তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করছিলেন তখন নাসর ভীত সন্তস্ত হয়ে পড়েন৷ তিনি কাঁপতে কাঁপতে সিংহাসন থেকে নামলেন এবং মাথার মুকুট খুরে সিজদায় পড়ে বললেন : হে আমার প্রভু , বাদশাহী তোমারই , আমার নয়৷
২৮. অর্থাৎ কোন ধরনের জুলুমই হবে না৷ প্রকাশ থাকে যে , প্রতিদানের ক্ষেত্রে জুলুমের কয়েকটি রূপ হতে পারে৷ এক , প্রতিদানের অধিকারী ব্যক্তিকে প্রতিদান না দেয়া ৷ দুই , সে যতটা প্রতিদান লাভের উপযুক্ত তার চেয়ে কম দেয়া৷ তিন , শাস্তি যোগ্য না হলেও শাস্তি দেয়া ৷ চার , যে শাস্তির উপযুক্ত তাকে শাস্তি না দেয়া ৷ পাঁচ , যে কম শাস্তর উপযুক্ত তাকে বেশী শাস্তি দেয়া৷ ছয় , জালেমের নির্দোষ মুক্তি পাওয়া এবং মজলুমের তা চেয়ে দেখতে থাকা৷ সাত , একজনের অপরাধে অন্যকে শস্তি দেয়া৷ আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর উদ্দেশ্যে হচ্ছে , তাঁর আদালতে এ ধরনের কোন জুলুমই হতে পারবে না৷
২৯. এর অর্থ হিসেব নিতে আল্লাহর কোন বিলম্ব হবে না৷ যেভাবে তিনি গোটা বিশ্ব জাহানের সমস্ত সৃষ্টিকে যুগপৎ রিযিক দান করছেন এবং কাউকে রিযিক পৌঁছানোর ব্যবস্থাপনায় এমন ব্যস্ত নন যে , অন্যদের রিযিক দেয়ার অবকাশই তিনি পান না৷ যেভাবে তিনি গোটা বিশ্ব জাহানের প্রতিটি জিনিসকে যুগপৎ দেখছেন , সমস্ত শব্দ যুগপৎ শুনছেন প্রতিটি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর এবং বৃহৎ থেকে বৃহত্তর ব্যাপারের ব্যবস্থাপনাও তিনি যুগপৎ করছেন এবং কোন জিনিস এমনভাবে তাঁর মনোযোগ দিতে পারেন না , তেমনি তিনি যুগপৎ প্রত্যেক ব্যক্তির হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং একটি বিচার্য বিষয়ের শুনানিতে তিনি কখনো এতটা ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না যে , সে সময়ে অন্য অসংখ্য মোকদ্দমার শুনানি করতে পারবেন না৷ তাছাড়া তাঁর আদালতে এ কারণেও কোন বিলম্ব হবে না যে , মোকদ্দমার পটভূমি ও ঘটনাবলীর বিচার বিশ্লষণ এবং তার সাক্ষ প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হবে৷ আদালতের বিচারক নিজে সরাসরি বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিফাহল থাকবেন৷ মোকদ্দমার বাদী - বিবাদী উভয় পক্ষের সবকিছুই তাঁর জানা থাকবে৷ সমস্ত ঘটনার খুঁটি নাটি সব দিক পর্যন্ত অনস্বীকার্য সাক্ষ প্রমাণসহ অনতিবিলম্বে সবিস্তার পেশ করা হবে৷ তাই সমস্ত মোকদ্দমার ফায়সালা ঝটপট হয়ে যাবে৷
৩০. কুরআন মজীদে মানুষকে বার বার এ উপলব্দি দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে , কিয়ামত তাদের থেকে বেশী দূরে নয় , বরং তা অতি সন্নিকটবর্তী হয়ে পড়েছে এবং যে কোন মুহূর্তে সংঘটিত হতে পারে৷ কোথাও বলা হয়েছে : আরবী ----------------------------) (আল নাহল ১ ) কোথাও বলা হয়েছে (আরবী -----------------------------) (আল আম্বিয়া ১ ) কোথাও সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে (আরবী ----------------------) আল ক্বামার ১ ) ৷ কোথাও বলা হয়েছে : (আরবী ----------------------------) (আরবী -----------) (আন নাজম ৫৭ ) ৷ এসব কথার উদ্দেশ্য মানুষকে এ মর্মে সাবধান করে দেয়া যে , তারা যেন কিয়ামতকে দূরের কোন জিনিস মনে করে শঙ্কাহীন না থাকে৷ সতর্ক ও সামলিয়ে চলার প্রয়োজন মনে করলে এক মুহূর্তেও নষ্ট না করে যেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে৷
৩১. মূল আয়াতে (আরবী ----------) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ এর অর্থ এমন বন্ধু যাকে প্রহৃত হতে দেখে নিজেও উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং তাঁকে রক্ষার জন্য দ্রুত অগ্রসর হয়৷
৩২. কাফেরদের সাফায়াত সম্পর্কিত আকীদা বিশ্বাসের প্রতিবাদ করে অবরোহমূলক ভাবে একথাটি বলা হয়েছে৷ প্রকৃতপক্ষে জালেমদের জন্য সেখানে আদৌ কোন শাফায়তকারী থাকবে না ৷ কারণ , শাফায়াতে অনুমতি লাভ করলে কেবল আল্লাহর নেক বান্দারাই করবে৷ আর আল্লাহর নেক বান্দারা কখনো কাফের , মুশরিক এবং কাফেস ও পাপাচারীদের বন্ধু হতে পারে না যে , তারা তাদের বাঁচানোর জন্য শাফায়াত করে চিন্তা করবে৷ তবে যেহেতু কাফের , মুশরিক ও পথভ্রষ্ট লোকদের সাধারণ আকীদা - বিশ্বাস অতীতেও এই ছিল এবং বর্তমানেও আছে যে , আমরা যে বুযর্গদের অনুসরণ করে চলেছি তারা কখনো আমাদেরকে দোযখে যেতে দেবেন না৷ তারা বরং বাধা হয়ে সামনে দাঁড়াবেন এবং ক্ষমা করিয়েই ছাড়বেন৷ তাই বলা হয়েছে সেখানে এ রকম শাফায়াতকারী কেউ থাকবে না , যার কথা মেনে নেয়া হবে এবং আল্লাহকে যার সুপারিশ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে৷
৩৩. তিনি তোমাদের উপাস্যদের মত কোন অন্ধ ও বধির আল্লাহ নন যে , যে ব্যক্তির ব্যাপারে তিনি সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তার কৃতকর্ম সম্পর্কে কিছু জানেন না৷