(৪:৭৭) তোমরা কি তাদেরকেও দেখেছো, যাদেরকে বলা হয়েছিল, তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো এবং নামায কায়েম করো ও যাকাত দাও ? এখন তাদেরকে যুদ্ধের হুকুম দেয়ায় তাদের একটি দলের অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, তারা মানুষকে এমন ভয় করেছে যেমন আল্লাহকে ভয় করা উচিত অথবা তার চেয়েও বেশী ৷ ১০৭ তারা বলছেঃ হে আমাদের রব ! আমাদের জন্য এই যুদ্ধের হুকুমনামা কেন লিখে দিলে ? আমাদের আরো কিছু সময় অবকাশ দিলে না কেন ? তাদেরকে বলোঃ দুনিয়ার জীবন ও সম্পদ অতি সামান্য এবং একজন আল্লাহর ভয়ে ভীত মানুষের জন্য আখেরাতই উত্তম ৷ আর তোমাদের ওপর এক চুল পরিমাণও জুলুম করা হবে না৷ ১০৮
(৪:৭৮) আর মৃত্যু, সে তোমরা যেখানেই থাকো না কেন সেখানে তোমাদের লাগাল পাবেই, তোমরা কোন মজবুত প্রসাদে অবস্থান করলেও৷ যদি তাদের কোন কল্যাণ হয় তাহলে তারা বলে, এতো আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে৷ আর কোন ক্ষতি হলে বলে, এটা হয়েছে তোমার বদৌলতে৷ ১০৯ বলে দাও, সবকিছুই হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে ৷ লোকদের কী হয়েছে, কোন কথাই তারা বোঝে না৷
(৪:৭৯) হে মানুষ ! যে কল্যাণই তুমি লাভ করে থাকো তা আল্লাহর দান এবং যে বিপদ তোমার ওপর এসে পড়ে তা তোমার নিজের উপার্জন ও কাজের বদৌলতেই আসে৷ হে মুহাম্মাদ ! আমি তোমাকে মানব জাতির জন্য রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি এবং এর পর আল্লাহর সাক্ষ যথেষ্ট৷
(৪:৮০) যে ব্যক্তি রসূলের আনুগত্য করলো সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করলো৷ আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিলো, যাই হোক, তাদের ওপর তো আমি তোমাকে পাহারাদার বানিয়ে পাঠাইনি৷ ১১০
(৪:৮১) তারা মুখে বলে, আমরা অনুগত ফরমাবরদার ৷ কিন্তু যখন তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায় তখন তাদের একটি দল রাত্রে সমবেত হয়ে তোমার কথার বিরুদ্ধে পরামর্শ করে৷ আল্লাহ তাদের এই সমস্ত কানকথা লিখে রাখছেন৷ তুমি তাদের পরোয়া করো না, আল্লাহর ওপর ভরসা করো, ভরসা করার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট ৷
(৪:৮২) তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না ? যদি এটি আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষ থেকে হতো, তাহলে তারা এর মধ্যে বহু বর্ণনাগত অসংগতি খুঁজে পেতো৷১১১
(৪:৮৩) তারা যখনই কোন সন্তোষজনক বা ভীতিপ্রদ খবর শুনতে পায় তখনই তা চারদিকে ছড়িয়ে দেয় ৷ অথচ তারা যদি এটা রসূল ও তাদের জামায়াতের দায়িত্বশীল লোকদের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়, তাহলে তা এমন লোকদের গোচরীভূত হয়, যারা তাদের মধ্যে কথা বলার যোগ্যতা রাখে এবং তা থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে৷ ১১২ তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না হতো তাহলে ( তোমাদের এমন সব দুর্বলতা ছিল যে) মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া তোমরা সবাই শয়তানের পেছনে চলতে থাকতে৷
(৪:৮৪) কাজেই হে নবী ! তুমি আল্লাহর পথে লড়াই করো ৷ তুমি নিজের সত্তা ছাড়া আর কারো জন্য দায়ী নও৷ অবশ্যি ঈমানদারদেরকে লড়াই করতে উদ্বুদ্ধ করো৷ আল্লাহ শীঘ্রই কাফেরদের শক্তির মস্তক চূর্ণ করে দেবেন৷ আল্লাহর শক্তি সবচেয়ে জবরদস্ত এবং তাঁর শাস্তি সবচেয়ে বেশী কঠোর ৷
(৪:৮৫) যে ব্যক্তি কল্যাণ ও সৎকাজের সুপারিশ করবে, সে তা থেকে অংশ পাবে এবং যে ব্যক্তি অকল্যাণ ও অসৎকাজের সুপারিশ করবে, সে তা থেকে অংশ পাবে৷ ১১৩ আর আল্লাহ সব জিনিসের প্রতি নজর রাখেন৷
(৪:৮৬) আর যখনই কেউ মর্যাদা সহকারে তোমাকে সালাম করে কখন তাকে তার চাইতে ভালো পদ্ধতিতে জবাব দাও অথবা কমপক্ষে তেমনিভাবে৷ ১১৪ আল্লাহ সব জিনিসের হিসেব গ্রহণকারী ৷
(৪:৮৭) আল্লাহ তিনিই যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই৷ তিনি তোমাদের সবাইকে সেই কিয়ামতের দিন একত্র করবেন, যার আসার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই৷ আর আল্লাহর কথার চাইতে বেশী সত্য আর কার কথা হতে পারে ? ১১৫
১০৭. এই আয়াতটির তিনটি অর্থ হয়৷ এই তিনটি অর্থই তাদের নিজস্ব পরিসরে যথার্থ ও নির্ভুলঃ

এর একটি অর্থ হচ্ছে, প্রথমে লোকেরা নিজেরাই যুদ্ধ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছিল৷ বারবার বলতোঃ আমাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে৷ নিপীড়ন নির্যাতন চালানো হচ্ছে৷ মারপিট করা হচ্ছে ৷ গালি গালাজ করা হচ্ছে৷ আমরা আর কতদিন সবর করবো? আমাদের মোকাবিলা করার অনুমতি দেয়া হোক৷ সে সময় তাদেরকে বলা হতো, সবর করো এবং নামায ও যাকাতের মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করতে থাকো৷ তখন এই সবর ও সহিঞ্চুতা অবলম্বন করার হুকুম পালন করা তাদের জন্য বড়ই কষ্টকর হতো৷ কিন্তু এখন লড়াই করার হুকুম দেবার পর সেই লড়াইয়ের দাবীদারদের একটি দল শত্রুদের সংখ্যা ও যুদ্ধের বিপদ দেখে আতংকিত হয়ে পড়েছিল ৷

দ্বিতীয় অর্থটি হচ্ছে, যতদিন নামায, রোযা এবং এই ধরনের নির্ঝনঝাট ও ঝুঁকিহীন কাজের হুকুম ছিল এবং যুদ্ধ করে প্রাণ দান করার প্রশ্ন সামনে আসেনি ততদিন এরা খাঁটি দীনদার ও ঈমানদার ছিল৷ কিন্তু এখন সত্যের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করার কাজ শুরু হতেই এরা ভীত ও আতংকিত হয়ে পড়েছে৷

এর তৃতীয় অর্থটি হচ্ছে, প্রথমে তো লুটপাট করার ও নিজের স্বার্থোদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাবার জন্য তাদের তরবারী সবসময় কোষমুক্ত থাকতো এবং রাতদিন যুদ্ধ-বিগ্রহই ছিল তাদের কাজ৷ সে সময় তাদেরকে রক্তপাত থেকে বিরত রাখার জন্য নামায ও যাকাতের মাধ্যমে নফসের সংশোধন করার হুকুম দেয়া হয়েছিল৷ আর এখন আল্লাহর জন্য তলোয়ার ওঠাবার হুকুম দেবার পর দেখা যাচ্ছে, যারা স্বার্থোদ্ধারের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সিংহ ছিল আল্লাহর জন্য লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তারা হয়ে গেছে বুজদিল কাপুরুষ৷ নফ্‌স ও শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যে হাতে ইতিপূর্বে তরবারী ঝল্‌সে উঠেছিল, আল্লাহর পথে তরবারী চালাবার প্রশ্নে সে হাত নিস্তেজ হয়ে পড়েছে৷

এ তিনটি অর্থই বিভিন্ন ধরনের লোকদের আচরণের সাথে খাপ খেয়ে যায়৷ এখানে আয়াতের মধ্যে এমন ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা একই সাথে এই তিনটি অর্থই প্রকাশ করতে সক্ষম৷
১০৮. অর্থাৎ যখন তোমরা আল্লাহর দীনের খেদমত করবে এবং পথে প্রাণপাত পরিশ্রম করতে থাকবে তখন আল্লাহর কাছে তোমাদের প্রতিদান নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই৷
১০৯. অর্থাৎ যখন বিজয় ও সাফল্য আসে তখন তাকে আল্লাহর অনুগ্রহ গণ্য করে থাকো এবং একথা ভুলে যাও যে, আল্লাহ তাঁর নবীর মাধ্যমেই এই অনুগ্রহ করেছেন৷ কিন্তু নিজেদের দুর্বলতা ও ভুলের জন্য কোথাও পরাজয় বরণ করে থাকলে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া পা পিছিয়ে আসতে থাকলে তখন নবীর ঘাড়েই সব দোষ চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা দায়মুক্ত হতে চাও৷
১১০. অর্থাৎ তারা নিজেরাই নিজেদের কাজের জন্য দায়ী৷ তাদের কাজের জন্য তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না৷ তোমাকে কেবল এতকুটু কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যে, তুমি আল্লাহর নির্দেশ ও বিধানসমূহ তাদের কাছে পৌঁছিয়ে দেবে৷ এ কাজটি তুমি সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছো৷ এখন তাদের হাত ধরে জবরদস্তি সত্য-সরল পথে পরিচালিত করা তোমরা কাজ নয়৷ তোমর মাধ্যমে যে হিদায়াত পৌঁছানো হচ্ছে তারা যদি তার অনুসরণ না করে, তাহলে তার কোন দায়-দায়িত্ব তোমার ওপর থাকবে না৷ তারা কেন নাফরমানি করেছিল, এর জবাবদিহি করার জন্য তোমাকে পাকড়াও করা হবে না৷
১১১. মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানদার লোকদের যে আচরণ সম্পর্কে ওপরের আয়াতগুলোতে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে তার প্রধান ও আসল কারণ ছিল এই যে, কুরআনে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হবার ব্যাপারে তাদের মনে সন্দেহ ছিল৷ তারা একথা বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, সত্যি সত্যিই রসূলের ওপর অহী নাযিল হয় এবং এই যে হিদায়াতগুলো আসছে, এগুলো সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে আসছে৷ তাই তাদের মুনাফেকী আচরণের নিন্দা করার পর এখন বলা হচ্ছে, তারা কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনাই করে না৷ কেননা এই গ্রন্থ নিজেই সাক্ষী দিচ্ছে যে, এটি আল্লাহ ছাড়া আর কারো বাণী হতেই পারে না৷ কোন মানুষের ক্ষমতা নেই বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ দিতে থাকবে এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তার সমস্ত ভাষণ একটি সুসামঞ্জস্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও এক বর্ণের মোতির মালায় পরিণত হবে৷ এর কোন অংশ অন্য অংশের সাথে সংঘর্ষশীল হবে না৷ এর মধ্যে মত পরিবর্তনের কোথাও কোন নাম নিশানাও পাওয়া যাবে না৷ ভাষণদাতার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানসিক অবস্থার কোন প্রতিফলনও সেখানে দেখা যাবে না৷ এই ভাষণের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করার কোন প্রশ্নই কখনো উত্থাপিত হবে না৷ এই ধরনের ভাষণ দেয়া কোন মানুষের জন্য কোন কালেই সম্ভবপর নয়৷
১১২. এ সময় সারা দেশে জরুরী অবস্থা বিরাজ করছিল৷ তাই চারদিকে নানান ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল৷ কখনো ভিত্তিহীন অতিরঞ্জিত আশংকার খবর এসে পৌঁছতো৷ এর ফলে হঠাৎ মদীনা ও তার আশেপাশে ভীতি চড়িয়ে পড়তো ৷ কখনো ধূর্ত শত্রু কোন যথার্থ বিপদকে গোপন করার জন্য সন্তোষজনক খবর পাঠাতো এবং তা শুনে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্ত ও গাফেল হয়ে পড়তো৷ এই গুজব ছড়াবার ব্যাপারে নিছক হাংগামাবাজ লোকেরা বড়ই উৎসাহ বোধ করতো৷ তাদের কাছে ইসলাম ও জাহেলীয়াতের এই সংঘাত কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না৷ এই ধরনের দায়িত্বহীন গুজব রটানোর পরিণতি কত সূদুর প্রসারী হতে পারে সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই ছিল না৷ তাদের কানে কোন কথা পড়লেই হলো, তারা তাই নিয়ে জায়গায় ফুঁকে দিতে থাকতো৷ এই আয়াত এই ধরনের লোকদেরকে তিরস্কার করা হয়েছে এবং তাদেরকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার এবং কোন কিছু শুনলে তা সংগে সংগেই দায়িত্বশীলদের কানে পৌঁছিয়ে দিয়ে পরিপূর্ণ নীরবতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷
১১৩. অর্থাৎ এটা যার যেমন পছন্দ এবং আর যেমন ভাগ্য৷ কেউ আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা চালাবার এবং সত্যের শির উঁচু রাখার জন্য লোকদের উৎসাহিত করে- এর পুরস্কারও সে পায়৷ আবার কেউ মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলার, তাদেরকে নির্বীর্য ও সাহসহীন করার এবং তাদেরকে আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করার প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম থেকে বিরত রাখার জন্য নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করে এর শাস্তিও সে পায়৷
১১৪. সে সময় মুসলিম ও অমুসলিমেদের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয়ে যাচ্ছিল৷ আর সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেলে অবস্থা যেমন র্দাঁড়ায় অর্থাৎ কোথাও মুসলমানরা যেন অন্যদের সাথে অসদ্ব্যবহার না করে, এর আশংকা দেখা দিয়েছিল৷ তাই তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যারা তোমাদের সাথে সম্মানজনক ব্যবহার করবে তোমরাও তাদের সাথে তেমনি সম্মানজনক বা তার চাইতেও বেশী সম্মানজনক ব্যবহার করবে৷ ভদ্রতা ও রুচডিশীলতার জবাব ভদ্রতা ও রুচিশীলতার মাধ্যমে দাও৷ বরং তোমাদের কর্তব্য হচ্ছে তোমরা অন্যদের চাইতেও বেশী ভদ্রতা রুচিশীলতার পরিচয় দেবে৷ দুনিয়াকে ন্যায় ও সত্যের সরল পথের দিকে আহবান জানানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে যে আহবায়ক দলটির যাত্রা শুরু হয়েছে, তার জন্য প্রতিপক্ষের প্রতি বিকৃত মুখভংগী করা এবং রূঢ় ব্যবহার ও তিক্ত বাক্যবাণে তাদেরকে বিদ্ধ করা শোভা পায় না৷ এতে নফ্স পরিতৃপ্ত হয় ঠিকই কিন্তু যে উদ্দেশ্যে তাদের অভিযাত্রা তা পুরোপুরি নিষ্ফল হয়ে যায়৷
১১৫. অর্থাৎ কাফের, মুশরিক ও নাস্তিকরা যা কিছু করছে তাতে আল্লাহর কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্বে কোন পরিবর্তন সূচিত হয় না৷ তাঁর এক আল্লাহ এবং নিরংকুশ ও সার্বভৌম ক্ষমতা-সম্পন্ন ইলাহ হওয়া এমন একটি বাস্তব সত্য, যাকে উল্টে দেবার ক্ষমতা কারো নেই৷ তারপর একদিন তিনি সমগ্র মানব জাতিকে একত্রে সমবেত করে তাদের প্রত্যেককে তার কর্মফল দেখিয়ে দেবেন৷ তাঁর ক্ষমতার সীমানা পেরিয়ে কেউ পালিয়ে যেতে পারবে না৷ কাজেই আল্লাহর প্রতি বিদ্রোহাত্মক আচরণকারীদের বিরুদ্ধে কেউ তাঁর পক্ষ থেকে বিদ্রুপবাণ নিক্ষেপ করবে এবং তাদের সাথে অসদাচরণ করে ও তিক্ত বাক্য শেলে তাদেরকে বিদ্ধ করে আহত হৃদয় প্রলেপ লাগাবে, আল্লাহর এর কোন প্রয়োজন নেই৷ এটা হচ্ছে এই আয়াতটির সাথে উপরের আয়াতের সম্পর্কের বিষয়৷ কিন্তু পেছনের দু'তিন রুকূ' থেকে যে বর্ণনার ধারাবাহিকতা চলে আসছে এই আয়াতটিতে তার বক্তব্যের সমাপ্তি ঘটেছে৷ এদিক দিয়ে বিচার করলে আয়াতটির অর্থ এই দাঁড়ায়, দুনিয়ার জীবন প্রত্যেক ব্যক্তি তার ইচ্ছেমতো পথে চলতে পারে এবং যে পথে ইচ্ছে সে তার প্রচেষ্টা ও কর্মশক্তি নিয়োগ করতে পারে৷ এ ব্যাপারে তার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে৷ কিন্তু সবশেষে একদিন সবাইকে আল্লাহর সামনে হাযির হতে হবে৷ সেদিন আল্লাহর ছাড়া আর কোন প্রভু থাকবে না৷ সেখানে সবাই নিজের প্রচেষ্টা ও কাজের ফল স্বচক্ষে দেখে নেবে৷