(৩৯:১) এ কিতাব মহা পরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত৷
(৩৯:২) [হে মুহাম্মদ (সা)] আমি তোমার কাছে হকসহ এ কিতাব নাযিল করেছি৷ তাই তুমি একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদাত করো৷ 3
(৩৯:৩) সাবধান! একনিষ্ঠ ইবাদাত কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য৷ যারা তাঁকে ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক বানিয়ে রেখেছে (আর নিজেদের এ কাজের কারণ হিসেবে বলে যে,) আমরা তো তাদের ইবাদাত করি শুধু এই কারণে যে, সে আমাদেরকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেবে৷ আল্লাহ নিশ্চিতভাবেই তাদের মধ্যকার সেসব বিষয়ের ফায়সালা করে দেবেন যা নিয়ে তারা মতভেদ করছিলো৷ আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে হিদায়াত দান করেন না, যে মিথ্যাবাদী ও হক অস্বীকারকারী৷
(৩৯:৪) আল্লাহ যদি কাউকে পুত্র হিসেবে গ্রহণ করতে চাইতেন তাহলে তাঁর সৃষ্টিকুলের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বাছাই করে নিতেন৷ তিনি এ থেকে পবিত্র (যে, কেউ তাঁর পুত্র হবে)৷ তিনি আল্লাহ৷ তিনি একক ও সবার ওপর বিজয়ী৷
(৩৯:৫) তিনি আসমান ও যমীনকে যুক্তিসঙ্গত ও বিজ্ঞোচিতভাবে সৃষ্টি করেছেন৷ ১০ তিনিই দিনের প্রান্তসীমায় রাতকে এবং রাতের প্রান্তসীমায় দিনকে জড়িয়ে দেন৷ তিনি সুর্য ও চাঁদকে এমনভাবে অনুগত করেছেন যে, প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গতিশীল আছে৷ জেনে রাখো, তিনি মহা পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল৷ ১১
(৩৯:৬) তিনি তোমাদের একটি প্রাণী থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়াও সৃষ্টি করেছেন৷ ১২ আর তিনিই তোমাদের জন্য চতুস্পদ জন্তুর আটজোড়া নর ও মাদি সৃষ্টি করেছেন৷ ১৩ তিনি তোমাদেরকে মায়ের গর্ভে তিন তিনটে অন্ধকার পর্দার অভ্যন্তরে একের পর এক আকৃতি দান করে থাকেন৷ ১৪ এ আল্লাহই (যার এ কাজ) তোমাদের ‘রব’ ১৫ তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী,১৬ তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই, ১৭ তা সত্ত্বেও তোমাদেরকে কোন্‌দিকে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে৷ ১৮
(৩৯:৭) যদি তোমরা কুফরী করো তাহলে আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন৷ ১৯ কিন্তু তিনি তাঁর বান্দার জন্য কুফরী আচরণ পছন্দ করেন না৷ ২০ আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন৷ ২১ আর কেউ-ই অপর কারো গোনাহের বোঝা বহন করবে না৷ ২২ অবশেষে তোমাদের সবাইকে তোমাদের রবের কাছে ফিরি যেতে হবে৷ তখন তিনি জানাবেন তোমরা কি করছিলে৷ তিনি মনের খবর পর্যন্ত জানেন৷
(৩৯:৮) মানুষের ওপর যখন কোন বিপদ আসে ২৩ তখন সে তার রবের দিকে ফিরে যায় এবং তাঁকে ডাকে৷ ২৪ কিন্তু যখন তার রব তাকে নিয়ামত দান করেন তখন সে ইতিপূর্বে যে বিপদে পড়ে তাঁকে ডাকছিলো ২৫ তা ভুলে যায় এবং অন্যদেরকে আল্লাহর সমক্ষ মনে করতে থাকে ২৬ যাতে তারা আল্লাহর পথ থেকে তাকে গোমরাহ করে৷ ২৭ (হে নবী,) তাকে বলো, তোমার কুফরী দ্বারা অল্প কিছুদিন মজা করে নাও৷ নিশ্চিতভাবেই তুমি দোযখে যাবে৷
(৩৯:৯) (এ ব্যক্তির আচরণই সুন্দর না সে ব্যক্তির আচরণ সুন্দর) যে অনুগত, রাতের বেলা দাঁড়ায় ও সিজদা করে আখেরাতকে ভয় করে এবং নিজের রবের রহমতের আশা করে ? এদর জিজ্ঞেস করো যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি পরস্পর সমান হতে পারে? ২৮ কেবল বিবেক-বুদ্ধির অধিকারীরাই উপদেশ গ্রহণ করে৷
১. এটা এ সূরার সংক্ষিপ্ত ভূমিকা ৷ এতে শুধু এতটুকু বলা হয়েছে যে , এটা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজের কথা নয় যা অস্বীকারকারীরা বলছে৷ বরং এটা আল্লাহ তা'আলার বাণী৷ তিনি নিজে এ বাণী নাযিল করেছেন৷ এর সাথে আল্লাহর দু'টি গুণ উল্লেখ করে শ্রোতাদেরকে দু'টি মহাসত্য সম্পর্কে সাবধান করা হয়েছে যাতে তারা এ বাণীকে মামুলি জিনিস মনে না করে , বরং এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে৷ বর্ণিত গুণের একটি হচ্ছে , যে আল্লাহ এ বানী নাযিল করেছেন তিনি " আযীয " অর্থাৎ এমন মহা পরাক্রমশালী যে কোন শক্তিই তাঁর ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তাবলী কার্যকরী হওয়া ঠেকাতে পারে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে সামন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এমন কোন শক্তিও নেই৷ আরেকটি গুণ হচ্ছে , তিনি ' হাকীম ' অর্থাৎ এ কিতাবে তিনি যে হিদায়ত দিচ্ছেন তা আগাগোড়া বিজ্ঞোচিত৷ কেবল কোন অজ্ঞ ও মূর্খই তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে৷ (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , আস সাজদা টীকা , ১ )
২. অর্থাৎ তার মধ্যে যা আছে তা ন্যায় ও সত্য , বাতিলের কোন সংমিশ্রণ তার মধ্যে নেই৷
3. এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়াত ৷ এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে৷ তাই এ আয়াতটি পড়ার সময় অমনোযোগী হওয়া উচিত নয়৷ বরং এর অর্থ ও প্রতিপাদ্য বিষয়টি ভালভাবে বুঝার চেষ্টা করা উচিত ৷ এর মৌলিক বিষয় দু'টি ৷ এ দু'টি বিষয় বুঝে নেয়া ছাড়া আয়াতটির অর্থ অনুধাবন সম্ভব নয়৷ একটি বিষয় হচ্ছে , এখানে আল্লাহ ইবাদাত করতে বলা হচ্ছে৷ দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে , সে ইবাদাত হবে এমন যা আনুগত্যকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে করা হয়৷

ইবাদাত শব্দের শব্দমূল বা ধাতু হচ্ছে (আরবী --------) ৷ এ শব্দটি আরবী ভাষায় 'স্বাধীন' শব্দের বিপরীত শব্দ হিসেবে ' দাস ' বা ' ক্রীতদাস ' বুঝাতে ব্যবহৃত হয়৷ এ অর্থের দিক দিয়ে 'ইবাদাত' শব্দের মধ্যে দু'টি অর্থ সৃষ্টি হয়েছে৷ একটি অর্থ হচ্ছে পূজা-অর্চনা৷ আরবী ভাষার বিখ্যাত ও নির্ভুরযোগ্য অভিধান ' লিসানুল আরবে ' আছে (আরবী -------------) অর্থাৎ (আরবী -------------------) ৷ আরেকটি অর্থ হচ্ছে সবিনয় আনুগত্য এবং সন্তুষ্টি ও সাগ্রহ আদেশ পালন৷ যেমন " লিসানুল আরবে " বলা হয়েছেঃ

আরবী -----------------------৷

আরবী -----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সুতরাং অভিধানের এসব নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা অনুসারে আল্লাহর ইবাদাত করা অর্থ শুধু তাঁর পূজা - অর্চনার দাবী করাই নয় , বরং বিনা বাক্যে তাঁর আদেশ নিষেধ পালন , তাঁর শরয়ী আইন- কানুন সন্তুষ্ট চিত্তে সাগ্রহে মেনে চলা এবং তাঁর আদেশ- নিষেধ মনে প্রাণে অনুসরণ করার দাবীও বুঝায়৷

আরবী ভাষায় (আরবী ---------) (দীন ) শব্দ কতিপয় অর্থ ধারণ করেঃ

একটি অর্থ হচ্ছে , আধিপত্য ও ক্ষমতা, মালিকানা ও প্রভুত্বমূলক মালিকানা , ব্যবস্থাপনা ও সার্বভৌম ক্ষমতা এবং অন্যদের ওপর সিদ্ধান্ত কার্যকারী করা ৷ তাই " লিসানুল আরবে " আছেঃ

আরবী ----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে , আনুগত্য , আদেশ পালন ও দাসত্ব৷ লিসানুল আরব অভিধানে আছেঃ

আরবী ------------------------------------------------------------------------------

আরবী -----------------------------------------------------------------------------

তৃতীয় অর্থ হচ্ছে অভ্যাস ও পন্থা -পদ্ধতি মানুষ যা অনুসরণ করে৷ লিসানুল আরবে আছে , আরবী ---------------------------------------------------------------------------

এ তিনটি অর্থের প্রতি খেয়াল এ আয়াতে 'দীন' শব্দটি এমন কর্মপদ্ধতি ও আচরণকে বুঝায় যা মানুষ কারো শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার এবং কারো আনুগত্য গ্রহণ করার মাধ্যমে অবলম্বন করে ৷ আর "দীন" কে শুধু আল্লাহর জন্য নিবেদিত করে তাঁর দাসত্ব করার অর্থ হলো "আল্লাহর দাসত্বের সাথে মানুষ আর কাউকে শামিল করবে না বরং শুধু তাঁরই পূজা করবে ,তাঁরই অনুসরণ এবং তারই হুকুম আহকাম ও আদেশ পালন করবে ৷ "
৪. এটা একটা বাস্তবসম্মত ও সত্য ব্যাপার ৷ ওপরে বর্ণিত দাবীর সপক্ষে প্রমাণস্বরূপ এটা পেশ করা হয়েছে৷ অর্থাৎ তোমার উচিত দীনকে কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদিত করে তাঁর বন্দেগী ও দাসত্ব করা৷ কারণ নির্ভেজাল ও অবিমিশ্র আনুগত্য আল্লাহর অধিকার৷ অন্য কথায় বন্দেগী ও দাসত্ব পাওয়ার মত অন্য কেউ আদতেই নেই৷ সুতরাং আল্লাহর সাথে তার পূজা - অর্চনা করা এবং তার হুকুম - আহকাম ও আইন - কানুনের আনুগত্য করার কোন প্রশ্নই ওঠে না৷ কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো একনিষ্ঠ ও অবিমিশ্র দাসত্ব করে তাহলে সে ভ্রান্ত কাজ করে৷ অনুরূপভাবে সে যদি আল্লাহর দাসত্বের সাথে সাথে অন্য কারো দাসত্বের সংমিশ্রণ ঘটায় তাহলে সেটাও সরাসরি ন্যায় ও সত্যের পরিপন্থী৷ ইবনে মারদুইয়া কর্তৃক ইয়াযীদ আর রাকাশী থেকে উদ্ধৃত হাদীসটিই এ আয়াতের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা৷ তিনি বলেন : এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো , আমরা নাম ডাক সৃষ্টি করার জন্য আমাদের অর্থ সম্পদ দেই ৷ এতে কি আমরা কোন পুরস্কার পাব ? নবী (সা) বললেন : না ৷ সে জিজ্ঞেস করলো : আমাদের নিয়ত যদি আল্লাহর পুরস্কার এবং দুনিয়ার সুনাম অর্জন দু'টিই থাকে ? তিনি বললেন :

আরবী ----------------------------------------------------------------------------

" কোন আমল যতক্ষণ না আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে হবে ততক্ষণ তিনি তা গ্রহণ করেন না৷ " এরপর নবী (সা) এ আয়াত পাঠ করলেন ৷
৫. মক্কার কাফেররা বলতো , আর সাধারণত দুনিয়ার সব মুশরিকও একথাই বলে থাকে যে , আমরা স্রষ্টা মনে করে অন্যসব সত্তার ইবাদাত করি না৷ আমরা তো আল্লাহকেই প্রকৃত স্রষ্টা বলে মানি এবং সত্যিকার উপাস্য তাকেই মনে করি৷ যেহেতু তাঁর দরবার অনেক উঁচু ৷ আমরা সেখানে কি করে পৌঁছতে পারি ? তাই এসব বোযর্গ সত্তাদেরকে আমরা মাধ্যমে হিসেবে গ্রহণ করি যাতে তারা আমাদের প্রার্থনা ও আবেদন- নিবেদন আল্লাহর কাছে পৌঁছিয়ে দেন৷
৬. একথা ভালভাবে বুঝে নিতে হবে যে , কেবল তাওহীদের ব্যাপারেই ঐকমত্য হওয়া সম্ভব ৷ শিরকের ব্যাপারে কোন প্রকার ঐকমত্য হতে পারে না৷ কোন কোন সত্তা আল্লাহর কাছে পৌঁছার মাধ্যমে সে ব্যাপারে দুনিয়ার মুশরিকরা কখনো একমত হতে পারেনি৷ কারো কাছে কোন দেবতা বা দেবীরা এর মাধ্যমে ৷ কিন্তু তাদের মধ্যেও সব দেবতা ও দেবী সম্পর্কে ঐকমত্য নেই৷ কারো কাছে চাঁদ , সূর্য , মঙ্গল ও বৃহস্পতি এর মাধ্যম৷ কিন্তু তাদের মধ্যে কার কি মর্যাদা এবং কে আল্লাহর কাছে পৌঁছার মাধ্যমে সে ব্যাপারে তারাও পরস্পর একমত নয়৷ কারো মতে মৃত মহাপুরুষগণ এর মাধ্যম৷ কিন্তু এদের মধ্যেও অসংখ্য ভিন্নমত বিদ্যমান৷ কেউ একজন মহাপুরুষকে মানলে আরেকজন অপর একজনকে মানছে৷ এর কারণ হচ্ছে , ভিন্ন ভিন্ন এসব মহাপুরুষ সম্পর্কে তাদের এর ধারণা কোন জ্ঞানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেনি কিংবা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কাছে এমন কোন তালিকাও আসেনি যাতে বলা হয়েছে , অমুক ও অমুক ব্যক্তি আমার বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত ৷ সুতরাং আমাকে পেতে হলে তাদেরকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করো৷ এটা বরং এমন এক আকীদা - যা কেবল কুসংস্কার ও অন্ধভক্তি এবং পুরনো দিনের লোকদেরকে অযৌক্তিক এবং অন্ধ অনুসরণের কারণে মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে৷ তাই ক্ষেত্রে মতের বিভিন্নতা অবশ্যম্ভাবী৷
৭. আল্লাহ এখানে সেসব লোকের জন্য দু'টি শব্দ ব্যবহার করেছেন৷ একটি (আরবী --------------- (মিথ্যাবাদী ) এবং অপরটি (আরবী ---------) (অস্বীকারকারী ) ৷ তাদেরকে (আরবী -----------) বলা হয়েছে এ জন্য যে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে মিথ্যা এ আকীদা বানিয়ে নিয়েছে এবং অন্যদের মধ্যে এ মিথ্যাই প্রচার করছে৷ আর ' কাফফা ' শব্দের দু'টি অর্থ৷ একটি , ন্যায় ও সত্যের চরম অস্বীকারকারী ৷ অর্থাৎ তাওহীদের শিক্ষা সামনে আসার পর এরা এ ভ্রান্ত আকীদা আঁকড়ে ধরে আছে৷ আরেকটি , নিয়ামতের অস্বীকারকারী ৷ অর্থাৎ এরা নিয়ামত লাভ করছে আল্লাহর কাছ থেকে আর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছে সেসব সত্তার যাদের সম্পর্কে তারা নিজের থেকেই ধরে নিয়েছে যে , তাদের হস্তক্ষেপের কারণেই তারা এসব নিয়ামত লাভ করছে৷
৮. অর্থাৎ আল্লাহর ছেলে হওয়া একেবাররেই অসম্ভব৷ যা সম্ভব তা হচ্ছে , আল্লাহ কাউকে বাছাই করে নিতে পারেন৷ আর যাকে তিনি বাছাই করবেন সে অবশ্যই সৃষ্টির মধ্যেকার কেউ হবে৷ কারণ পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া আর যা কিছু আছে সবই সৃষ্টি ৷ এ কথাও সবার জানা যে সৃষ্টি যত সম্মানিতই হোক সে কখনো সন্তানের মর্যাদা পেতে পারে না৷ কারণ স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে বিরাট মৌলিক ঐক্যের দাবী করে৷ সাথে সাথে এ বিষয়টির প্রতিও লক্ষ রাখতে হবে যে , " আল্লাহ যদি কাউকে ছেলে বানাতে চাইতেন তাহরে এ রকম করতেন " কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে৷ একথা থেকে স্বতই এ অর্থ প্রকাশ পায় যে , আল্লাহ কখনো এরূপ বেটা হিসেবে গ্রহণ করা তো দূরের কথা এরূপ করার ইচ্ছাও আল্লাহ কখনো পোষণ করেননি৷
৯. এসব যুক্তি প্রমাণ দিয়েই সন্তান হওয়ার আকীদা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে৷

প্রথম প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা সব রকমের ত্রুটি দোষ এবং দুর্বলতা থেকে পবিত্র৷ একথা সুস্পষ্ট যে , সন্তানের প্রয়োজন হয় অকর্মন্য ও দুর্বলের ৷ যে ব্যক্তি নশ্বর ও ধবংসশীল সেই সন্তান লাভের মুখাপেক্ষী হয় যাতে তার বংশ ও প্রজন্ম টিকে থাকে৷ আর কাউকে পালক পুত্রও কেবল সে ব্যক্তিই গ্রহণ করে , যে হয়তো উত্তরাধিকারীহীন হওয়ার কারণে কাউকে উত্তরাধিকারী বানানোর প্রয়োজন অনুভব করে৷ নয়তো ভালবাসার আবেগে তাড়িত হয়ে কাউকে পুত্র হিসেবে গ্রহণ করে৷ এসব মানবিক দুর্বলতাকে আল্লাহর ওপর আরোপ করা এবং তার ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় আকীদা - বিশ্বাস রচনা করে নেয়া মূর্খতা ও সংকীর্ণ দৃষ্টি ছাড়া আর কি ?

দ্বিতীয় প্রমাণ হচ্ছে , তিনি এক অদ্বিতীয় এবং একক সত্তার অধিকারী , কোন বস্তু বা দ্রব্যের কিংবা কোন পুরুষের অংশ নন৷ আর এ বিষয় সুস্পষ্ট যে , সন্তান সমগোত্রীয় হয়ে থাকে ৷ আর দাম্পত্য জীবন ছাড়া সন্তানের কল্পনাই করা যায় না৷ আর দাম্পত্য সম্পর্কও কেবল সমগোত্রীয়ের সাথেই হতে পারে৷ সুতরাং একক ও অদ্বিতীয় সত্তা আল্লাহ সন্তান থাকার কথা যে ব্যক্তি বলে সে চরম মূর্খ ও নির্বোধ৷

তৃতীয় প্রমাণ হচ্ছে , তিনি (আরবী -----------) বা অপরাজেয় এক মহাশক্তি৷ অর্থাৎ পৃথিবীতে সব জিনিসই তাঁর অজেয় আধিপত্যের অধীন৷ এ বিশ্ব - জাহানের কোন কিছুই কোন পর্যায়েই তাঁর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়৷ তাই কোন জিনিস সম্পর্কেই এ ধরাণা করা যেতে পারে না যে , আল্লাহর সাথে তার কোন আত্মীয়তার বন্ধন আছে৷
১০. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন , তাফহীমূল কুরআন , সূরা ইবরাহীম , টীকা ২৬ ; আন নাহল ; টীকা ৬ ; আল আনকাবুত , টীকা ৭৫ ৷
১১. অর্থাৎ এমন মহাপরাক্রমশালী যে , তিনি যদি তোমাদের আযাব দিতে চান তাহলে কোন শক্তিই তা রোধ করতে সক্ষম নয়৷ কিন্তু এটা তাঁর মেহেরবানী যে তোমরা এসব অপরাধ ও অবমাননা করা সত্ত্বেও তখনই তোমাদের পাকড়াও করছেন না , বরং একের পর এ অবকাশ দিয়ে যাচ্ছেন ৷ এখানে শান্তি দেয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা এবং অবকাশ দেয়াকে ক্ষমা (দেখেও না দেখা ) বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷
১২. একথার অর্থ এ নয় যে , প্রথমে হযরত আদম থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং পরে তার স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন৷ এখানে বক্তব্যের মধ্যে সময়ের পরস্পরার প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে বর্ণনার পরস্পরার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে৷ প্রত্যেক ভাষায়ই এ ধরনের দৃষ্টান্ত বর্তমান৷ যেমন : আমরা বলি তুমি আজ যা করেছো তা জানি এবং গতকাল যা করেছো তাও আমার জানা আছে এ ধরনের বর্ণনার অর্থ এ নয় যে , গতকালের ঘটনা আজকের পরে সংঘটিত হয়েছে৷
১৩. গবাদি পশু অর্থ উট , গরু , ভেড়া , বকরী৷ এ চারটি নর ও চারটি মাদি মিলে মোট আটটি নর ও মাদি হয়৷
১৪. তিনটি পর্দা অর্থ পেট , গর্ভথলি এবং ঝিল্লি (সে ঝিল্লি যার মধ্যে বাচ্চা জড়িয়ে থাকে৷ )
১৫. অর্থাৎ মালিক , শাসক ও পালনকর্তা ৷
১৬. অর্থাৎ সমস্ত ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের মালিক তিনিই ৷ গোটা বিশ্ব - জাহান তার হুকুমেই চলছে৷
১৭. অন্যকথায় এখানে যুক্তি পেশ করা হচ্ছে যে , তিনিই যখন তোমাদের প্রভু এবং সমস্ত রাজত্ব তাঁরই তখন নিশ্চিতভাবে তোমাদের ইলাহও (উপাস্য ) তিনিই ৷ অন্য কেউ কি করে ইলাহ হতে পারে যখন প্রতিপালনের ক্ষেত্রে তার কোন অংশ নেই৷ এবং রাজত্বের ক্ষেত্রেও তার কোন দখল নেই ৷ তোমাদের বিবেক - বুদ্ধির কাছে একথা কি করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে যে , যমীন আসমানের সৃষ্টিকর্তা হবেন আল্লাহ এবং সূর্য ও চন্দ্রকে আনুগত্য গ্রহণকারী আর রাতের পর দিন ও দিনের পর রাত আনয়নকারীও হবেন আল্লাহ ৷ তাছাড়া তোমাদের নিজেদের এবং সমস্ত জীব - জন্তুর স্রষ্টা ও পালনকর্তাও হবেন আল্লাহ অথচ তোমাদের উপাস্য হবে তিনি ছাড়া অন্যরা ?
১৮. একথাটি চিন্তা করে দেখার মত৷ এখানে একথা বলা হয়নি যে , তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছো ? বরং বলা হয়েছে এই যে , তোমাদের কোথায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ? অর্থাৎ অন্য কেউ তোমাদের বিপথগামী করছে এবং তোমরা তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সাদামাটা যুক্তিসংগত কথাও বুঝতে পারছো না ৷ এ বর্ণনাভঙ্গি থেকে দ্বিতীয় যে কথাটি প্রতীয়মান হয় তা হচ্ছে ' তোমরা ' বলে সম্বোধন করে যারা ফিরিয়ে নিচ্ছে তাদেরকে সম্বোধন করা হয়নি , বরং যারা তাদের প্রভাবে পড়ে ফিরে যাচ্ছিলো তাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে৷ এর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে , কিছুটা চিন্তা - ভাবনা করলে যা সহজেই বোঝা যায়৷ যারা ফিরিয়ে নিচ্ছিলো তারা সে সমাজে সবার চোখের সামনেই ছিলো এবং সবখানে প্রকাশ্যেই কাজ করছিলো৷ তাই তাদের নাম নিয়ে বলার প্রয়োজন ছিলো না৷ তাদের সরাসরি সম্বোধন করাও ছিলো নিরর্থক৷ কারণ , তারা নিজেদের স্বার্থের জন্যই মানুষকে এক আল্লাহর দাসত্ব থেকে ফিরতে এবং অন্যদের দাসত্বে শৃঙ্খলিত করতে এবং করিয়ে রাখতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো৷ এটা জানা কথা যে , এ ধরনের লোকদের বুঝালেও তারা তা বুঝতে রাজি ছিল না৷ কারণ , না বুঝার মধ্যেই তাদের স্বার্থ নিহিত ছিল এবং বুঝার পরও তারা তাদের স্বার্থ ত্যাগ করতে আদৌ প্রস্তুত ছিল না৷ তবে জনসাধারণ যারা তাদের প্রতারণা ও চতুরতার ফাঁদে পতিত হচ্ছিলো তারা ছিল করুণার পাত্র৷ এ কারবারে তাদের কোন স্বার্থ ছিল না৷ তাই তাদেরকে বুঝালে বুঝতে পারতো এবং চোখ কিছুটা খুলে যাওয়ার পরে তারা এও দেখতে পারতো যে , যারা তাদেরকে আল্লাহর নিকট থেকে সরিয়ে অন্যদের আস্তানার পথ দেখাচ্ছে তারা তাদের এ কারবার থেকে কি স্বার্থ হাসিল করছে৷ এ কারণেই গোমরাহীতে নিক্ষেপকারী মুষ্টিমেয় লোকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে গোমরাহীর দিকে অগ্রসরমান জনসাধারণকে সম্বোধন করা হচ্ছে৷
১৯. অর্থাৎ তোমাদের কুফরীর কারণে তাঁর প্রভুত্বের সামান্যতম ক্ষতিও হতে পারে না৷ তোমরা মানলেও তিনি আল্লাহ , না মানলে ও তিনি আল্লাহ আছেন এবং থাকবেন৷ তাঁর নিজের ক্ষমতায়ই তাঁর কর্তৃত্ব চলছে৷ তোমাদের মানা বা না মানাতে কিছু এসে যায় না ৷ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে , আল্লাহ বলেন :

আরবী -----------------------------------------------------------------------------

"হে আমার বান্দারা , যদি তোমরা আগের ও পরের সমস্ত মানুষ ও জিন তোমাদের মধ্যকার কোন সর্বাধিক পাপিষ্ঠ ব্যক্তির মত হয়ে যাও তাতেও আমার বাদশাহীর কোন ক্ষতি হবে না৷ " (মুসলিম ) ৷
২০. অর্থাৎ নিজের কোন স্বার্থের জন্য নয় , বরং বান্দারা স্বার্থের জন্য তার কুফরী করা পছন্দ করেন না৷ কেননা , কুফরী তাদের নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর ৷ এখানে একথা মনে রাখতে হবে যে , আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় এক জিনিস এবং তাঁর সন্তুষ্টি সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি জিনিস৷ পৃথিবীতে আল্লাহর ইচ্ছার পরিপন্থী কোন কাজ হতে পারে না৷ কিন্তু তাঁর সন্তুষ্টির পরিপন্থী কাজ হতে পারে এবং রাত দিন হয়ে আসছে৷ উদাহরণ স্বরূপ : পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচারী ও জালেমদের শাসনকর্তা হওয়া , চোর ও ডাকাতের অস্তিত্ব থাকা এবং হত্যাকরী ও ব্যভিচারীদের বর্তমান থাকা এ কারণেই সম্ভব যে , আল্লাহ তা'আলা তাঁর রচিত প্রাকৃতিক বিধানে এসব অকল্যাণ ও অপকর্মের অস্তিত্ব লাভের অবকাশ রেখেছেন৷ তাছাড়া তাদেরকে মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়ার সুযোগও তিনিই দেন এবং ঠিক তেমনিভাবে দেন যেমনভাবে সৎকর্মশীলদের সৎকাজ করার সুযোগ দেন৷ তিনি যদি এসব কাজ করার আদৌ কোন সুযোগ না রাখতেন এবং যারা এসব কাজ করে তাদের আদৌ কোন সুযোগই না দিতেন তাহলে পৃথিবীতে কখনো কোন অকল্যাণ আত্মপ্রকাশ করতো না৷ এসব কিছুই তাঁর ইচ্ছার ভিত্তিতে হচ্ছে৷ কিন্তু ইলাহী ইচ্ছার অধীনে কোন কাজ সংঘটিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে , তার পেছনে আল্লাহর সন্তুষ্টিও রয়েছে৷ উদাহরণ স্বরূপ একথাটিকে এভাবে বুঝতে চেষ্টা করুন যে , কেউ যদি হারাম পন্থার মাধ্যমে তার রিযিক লাভের চেষ্টা করে তাহলে আল্লাহ তাকে ঐ পন্থারই রিযিক দান করেন৷ এটা তাঁর ইচ্ছা৷ কিন্তু তাঁর ইচ্ছার অধীনে চোর ডাকাত বা ঘুষখোরকে রিযিক দেয়া অর্থ এ নয় যে , আল্লাহ চুরি , ডাকতি এবং ঘুষও পছন্দ করেন৷ এখানে আল্লাহ তা'আলা একথাটিই বলছেন যে , তোমরা কুফরি করতে চাইলে করো৷ আমি জোর করে তাতে বাধা দিয়ে তোমাদেরকে মুমিন বানাবো না৷ তবে তোমরা বান্দা হয়ে স্রষ্টা ও পালনকর্তার সাথে কুফরি করবে তাও আমার পছন্দ নয়৷ কারণ , তা তোমাদের জন্যই ক্ষতিকর৷ এতে আমার প্রভুত্বে আদৌ আঁচড়ে লাগে না৷
২১. এখানে ' কুফর ' এর বিপরীতে ' ঈমান ' শব্দ ব্যবহার না করে 'শোকর ' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ এতে আপনা থেকেই এ বিষয়ের ইংগিত পাওয়া যায় যে , কুফরী প্রকৃতপক্ষে অকৃতজ্ঞতা ও নেমক হারামির নাম আর ঈমান প্রকৃতপক্ষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অনিবার্য দাবী ৷ যে ব্যক্তির মধ্যে আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানীর সামান্য অনুভূতিও আছে সে ঈমান ছাড়া অন্য কোন পথ গ্রহণ করতে পারে না৷ এ কারণে ' শোকর ' ও ' ঈমান ' এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যে , যেখানে শোকর থাকবে সেখানে ঈমানও অবশ্যই থাকবে৷ অপর দিকে যেখানে কুফরী থাকবে সেখানে শোকর বা কৃতজ্ঞতা থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না৷ কারণ কুফরীর সাথে " শোকরের " কোন অর্থ হয় না৷
২২. অর্থাৎ তোমাদের মধ্যকার প্রত্যেক ব্যক্তি নিজে তার কাজ কর্মের জন্য দায়ী ৷ কেউ যদি অন্যদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য কিংবা তার অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার জন্য কুফরী করে তাহলে সে লোকেরা তার কুফরীর বোঝা নিজেদের মাথায় উঠিয়ে নেবে না৷ বরং তাকেই তার কাজের পরিণাম ভোগ করার জন্য রেখে দেবে৷ সুতরাং কুফরীর ভ্রান্তি এবং ঈমানের সত্যতা যার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে তার উচিত ভুল আচরণ পরিত্যাগ করে সঠিক আচরণ গ্রহণ করা এবং নিজের বংশ , জ্ঞাতি - গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের সাথে থেকে নিজেকে আল্লাহর আযাবের উপযুক্ত না বানানো৷
২৩. মানুষ বলতে এখানে সেসব কাফেরদের বুঝানো হয়েছে যারা অকৃতজ্ঞতার আচরণ করে যাচ্ছে ৷
২৪. অর্থাৎ সুদিনে সে যেসব উপাস্যকে ডাকতো সেই সময় তাদের কাথা মনে হয় না৷ সে তখন তাদের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং বিশ্ব - জাহানের পালনকর্তা একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরে যায়৷ সে যে তার মনের গভীরে অন্য উপাস্যদের ক্ষমতা ও ইখতিয়ারহীন হওযার অনুভূতি রাখে এবং আল্লাহই যে প্রকৃত ক্ষমতা - ইখতিয়ারের মালিক এ বাস্তবতাবোধও তার মন মস্তিস্কের কোথাও না কোথাও অবদমিত হয়ে পড়ে আছে এটা যেন তারই প্রমাণ৷
২৫. অর্থাৎ যে সময় সে অন্যসব উপাস্যদের পরিত্যাগ করে কেবল একক ও লা - শরীক আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করছিলো সে দু :সময়ের কথা তার মনে থাকে না৷
২৬. অর্থাৎ অন্যদের দাসত্ব করতে শুরু করে৷ তাদেরই আনুগত্য করে৷ তাদের কাছেই প্রার্থনা করে এবং তাদের সামনেই নযর - নিয়াজ পেশ করতে শুরু করে৷
২৭. অর্থাৎ নিজে পথভ্রষ্ট হয়েই ক্ষান্ত হয় না৷ অন্যদেরকে ও একথা বলে পথভ্রষ্ট করে যে , আমার ওপর যে বিপদ এসেছিলো তা অমুক হয়রতের কিংবা অমুক বুযর্গের বা অমুক দেবী ও দেবতাকে নযরানা পেশ করে দূর হয়েছে৷ এতে আরো অনেক মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যের ভক্ত ও অনুসারী হয়ে যায় আর প্রত্যেক জাহেল এ ধরনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জনসাধারণের গোমরাহী বাড়িয়ে তুলতে থাকে৷
২৮. প্রকাশ থাকে যে , এখানে দুই শ্রেণীর মানুষের মধ্যে তুলনা করা হচ্ছে৷ এক শ্রেণীর মানুষ দুঃসময় আসলে আল্লাহর দিকে ফিরে যায়৷ কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে গায়রুল্লাহর বন্দেগী করে৷ আরেক শ্রেণীর মানুষ আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর দাসত্বেকে তাদের স্থায়ী নীতি বানিয়ে নিয়েছে৷ রাতের অন্ধকারে আল্লাহর ইবাদাত করা তাদের একনিষ্ঠ হওয়ার প্রমাণ ৷ এর মধ্যে প্রথম দলের অন্তরভুক্ত লোকদেরকে আল্লাহর তা'আলা জ্ঞানহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন ৷ এ ক্ষেত্রে তারা বড় বড় গ্রন্থাগার চষে থাকলেও কিছু এসে যায় না৷ আর দ্বিতীয় দলের অন্তরভুক্ত লোকদেরকে জ্ঞানী বলে আখ্যায়িত করেছেন ৷ এ ক্ষেত্রে একেবারে নিরক্ষর হলেও কিছু এসে যায় না৷ কারণ , প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে সত্য সম্পর্কে জ্ঞান ও তদানুযায়ী কাজ ৷ এর ওপরেই মানুষের সাফল্য নির্ভরশীল৷ আল্লাহ তা'আলা বলেন : এই দুই শ্রেণীর মানুষ কি করে সমান হতে পারে৷ কি করে সম্ভব যে , তারা দুনিয়ার মিলে মিশে একই নিয়ম পন্থায় চলবে এবং আখেরাতেও একই পরিণামের সম্মুখীন হবে৷