(৩৯:৫৩) (হে নবী,) বলে দাও, হে আমার বান্দারা ৭০ যারা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করেছো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না৷ নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন৷ তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু৷ ৭১
(৩৯:৫৪) ফিরে এসো তোমারে রবের দিকে এবং তাঁর অনুগত হয়ে যাও তোমাদের ওপর আযাব আসার পূর্বেই৷ তখন কোন দিক থেকেই আর সাহায্য পাওয়া যাবে না৷
(৩৯:৫৫) আর অনুসরণ করো তোমাদের রবের প্রেরিত কিতাবের সর্বোত্তম দিকগুলোর- ৭২ তোমাদের ওপর আকস্মিকভাবে আযাব আসার পূর্বেই- যে আযাব সম্পর্কে তোমরা অনবহিত থাকবে৷
(৩৯:৫৬) এমন যেন না হয় যে, পরে কেউ বলবেঃ “আমি আল্লাহর ব্যাপারে যে অপরাধ করেছি সে জন্য আফসোস৷ বরং আমি তো বিদ্রূপকারীদের মধ্যে শামিল ছিলাম৷”
(৩৯:৫৭) অথবা বলবেঃ “কতই না ভাল হতো যদি আল্লাহ আমাকে হিদায়াত দান করতেন৷ তাহলে আমিও মুত্তাকীদের অন্তরভুক্ত থাকতাম৷”
(৩৯:৫৮) কিংবা অযাব দেখতে পেয়ে বলবেঃ “কতই না ভাল হতো যদি আরো একবার সুযোগ পেতাম তাহলে নেক আমলকারীদের অন্তরভুক্ত হয়ে যেতাম৷
(৩৯:৫৯) (আর সে সময় যদি এ জওয়াব দেয়া হয়) কেন নয়, আমার আয়াতসমূহ তোমার কাছে এসেছিলো৷ কিন্তু তুমি তা অস্বীকার করেছিলে এবং গর্ব করেছিলে৷ আর তুমি তো কাফেরদের অন্তরভুক্ত ছিলে৷
(৩৯:৬০) আজ যেসব লোক আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে কিয়ামতের দিন তুমি দেখবে তাদের মুখমণ্ডল হবে কাল৷ অহংকারীদের জন্য কি জাহান্নামে যথেষ্ট জায়গা নেই?
(৩৯:৬১) অন্যদিকে যেসব লোক এখানে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদেরকে আল্লাহ তাদের সাফল্যের পন্থা অবলম্বনের জন্যই নাজাত দেবেন৷ কোন অকল্যাণ তাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তারা দুঃখ ভারাক্রন্তুও হবে না৷
(৩৯:৬২) আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই সবকিছুর রক্ষক৷ ৭৩
(৩৯:৬৩) যমীন ও আসমানের ভাণ্ডারের চাবিসমূহ তাঁরই কাছে৷ যারা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করে তারাই ক্ষতির সম্মুখীন হবে৷
৭০. কেউ কেউ একথাটির অদ্ভুত এক ব্যাখ্যা করেছেন৷ অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা খোদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে " হে আমার বান্দারা " বলে মানুষকে সম্বোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ তাই সব মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বান্দা ৷ প্রকৃতপক্ষে এটা এমন এক ব্যাখ্যা যাকে ব্যাখ্যা নয় বরং কুরাআন মজীদের জঘন্যতম অর্থ বিকৃতি এবং আল্লাহর বাণীর সাথে তামাসা বলতে হবে৷ মূখ ভক্তদের কোন গোষ্ঠি এ বিষয়টি শুনে তো সমর্থনে মাথা নাড়তে থাকবে৷ কিন্তু এ ব্যাখ্যা সঠিক হলে গোটা কুরআনই ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়৷ কেননা , কুরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষকে একমাত্র আল্লাহর বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করে৷ তাছাড়া কুরআনের দাওয়াতই হচ্ছে তোমরা এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো দাসত্ব করো না৷ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ছিলেন আল্লাহর বান্দা ৷ আল্লাহ তাকে প্রভু নয় রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন , তিনি নিজেও আল্লাহর দাসত্ব করবেন এবং মানুষকেও তাঁরই দাসত্বের শিক্ষা দেবেন ৷ কোন বুদ্ধিমান মানুষের মগজে একথা কি করে আসতে পারে যে , মক্কায় কুরাইশ গোত্রের কাফেরদের মাঝে দাঁড়িয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন হয়তো হঠাৎ একথা ঘোষণা করে দিয়ে থাকবেন যে ,তোমরা উযযা বা সূর্যের দাস নও , প্রকৃতপক্ষে তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাস৷ (আরবী ---------)
৭১. এখানে সমস্ত মানুষকে সম্বোধন করা হয়েছে৷ শুধু ঈমানদারদের সম্বোধন করা হয়েছে একথা বলার কোন উপযুক্ত প্রমাণ নেই তাছাড়া আল্লামা ইবনে কাসীর লিখেছেন , গোটা মানব জাতিকে সম্বোধন করে একথা বলার অর্থ এ নয় যে , আল্লাহ তা'আলা তাওবা ও অনুশোচনা ছাড়াই সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন৷ পরবর্তী আয়াতটিতে আল্লাহ নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে , গোনাহ মাপের উপায় হচ্ছে আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বাণীর অনুসরণ করা৷ এ আয়াতটি প্রকৃতপক্ষে সেসব লোকের জন্য আশার বাণী বয়ে এনেছিলো যারা জাহেলী যুগে হত্যা , ব্যভিচার , চুরি , ডাকাতি এবং এ ধরনের বড় বড় গোনাহর কাছে লিপ্ত ছিল আর এসব অপরাধ যে কখনো মাফ হতে পারে সে ব্যাপারে নিরাশ ছিল৷ তাদের বলা হয়েছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না৷ তোমরা যা কিছুই করেছো এখনো যদি তোমাদের রবের আনুগত্যের দিকে ফিরে ফিরে আস তাহলে সবকিছু মাফ হয়ে যাবে ৷ ইবনে আব্বাস (রা) , কাতাদা (রা) , মুজাহিদ (র) ও ইবনে যায়েদ (র) এ আয়াতের এ ব্যাখ্যাই দিয়েছেন৷ (ইবনে জারীর , বুখারী , মুসলিম , আবু দাউদ , তিরমিযী ) আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , সূরা আল ফুরকান , টীকা ৮৪ )
৭২. আল্লাহর কিতাবের সর্বোত্তম দিকসমূহ অনুসরণ করার অর্থ হচ্ছে , আল্লাহ তা'আলা যেসব কাজের নির্দেশ দিয়েছেন মানুষ তা পালন করবে ৷ তিনি যেসব কাজ করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকবে৷ এবং উপমা ও কিসসা - কহিনীতে যা বলেছেন তা থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করবে ৷ অপরদিকে যে ব্যক্তি তাঁর নির্দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় , নিষিদ্ধ কাজসমূহ করে এবং আল্লাহর উপদেশ বাণীর কানা কড়িও মূল্য দেয় না , সে আল্লাহর কিতাবের নিকৃষ্টতম দিক গ্রহণ করে৷ অর্থাৎ সে এমন দিক গ্রহণ করে যাকে আল্লাহর কিতাব নিকৃষ্টতম দিক বলে আখ্যায়িত করে৷
৭৩. অর্থাৎ তিনি কেবল পৃথিবী সৃষ্টিই করেননি , বরং তিনিই এর সব জিনিসের তত্ত্বাবধান ও রক্ষাণাবেক্ষণ করছেন ৷ পৃথিবীর সমস্ত বস্তু যেমন তাঁর সৃষ্টি করার কারণেই অস্তিত্ব লাভ করেছে তেমনি তাঁর টিকিয়ে রাখার কারণেই টিকে আছে , তাঁর প্রতিপালনের কারণেই বিকশিত হচ্ছে এবং তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের কল্যাণেই তা কাজ করছে৷