(৩:৬৪) বলঃ ৫৬ হে আহলি কিতাব! এসো এমন একটি কথার দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই ধরনের ৷৫৭ তা হচ্ছেঃ আমরা আল্লাহ ছাড়া কারোর বন্দেগী ও দাসত্ব করবো না৷ তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবো না৷ আর আমাদের কেউ আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও নিজের রব হিসেবে গ্রহন করবে না ৷ যদি তারা এ দাওয়াত গ্রহণ করতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে পরিষ্কার বলে দাওঃ ‘‘তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা অবশ্যি মুসলিম (একমাত্র আল্লাহর বন্দেগী ও আনুগত্যকারী)৷’’
(৩:৬৫) হে আহলি কিতবা ! তোমরা ইবরাহীমের ব্যাপারে আমার সাথে ঝগড়া করছো কেন? তাওরাত ও ইনজীল তো ইবরাহীমের পরে নাযিল হয়েছে৷ তাহলে তোমরা কি এতকুটু কথাও বুঝো না ? ৫৮
(৩:৬৬) তোমরা যেসব বিষয়ের জ্ঞান রাখো সেগুলোর ব্যাপারে বেশ বিতর্ক করলে, এখন আবার সেগুলোর ব্যাপারে বিতর্ক করতে চললে কেন যেগুলোর কোন জ্ঞান তোমাদের নেই ? আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না৷
(৩:৬৭) ইবরাহীম ইহুদী ছিল না, খৃস্টানও ছিল না বরং সে তো ছিল একজন একনিষ্ঠ মুসলিম ৫৯ এবং সে কখনো মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিল না ৷ ইবরাহীমের যারা অনুসরণ করেছে তারাই তার সাথে ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক রাখার অধিকারী ৷
(৩:৬৮) আর এখন এই নবী এবং এর ওপর যারা ঈমান এনেছে তারাই এই সম্পর্ক রাখার বেশী অধিকারী৷ আল্লাহ কেবল তাদেরই সমর্থক ও সাহায্যকারী যারা ঈমান এনেছে৷
(৩:৬৯) (হে ঈমানদারগণ !) আহলি কিতাবদের মধ্য থেকে একটি দল যে কোন রকমের তোমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত করতে চায়৷ অথচ তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকেই বিপথগামী করছে না৷ কিন্তু তারা এটা উপলব্ধি করে না ৷
(৩:৭০) হে আহ্‌লি কিতাব! কেন আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করছো, অথচ তোমরা নিজেরাই তা প্রত্যক্ষ করছো ? ৬০
(৩:৭১) হে আহলি কিতাব ! কেন সত্যের গায়ে মিথ্যার প্রলেপ লাগিয়ে তাকে সন্দেহযুক্ত করে তুলছো ? কেন জেনে বুঝে সত্যকে গোপন করছো?
৫৬. এখান থেকে তৃতীয় ভাষন শুরু হচ্ছে৷ এর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করলে মনে হয় এটা বদর ও ওহোদের যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে নাযিল হয়েছিল৷ কিন্তু এ তিনটি ভাষণের মধ্যে অর্থের দিক দিয়ে ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক পাওয়া যায়৷ যার ফলে শূরার শুরু থেকে নিএয় এখান পর্যন্ত কোথাও বক্তব্যের মধ্যে কোন সম্পর্কচ্ছেদ ঘটেনি৷ এ জন্য কোন কোন তাফসীরকার সন্দেহ করেছেন যে, এই পরবর্তী আয়াতগুলোও নাজরানের প্রতিনিধিদলের সাথে সম্পর্কিত ভাষণেরই অংশবিশেষ৷ কিন্তু এখান থেকে যে ভাষন শুরু হচ্ছে তার ধরন দেখে পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে যে, এখানে ইহুদীদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে৷
৫৭. অর্থাৎ এমন একটি বিশ্বাসের প্রশ্নে একমত হয়ে যাও, যার প্রতি আমরা ঈমান এনেছি এবং তোমরাও যার নির্ভুলতা অস্বীকার করতে পারো না৷ তোমাদের নবীদের এ বিশ্বাসের কথাই প্রচারিত হয়েছে৷ তোমাদের পবিত্র কিতাবগুলোতে এরি শিক্ষা দেয়া হয়েছে৷
৫৮. অর্থাৎ তোমাদের ইহুদীবাদ ও খৃষ্টাবাদ তাওরাত ও ইনজীল নাযিলের পরে সৃষ্টি হয়েছে৷ আর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যে ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন সেটি ইহুদীবাদ ও খৃষ্টবাদ ছিল না৷ এরপর যদি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সত্য-সঠিক পথে থেকে থাকেন এবং নাজাত লাভ করে থাকেন, তাহলে নিসন্দেহে একথা প্রমাণ হয় যে, মানুষের সত্য-সঠিক পথে থাকা ইহুদীবাদ ও খৃষ্টবাদের অনুসৃতির ওপর নির্ভরশীল নয়৷ (সূরা আল বাকারার ১৩৫ ও ১৪১ টীকা দেখুন)
৫৯. আসলে এখানে ‍‍‍‌'হানীফ' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ এ অর্থ হয় এমন ব্যক্তি যেসব দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে একটি বিশেষ পথে চলে৷ এই অর্থটিকেই আমরা 'একনিষ্ঠ মুসলিম' শব্দের মধ্যে আনার চেষ্টা করেছি৷
৬০. এ বাক্যটির আর একটি অনুবাদও হতে পারে৷ সেটি হচ্ছে, ''তোমরা নিজেরা সাক্ষ দিচ্ছো" উভয় অবস্থাতেই মূল অর্থের ওপর কোন প্রভাব পড়ে না৷ আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জীবন,সাহাবায়ে কেরামের জীবনের ওপর তাঁর শিক্ষা ও অনুশীলনের বিস্ময়কর প্রভাব এবং কুরআনের উন্নতমানের বিষয়বস্তু এসবগুলোই মহান আল্লাহর এমনি উজ্জ্বল নিদর্শন ছিল৷ যা দেখার পর নবী-রসূলদের অবস্থা ও আসমানী কিতাবসমূহের ধারাবিবরণীর সাথে পরিচিত ব্যক্তি মাত্রেরই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার ছিল৷ কাজেই অনেক আহলি কিতাব (বিশেষ করে তাদের আলেম সমাজ) একথা জেনে নিয়েছিল যে, পূর্ববর্তী নবীগণ যে নবীর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম সেই নবী৷ এমন কি কখনো কখনো সত্যের প্রবল শক্তির চাপে বাধ্য হয়ে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্যতা ও তাঁর উপস্থাপিত শিক্ষাকে সত্য বলে স্বীকার করে নিতো৷ এ জন্যই কুরআন বার বার তাদের বিরুদ্ধে ও অভিযোগ এনেছে যে, তোমরা নিজেরাই আল্লাহর যেসব নিদর্শনের সত্যতার সাক্ষ দিচ্ছো, সেগুলোকে তোমরা নিজেদের মানসিক দুস্কৃতিপরায়তার কারণে ইচ্ছা করেই মিথ্যা বলছো কেন?