(৩৮:৬৫) হে নবী! ৫৬ এদেরকে বলো, “আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র৷ ৫৭ আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই৷ তিনি একক, সবার ওপর আধিপত্যশীল৷
(৩৮:৬৬) আকাশ ও পৃথিবীর মালিক এবং এ দু’য়ের মধ্যে অবস্থানকারী সমস্ত জিনিসের মালিক, পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল৷”
(৩৮:৬৭) এদেরকে বলো, “এটি একটি মহাসংবাদ
(৩৮:৬৮) যা শুনে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও৷” ৫৮
(৩৮:৬৯) (এদেরকে বলো) “উর্ধলোকে যখন বিতর্ক হচ্ছিল সে সময়ের কোন জ্ঞান আমার ছিল না৷
(৩৮:৭০) আমাকে তো অহীর মাধ্যমে একথাগুলো এ জন্য জানিয়ে দেয়া হয় যে আমি সুস্পষ্ট সতর্ককারী৷”
(৩৮:৭১) যখন তোমার রব ফেরশ্‌তাদেরকে বললো, ৫৯ “আমি মাটি দিয়ে একটি মানুষ তৈরি করবো৷ ৬০
(৩৮:৭২) তারপর যখন অমিতাকে পুরোপুরি তৈরি করে ফেলবো এবং তার মধ্যে নিজের প্রাণ ফুঁকে দেবো৷ ৬১ তখন তোমরা তার সামনে সিজদানত হয়ে যেয়ো৷” ৬২
(৩৮:৭৩) এ হুকুম অনুযায়ী ফেরেশ্‌তারা সবাই সিজদানত হয়ে গেলো,
(৩৮:৭৪) কিন্তু ইবলিস নিজে শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার করলো এবং সে কাফেরদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো৷৬৩
(৩৮:৭৫) রব বললেন, “ হে ইবলিস! আমি আমার দু’হাত দিয়ে যাকে তৈরি করেছি তাকে সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছে? ৬৪ তুমি কি বড়াই করছো, না তুমি কিছু উচ্চ মর্যাদার অধিকারী?”
(৩৮:৭৬) সে জবাব দিল, “আমি তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ, তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আগুন থেকে এবং তাকে মাটি থেকে৷”
(৩৮:৭৭) বললেন, “ঠিক আছে, তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, ৬৫ তুমি বিতাড়িত ৬৬
(৩৮:৭৮) এবং প্রতিদান দিবস পর্যন্ত তোমার প্রতি আমার লানত৷” ৬৭
(৩৮:৭৯) সে বললো, “ হে আমার রব! একথাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে এদেরকে যখন পুনরায় উঠানো হবে সে সময় পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও৷”
(৩৮:৮০) বললেন, ঠিক আছে, তোমাকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হলো
(৩৮:৮১) যার সময় আমি জানি৷”
(৩৮:৮২) সে বললো, “তোমার ইজ্জতের কসম, আমি এদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করবোই,
(৩৮:৮৩) তবে একমাত্র যাদেরকে তুমি একনিষ্ঠ করে নিয়েছো তাদেরকে ছাড়া৷” ৬৮ বললেন,
(৩৮:৮৪) “তাহলে এটিই সত্য এবং আমি সত্যই বলে থাকি যে,
(৩৮:৮৫) আমি তোমাকে ৬৯ এবং এসব লোকদের মধ্য থেকে যারা তোমার আনুগত্য করবে তাদের বাইকে দিয়ে জাহান্নাম ভরে দেবো৷” ৭০
(৩৮:৮৬) (হে নবী!) এদেরকে বলো, আমি এ প্রচার কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাইছি না ৭১ এবং আমি বানোয়াট লোকদের একজনও নই৷ ৭২
(৩৮:৮৭) এ তো একটি উপদেশ সমস্ত পৃথিবীবাসীর জন্য
(৩৮:৮৮) এবং সামান্য সময় অতিবাহিত হবার পরই এ সম্পর্কে তোমরা নিজেরাই জানতে পারবে৷ ৭৩
৫৬. শুরুতে যে বিষয়বস্তুর ওপর ভাষণ শুরু হয়েছিল এখন বক্তব্য আবার সেদিকে মোড় নিচ্ছে ৷ এ অংশটি পড়ার সময় প্রথম রুকূ 'র সাথে তুলনামূলক অধ্যয়নও করতে থাকুন৷ এভাবে বক্তব্য পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব হবে৷
৫৭. ৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছিল , এদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারীর উত্থান ঘটায় এরা বড়ই বিস্ময় প্রকাশ করছে৷ এখানে বলা হচ্ছে , এদেরকে বলো , আমার কাজ হচ্ছে কেবলমাত্র তোমাদেরকে সতর্ক করে দেয়া৷ অর্থাৎ আমি কোন ফৌজদার বা সেনাধ্যক্ষ নই যে , জবরদস্থি তোমাদেরকে ভুল পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে টেনে আনবো৷ আমি বুঝবার ফলে যদি তোমরা না বুঝো তাহলে নিজেদেরই ক্ষতি করবে ৷ বেখবর থাকাটাই যদি তোমাদের কাছে পছন্দনীয় হয়ে থাকে তাহলে নিজেদের ঘাফিলতির মধ্যে ডুবে থাকো৷ এভাবে নিজেদের পরিণাম তোমরা নিজেরাই ভোগ করবে৷
৫৮. ৫ আয়াতে কাফেরদের যে কথা বলা হয়েছে এটি তার জবাব৷ সেখানে বলা হয়েছেঃ " এ ব্যক্তি কি সমস্ত খোদার পরিবর্তে একজন খোদা বানিয়েছে ? এ তো বড়ই অদ্ভুত কথা৷ " এর জবাবে বলা হচ্ছে, তোমরা যতই নাক সিটকাওনা কেন , অবশ্যই এটি একটি সত্য , এর সংবাদ আমি তোমাদের দিচ্ছি এবং তোমাদের নাক সিটকাবার ফলে এ সত্য বদলে যেতে পারে না৷ এ জবাবে কেবলমাত্র সত্যের বর্ণনাই নেই বরং তার সত্য হবার প্রমাণও এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ৷ মুশরিকরা বলতো , অনেক উপাস্যের মধ্যে আল্লাহও একজন ৷ তোমরা সমস্ত উপাস্যদেরকে খতম করে দিয়ে একজনকে মাত্র উপাস্য করে নিলে কেমন করে? এর জবাবে বলা হয়েছে , একমাত্র আল্লাহই প্রকৃত উপাস্য ও মাবুদ৷ কারণ তিনি সবার ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী , আকাশ , পৃথিবীর মালিক এবং বিশ্ব জাহানের সমস্ত জিনিস তাঁর মালিকানাধীন৷ তাঁকে বাদ দিয়ে এ বিশ্ব জাহানে যেসব সত্তাকে তোমরা মাবুদ বানিয়ে রেখেছো তাদের মধ্যে কোন একটি সত্তাও এমন নেই , যে তাঁর অধীন ও গোলাম নয়৷ এসব কর্তৃত্বাধীন ও গোলাম সত্তার সেই সর্বময় কর্তৃত্বকারী ও প্রাধান্য বিস্তারকারী সত্তার কর্তৃত্বে শরীক হতে পারে কেমন করে ? কোন অধিকারে এদেরকে মাবুদ ও উপাস্য গণ্য করা যেতে পারে ?
৫৯. ওপরের আয়াতে যে বিরোধের দিকে ইংগিত করা হয়েছে এ হচ্ছে তার বিস্তারিত বিবরণ৷ এ বিরোধ বলতে আল্লাহর সাথে শয়তানের বিরোধ বুঝানো হয়েছে যেমন সামনের আলোচনা থেকে প্রকাশ হচ্ছে৷ এ প্রসংগে একথা মনে রাখতে হবে যে, "উর্ধজগত " বলতে ফেরেশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে ৷ কাজেই কারো এ ভুল ধারণা হওয়া উচিত নয় যে , আল্লাহও উর্ধজগতের অন্তরভুক্ত ছিলেন৷ এখানে যে কাহিনী বর্ননা করা হচ্ছে , তা ইতিপূর্বে নিম্নোক্ত স্থানসমূহে বর্ণনা করা হয়েছেঃ তাফহীমূল কুরআন , আল বাকারাহ , ৩৫ - ৫৩ . ; আ'রাফ , ১০ - ১৫ আল হিজর , ১৭ ১৯ ; বনী ইসরাঈল ৭১- ৮২ ; আল কাহফ , ৪৬ - ৪৮ ; এবং ত্বা - হা , ৯২- ১০৬ টীকাসমূহ ৷
৬০. মূল শব্দ হচ্ছে (আর্‌বী -----------) (বাশারা ) ৷ এর আভিধানিক অর্থ " স্থূলদেহ " , যার বাইরের অংশ কোন জিনিসে আবৃত নয়৷ মানুষ সৃষ্টির পর এ শব্দটি বরাবর মানুষের জন্যই ব্যবহৃত হতে থেকেছে ৷ কিন্তু মানুষ সৃষ্টির আগে তার জন্যে ' বাশার ' শব্দ ব্যবহার করা এবং তাকে মাটি দিয়ে তৈরি করার পরিস্কার অর্থ হচ্ছে এই যে , " আমি মাটির একটি পুতুল বানাতে চাই৷ তার ডানা ও পালক থাকবে না৷ অর্থাৎ তার ত্বক অন্যান্য প্রাণীর মতো উল , পশম , লোম ও পালকে ঢাকা থাকবে না৷ "
৬১. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন , আল হিজর , ১৭- ১৯ এবং আস সিজদাহ , ১৬ টীকা
৬২. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন , আল বাকারাহ , ৪৫ এবং আল আ'রাফ ১০ টীকা ৷
৬৩. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমূল কুরআন , আল বাকারাহ , ৪৭ এবং আল কাহফ , ৪৮ টীকা ৷
৬৪. মানুষ সৃষ্টির মর্যাদা প্রমাণ করার জন্য এ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে ৷ বাদশাহ তাঁর চাকর বাকরদের দিয়ে কোন কাজ করালে তাতে সেটি যে একটি মামুলি ও সাধারণ পর্যায়ের কাজ ছিল তা প্রমাণ হয়ে যায়৷ অন্যদিকে বাদশাহ যদি নিজেই এবং নিজ হাতে কোন কাজ করেন তাহলে তা প্রমাণ করে যে , সেটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন ও শ্রেষ্ঠ কাজ ছিল৷ কাজেই আল্লাহ উক্তির অর্থ হচ্ছে এই যে , যাকে আমি নিজে কোন প্রকার মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তৈরি করেছি তার সামনে নত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছে ? " দু'হাত " শব্দের মাধ্যমে সম্ভবত এ দিকে ইংগিত করাই উদ্দেশ্য যে , এ নতুন সৃষ্টিটির মধ্যে আল্লাহর সৃষ্টি কুশলতার দু'টি গুরুত্বপূর্ণ দিক পাওয়া যায়৷ এক , তাকে প্রাণীর দেহাবয়ব দান করা হয়েছে৷ এর ফলে সে প্রাণীকূলের একটি জাতিকে পরিণত হয়েছে৷ দুই , তার মধ্যে এমন প্রাণ সঞ্চার করে দেয়া হয়েছে যার ফলে সে তার নিজের যাবতীয় গুণাবলীর ক্ষেত্রে পৃথিবীর সৃষ্টজীবের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন ও শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেছে৷
৬৫. অর্থাৎ সেখান থেকে সেখানে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছিল , যেখানে আদমের সামনে ফেরেশতাদের সিজদা করার হুকুম দেয়া হয়েছিল এবং যেখানে ইবলিস মহান আল্লাহ নাফরমানি করেছিল৷
৬৬. মূলে " রাজীম " শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে " নিক্ষিপ্ত " বা "যাকে মারা হয়েছে৷ " অন্যদিকে প্রচলিত বাগধারা অনুযায়ী এ শব্দটি এমন ব্যক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে যাকে মর্যাদার আসন থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে এবং লাঞ্ছিত ও হেয় করে রাখা হয়েছে৷ সূরা আ'রাফে এ বিষয়বস্তুটিই এভাবে বলা হয়েছেঃ

আরবী -----------------------------------------------------------------------------------

" কাজেই তুই বের হয়ে যা , তুই লাঞ্ছিত সত্তাদের একজন৷ "
৬৭. এর অর্থ এ নয় যে , শেষ বিচারের দিনের পরে তার ওপর আর লানত পড়বে না৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে , শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত তো সে এ নাফরমানির কারণে অভিসম্পাত পেতে থাকবে এবং শেষ বিচারের পরে সে আদমের সৃষ্টি থেকে নিম্ন কিয়ামত পর্যন্ত যত অপকর্ম করেছে তার শাস্তি ভোগ করবে ৷
৬৮. এর অর্থ এ নয় যে , " আমি তোমার নির্বাচিত বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবো না ৷" বরং এর অর্থ হচ্ছে , " তোমার নির্বাচিত বান্দাদের ওপর আমার জারিজুরি খাটবে না৷ "
৬৯. " তোমাকে দিয়ে " শব্দের মাধ্যমে কেবলমাত্র ব্যক্তি ইবলিসকেই সম্বোধন করা হয়নি বরং সমগ্র জিন জাতিকে সম্বোধন করা হয়েছে৷ অর্থাৎ ইবলিস ও তার সমগ্র শয়তান দল যারা তার সাথে মিলে মানুষ জাতিকে গোমরাহ করার কাজে লিপ্ত থাকবে৷
৭০. এ পুরো কাহিনীটি শুনানো হয় কুরাইশ সরদারদের একটি কথার জবাবে৷ তারা বলেঃ

আরবী ----------------------------------------------------------------------------------

" আমাদের মধ্যে কি এ একজনই লোক রয়ে গিয়েছিল যার ওপর যিকির , নাযিল করা হয়েছে ?

৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে যা বলা হয়েছে তাই ছিল এর জবাব৷ সেখানে বলা হয়েছে , তোমরা কি আল্লাহর রহমতের ভাণ্ডারের মালিক , তোমরা কি আকাশ ও পৃথিবীর বাদশাহ এবং কাকে আল্লাহ নবী করা হবে ও কাকে করা হবে না এ ফায়সালা করা কি তোমাদের কাজ ? " দ্বিতীয় জবাব এবং এর মধ্যে কুরাইশ সরদারদেরকে যা বলা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে , মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মোকাবিলায় ইবলিসের হিংসা ও অহংকারের সাথে মিলে যায়৷ ইবলিসও আল্লাহ যাকে চান তাকে খলিফা বা প্রতিনিধি করবেন তাঁর এ অধিকার মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল৷ সে আদমের সামনে মাথা নত করার হুকুম মানেনি এবং তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করার হুকুম মানছো না৷ তার সাথে তোমাদের এ সামঞ্জস্য কেবলমাত্র এখানেই শেষ হয়ে যাবে না বরং তোমাদের পরিণামও আবার তাই হবে যা তার জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে অর্থাৎ দুনিয়ায় আল্লাহর লানত এবং আখেরাতে জাহান্নামের আগুন ৷

এ সংগে এ কাহিনীর আওতায় আরো দু'টি কথাও বুঝানো হয়েছে৷ এক , এ দুনিয়ায় যে মানুষেই আল্লাহর নাফরমানি করছে সে আসলে তার সে চিরন্তন শত্রুর ফাঁদে আটকে যাচ্ছে , যে সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই মানব জাতিকে ফুসলিয়ে কুপথে পরিচালনা করা স্থির সিদ্ধান্ত করে রেখেছে৷ দুই , যে ব্যক্তি অহংকারের কারণে আল্লাহর নাফরমানি করে এবং তারপর নিজের এ নাফরমানির করার নীতির ওপর জিদ করে থাকে , আল্লাহর দৃষ্টিতে সে চরম ঘৃণিত৷ আল্লাহর কাছে এ ধরনের মানুষের কোন ক্ষমা নেই৷
৭১. অর্থাৎ আমি একজন নিস্বার্থ ব্যক্তি৷ নিজের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থে আমি এসব কথা প্রচার করছি না৷
৭২. অর্থাৎ আমি তাদের অন্তরভুক্ত নই যারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য মিথ্যা দাবী নিয়ে ওঠে এবং তারপর প্রকৃতপক্ষে তারা যা নয় তাই হয়ে বসে৷ একথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ দিয়ে শুধুমাত্র মক্কার কাফেরদেরকে জানিয়ে দেবার জন্য বলা হয়নি বরং কাফেরদের মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের যে চল্লিশটি বছর অতিক্রান্ত হয়েছিল এর পেছনে তার সবটাই সাক্ষী হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে৷ মক্কার আবালবৃদ্ধবনিতা একথা জানতো যে , মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন বানোয়াট নবী নন৷ সমগ্র জাতির মধ্যে কোন এক ব্যক্তিও কখনো তাঁর মুখ থেকে এমন কোন কথা শোনেনি যা থেকে এ সন্দেহ করার অবকাশ হয় যে , তিনি কিছু একটা হতে চান এবং তিনি নিজেকে গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠত করার চিন্তা করছেন৷
৭৩. অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে তারা কয়েক বছরের মধ্যে স্বচক্ষে দেখে নেবে আমি যা বলছি তা সঠিক প্রমানিত হবেই ৷ আর যারা মরে যাবে তারা মৃত্যুর দুয়ার অতিক্রম করার পরপরই জানতে পারবে , আমি যা কিছু বলছি তা-ই প্রকৃত সত্য৷