(৩:৪২) তারপর এক সময় এলো, ফেরেশতারা মারয়ামের কাছে এসে বললোঃ হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, তোমাকে পবিত্রতা দান করেছেন এবং সারা বিশ্বের নারী সমাজের মধ্যে তোমাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের সেবার জন্য বাছাই করে নিয়েছেন৷
(৩:৪৩) হে মারয়াম! তোমার রবের ফরমানের অনুগত হয়ে থাকো৷ তাঁর সামনে সিজদানত হও এবং যেসব বান্দা তাঁর সামনে অবনত হয় তুমিও তাদের সাথে অবনত হও৷
(৩:৪৪) হে মুহাম্মাদ ! এসব অদৃশ্য বিষয়ের খবর, অহীর মাধ্যমে আমি এগুলো তোমাকে জানাচ্ছি৷ অথচ তুমি সেখানে ছিলে না, যখন হাইকেলের সেবায়েতরা মারয়ামের তত্ত্বাবধায়ক কে হবে একথার ফায়সালা করার জন্য নিজেদের কলম নিক্ষেপ করছিল৷৪৩ আর তুমি তখনো সেখানে ছিলো না যখন তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল৷
(৩:৪৫) যখন ফেরেশতারা বললঃ ‘‘হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে তাঁর একটি ফরমানের সুসংবাদ দান করেছেন ৷ তার নাম হবে মসীহ ঈসা ইবনে মারয়াম৷ সে দুনিয়ায় ও আখেরাতে সম্মানিত হবে ৷ আল্লাহর নৈকট্যলাভকারী বান্দাদের অন্তরভুক্ত হবে ৷
(৩:৪৬) দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সেও মানুষের সাথে কথা বলবে এবং সে হবে সৎব্যক্তিদের অন্যতম৷’’
(৩:৪৭) একথা শুনে মারয়াম বললোঃ ‘‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার সন্তান কেমন করে হবে? আমাকে তো কোন পুরুষ স্পর্শও করেনি৷’’ জবাব এলোঃ ‘‘এমনটিই হবে ৷ ৪৪ আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন ৷ তিনি যখন কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তখন কেবল এতটুকুই বলেন, হয়ে যাও, তাহলেই তা হয়ে যায়৷’’
(৩:৪৮) (ফেরেশতারা আবার তাদের আগের কথার জের টেনে বললোঃ ) ‘‘আর আল্লাহ তাকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন , তাওরাত ও ইনজীলের জ্ঞান দান করবেন
(৩:৪৯) এবং নিজের রসূল বানিয়ে ইসরাঈলদের কাছে পাঠাবেন৷’’ ( আর বনী ইসরাঈলদের কাছে রসূল হিসেবে এসে সে বললোঃ ) ‘‘আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নিশানী নিয়ে এসেছি ৷ আমি তোমাদের সামনে মাটি থেকে পাখির আকৃতি বিশিষ্ট একটি মূর্তি তৈরী করছি এবং তাতে ফুৎকার দিচ্ছি, আল্লাহর হুকুমে সেটি পাখি হয়ে যাবে৷ আল্লাহর হুকুমে আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করি এবং মৃতকে জীবিত করি৷ আমি তোমাদের জানিয়ে দিচ্ছি, তোমরা নিজেদের গৃহে কি খাও ও কি মওজুদ করো৷ এর মধ্যে তোমাদের জন্য যথেষ্ঠ নিশানী রয়েছে, যদি তোমরা ঈমানদার হও৷৪৫
(৩:৫০) আমি সেই শিক্ষা ও হিদায়াতের সত্যতা ঘোষণা করার জন্য এসেছি, যা বর্তমানে আমার যুগে তাওরাতে আছে ৷৪৬ আর তোমাদের জন্য যেসব জিনিস হারাম ছিল তার কতকগুলো হালাল করার জন্য আমি এসেছি ৷৪৭ দেখো, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে আমি নিশানী নিয়ে এসেছি ৷ কাজেই আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো৷
(৩:৫১) আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব৷ কাজেই তোমরা তার বন্দেগী করো৷ এটিই সোজাপথ৷৪৮
(৩:৫২) যখন ঈসা অনুভব করলো, ইসরাঈল কুফরী ও অস্বীকার করতে উদ্যেগী হয়েছে, সে বললোঃ ‘‘কে হবে আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী? হাওয়ারীগণ ৪৯ বললোঃ আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী৷৫০ আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি ৷ সাক্ষী থাকো, আমরা মুসলিম ( আল্লাহর সামনে আনুগত্যের শির নতকারী) ৷
(৩:৫৩) হে আমাদের মালিক! তুমি যে ফরমান নাযিল করেছ, আমরা তা মেনে নিয়েছি এবং রসূলের আনুগত্য কবুল করে নিয়েছি৷ সাক্ষ্যদানকারীদের মধ্যে আমাদের নাম লিখে নিয়ো৷’’
(৩:৫৪) তারপর বনী ইসরাঈল ( ঈসার বিরুদ্ধে) গোপন চক্রান্ত করতে লাগলো৷ জবাবে আল্লাহও তাঁর গোপন কৌশল খাটালেন ৷ আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠতম কুশলী৷
৪৩. অর্থাৎ লটারী করছিল৷ এই লটারী করার প্রয়োজন দেখা দেবার কারণ এই ছিল যে, হযরত মারয়ামের মাতা হাইকেলে আল্লাহর কাজ করার জন্য মারয়ামকে উৎসর্গ করেছিলেন৷ আর তিনি মেয়ে হবার কারণে হাইকেলের খাদেম ও সেবায়েতদের মধ্য থেকে তাঁর তত্ত্বাবধায়ক ও অভিভাবক নিযুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷
৪৪. অর্থাৎ কোন পুরুষ তোমাকে স্পর্শ না করলেও তোমার সন্তান হবে৷ এখানে যে 'এমনটি হবে' (--------) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের জবাবেও এই একই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল৷ সেখানে এর যে অর্থ ছিল এখানেও সেই একই অর্থ হওয়াই উচিত৷ তা ছাড়া পরবর্তী বাক্য বরং পূর্বাপর সমস্ত বর্ণনাই এই অর্থ সমর্থন করে যে, কোন প্রকার যৌন সংযোগ ছাড়াই হযরত মারয়ামকে সন্তান জন্মের সুসংবাদ দেয়া হয়েছিল৷ আর আসলে এভাবেই হযরত ঈসার (আ) জন্ম হয়েছিল৷ নয়তো দুনিয়ার আর দশটি স্ত্রীলোক যেভাবে সন্তান জন্ম দেয় সেভাবে পরিচিত স্বাভাবিক পদ্ধতিতে যদি হযরত মারয়ামের গর্ভে সন্তান জন্ম নেবার ব্যাপারটি ঘটে থাকতো এবং যদি প্রকৃতপক্ষে হযরত ঈসা (আ) ঐভাবেই জন্মগ্রহণ করে থাকতেন , তাহলে ৪ রুকূ' থেকে ৬ রুকূ' পর্যন্ত যে বর্ণনা চলে আসছে তা পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে যায় এবং ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম সংক্রান্ত আর যে সমস্ত বর্ণনা আমরা কুরআনের আরো বিভিন্ন স্থানে পাই তাও নিরর্থক হয়ে পড়ে ৷ পিতার ঔরস ছাড়াই অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে হযরত ঈসার (আ) জন্ম হয়েছিল বলেই না খৃষ্টানরা তাঁকে 'আল্লাহর পুত্র' ও ইলাহ মনে করেছিল৷ আর একজন কুমারী মেয়ে সন্তান প্রসব করেছে, এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেই তো ইহুদীরা তাঁর প্রতি দোষারোপ করেছিল৷ যদি এটা আদতে কোন সত্য ঘটন্ই না হয়ে থাকে, তাহলে ঐ দু'টি দলের চিন্তার প্রতিবাদ প্রসংগে কেবল এতটুকু বলে দেয়াই যথেষ্ট হতো যে, তোমরা ভুল বলছো, সে মেয়েটি ছিল বিবাহিতা, ওমুক ব্যক্তি ছিল তার স্বামী এবং তারই ঔরসে ঈসার জন্ম হয়েছিল৷ এই সংক্ষিপ্ত চুম্বক কথা ক'টি বলার পরিবর্তে এতো দীর্ঘ ভূমিকা ফাঁদার, পেঁচিয়ে কথা বলার এবং সোজাসুজি উমুক ব্যক্তির পুত্র ঈসা বলার পরিবর্তে মারয়ামের পুত্র ঈসা বলার কি প্রয়োজন ছিল? এর ফলে তো বিষয়টি সহজে মীমাংসা হওয়ার পরিবর্তে আরো জটিল হয়ে পড়েছে৷ কাজেই যারা কুরআনকে আল্লাহর কালাম বলে মানে এবং এরপর ঈসা আল্লাইহিস সালাম সম্পর্কে একথা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, স্বাভাবিকভাবে মাতা পিতার মিলনের ফলে তাঁর জন্ম হয়েছিল, তারা আসলে একথা প্রমাণ করেন যে, মনের কথা প্রকাশ করা ও নিজের বক্তব্য সুস্পষ্ট করে তুলে ধরার যতটুকু ক্ষমতা তাদের আছে, আল্লাহর ততটুকু নেই (মা'আযাল্লাহ)৷
৪৫. অর্থাৎ যদি তোমরা হককে মেনে নিতে প্রস্তুত হয়ে যাও এবং হঠধর্মী না হও, তাহলে সমগ্র বিশ্ব-জাহানের স্রষ্টা ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ যে আমাকে পাঠিয়েছেন, এ বিষয়টি মেনে নেবার এবং এ ব্যাপারে তোমাদের নিশ্চিন্ত করার জন্য এই নিশানীগুলোই যথেষ্ট৷
৪৬. অর্থাৎ আমি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছি এটি তার আর একটি প্রমাণ৷ যদি আমি তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত না হতাম বরং একজন মিথ্যা দাবীদার হতাম, তাহলে আমি নিজেই একটি ধর্ম তৈরী করে ফেলতাম এবং দক্ষতা সহকারে তোমাদের আগের পুরাতন ধর্ম থেকে বিচুত করে নিজের নতুন উদ্ভাবিত ধর্মের দিকে টেনে আনার প্রচেষ্টা চালাতাম৷ কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীরা আমার পূর্বে যেসব দীন এনেছিলেন আমি তো সেই আসল দীনকে মানি এবং তার শিক্ষাকে সঠিক গণ্য করি৷

বর্তমানে প্রচলিত ইনজীল থেকেও একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, মূসা আলাইহিস সালাম ও অন্যান্য নবীগণ যে দীনের প্রচার করেছিলেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালামও সেই একই দীনের প্রচারক ছিলেন৷ যেমন মথির বর্ণনা মতে পাহাড় থেকে প্রদত্ত ভাষণে ঈসা আলাইহিস সালাম পরিষ্কার বলেনঃ

''একথা মনে করো না যে, আমি তাওরাত বা নবীদের কিতাব রহিত করতে এসেছি৷ রহিত করতে নয় বরং সম্পূর্ণ করতে এসেছি৷'' (৫:১৭)৷

একজন ইহুদী আলেম হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন, দীনের বিধানের মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য হুকুম কোন্‌টি? জবাবে তিনি বললেনঃ

'' তোমরার সমস্ত অন্ত:করণ তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়ে তোমার ইশ্বর প্রভুকে প্রেম করবে৷ এটি মহৎ ও প্রথম হুকুম ৷ আর দ্বিতীয়টি এর তুল্য; তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে৷ এই দু'টি হুকুমের ওপরই সমস্ত তাওরাত ও নবী রসূলদের সহীফা ও গ্রন্থসমূহ নির্ভরশীল৷''´(মথি ২২: ৩৭-৪০)

আবার হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর শিষ্যদের বলেনঃ

‍‍'' ধর্মগুরু ও ফরীসীরা মূসার আসনে বসেছে৷ তারা তোমাদের যা কিছু বলে তা পালন করো ও মানো৷ কিন্তু তাদের মতো কাজ করো না৷ কারণ তারা বলে কিন্তু করে না৷'' (মথি ২৩: ২-৩)৷
৪৭. অর্থাৎ তোমাদের মূর্খদের কাল্পনিক বিশ্বাস, ফকীহদের আইনের চুলচেরা বিশ্লেষন, বৈরাগ্যবাদীদের কৃচ্ছ্রসাধনা এবং অমুসলিম জাতিদের তোমাদের ওপর প্রাধান্য ও শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে তোমাদের আল্লাহ প্রদত্ত আসল শরীয়াতের ওপর যেসব বিধি বন্ধনের বাড়তি বোঝা আরোপিত হয়েছে, আমি সেগুলো রহিত করবো এবং আল্লাহ যেগুলো হালাল বা হারাম গণ্য করেছেন সেগুলোই আমি তোমাদের জন্য হালাল ও হারাম গণ্য করবো৷
৪৮. This shows that as with the other Prophets, the fundamental points of Jesus' mission were the following:

(1) Man should acknowledge- the exclusive sovereignty of God which demands absolute service and obedience to Him, and Him alone. This principle serves as the basis for the entire structure of human morality and social behaviour.

(2) Man should obey the Prophets since they are the representatives of the true Sovereign.

(3) The Law which should regulate man's conduct by elaborating what is right and what is wrong should be none other than the Law of God. The laws devised by others should be abrogated. There is, thus, no difference between the missions of Jesus, Moses and Muhammad (peace be on them all). Those who think that the missions of the Prophets differ from one another and who believe that their objectives vary have fallen into serious error. Whoever is sent by the Lord of the Universe to His creatures can have no other purpose than to dissuade God's subjects from disobeying Him and assuming an attitude of vanity and disregard towards Him, and to admonish them against associating anyone with God in His divinity (that is, either holding anyone to be a partner with the Lord of the Universe in His Sovereignty or recognizing others beside God as having a rightful claim on part of man's loyalty, devotion and worship), and to invite them all to be loyal to, and to serve, obey and worship God alone.

It is unfortunate that the Gospels in their present form do not offer as clear a picture of the mission of Jesus as that presented by the Qur'an. Nevertheless, we find scattered throughout the Gospels all the three fundamentals mentioned above. The notion that man ought to submit himself totally to God is embodied in the following statement:

'You shall worship the Lord your God and Him only shall you serve' (Matthew 4: 10).

In addition, Jesus believed that the object of his efforts was that God's commands relating to the moral realm should be obeyed in this world in the sphere of human conduct just as His commands about the operation of the physical universe are obeyed in the heavens: 'Thy kingdom come,

Thy will be done,

On earth as it is in heaven' (ibid., 6: 10).

The fact that Jesus presented himself as a Prophet and a representative of the Kingdom of Heaven, and that in this capacity he asked people to follow him is borne out by several statements. When, for instance, he began his mission in Nazareth and when his own kith, kin and compatriots turned against him, he remarked: 'A prophet is not without honour except in his own country . . .' (Matthew 13: 57; see also Luke 4: 24 and Mark 6: 4). And when conspiracies were hatched in Jerusalem to put an end to his life, and people counselled him to go away, he replied: 'Nevertheless I must go on my way . . . for it cannot be that a prophet should perish away from Jerusalem' (Luke 13: 33). When Jesus entered Jerusalem for the last time the disciples cried with a loud voice: 'Blessed be the King who comes in the name of the Lord' (Luke 19: 38). This angered the Pharisees, who asked Jesus to rebuke his disciples. But he replied: 'I tell you, if these were silent the very stones would cry out' (ibid., 19: 40). On another occasion he said: 'Come to me, all who labour and are heavy laden, and I will give you rest. Take my yoke upon you. For my yoke is easy, and my burden is light' (Matthew 11: 28-30).

The fact that he invited people to obey the Laws of God rather than the laws made by man is evident from his response (found in both Matthew and Mark) to the objection raised by the Pharisees to the conduct of their disciples who ate with defiled hands, that is, without washing.

'Well did Isiah prophesy of you hypocrites, as it is written:

This people honours me with their lips,

but their heart is far from me;

in vain do they worship me,

teaching as doctrines the precepts of men.'

And he said to them: 'You have a fine way of rejecting the commandment of God in order to keep your tradition. For Moses said, "Honour your father and your mother", and "He who speaks evil of his father or mother, let him surely die", but you say, "If a man tells his father or mother what you would have gained from me is Corban (that is, given to God), and then you no longer permit him to do anything for his father or mother, thus making void the word of God through your tradition which you hand on"' (Mark 7: 6-13; see also Matthew 15: 2-9).
৪৯. 'হাওয়ারী' শব্দটি আমাদের এখানে 'আনসার' শব্দের কাছাকাছি অর্থ বহন করে৷ বাইবেলে সাধারণভাবে হাওয়ারীর পরিবর্তে 'শিষ্যবৃন্দ' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ কোন কোন স্থানে তাদের 'রসূল'ও বলা হয়েছে৷ কিন্তু রসূল এই অর্থে যে, ঈসা আলাইহিস সালাম তাদেরকে দীন প্রচারের জন্য পাঠাতেন৷ আল্লাহ তাদেরকে রসূল হিসেবে নিযুক্ত করেছেন, এই অর্থে রসূল বলা হয়নি৷
৫০. ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে অংশ গ্রহণকে কুরাআন মজীদের অধিকাংশ স্থানে ''আল্লাহকে সাহায্য করা " হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এটি অবশ্যি একটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ বিষয়৷ জীবনের যে পরিসরে আল্লাহ মানুষকে ইচ্ছা ও সংকল্পের স্বাধীনতা দান করেছেন সেখানেই তিনি নিজের খোদায়ী শক্তি ব্যবহার করে কুফর বা ঈমান, বিদ্রোহ বা আনুগত্যের মধ্য থেকে কোন একটির পথ অবলম্বন করার জন্য মানুষকে বাধ্য করেননি৷ এর পরিবর্তে তিনি যুক্তি ও উপদেশের সাহায্য নিয়েছেন৷ এভাবে তিনি মানুষের কাছ থেকে এই স্বতষ্ফুর্ত স্বীকৃতি আদায় রতে চেয়েছেন যে, অস্বীকৃতি, নাফরমানী ও বিদ্রোহ করার স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও তার জন্য নিজের স্রষ্টার দাসত্ব, আনুগত্য ও বন্দেগীর পথ অবলম্বন করাই প্রকৃত সত্য এবং এটিই তার সাফল্য ও নাজাতের পথ৷ এভাবে প্রচার, উপদেশ ও নসীহতের সাহায্যে মানুষকে সত্য সঠিক পথে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করাই আল্লাহর কাজ৷ আর যেসব লোক এই কাজে আল্লাহকে সাহায্য করে তাদেরকেই আল্লাহর সাহায্যকারী গণ্য করা হয়৷ আল্লাহর কাছে মানুষের এটিই সবোর্চ্চ মর্যাদা৷ নামায, রোযা এবং অন্যান্য যাবতীয় ইবাদাত বন্দেগীতে মানুষ নিছক বান্দা ও গোলামদের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত থাকে৷ কিন্তু দীনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম-সাধনার মাধ্যমে সে আল্লাহর সাহায্যকারী ও সহযোগীর মহান মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়৷ এই দুনিয়ার রূহানী ও আধ্যাত্মিক উন্নতির শিখরে অভিষিক্ত হবার এটিই উচ্চতম মর্যাদা ও মকাম৷