(৪:৯৭) যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল ১২৯ ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় জিজ্ঞেস করলোঃ তোমরা কি অবস্থায় ছিলে ? তারা জবাব দিল, আমরা পৃথিবীতে ছিলাম দুর্বল ও অক্ষম ৷ ফেরেশতারা বললোঃ আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না ? তোমরা কি সেখানে হিজরত করে অন্যস্থানে যেতে পারতে না ? ১৩০ জাহান্নাম এসব লোকের আবাস স্থিরীকৃত হয়েছে এবং আবাস হিসেবে তা বড়ই খারাপ জায়গা ৷
(৪:৯৮) তবে যেসব পুরুষ, নারী ও শিশু যথার্থই অসহায় এবং তারা বের হবার কোন পথ-উপায় খুঁজে পায় না,
(৪:৯৯) আল্লাহ তাদেরকে মাফ করে দেবেন এবং আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷
(৪:১০০) যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরাত করবে, সে পৃথিবীতে আশ্রয়লাভের জন্য অনেক জায়গা এবং সময় অতিবাহিত করার জন্য বিরাট অবকাশ পাবে৷ আর যে ব্যক্তি নিজের গৃহ থেকে আল্লাহ ও রসূলের দিকে হিজরাত করার জন্য বের হবে তারপর পথেই তার মৃত্যু হবে, তার প্রতিদান দেয়া আল্লাহর জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে৷ আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷ ১৩১
১২৯. এখানে এমন লোকদের কথা বলা হয়েছে যারা ইসলাম গ্রহণ করার পরও কোন প্রকার বাধ্যবাধকতা ও অক্ষমতা ছাড়াই এখনো পর্যন্ত নিজেদের কাফের গোত্রের সাথে অবস্থান করছিল ৷ তারা আধা মুসলমানের ও আধা কাফেরের জীবন যাপন করেই সন্তুষ্টি ছিল৷ অথচ ইতিমধ্যে একটি দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল৷ সেখানে হিজরাত করে নিজেদের দীন ও আকীদা-বিশ্বাস অনুযায়ী ইসলামী জীবন যাপন করা তাদের পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠেছিল৷ এটিই ছিল নিজেদের ওপর তাদের জুলুম৷ কেননা পূর্ণাংগ ইসলামী জীবন যাপনের মোকাবিলায় এই আধা কুফরী ও আধা ইসলামী জীবনে যে জিনিসটি তাদেরকে সন্তুষ্টি ও নিশ্চিন্ত করে তুলেছিল সেটি যথার্থই কোন অক্ষমতা ছিল না৷ বরং সেটি ছিল নিছক আত্মবিলাসিতা এবং নিজেদের পরিবার, সহায়-সম্পত্তি, অর্থ-সম্পদ ও পার্থিব স্বার্থপ্রীতি ৷ নিজেদের দীনের ওপর তারা এগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল৷ (অধিক ব্যাখ্যার জন্য ১১৬ টীকা দেখুন)
১৩০. অর্থাৎ যদি কোন স্থানে আল্লাহদ্রোহীদের প্রতিপত্তি থেকে থাকে এবং সেখানে আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়াতের বিধান কার্যকর করা সম্ভবপর না হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে অবস্থান করতেই হবে এমন কি বাধ্যবাধকতা ছিল ? সেই স্থান ত্যাগ করে তারা এমন কোন ভূখণ্ডে স্থানান্তরিত হলো না কেন যেখানে গিয়ে আল্লাহ প্রদত্ত আইন মেনে চলা সম্ভবপর হতো ?
১৩১. এখানে একথা বুঝতে হবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর দীনের ওপর ঈমান এনেছে তার জন্য কুফরী জীবন ব্যবস্থার অধীনে জীবন যাপন করা কেবল মাত্র দু'টি অবস্থায় বৈধ হতে পারে৷ এক, সে ইসলামকে সে দেশে বিজয়ী করার ও কুফরী জীবন ব্যবস্থাকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় পরিবর্তিত করার জন্য প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালাতে থাকবে যেমন আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও তাঁর প্রাথমিক অনুসারী বৃন্দ চালিয়ে এসেছেন৷ দুই, সে আসলে সেখান থেকে বের হয়ে আসার কোন পথ পায়নি, তাই চরম ঘৃণা, অনিচ্ছা ও অসন্তুষ্টি সহকারে বাধ্য হয়ে সেখানে অবস্থান করবে৷ এই দু'টি অবস্থা ছাড়া অন্য কোন অবস্থায় দারুল কুফরে অবস্থান করা একটি স্থায়ী গোনাহের শামিল৷ আর এই গোনাহের সপক্ষে এই ধরনের কোন ওজর পেশ করা যে, এই দুনিয়ায় আমরা হিজরাত করে গিয়ে অবস্থান করতে পারি এমন কোন দারুল ইসলাম পাইনি আসলে মোটেই কোন গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ওজর বলে বিবেচিত হবে না৷ যদি কোন দারুল ইসলাম না থেকে থাকে তাহলে কি আল্লাহর এই বিস্তৃত পৃথিবীতে এমন কোন পাহাড় বা বন জংগলও ছিল না যেখানে আশ্রয় নিয়ে মানুষ গাছের পাতা খেয়ে ও ছাগলের দুধপান করে জীবনধারণ করতে পারতো এবং কুফরী জীবনবিধানের আনুগত্য থেকে মুক্ত থাকতে সক্ষম হতো ? '' লা হিজরাতা বা'দাল ফাত্‌হে'' –মক্কা বিজয়ের পর এখন আর কোন হিজরাত নেই –এই হাদীসটি থেকে অনেকে ভুল ধারণা নিয়েছেন৷ অথচ এ হাদীসটি কোন চিরন্তন হুকুম নয়৷ বরং সে সময়ের অবস্থা ও পরিস্থিতিকে সামনে রেখে আরবদেরকে একথা বলা হয়েছিল৷ যতদিন আরবের অধিকাংশ এলাকা দারুল হারব ও দারুল কুফরের অন্তরভুক্ত ছিল এবং কেবলমাত্র মদীনায় ও মদীনার আশেপাশে ইসলামের বিধান জারী হচ্ছিল, ততদিন মুসলমানেদের বাধ্যতামূলকভাবে হুকুম দেয়া হয়েছিল যে, চর্তুদিক থেকে এসে তাদের দুরুল ইসলামে একত্র হতে হবে৷ কিন্তু মক্কা বিজয়ের পর আরবে যখন কুফরী শক্তি ভেঙে পড়লো এবং প্রায় সমগ্র দেশ ইসলামী ঝান্ডার অধীন হলো, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এখন আর হিজরতের প্রয়োজন নেই৷ তার এ বক্তব্যের অর্থ এ নয় যে, সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য সর্ব অবস্থায় কিয়ামত পর্যন্ত হিজরাত ফরয হবার বিধান বাতিল হয়ে গেছে৷