(৩৫:৮) এমন ১৫ ব্যক্তির বিভ্রান্তির কোন শেষ আছে কি) যার জন্য তার খারাপ কাজকে শোভন করে দেয়া হয়েছে এবং সে তাকে ভালা মনে করছে? ১৬ আসলে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্তিতে লিপ্ত করেন এবং তাকে চান সঠিক পথ দেখিয়ে দেন৷ কাজেই (হে নবী!) অযথা ওদের জন্য দুঃখে ও শোকে তুমি প্রাণপাত কর না৷ ১৭ ওরা যা কিছু করছে আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন৷ ১৮
(৩৫:৯) আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন তারপর তা মেঘমালা উঠায় এরপর আমি তাকে নিয়ে যাই একটি জনমানবহীন এলাকার দিকে এবং মৃত পতিত যমীনকে সঞ্জীবিত করে তুলি৷ মৃত মানুষদের বেঁচে ওঠাও তেমনি ধরনের হবে৷ ১৯
(৩৫:১০) যে সম্মান চায় তার জানা উচিত সমস্ত সম্মান একমাত্র আল্লাহরই৷ ২০ তাঁর কাছে শুধুমাত্র পবিত্র কথাই ওপরের দিকে আরোহণ করে এবং সৎকাজ তাকে ওপরে ওঠায়৷ ২১ আর যারা অনর্থক চালবাজী করে ২২ তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি এবং তাদের চালবাজী নিজেই ধ্বংস হবে৷
(৩৫:১১) আল্লাহ ২৩ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে তারপর শুক্র থেকে ২৪ এরপর তোমাদের জুটি বানিয়ে দিয়েছেন অর্থাৎ পুরুষ ও নারী৷ কোন নারী গর্ভধারণ এবং সন্তান প্রসব করলে কেবলমাত্র আল্লাহর জানা মতেই তা করে থাকে৷ কোন আয়ু লাভকারী আয়ু লাভ করলে এবং কার আয়ু কিছু কম করা হলে তা অবশ্যই একটি কিতাবে লেখা থাকে৷ ২৫ আল্লাহর জন্য এসব একদম সহজ৷ ২৬
(৩৫:১২) পানির দু’টি উৎস সমান নয়৷ ২৭ একটি সুমিষ্ট ও পিপাসা নিবারণকারী সুস্বাদু পানীয় এবং অন্যটি ভীষণ লবণাক্ত যা গলা ছিলে দেয়, কিন্তু উভয়টি থেকে তোমরা তরতাজা গোশত লাভ করে থাক, ২৮ পরিধান করার জন্য সৌন্দর্যের সরঞ্জাম বের কর৷ ২৯ এবং এ পানির মধ্যে তোমরা দেখতে থাক নৌযান তার বুক চিরে ভেসে চলছে, যাতে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং তার প্রতি কতৃজ্ঞ হও৷
(৩৫:১৩) তিনি দিনের মধ্যে রাতকে এবং রাতের মধ্যে দিনকে প্রবেশ করিয়ে নিয়ে আসেন৷ ৩০ চন্দ্র ও সূর্যকে তিনি অনুগত করে রেখেছেন৷ ৩১ এসব কিছু একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলে যাচ্ছে৷ এ আল্লাহই (এ সমস্তই যাঁর কাজ) তোমাদের রব, রাজত্ব তারই৷ তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য যাদেরকে তোমরা ডাকছো তারা তো একটি শুকনো ভূমির ৩২ অধিকারীও নয়৷
(৩৫:১৪) তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনতে পারে না এবং শুনলেও তোমাদের কোন জবাব দিতে পারে না৷ ৩৩ এবং কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে৷ ৩৪ প্রকৃত অবস্থান এমন সঠিক খবর একজন সর্বজ্ঞ ছাড়া কেউ তোমাদের দিতে পারে না৷ ৩৫
১৫. ওপরের দুটি প্যারাগ্রাফ সাধারণ জনগণকে সম্বোধন করে বলা হয়েছিল৷ এখন এ প্যারাগ্রাফ যেসব বিভ্রান্তির নায়করা নবী করীম (সা) এর দাওয়াতকে ব্যর্থ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল তাদের কথা বলা হচ্ছে৷
১৬. অর্থাৎ এমন এক ধরনের বিভ্রান্ত ও দুস্কৃতকারী লোক আছে যে খারাপ কাজ করে ঠিকই কিন্তু সে জানে এবং স্বীকার করে যে সে যা কিছু করছে খারাপই করছে৷ এ ধরনের লোককে বুঝালেও ঠিক হয়ে যেতে পারে এবং কখনো নিজের বিবেকের তাড়নায় ও সে সঠিক পথে চলে আসতে পারে৷ কারণ তার শুধুমাত্র অভ্যাসই বিগড়েছে, মন মানসিকতা বিগড়ে যায়নি৷ কিন্তু আর এক ধরনের দুস্কৃতকারী আছে, যার মন মানসিতকাই বিগড়ে গেছে৷ তার ভালমন্দের পার্থক্যবোধই খতম হয়ে গেছে৷ গোনাহের জীবন তার কাছে প্রিয় ও গৌরবময়৷ সৎকাজকে সে ঘৃনা করে এবং অসৎকাজকে যথার্থ সভ্যতা ও সংস্কৃতি মনে করে৷ সৎবৃত্তি ও তাকওয়াকে সে প্রাচীনত্ব এবং আল্লাহর হুকুম অমান্য করা ও অশ্লীল কাজ করাকে প্রগতিশীলতা মনে করে৷ তার দৃষ্টিতে হিদায়াত গোমরাহীতে এবং গোমরাহ হিদায়াতে পরিণত হয়৷ এ ধরনের লোকের ওপর কোন উপদেশ কার্যকর হয় না৷ সে নিজের নির্বুদ্ধিতার ওপর নিজেই সতর্ক হয় না এবং কেউ তাকে বোঝালেও বোঝে না৷ এ ধরনের লোকের পেছনে লেগে থাকা অর্থহীন৷ তাকে সৎপথে আনার চিন্তায় প্রাণপাত না করে সত্যের আহবায়ককে এমনসব লোকের প্রতি দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন যাদের বিবেক এখনো বেঁচে আছে এবং যারা সত্যের আহবানের জন্য নিজেদের মনের দুয়ার বন্ধ করে দেয়নি৷
১৭. আগের বাক্য এবং এ বাক্যের মাঝখানে আল্লাহ যাকে চান গোমরাহীতে লিপ্ত করেন এবং যাকে চান সঠিক পথ দেখান- একথা বলা পরিস্কারভাবে এ অর্থই প্রকাশ করছে যে, যারা এতদূর মানবিক বিকৃতির শিকার হয় আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন এবং পথহারা হয়ে এমন সব পথে ঘুরে বেড়াবার জন্য তাদেরকে ছেড়ে দেন যেসব ভুল পথে ঘুরে বেড়ানোর জন্য তারা নিজেরাই জিদ ধরে৷ এ সত্যটি বুঝিয়ে দেবার পর মহান আল্লাহ নবী করীম (সা) কে বলেন এ ধরনের লোকদেরকে সঠিক পথে আনার সামর্থ তোমার নেই কাজেই তাদের ব্যাপারে সবর করো এবং আল্লাহ যেমন তাদের পরোয়া করছেন না তেমনি তোমরাও তাদের অবস্থা দেখে দুঃখিত ও শোকাভিভূত হয়ো না৷

এ ক্ষেত্রে দুটি কথা ভালভাবে বুঝে নিতে হবে৷ এক, এখানে যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা সাধারণ লোক ছিল না৷ তারা ছিল মক্কা মু'আযযমার সরদার৷ তারা নবী করীম (সা) এর দাওয়াতকে ব্যর্থ করে দেবার জন্য সব রকমের মিথ্যা প্রতারণা ও ফন্দি-ফিকিরের আশ্রয় নিয়ে চলছিল৷ তারা আসলে নবী করীম (সা) সম্পর্কে কোন ভুল ধারণা করত না৷ তিনি কিসের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন এবং তার মোকাবিলায় তারা নিজেরা কোন ধরনের মূর্খতা ও নৈতিক দুষ্কৃতির প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট রয়েছে তা তারা ভালভাবে জানত৷ এসব কিছু জানার ও বুঝার পর ঠান্ডা মাথায় তাদের সিদ্ধান্ত এই ছিল যে, মুহাম্মাদ (সা) এর কথা চলতে দেয়া যাবে না৷ এ উদ্দেশ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট অস্ত্র এবং সবচেয়ে হীন হাতিয়ার ব্যবহার করতে তারা একটুও কুন্ঠিত ছিল না৷ এখন একথা সুষ্পষ্ট, যারা জেনে বুঝে এবং নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে প্রতিদিন একটি নতুন মিথ্যা রচনা করে এবং কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তা ছড়িয়ে বেড়ায় তারা সারা দুনিয়ার মানুষকে ধোকা দিতে পারে কিন্তু নিজেকে তো তারা মিথ্যুক বলে জানে এবং তাদের নিজেদের কাছে একথা গোপন থাকে না যে, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে তারা একটি অপবাদ দিয়েছে সে তা থেকে মুক্ত৷ তারপর যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ মিথ্যা হাতিয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে সে যদি এর জবাবে কখন সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে সরে গিয়ে কোন কথা না বলে তাহলে এ জালেমদের কাছে ও একথা কখনো গোপন থাকতে পারে না যে, তাদের মোকাবিলায় যিনি দাড়িয়ে আছেন তিনি একজন সত্যবাদী ও নিখাদ পুরুষ৷ এরপর ও নিজেদের কৃতকর্মের জন্য যারা এতটুকু লজ্জিত হয় না এবং অনবরত মিথ্যার মাধ্যমে সত্যের মোকাবিলা করে যেতে থাকে, তাদের এ নীতি নিজেই একথার সাক্ষ বহন করে যে, আল্লাহ লানত তাদের ওপর পড়েছে এবং ভালমন্দের কোন পার্থক্য বোধ তাদের মধ্যে নেই৷

দ্বিতীয় যে কথাটি এ প্রসংগে বুঝে নিতে হবে সেটি হচ্ছে এই যে, নিছক স্বীয় রসূল পাককে কাফেরদের প্রকৃত অবস্থা উপলদ্ধি করানই যদি আল্লাহর লক্ষ্য হত, তাহলে তিনি গোপনে কেবলমাত্র তাকেই একথা বুঝাতে পারতেন৷ এ উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে সুষ্পষ্ট অহীর মাধ্যমে তার উল্লেখের প্রয়োজন ছিল না৷ কুরআন মজীদে একথা বর্ণনা করবার এবং সারা দুনিয়ার মানুষকে তা শুনিয়ে দেবার উদ্দেশ্যই ছিল আসলে সাধারণ মানুষকে এই মর্মে সতর্ক করে দেয়া যে, যেসব নেতার পেছনে তোমরা চোখ বন্ধ করে ছুটে চলছো তারা কতখানি বিবৃত মানসিকতা সম্পন্ন লোক তাদের বেহুদা কাজকর্ম কেমন চিৎকার করে করে বলছে যে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত পড়েছে৷
১৮. আলোচ্য বাক্যটির মধ্যে এ স্বতস্ফূর্ত হুমকি প্রচ্ছন্ন রয়েছে যে, এমন একটি সময় আসবে যখন আল্লাহ তাদেরকে এসব কৃতকর্মের শাস্তি দেবেন৷ কোন শাসক যখন কোন অপরাধী সম্পর্কে বলেন, তার কাজ কর্মের আমি সব খবর রাখি তখন তার অর্থ কেবল এতটুকুই হয় না যে, শাসক তার কাজকর্ম সব জানেন এবং তার মধ্যে এ সতর্কবাণীও নিহিত থাকে যে, আমি তাকে শাস্তি দেবোই৷
১৯. অর্থাৎ এ মূর্খের দল আখেরাতকে অসম্ভব মনে করছে৷ তাই তারা নিজস্বভাবে এ চিন্তায় নিমগ্ন হয়েছে যে, দুনিয়ায় তারা যাই কিছু করতে থাকুক না কেন, তাদের জবাবদিহি করার জন্য আল্লাহর সামনে হাজির হবার সময়টি কখনো আসবে না৷ কিন্তু তারা যার মধ্যে নিমগ্ন আছে সেটি নিছক একটি খামখেয়ালি ছাড়া আর কিছুই নয়৷ কিয়ামতের দিন সমনের পেছনের সমস্ত মরা মানুষ মহান আল্লাহ একটিমাত্র ইশারায় সহসা ঠিক তেমনিভাবে জীবিত হয়ে উঠবে যেমন একবার বৃষ্টি হবার পর শুকনো জমি অকস্মাত সবুজ শ্যামল হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘকালের মৃত শিকড়গুলো সবুজ চারাগাছে রুপান্তরিত হয়ে মাটির বুক থেকে মাথা উঁচু করতে থাকে৷
২০. মনে রাখতে হবে, কুরাইশ সরদাররা নবী করীম (সা) কে মোকাবিলায় যা কিছু করছিল সবই ছিল তাদের নিজেদের ইজ্জত ও মর্যাদার খাতিরে৷ তাদের ধারনা ছিল, যদি মুহাম্মাদ (সা) এর কথা গৃহীত হয়ে যায় তাহলে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব তামাম আরব মুল্লুকে আমাদের যে মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত আছে তা মাটিতে মিশে যাবে৷ এরি প্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে, আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও কুফরী করে তোমরা নিজেদের যে মর্যাদা তৈরি করে রেখেছো এ তো একটি মিথ্যা ও ঠুনকো মর্যাদা৷ মাটিতে মিশে যাওয়াই এর ভাগ্যের লিখন৷ আসল ও চিরস্থায়ী মর্যাদা, দুনিয়া থেকে নিয়ে আখেরাত পর্যন্ত যা কখনো হীনতা ও লাঞ্ছনার শিকার হতে পারে না, তা বেবলমাত্র আল্লাহর বন্দেগীর মধ্যে পাওয়া যেতে পারে৷ তুমি যদি তার হয়ে যাও, তাহলে তাকে পেয়ে যাবে এবং যদি তার দিক থেকে মুখ ফিরয়ে নাও, তাহলে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে৷
২১. এ হচ্ছে মর্যাদা লাভ করার আসল উপায় ৷ আল্লাহর কাছে মিথ্যা, কলুষিত ও ক্ষতিকারক কথা কখনো উচ্চ মর্যাদা লাভ করে না ৷ তাঁর কাছে একমাত্র এমন কথা উচ্চ মর্যাদা লাভ করে যা হয় সত্য , পবিত্র-পরিচ্ছন্ন, বাস্তব ভিত্তিক, যার মধ্যে সদিচ্ছা সহকারে একটি ন্যয়নিষ্ঠ আকিদা-বিশ্বাস ও একটি সঠিক চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে ৷ তারপর একটি পবিত্র কথাকে যে জিনিসটি উচ্চ মর্যাদার দিকে নিয়ে যায় সেটি হচ্ছে কথা অনুযায়ী কাজ ৷ যেখানে কথা খুবই পবিত্র কিন্তু কাজ তার বিপরীত সেখানে কথার পবিত্রতা নিস্তেজ ও শক্তিহীন হয়ে পড়ে ৷ কেবলমাত্র মুখে কথার খই ফুটালে কোন কথা উচ্চ মর্যাদায উন্নীত হয় না বরং এ জন্য সৎকাজের শক্তিমত্তার প্রয়োজন হয় ৷ এখানে একথাও অনুধাবন করতে হবে যে, কুরআন মজীদ ভালো কথা ও ভালো কাজকে পরস্পরের অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য বিষয় হিসেবে পেশ করে৷ কোন কাজ নিছক ভালো হতে পারে না যতক্ষন না তার পেছনে থাকে ভালো আকীদা বিশ্বাস৷ আর কোন ভালো আকীদা-বিশ্বাস এমন অবস্থায় মোটেই নির্ভরযোগ্য হতে পারে না যতক্ষন না মানুষের কাজ তার প্রতি সমর্থন যোগায় এবং তার সত্যতা প্রমান করে৷ কোন ব্যক্তি যদি মুখে বলতে থাকে, আমি এক ও লা-শরীক আল্লাহকে মাবুদ বলে মানি কিন্তু কার্যত সে গাইরুল্লাহর ইবাদাত করে, তাহলে এ কাজ তার কথাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে৷ কোন ব্যক্তি যদি মুখে মদ হারাম বলতে থাকে এবং কার্যত মদ পান করে চলে, তাহলে শুধুমাত্র তার কথা মানুষের দৃষ্টিতেও গৃহীত হতে পারে না, আর আল্লাহর কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না৷
২২. অর্থাৎ বাতিল ও ক্ষতিকর কথা নিয়ে এগিয়ে আসে তারপর শঠতা ,প্রতারণা ও মনোমুদ্ধকর যুক্তির মাধ্যমে তাকে সামনের দিকে এগিয়ে দেবার চেষ্টা করে এবং তার মোকাবেলায় সত্য ও হক কথাকে ব্যর্থ করার জন্য সবচেয়ে খারাপ ব্যবস্থা আবলম্বন করতেও পিছপা হয় না ৷
২৩. এখান থেকে আবার কথার মোড় সাধারণ মানুষের দিকে ঘুরে যাচ্ছে৷
২৪. অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টি প্রথমে সরাসরি মাটি থেকে করা হয় তারপর তার বংশধারা চালান হয় তার বীর্য থেকে৷
২৫. অর্থাৎ যে ব্যক্তিই দুনিয়ায় জন্মলাভ করে তার সম্পর্কে প্রথমেই লিখে দেয়া হয় সে দুনিয়ায় কত বছর বাঁচবে৷ কেউ দীর্ঘায়ু হলে তা হয় আল্লাহর হুকুমে এবং স্বল্পায়ু হলেও হয় আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ী৷ কতিপয় অজ্ঞ ও মূর্খ লোক এর জবাবে এ যুক্তি পেশ করে থাকে যে, পূর্বে নবজাত শিশুদের মৃত্যুহার ছিল বেশী এবং বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি এ মৃত্যুহার কমিয়ে দিয়েছে৷ পূর্বে লোকদের গড় আয়ু ছিল কম, বর্তমানে চিকিৎসা উপকরণ বৃদ্ধির ফলে আয়ূ দীর্ঘায়িত হতে শুরু হয়েছে৷ কিন্তু এ যুক্তি কুরআন মজীদের এ বর্ণনার প্রতিবাদে কেবলমাত্র তখনই পেশ করা যেতে পারতো যখন কোন উপায়ে আমরা জানতে পারতাম, যেমন উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ অমুক ব্যক্তির আয়ু লিখেছিলেন দু বছর এবং আমাদের চিকিৎসা উপকরণ তার মধ্যে একদিনের সময় বৃদ্ধি করে দিয়েছে৷ এ ধরনের কোন জ্ঞান যদি কারো কাছে না থেকে থাকে, তাহলে সে কোন সংগত ভিত্তিতে কুরআনের এ উক্তির প্রতিবাদ করতে পারে না৷সংখ্যাতত্ব ও গণনার দিক দিয়ে শিশু মৃত্যুর হার এখন কমে গেছে অথবা আগের তুলনায় লোকেরা বেশী আয়ুর অধিকারী হচ্ছে, নিছক এই তথ্যের ভিত্তিতে একথা বলা যায় না যে, মানুষ এবার আল্লাহর ফায়সালা বদলে দেবার শক্তি অর্জন করেছে৷ আল্লাহ বিভিন্ন যুগে জন্মলাভকারী মানুষের আয়ু বিভিন্নভাবে নির্ধারণ করেছেন এতে অযৌক্তিক কি আছে? এবং এটিও মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর ফায়সালা যে, অমুক যুগে মানুষকে অমুক রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা দান করা হবে এবং অমুক যুগে মানুষকে জীবনী শক্তি বৃদ্ধির অমুক উপায় দান করা হবে৷
২৬. অর্থাৎ এত অসংখ্য সৃষ্টার ব্যাপারে এত বিস্তারিত জ্ঞান থাকা এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এত বিস্তারিত বিধান দেয়া ও ফায়সালা করা আল্লাহর জন্য মোটেই কোন কঠিন কাজ নয়৷
২৭. অর্থাৎ পানির একটি উৎস যা সমুদ্রগুলোর সমন্বয়ে গড় উঠেছে এবং পানির দ্বিতীয় উৎসটি গড়ে উঠেছে নদী, ঝরণা, হ্রদ ইত্যাদির সমন্বয়ে৷
২৮. অর্থাৎ জলজ প্রাণীর গোশত৷
২৯. অর্থাৎ মুক্তা, প্রবাল এবং কোন কোন নদী- সাগর থেকে হীরা ও সোনা৷
৩০. অর্থাৎ দিনের আলো ধীরে ধীরে নিভে যেতে থাকে এবং রাতের আধার বেড়ে যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি তাকে ঢেকে ফেলে৷ এভাবে রাতের শেষ দিকে দিগন্তে হালকা আলো রেখা জেগে ওঠে৷ তারপর আস্তে আস্তে তা অগ্রসর হতে হতে আলোকোজ্জ্বল দিনে পরিণত হয়৷
৩১. অর্থাৎ একটি নিয়ম ও বিধানের অধীন করে রেখেছেন৷
৩২. মূলে "কিতমীর" শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ কিতমীর বলা হয় খেজুরের আঁটির গায়ে জড়ান পাতলা ঝিল্লি বা আবরণকে৷ কিন্তু আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে একথা বলা যে, মুশরিকদের মাবুদ ও উপাস্যরা কোন তুচ্ছ নগন্য জিনিসেরও মালিক নয়৷ তাই শাব্দিক তরজমা বাদ দিয়ে আমি এখানে ভাব-তরজমা করেছি৷
৩৩. এর অর্থ এ নয় যে, তারা তোমাদের দোয়ার জবাবে তোমাদের দোয়া কবুল করা হয়েছে বা হয়নি একথা চিৎকার করে বলতে পারে না৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে, তারা তোমাদের আবেদনের ভিত্তিতে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে না৷ কোন ব্যক্তি নিজের আবেদন যদি এমন কোন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেয় যে শাসনকর্তা নয়, তাহলে তার আবেদন ব্যর্থ হয়ে যায়৷ কারণ তা যার কাছে পাঠানো হয়েছে তার হাতে আদতে কোন ক্ষমতাই নেই৷ প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণ করার কোন ইখতিয়ার তার নেই তবে এই একই আবেদন আবার যদি যথার্থ শাসনকর্তার কাছে পাঠানো হয়, তাহলে এর ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে কোন না কোন পদক্ষেপ গৃহীত হবেই৷ তা গৃহীতও হতে পারে আবার প্রত্যাখ্যাতও৷
৩৪. অর্থাৎ তারা পরিষ্কার বলে দেবে, আমরা কখনো এদেরকে বলিনি, আমরা আল্লাহর শরীক এবং তোমরা আমাদের ইবাদাত করো৷ বরং আমরা এও জানতাম না যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের সাথে শরীক করছে এবং আমাদের কাছে প্রার্থনা করছে৷ এদের কোন প্রার্থনা আমাদের কাছে আসেনি এবং এদের কোন নজরানা ও উৎসর্গ আমাদের হস্তগত হয়নি৷
৩৫. সর্বজ্ঞ বলে আল্লাহকেই বুঝনো হয়েছে৷ অর্থাৎ অন্য কোন ব্যক্তি বড় জোর বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি প্রমাণ পেশ করে শিরক খন্ডন ও মুশরিকদের মাবুদদের শক্তিহীনতা বর্ণনা করবে৷ কিন্তু আমি সরাসরি প্রকৃত অবস্থা জানি৷ আমি নির্ভুল জ্ঞানের ভিত্তিতে তোমাদের জানাচ্ছি, লোকেরা যাদেরকেই আমার সার্বভৌম কর্তৃত্বের মধ্যে স্বাধীন ক্ষমতা সম্পন্ন করে রেখেছে তারা সবাই ক্ষমতাহীন৷ তাদের কাছে এমন কোন শক্তি নেই যার মাধ্যমে তারা কারো কোন কাজ সফল বা ব্যর্থ করে দিতে পারে৷ আমি সরাসরি জানি, কিয়ামতের দিন মুশরিকদের এসব মাবুদরা নিজেরাই তাদের শিরকে প্রতিবাদ করবে৷