(৩৯:১০) Tell them (O Prophet): “O you servants of Mine who believe, have fear of your Lord. ২৯ A good end awaits those who did good in this world. ৩০ Allah's earth is spacious. ৩১ Verily those who persevere shall be granted their reward beyond all reckoning.” ৩২
(৩৯:১১) Tell them, (O Prophet): “I am bidden to serve Allah, consecrating my devotion to Him,
(৩৯:১২) আমাকে এ আদেশও দেয়া হয়েছে যেন আমি সবার আগে মুসলমান হই৷ ৩৩
(৩৯:১৩) বলো, আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই তাহলে আমার একটি ভয়ানক দিনের ভয় আছে৷
(৩৯:১৪) বলে দাও, আমি আনুগত্যসহ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দাসত্ব করবো৷
(৩৯:১৫) তোমরা তাঁর ছাড়া আর যাদের ইচ্ছা দাসত্ব করতে থাকো৷ বলো, প্রকৃত দেউলিয়া তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেকে এবং নিজের পরিবার-পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে৷ ভাল করে শুনে নাও, এটিই হচ্ছে স্পষ্ট দেউলিয়াপনা৷ ৩৪
(৩৯:১৬) তাদেরকে মাথার ওপর থেকে এবং নীচে থেকে আগুনের স্তর আচ্ছাদিত করে রাখবে৷ এ পরিণাম সম্পর্কেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করেন, হে আমার বান্দারা, আমার গযব থেকে নিজেদের রক্ষা করো
(৩৯:১৭) কিন্তু যেসব লোক তাগুতের ৩৫ দাসত্ব বর্জন করেছে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছে তাদের জন্য সু-সুংবাদ৷ [হে নবী (সা)] আমার সেসব বান্দাদের সুসংবাদ দিয়ে দাও৷
(৩৯:১৮) যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার ভাল দিকটি অনুসরণ করে৷ ৩৬ এরাই সেসব মানুষ যাদের আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন এবং এরাই বুদ্ধিমান৷
(৩৯:১৯) (হে নবী,) যে ব্যক্তিকে আযাব দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে তাকে কে রক্ষা করতে পারে? ৩৭ যে আগুনের মধ্যে পড়ে আছে তাকে কি তুমি রক্ষা করতে পার ?
(৩৯:২০) তবে যারা তাদের রবকে ভয় করে চলছে তাদের জন্য রয়েছে বহুতল সু উচ্চ বৃহৎ প্রাসাদ যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে৷ এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি৷ আল্লাহ কখনো তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না৷
(৩৯:২১) তোমরা কি দেখো না, আল্লাহ আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন৷ তারপর তাকে পৃথিবীর ওপর স্রোত, ঝর্ণাধারা এবং নদীর আকারে ৩৮ প্রবাহিত করেছেন৷ অতপর সেই পানি দ্বারা তিনি নানা রং এর শস উৎপাদন করেন৷ পরে সে শস্য পেকে শুকিয়ে যায়৷ তারপর তোমরা দেখতে পাও যে, তা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে৷ অবশেষে আল্লাহ তা ভূষিতে পরিণত করেন৷ নিশ্চয়ই জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেকসম্পন্নদের জন্য এর মধ্যে শিক্ষা রয়েছে৷ ৩৯
২৯. অর্থাৎ শুধু মেনে নেবে তাই নয় , বরং তার সাথে সাথে তাকওয়াও অবলম্বন করো , আল্লাহ যেসব কাজ করতে আদেশ দিয়েছেন তার ওপর আমল করো , যেসব কাজ করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকো এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির কথা মনে রেখে দুনিয়াতে কাজ করো ৷
৩০. Good and well-being both of this world and of the Hereafter. 
৩১. That is, "If one city, territory or land has become difficult for the worshipers of Allah, they may emigrate to another place where they may not have to face any such hardship. " 
৩২. "Those . . . measure" : Those who brave all kinds of hardships and persecutions in following the way of God-worship and piety but do not abandon the way of the Truth. This also includes those people who emigrate to other countries and experience hardships in the foreign land for the sake of religion and faith, and those also who continue to face every kind of temptation and calamity firmly and patiently in the land where they are being persecuted." 
৩৩. অর্থাৎ আমার কাজ শুধু অন্যদের বলা নয় , নিজে করে দেখানোও ৷ আমি যে পথের দিকে মানুষকে আহবান জানাই সর্বপ্রথম আমিই সে পথে চলি৷
৩৪. কোন ব্যক্তির কারবারে খাটানো সমস্ত পুঁজি যদি নষ্ট হয়ে যায় এবং বাজারে তার পাওনাদারের সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে , নিজের সবকিছু দিয়েও সে দায়মুক্ত হতে পারে না তাহলে এরূপ অবস্থাকেই সাধারণভাবে দেউলিয়াত্ব বলে৷ এখানে আল্লাহ তা'আলা কাফের ও মুশরিকদের জন্য এ রূপক ভাষাটিই ব্যবহার করেছেন৷ মানুষ এ পৃথিবীতে জীবন , আয়ু , জ্ঞান বুদ্ধি , শরীর , শক্তি , যোগ্যতা উপায় উপকরণ এবং সুযোগ সুবিধা যত জিনিস লাভ করেছে তার সমষ্টি এমন একটি পুঁজি যা সে পার্থিব জীবনের কারবারে খাটায়৷ কেউ যদি এ পুঁজির সবটাই এই অনুমানের ওপর ওপর ভিত্তি করে খাটায় যে, কোন ইলাহ নেই কিংবা অনেক আছে আর সে তাদের বান্দা ৷ তাকে কারো কাছে হিসেব দিতে হবে না , কিংবা হিসেব নিকেশের সময় অন্য কেউ এসে তাকে রক্ষা করবে , তাহলে তার অর্থ হচ্ছে সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং নিজের সবকিছু খুইয়ে বসলো৷ এটা হচ্ছে প্রথম ক্ষতি৷ দ্বিতীয় ক্ষতি হচ্ছে , এ ভ্রান্ত অনুমানের ভিত্তিতে সে যত কাজই করলো সেসব কাজের ক্ষেত্রে সে নিজেকে সহ দুনিয়ার বহু মানুষ , ভবিষ্যৎ বংশধর এবং আল্লাহর আরো বহু সৃষ্টির ওপর জীবনভর জুলুম করলো৷ তাই তার বিরুদ্ধে অসংখ্য দাবী আসলো৷ কিন্তু তার কাছে এমন কিছুই নেই যে , সে এসব দাবী পূরণ করতে পারে৷ তাছাড়া আরো একটি ক্ষতি হচ্ছে , সে নিজেরই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হলো না , বরং নিজের সন্তান - সন্ততি , প্রিয়জন ও আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধু বান্ধব ও স্বজাতিকেও তার ভ্রান্ত শিক্ষা দীক্ষা এবং ভ্রান্ত দৃষ্টান্ত দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করলো৷ এ তিনটি ক্ষতির সমষ্টিকে আল্লাহর তা' আলা সুষ্পষ্ট ক্ষতি বলে আখ্যায়িত করেছেন৷
৩৫. (আরবী ----------------) শব্দটি (আরবী ) শব্দ থেকে উদ্ধৃত৷ এর অর্থ বিদ্রোহ৷ কাউকে (আরবী ) বিদ্রোহী না বলে যদি ' তাগুত ' (বিদ্রোহ ) বলা হয় তাহলে তার অর্থ হয় চরম মাত্রার বিদ্রোহী৷ উদাহরণ স্বরূপ কাউকে সুন্দর বলার পরিবর্তে যদি সৌন্দয্য বলা হয় তাহলে তার অর্থ হয় সে যারপর নাই সুন্দর৷ আল্লাহ ছাড়া অন্য সব উপাস্যদের তাগুত বলার কারণ হলো , আল্লাহ ছাড়া অন্যদের দাসত্ব করা তো নিছক বিদ্রোহ৷ কিন্তু যে অন্যদের দিয়ে নিজের দাসত্ব করায় সে চরম পর্যায়ের বিদ্রোহী ৷ (আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , আল বাকারাহ , টীকা , ২৮৬ ; আন নাহল , টীকা , ৩২ ) ৷ এখানে (আরবী ) শব্দটি (আরবী ) অর্থাৎ বহু সংখ্যক বিদ্রোহী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে৷ তাই (আরবী -------------) বলা হয়েছে৷ যদি একবচন হতো তাহলে ব্যবহৃত শব্দ হতো (আরবী --------)
৩৬. এ আয়াতের দু'টি অর্থ হতে পারে৷ একটি অর্থ হচ্ছে , তারা যে কোন কথা শুনলেই তা অনুসরণ করে না৷ তারা প্রত্যেকের কথা শুনে তা নিয়ে চিন্তা - ভাবনা করে এবং যেটি ন্যায় ও সত্য কথা তা গ্রহণ করে৷ আরেকটি অর্থ হচ্ছে , তারা কোন কথা শুনে তার ভুল অর্থ করার চেষ্টা করে না বরং তার ভাল অর্থ গ্রহণ করে৷
৩৭. অর্থাৎ যে নিজেই নিজেকে আল্লাহর আযাবের উপযুক্ত বানিয়ে নিয়েছে এবং আল্লাহও তাকে শাস্তি দানের ফায়সালা করেছেন৷
৩৮. মূল আয়াতে (আরবী -----------) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা এ তিনটি জিনিস বুঝাতেই ব্যবহার করা হয়৷
৩৯. অর্থাৎ এ থেকে একজন বুদ্ধিমান মানুষ এ শিক্ষা গ্রহণ করে যে , দুনিয়ার এ জীবন ও এর সব সৌন্দর্য ও চাকচিক্য অস্থায়ী ৷ প্রতিটি বসন্তের পরিণামই শরতের মলিনতা এবং যৌবনের পরিণাম বার্ধক্য ও মৃত্যু৷ প্রতিটি উত্থানই অবশেষে পতনের পরিণতি লাভ করে৷ সুতরাং এ পৃথিবী এমন জিনিস নয় যার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে মানুষ আল্লাহ ও আখেরাতকে ভুলে যেতে পারে এবং এখানকার ক্ষণস্থায়ী বসন্তের মজা উপভোগ করার জন্য এমন আচরণ করবে যা তার পরিণামকে ধ্বংস করবে৷ তাছাড়া একজন বুদ্ধিমান লোক এসব দৃশ্য দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে যে , এ দুনিয়ার বসন্ত ও শরত আল্লাহর ইখতিয়ারে৷ তিনি যাকে ইচ্ছা উত্থান ঘটান এবং যাকে ইচ্ছা দুর্দশাগ্রস্ত করেন৷ আল্লাহ যাকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করছেন তার বেড়ে ওঠা যেমন কেউ রোধ করতে পারে না৷ তেমনি আল্লাহ যাকে ধ্বংস করতে চান তাকে মাটিতে মিশে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে এমন শক্তিও কারো নেই৷