(৩৬:৫১) তারপর একটি শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে এবং সাহসা তারা নিজেদের রবের সামনে হাজির হবার জন্য নিজেদের কবর থেকে বের হয়ে পড়বে৷ ৪৭
(৩৬:৫২) ভীত হয়ে বলবে, ”আরে কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো? ৪৮-“এটা সে জিনিস যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রসূলদের কথা সত্য ছিল৷ ৪৯
(৩৬:৫৩) একটি মাত্র প্রচন্ড আওয়াজ হবে এবং সবকিছু আমার সামনে হাজির করে দেয়া হবে৷
(৩৬:৫৪) আজ কারো ৫০ প্রতি তিলমাত্র জুলুম করা হবে না এবং যেমন কাজ তোমরা করে এসেছ ঠিক তারই প্রতিদান তোমাদের দেয়া হবে
(৩৬:৫৫) জান্নাতীরা আজ আনন্দে মশগুল রয়েছে৷ ৫১
(৩৬:৫৬) তারা ও তাদের স্ত্রীরা ঘন ছায়ায় রাজকীয় আসনে হেলান দিয়ে বসে আছে৷
(৩৬:৫৭) সব রকমের সুস্বাদু পানাহারের জিনিস তাদের জন্য সেখানে রয়েছে, যা কিছু তারা চাইবে তা তাদের জন্য হাজির রয়েছে৷
(৩৬:৫৮) দয়াময় রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে “সালাম” বলা হয়েছে
(৩৬:৫৯) এবং হে অপরাধীরা!আজ তোমরা ছাঁটাই হয়ে আলাদা হয়ে যাও৷ ৫২
(৩৬:৬০) হে আদম সন্তানেরা!আমি কি তোমাদের এ মর্মে হিদায়াত করিনি যে, শয়তানের বন্দেগী করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু
(৩৬:৬১) এবং আমারই বন্দেগী করো, এটিই সরল-সঠিক পথ? ৫৩
(৩৬:৬২) কিন্তু এ সত্ত্বেও সে তোমাদের মধ্য থেকে বিপুল সংখ্যককে গোমরাহ করে দিয়েছে, তোমাদের কি বুদ্ধি-জ্ঞান নেই? ৫৪
(৩৬:৬৩) এটা সে জাহান্নাম, যার ভয় তোমাদের দেখানো হতো৷
(৩৬:৬৪) দুনিয়ায় যে কুফরী তোমরা করতে থেকেছো তার ফলস্বরূপ আজ এর ইন্ধন হও৷
(৩৬:৬৫) আজ আমি এদের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছি, এদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং এদের পা সাক্ষ দেবে এরা দুনিয়ায় কি উপার্জন করে এসেছে৷ ৫৫
(৩৬:৬৬) আমি চাইলে এদের চোখ বন্ধ করে দিতাম, তখন এরা পথের দিকে চেয়ে দেখতো, কোথা থেকে এরা পথের দেখা পাবে?
(৩৬:৬৭) আমি চাইলে এদের নিজেদের জায়গায়ই এদেরকে এমনভাবে বিকৃত করে রেখে দিতাম যার ফলে এরা সামনে এগিয়ে যেতে পারতো , না পেছনে ফিরে আসতে পারতো৷ ৫৬
৪৭. শিংগা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ত্বা-হা, ৭৮ টীকা৷ শিংগার প্রথম ফুঁৎকার ও দ্বিতীয় ফূঁৎকারের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান হবে, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই৷ এ সময়টা শত শত ও হাজার হাজার বছর দীর্ঘ হতে পারে৷ হযরত আবু হুরাইরা (রা)বর্ণিত একটি হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ইসরাফীল শিংগায় মুখ লাগিয়ে আরশের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং কখন ফূঁৎকার দেবার হুকুম হয় তার অপেক্ষা করছেন৷ শিংগায় তিনবার ফুঁক দেয়া হবে৷ প্রথমটি হবে ---------এটি পৃথিবী ও আকাশের সমস্ত সৃষ্টিকে হতবিহ্বল করে দেবে৷ দ্বিতীয়টি হবে ---------এটি শোনার সাথে সাথেই সবাই মরে পড়ে যাবে৷ তারপর যখন একমাত্র ও অপ্রতিদ্বন্দ্বি আল্লাহ ছাড়া আর কেউ থাকবে না তখন পৃথিবীকে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত করে দেয়া হবে৷ উক্কাযের বাজারের সমতল ভূমির মতো তাকে এমনভাবে সমতল করা হবে যে, তার মধ্যে সামান্য একটু ভাঁজও কোথাও পড়ে থাকবে না৷ তারপর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে একটি বিকট ধমক দেবেন আর তা শুনতেই প্রত্যেক ব্যক্তিই যেখানে সে মরে পড়ে গিয়েছিল সেখানকার পরিবর্তিত জমি থেকেই উঠে দাঁড়াবে৷ এটিই শেষ ফুঁক বলে পরিচিত৷ এর নাম হবে---------কুরআন মজীদের বিভিন্ন ইশারা -ইংগিত থেকে এ বিষয়বস্তুটিরই প্রতি সমর্থন পাওয়া গেছে৷ দৃষ্টান্ত স্বরূপ দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ইবরাহীম, ৫৬-৫৭ ও সূরা ত্বা-হা, ৮২-৮৩ টীকা৷
৪৮. অর্থাৎ তখন তাদের এ অনুভূতিই থাকবে না যে, তারা মরে গিয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে এখন আবার তাদেরকে জীবিত করে উঠানো হয়েছে৷ বরং তারা এ চিন্তায় মগ্ন থাকবে যে, তারা ঘুমিয়েছিল, এখন হঠাৎ কোন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে জেগে উঠেছে এবং ছুটে চলছে৷ (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ত্বা-হা ৭৮ এবং ইবরাহীম, ১৮ টীকা৷
৪৯. কে এ জবাব দেবে, তা এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়নি৷ হতে পারে কিছুক্ষণ পরে তারা নিজেরাই বিষয়টির প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারবে এবং মনে মনে বলবে, হায়! আমাদের দুর্ভাগ্য, এ তো সে জিনিসই যার খবর আল্লাহর রসূল আমাদের দিতেন এবং আমরা তাঁকে মিথ্যুক বলতাম৷ আবার এও হতে পারে, মুমিনরা তাদের বিভ্রান্তির দূর করে দেবে এবং তাদেরকে জানাবে, এটা ঘুম থেকে জেগে ওঠা নয় বরং মৃত্যুর পর দ্বিতীয় জীবন৷ তাছাড়া এও হতে পারে যে, কিয়ামতের সমগ্র পরিবেশ তাদেরকে এ জবাব দেবে অথবা ফেরেশতারা তাদেরকে প্রকৃত অবস্থা জানাবে৷
৫০. কাফের, মুশরিক, ফাসেক, ও অপরাধীদেরকে যখন আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে তখন আল্লাহ তাদের উদ্দেশ্যে এ ভাষণ দেবেন৷
৫১. এ বক্তব্য অনুধাবন করার জন্য প্রথমে মনে রাখতে হবে যে, সৎকর্মশীল মু'মিনদেরকে হাশরের ময়দানে আটকে রাখা হবে না বরং শুরুতেই তাদেরকে কোন প্রকার হিসেব-নিকেশ ছাড়াই অথবা সামান্য হালকা হিসেব গ্রহণ করার পর জান্নাতে পাঠিয়ে দেয়া হবে৷ কারণ তাদের রেকর্ড হবে পরিস্কার৷ আদালত চলাকালীন সময় তাদের অপেক্ষা করার কষ্ট বরদাশত করার কোন প্রয়োজন হবে না৷ তাই মহান আল্লাহ হাশরের ময়দানে জবাবদিহিকারী অপরাধীদেরকে বলবেন, দেখো, যেসব সৎলোককে তোমরা দুনিয়ায় বোকা মনে করে বিদ্রুপ করতে তারা নিজেদের বুদ্ধিমত্তার কারণে আজ জান্নাতে বসে আরাম করছে এবং তোমরা যারা নিজেদেরকে অতি বুদ্ধিমান ও চালাক-চতুর মনে করতে তারা আজ দেখো কেমন এখন দাঁড়িয়ে নিজেদের অপরাধের জন্য জবাবদিহি করছো৷
৫২. এর দুটি অর্থ হতে পারে৷ একটি হচ্ছে, সৎকর্মশীল মু'মিনদের থেকে ছাঁটাই হয়ে আলাদা হয়ে যাও৷ কারণ দুনিয়ায় তোমরা তাদের সম্প্রদায়, পরিবার ও গোষ্ঠীর অন্তুরভুক্ত থাকলে থাকতে পারো, কিন্তু এখানে এখন তোমাদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই৷ দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, তোমরা নিজেদের মধ্যে আলাদা হয়ে যাও৷ এখন তোমাদের কোন দল ও জোট থাকতে পারে না৷ তোমাদের সমস্ত দল ভেঙে দেয়া হয়েছে৷ তোমাদের সকল প্রকার সম্পর্ক ও আত্মীয়তা খমত করে দেয়া হয়েছে৷ তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে এখন একাকী ব্যক্তিগতভাবে নিজের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে৷
৫৩. এখানে আবার আল্লাহ "ইবাদাত"কে আনুগত্য অর্থে ব্যবহার করেছেন৷ ইতিপূর্বে তাফহীমুল কুরআনে আমি বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি৷ (দেখুন আল বাকারাহ, ১৭০; আন নিসা, ১৪৫ আল আনআম, ৮৭ও ১০৭; আত তাওবা, ৩১ ; ইবরাহীম ৩২ ; আল কাহফ, ৫০; মারয়াম, ২৭; আল কাসাস, ৮৬এবং সাবা, ৬৩ টীকা) এ প্রসংগে এ আয়াতটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমাম রাযী তাঁর তাফসীরে কবীরে যে চমৎকার আলোচনা করেছেন তাও প্রণিধানযোগ্য৷ তিনি লিখেছেন, ---------মানে হচ্ছে (তার আনুগত্য করো না)৷ এর সপক্ষে যুক্তি হচ্ছে, তাকে নিছক সিজদা করাই নিষিদ্ধ নয় বরং তার আনুগত্য করা এবং তার হুকুম মেনে চলাও নিষিদ্ধ৷ কাজেই আনুগত্য হচ্ছে ইবাদত৷ এরপর ইমাম সাহেব এ প্রশ্ন করেছেন যদি ইবাদতের অর্থ হয় আনুগত্য তাহলে , ---------আয়াতে আমাদের কি রসূল ও কর্তৃত্বশীলদের ইবাদত করার হুকুম দেয়া হয়েছে? তারপর এ প্রশ্নের জবাব তিনি এভাবে দিয়েছেনঃ "তাদের আনুগত্য যখন আল্লাহর হুকুমে করা হয় তখন তা আল্লাহরই ইবাদত এবং তারই আনুগত্য হবে৷ দেখছেন না, ফেরেশতারা আল্লাহর হুকুমে আদমকে সিজদা করলো এবং এটি আল্লাহর ছাড়া আর কারো ইবাদাত ছিল না৷ কর্তৃত্বশীলদের আনুগত্য একমাত্র তখনই তাদের ইবাদত হতে পারে যখন এমন ব্যাপারে তাদের আনুগত্য করা হবে যে ব্যাপারে তাদের আনুগত্য করার হুকুম আল্লাহ দেননি৷ তারপর বলেন, তোমর সামনে যদি কোন লোক আসে এবং তোমাকে কোন জিনিসের হুকুম দেয় তাহলে দেখো তার এ হুকুম আল্লাহর হুকুমের অনুসারী কিনা৷ অনুসারী না হলে শয়তান সে লোকদের সহযোগী হয়েছে৷ যদি এ অবস্থায় তুমি তার আনুগত্য করো তাহলে তুমি তার ও তার শয়তানের ইবাদাত করলে৷ অনুরূপভাবে তোমার নিজের প্রবৃত্তি যদি তোমাকে কোন কাজ করতে উদ্ধুদ্ধ করে তাহলে এ ক্ষেত্রে শরীয়াতের দৃষ্টিতে সে কাজটি করার অনুমতি আছে কিনা দেখো৷ অনুমতি না থাকলে তোমার প্রবৃত্তি নিজেই শয়তান হয়ে গেছে অথবা শয়তান তার সহযোগী হয়েছে এ অবস্থায় যদি তুমি তার আনুগত্য করো তাহলে তুমি তার ইবাদাত করলে"৷ সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে তিনি আবার বলছেন, কিন্তু শয়তানের ইবাদাত করার বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে৷ কখনো এমন হয়, মানুষ একটি কাজ করে এবং তার অংগ-প্রতংগের সাথে সাথে তার কণ্ঠও তার সহযোগী হয় এবং মনও তার সাথে অংশ গ্রহণ করে৷ আবার কখনো এমনও হয়, অংগ -প্রতংগের সাহায্যে মানুষ একটি কাজ করে কিন্তু অন্তর ও কণ্ঠ সে কাজে তার সহযোগী হয় না৷ কেউ কেউ এমন অবস্থায় একটি গোনাহ করে, যখন তার অন্তর তাতে সায় দেয় না এবং তার কণ্ঠ সে জন্য আল্লাহর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী হয়, এ অবস্থায় সে স্বীকার করে আমি এ খারাপ কাজ করেছি৷ এ হচ্ছে নিছক বাইরের অংগ-প্রতংগের সাহায্যে শয়তানের ইবাদাত৷ আবার এমন কিছু লোকও আছে যারা ঠাণ্ডা মাথায় অপরাধ করে এবং মুখেও নিজেদের এ কাজে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করে৷ …এরা ভিতরে বাইরে উভয় পর্যায়ে শয়তানের ইবাদাতকারী"৷ (তাফসীরে কবীর, ৭ খণ্ড, ১০৩-১০৪ পৃষ্ঠা)
৫৪. অর্থাৎ যদি তোমরা বুদ্ধি-জ্ঞান বঞ্চিত হতে এবং তারপর নিজেদের রবকে ত্যাগ করে তোমাদের শত্রুদের ইবাদত করতে তাহলে তোমাদের জন্য কোন ওজরের অবকাশ ছিল না৷ কিন্তু তোমাদের কাছে তো আল্লাহ প্রদত্ত বুদ্ধি -জ্ঞান ছিল৷ তার মাধ্যমে তোমরা দুনিয়ার সমস্ত কাজ -কারবার করে চলছিলে এবং আল্লাহ তোমাদের পয়গম্বরদের মাধ্যমে সতর্কও করে দিয়েছিলেন৷ এরপরও যখন তোমরা তোমাদের শত্রুদের প্রতারণা জালে আবদ্ধ হয়েছো এবং তারা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে তখন নিজেদের বোকামির দায়-দায়িত্ব থেকে তোমরা কোনক্রমেই মুক্ত হতে পারো না৷
৫৫. যে উদ্ধত অপরাধীরা তাদের অপরাধ মেনে নিতে অস্বীকার করবে, সাক্ষীদেরকে মিথ্যা বলবে এবং আমলনামার নির্ভুলতাও মেনে নেবে না, তাদের ব্যাপারে এ ফায়সালা দেয়া হবে৷ তখন আল্লাহ হুকুম দেবেন, ঠিক আছে তোমাদের বাজে কথা বন্ধ করো এবং এখন দেখো তোমাদের নিজেদের শরীরের অংগ-প্রতংগ তোমাদের কৃতকর্মের কি বর্ণনা দেয়৷ এ প্রসংগে এখানে কেবলমাত্র হাত ও পায়ের সাক্ষদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ কিন্তু অন্যান্য স্থানে বলা হয়েছে তাদের চোখ, কান জিহ্বা এবং শরীরের চর্মও তাদেরকে দিয়ে যেসব কাজ করানো হয়েছে সেগুলোর পূর্ণ বিবরণ শুনিয়ে দেবে:

-----------------------------------------------------------

এখানে এ প্রশ্ন দেখা দেয় যে, একদিকে আল্লাহ বলেন, আমি এদে র কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেবো এবং অন্যদিকে সূরা নূরের আয়াত বলেন, এদের কণ্ঠ সাক্ষ দেবে- এ দুটি বক্তব্যর মধ্যে কিভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা যাবে? এর জবাব হচ্ছে, কণ্ঠ রুদ্ধ করার অর্থ হলো, তাদের কথা বলার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া৷ অর্থাৎ এরপর তারা স্বেচ্ছায়, নিজেদের মর্জি মাফিক কথা বলতে পারবে না৷ আর কণ্ঠের সাক্ষদানের অর্থ হচ্ছে, পাপিষ্ঠ লোকেরা তাদেরকে কোন কোন কাজে লাগিয়েছিল, তাদের মাধ্যমে কেমন সব কুফরী কথা বলেছিল, কোন ধরনের মিথ্যা উচ্চারণ করেছিল, কতপ্রকার ফিতনা সৃষ্টি করেছিল এবং কোন কোন সময় তাদের মাধ্যমে কোন কোন কথা বলেছিল সেসব বিবরণ তাদের কণ্ঠ স্বতস্ফূর্তভাবে দিয়ে যেতে থাকবে৷
৫৬. কিয়ামতের চিত্র অংকন করার পর এখন এদেরকে জানানো হচ্ছে, এ কিয়ামত তো তোমাদের কাছে দূরের জিনিস বলে মনে হচ্ছে কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখো, এ দুনিয়ায় যে জীবনের জন্য তোমরা অহংকারে স্ফীত হচ্ছো, তোমরা কিভাবে আল্লাহর বিপুল শক্তির হাতে অসহায় হয়ে আছো! যে চোখের দৃষ্টিশক্তি কারণে তোমরা দুনিয়ার সমস্ত কাজ করে যাচ্ছো আল্লাহর একটিমাত্র ইশারায় তা অন্ধ হয়ে যেতে পারে৷ যে পায়ের ওপর ভর করে তোমরা এসব দৌড়াদৌড়ি ও চেষ্ঠা -তদবীর চালাচ্ছো, আল্লাহর একটিমাত্র হুকমে অকস্মাত তা অবশ হয়ে যেতে পারে৷ আল্লাহর দেয়া এ শক্তিগুলো যতক্ষণ কাজ করতে থাকে ততক্ষণ তোমরা আত্মশক্তির বিভ্রমে মশগুল হয়ে থাকো৷ কিন্তু যখন এদের মধ্য থেকে কোন একটি শক্তিও বিকল হয়ে পড়ে, তখন তোমাদের শক্তির বহর বুঝতে আর তোমাদের মোটেই বেগ পেতে হয় না৷