(৩৯:৭১) ( এ ফায়সালার পরে) যারা কুফরী করেছিলো সেসব লোককে দলে দলে জাহান্নাম অভিমুখে হাঁকিয়ে নেয়া হবে৷ তারা যখন সেখানে পৌছবে তখন দোযখের দরজাসমূহ খোলা হবে ৮১ এবং তার ব্যবস্থাপক তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের কাছে কি তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে রসূলগণ আসেননি যারা তোমাদেরকে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ শুনিয়েছেন এবং এ বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছেন যে, একদিন তোমাদেরকে এ দিনটির সম্মুখীন হতে হবে ? তারা বলবেঃ “হাঁ, এসেছিলো৷ কিন্তু আযাবের সিদ্ধান্ত কাফেরদের জন্য অবধারিত হয়ে গিয়েছে৷”
(৩৯:৭২) বলা হবে, জাহান্নামের দরজার মধ্যে প্রবশ করো, তোমাদেরকে চিরকাল এখানেই থাকবে হবে৷ অহংকারীদের জন্য এটা অত্যন্ত জঘন্য ঠিকানা৷
(৩৯:৭৩) আর যারা তাদের রবের অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকতো তাদেরকে দলে দলে জান্নাত অভিমুখে নিয়ে যাওয়া হবে৷ অবশেষে তারা যখন সেখানে পৌঁছবে তখন দেখবে জান্নাতের দরজাসমূহ পূর্বেই খুলে দেয়া হয়েছে৷ ব্যবস্থাপকরা তাদের বলবেঃ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা অত্যন্ত ভাল ছিলে, চিরকালের জন্য এখানে প্রবেশ করো৷
(৩৯:৭৪) আর তারা বলবেঃ সেই মহান আল্লাহ শুকরিয়া যিনি আমাদের সাথে কৃত তাঁর প্রতিশ্রতিকে সত্যে পরিণত করলেন এবং আমাদেরকে যমীনের উত্তরাধিকারী করে দিয়েছেন৷ ৮২ এখন জান্নাতের মধ্যে যেখানে ইচ্ছা আমরা স্থান গ্রহণ করতে পারি৷ ৮৩ সৎকর্মশীলদের জন্য এটা সর্বোত্তম প্রতিদান ৷ ৮৪
(৩৯:৭৫) তুমি আরো দেখতে পাবে যে, ফেরেশতারা আরশের চারদিক বৃত্ত বানিয়ে তাদের রবের প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করছে৷ মানুষের মধ্যে ইনসাফের সাথে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং ঘোষণা দেয়া হবে, সারা বিশ্ব-জাহানের রবের জন্যই সমস্ত প্রশংসা৷ ৮৫
৮১. অর্থাৎ জাহান্নামের দরজাসমূহ পূর্বে থেকে খোলা থাকবে না৷ বরং তারা সেখানে পৌছার পরে খোলা হবে, যেমন অপরাধীদের পৌছার পরে জেলখানার দরজা খোলা হয় এবং তাদের প্রবেশের পরই বন্ধ করে দেয়া হয় ৷
৮২. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন, সূরা ত্বা-হা, টীকা ৮৩; আল আম্বিয়া, টীকা ৯৯৷
৮৩. অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেককে জান্নাত দান করা হয়েছে৷ এখন তা আমাদের মালিকানা এবং এখানে আমরা পুরা ক্ষমতা ও ইখতিয়ার লাভ করেছি৷
৮৪. হতে পারে , এটা জান্নাতবাসীদের উক্তি৷ আবার এও হতে পারে যে, জান্নাতরাসীদের উক্তির সাথে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একথাটা জুড়ে দেয়া হয়েছে৷
৮৫. অর্থাৎ গোটা বিশ্ব -জাহান আল্লাহর প্রশংসা গেয়ে উঠবে৷