(৩:৩১) হে নবী! লোকদের বলে দাওঃ ‘‘যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোহাহ মাফ করে দেবেন ৷ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷’’ তাদেরকে বলোঃ আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করো৷
(৩:৩২) তারপর যদি তারা তোমাদের এ দাওয়াত গ্রহণ না করে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ এমন লোকদের ভালোবাসবেন না, যারা তাঁর ও তাঁর রসূলদের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে৷২৮
(৩:৩৩) আল্লাহ ২৯ আদম, নূহ, ইবরাহীমের বংশধর ও ‘ইমরানের বংশধরদেরকে ৩০ সমগ্র বিশ্ববাসীর ওপর প্রাধান্য দিয়ে (তাঁর রিসালতের জন্য) মনোনীত করেছিলেন ৷
(৩:৩৪) এরা সবাই একই ধারায় অন্তরগত ছিল, একজনের উদ্ভব ঘটেছিল অন্যজনের বংশ থেকে৷ আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন ৷৩১
(৩:৩৫) (তিনি তখন শুনছিলেন ) যখন ইমরানের মহিলা ৩২ বলছিলঃ ‘‘হে আমার রব ! আমার পেটে এই যে সন্তানটি আছে এটি আমি তোমাদের জন্য নজরনা দিলাম, সে তোমার জন্য উৎসর্গ হবে৷ আমার এই নজরানা কবুল করে নাও৷ তুমি সবকিছু শোনো ও জানো৷’’৩৩
(৩:৩৬) তারপর যখন সেই শিশু কন্যাটি তার ওখানে জন্ম নিল, সে বললোঃ ‘‘হে আমার প্রভু! আমার এখানে তো মেয়ে জন্ম নিয়েছে৷ অথচ সে যা প্রসব করেছিল তা আল্লাহর জানাই ছিল৷ --আর পুত্র সন্তান কন্যা সন্তানের মতো হয় না ৷৩৪ যা হোক আমি তার নাম রেখে দিলাম মারয়াম ৷ আর আমি তাকে ও তার ভবিষ্যৎ বংশধরদেরকে অভিশপ্ত শয়তানের ফিতনা থেকে রক্ষার জন্য তোমরা আশ্রয়ে সোপর্দ করছি৷’’
(৩:৩৭) অবশেষে তার রব কন্যা সন্তানটিকে সন্তুষ্টি সহকারে কবুল করে নিলেন, তাকে খুব ভালো মেয়ে হিসেবে গড়ে তুললেন এবং যাকারিয়াকে বানিয়ে দিলেন তার অভিভাবক ৷ যাকারিয়া ৩৫ যখনই তার কাছে মিহরাবে ৩৬ যেতো, তার কাছে কিছু না কিছু পানাহার সামগ্রী পেতো৷ জিজ্ঞেস করতোঃ ‘‘মারয়াম এগুলো তোমরা কাছে কোথা থেকে এলো?’’ সে জবাব দিতোঃ আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে৷ আল্লাহ যাকে চান, বেহিসেব দান করেন ৷
(৩:৩৮) এ অবস্থা দেখে যাকারিয় তার রবের কাছে প্রার্থনা করলোঃ ‘‘ হে আমার রব! তোমরা বিশেষ ক্ষমতা বলে আমাকে সৎ সন্তান দান করো৷ তুমিই প্রার্থনা শ্রবণকারী’’৷৩৭ যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন৷
(৩:৩৯) তখন এর জবাবে তাকে ফেরেশতাগণ বললোঃ ‘‘আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়ার ৩৮ সুসংবাদ দান করেছেন৷ সে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ফরমানের ৩৯ সত্যতা প্রমাণকারী হিসেবে আসবে৷ তার মধ্যে নেতৃত্ব ও সততার গুণাবলী থাকবে৷ সে পরিপূর্ণ সংযমী হবে, নবুওয়াতের অধিকারী হবে এবং সৎকর্মশীলদের মধ্যে গণ্য হবে৷’’
(৩:৪০) যাকারিয়া বললোঃ ‘‘হে আমার রব ! আমার সন্তান হবে কেমন করে? আমি তো বুড়ো হয়ে গেছি এবং আমার স্ত্রী তো বন্ধা৷’’ জবাব এলোঃ ‘‘এমনটিই হবে৷৪০ আল্লাহ যা চান তাই করেন৷
(৩:৪১) আরজ করলোঃ ‘‘হে প্রভু ! তাহলে আমার জন্য কোন নিশানী ঠিক করে দাও৷’’৪১জবাব দিলেনঃ ‘‘নিশানী হচ্ছে এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত মানুষের সাথে ইশারা-ইংগিত ছাড়া কোন কথা বলবে না৷ এই সময়ে নিজের রবকে খুব বেশী করে ডাকো এবং সকাল সাঁঝে তার ‘তাস্‌বীহ করতে থাকো৷’’৪২
২৮. প্রথম ভাষণটি এখানেই শেষ হয়েছে৷ এর বিষয়বস্তু, বিশেষ করে এর মধ্যে বদরযুদ্ধের দিকে যে ইংগিত করা হয়েছে, তার বর্ণনাভংগী সম্পর্কে চিন্তা করলে এই ভাষণটি বদর যুদ্ধের পরে এবং ওহোদ যুদ্ধের আগে অর্থাৎ ৩ হিজরীতে নাযিল হয়েছিল বলে প্রবল ধারণা জন্মাবে৷ মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাকের বর্ণনা থেকে সাধারণ লোকদের এই ভুল ধারণা হয়েছে যে, এই সূরার প্রথম ৮টি আয়াত নাজরানের প্রতিনিধি দলের আগমেনর সময় হিজরী ৯ সনে নাযিল হয়েছিল৷ কিন্তু প্রথমত এই ভূমিকা হিসেবে প্রদত্ত ভাষনটির বিষয়বস্তু পরিষ্কারভাবে একথা তুলে ধরেছে যে, এটি তার অনেক আগেই নাযিল হয়ে থাকবে৷ দ্বিতীয়, মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের রেওয়ায়াতে একথা পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, নাজরানের প্রতিনিধিদলের আগমেনর সময় কেবলমাত্র হযরত ইয়াহ্‌ইয়া আল্লাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের বর্ণনা সম্বলিত ৩০ টি বা তার চেয়ে কিছু বেশী আয়াত নাযিল হয়েছিল৷
২৯. এখান থেকে দ্বিতীয় ভাষণটি শুরু হচ্ছে৷ নবম হিজরী সনে নাজরানের খৃষ্টীয় প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধি দল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাযির হবার পর এ অংশটি নাযিল হয়েছিল৷ হিজায ও ইয়ামনের মাঝখানে নাজরান এলাকা অবস্থিত৷ সে সময় এ এলাকায় ৭২টি জনপদ ছিল ৷ বলা হয়ে থাকে,এই জনপদগুলো থেকে সে সময় এক লাখ বিশ হাজার যুদ্ধ করার যোগ্যতা সম্পন্ন জওয়ান বের হয়ে আসতে পারতো৷ এলাকার সমগ্র অধিবাসীই ছিল খৃস্টান৷ তিনজন দলনেতার অধীনে তারা শাসিত হতো৷ একজনকে বলা হতোঃ আকেব ৷ তিনি ছিলেন জাতীয় প্রধান৷ দ্বিতীয়জনকে বলা হতো সাইয়েদ৷ তিনি জাতির তামাদ্দুনিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো দেখাশুনো করতেন৷ তৃতীয়জনকে বলা হতো: উসকুফ্ (বিশপ)৷ তিনি ছিলেন ধর্মীয় বিষয়ের ভারপ্রাপ্ত৷ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কা বিজয়ের পর যখন সমগ্র আরববাসীর মনে এ বিশ্বাস জন্মালো যে, দেশের ভবিষ্যৎ এখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে তখন আরবের বিভিন্ন এলাকা থেকে তার কাছে প্রতিনিধি দলের আগমন হতে লাগলো৷ এই সময় নাজরানের তিনজন দলনেতাও ৬০ জনের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে মদীনায় পৌঁছেন৷ তারা যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিল ন৷ তখন প্রশ্ন ছিল, তারা ইসলামগ গ্রহণ করবে, না যিম্মী হয়ে থাকবে৷ এ সময় মহান আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এ ভাষণটি নাযিল করেন৷ এর মাধ্যমে নাজরানের প্রতিনিধি দলেনর সামনে ইসলামের দাওয়াত পেশ করার ব্যবস্থা করা হয়৷
৩০. ইমরান ছিল হযরত মূসা ও হারুনের পিতার নাম৷ বাইবেলে তাঁকে ''আমরাম'' বলা হয়েছে৷
৩১. খৃষ্টানদের ভ্রষ্টতার প্রধানতম কারণ এই যে,তারা হযরত ঈসাকে (আ) আল্লাহার বান্দা ও নবী হবার পরিবর্তে তাঁকে আল্লাহর পুত্র ও আল্লাহর কর্তৃত্বে অংশীদার গণ্য করে৷ তাদের বিশ্বাসের এই মৌলিক গলদটি দূর করতে পারলে সঠিক ও নির্ভুল ইসলামের দিকে তাদের ফিরিয়ে আনা অনেক সহজ হয়ে যায়৷ তাই এই ভাষনের ভূমিকা এভাবে ফাঁদা হয়েছে: আদম, নূহ, ইবরাহীমের বংশের ও ইমরানের বংশের সকল নবীই ছিলেন মানুষ৷ একজনের বংশে আর একজনের জন্ম হয়েছে৷ তাদের কেউ খোদা ছিলেন না৷ তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, আল্লাহর তার দীনের প্রচার ও দুনিয়াবাসীর সংশোধনের জন্য তাদেরকে মনোনীত করেছিলেন৷
৩২. 'ইমরানের মহিলা' শব্দের অর্থ এখানে যদি ইমরানের স্ত্রী ধরা হয়, তাহলে বুঝতে হবে এখানে সেই ইমরানের কথা বলা হয়নি যার প্রসংগে ইতিপূর্বে উল্লেখিত হয়েছে৷ বরং ইনি ছিলেন হযরত মারয়ামের (আ) পিতা৷ সম্ভবত এ নাম ছিল ইমরান৷ আর 'ইমরানের মহিলা' শব্দের অর্থ যদি ধরা হয় ইমরান বংশের মহিলা, তাহলে হযরত মারয়ামের (আ) মা ইমরান বংশের মেয়ে ছিলেন একথাই বুঝতে হবে৷ কিন্তু এই দু'টি অর্থের মধ্য থেকে কোন একটিকে চূড়ান্তভাবে অগ্রাধিকার দেবার জন্য কোন তথ্য মাধ্যম আমাদের হাতে নেই৷ কারণ হযরত মারয়ামের পিতা কে ছিলেন এবং তাঁর মাতা ছিলেন কোন বংশের মেয়ে- এ বিষয়ে ইতিহাসে কোন উল্লেখ নেই৷ তবে হযরত ইয়াহ্‌ইয়ার মাতা ও হযরত মারয়ামের মাতা পরস্পর আত্মীয় ছিলেন, এই বর্ণনাটি যদি সঠিক বলে মেনে নেয়া হয়, তাহলে ইমরান বংশের মেয়ে-ই হবে ''ইমরানের মহিলা" শব্দের সঠিক অর্থ৷ কারণ লুক লিখিত ইনজীলে আমরা সুস্পষ্টভাবে পাই যে, হযরত ইয়াহ্‌ইয়ার মাতা হযরত হারুনের বংশধর ছিলেন৷ (লুক:৫)
৩৩. অর্থাৎ তুমি নিজের বান্দাদের প্রার্থনা শুনে থাকো এবং তাদের মনের অবস্থা জানো৷
৩৪. অর্থাৎ মেয়েরা এমন অনেক প্রাকৃতিক দুর্বলতা ও তামাদ্দুনিক বিধি-নিষেধের আওতাধীন থাকে, যেগুলো থেকে ছেলেরা থাকে মুক্ত৷ কাজেই ছেলে জন্ম নিলে আমি যে উদ্দেশ্যে নিজের সন্তান তোমার পথে উৎসর্গ করতে চেয়েছিলাম, তা ভালোভাবে পূর্ণ হতো৷
৩৫. এখান থেকে সেই সময়ের আলোচনা শুরু হয়েছে যখন হযরত মারায়াম প্রাপ্ত বয়স্কা হলেন, তাঁকে বাইতুল মাকদিসের ইবাদাতগাহে (হাইকেল) পৌঁছিয়ে দেয়া হলো এবং সেখানে তিন দিন-রাত আল্লাহর যিকিরে মশগুল হয়ে গেলেন৷ শিক্ষা ও অনুশীলন দানের জন্য তাকে হযরত যাকারিয়ার অভিভাবকত্বে সোপর্দ করা হয়েছিল৷ আত্মীয়তার সম্পর্কের দিক দিয়ে সম্ভবত হযরত যাকারিয়া ছিলেন তার খালু৷ তিনি হাইকেলের অন্যতম পুরোহিত ছিলন৷ এখানে সেই যাকারিয়া নবীর কথা বলা হয়নি৷ যাকে হত্যা করার ঘটনা বাইবেলের ওল্‌ড টেস্টামেন্টে উল্লেখিত হয়েছে৷
৩৬. মেহরাব শব্দটি বলার সাথে সাথে লোকদের দৃষ্টি সাধারণত আমাদের দেশে মসজিদে ইমামের দাঁড়াবার জন্য যে জায়গাটি তৈরী করা হয় সেদিকে চলে যায়৷ কিন্তু এখানে মেহরাব বলতে সে জায়গাটি বুঝানো হয় নি৷ খৃষ্টান ও ইহুদীদের গীর্জা ও উপাসনালয়গুলোতে মূল উপাসনা গৃহের সাথে লাগোয়া ভূমি সমতল থেকে যথেষ্ট উঁচুতে যে কক্ষটি তৈরী করা হয়, যার মধ্যে উপাসনালয়ের খাদেম, পুরোহিত এতেকাফকারীরা অবস্থান করে, তাকে মেহরাব বলা হয়৷ এই ধরনের একটি কামরায় হযরত মারয়াম এতেকাফ করছিলেন৷
৩৭. হযরত যাকারিয়া (আ) সে সময় পর্যন্ত নি:সন্তান ছিলন৷ এই যুবতী পুন্যবতী মেয়েটিকে দেখে স্বভাবতই তার মনে এ আকাংখা জন্ম নিল: আহা, যদি আল্লাহ আমাকেও এমনি একটি সৎসন্তান দান করতেন৷ আর আল্লাহর তার অসীম কুদরাতের মাধ্যমে যেভাবে এই সংসার ত্যাগী, নিসংগ, কক্ষবাসিনী মেয়েটিকে আহার যোগাচ্ছেন৷ তা দেখে তার মনে আশা জাগে যে, আল্লাহ চাইলে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাকে সন্তান দিতে পারেন৷
৩৮. বাইবেলে এর নাম লিখিত হয়েছে, খৃষ্ট ধর্মে দীক্ষাদাতা-জোন (John The Baptist) ৷ তাঁর অবস্থা জানার জন্য দেখুন, মথি : ৩, ১১, ১৪ অধ্যায়; মার্ক: ১, ৬ অধ্যায় এবং লুক: ১, ৩ অধ্যায়৷
৩৯. আল্লাহর 'ফরমান' বলতে এখানে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে বুঝানো হয়েছে৷ যেহেতু তাঁর জন্ম হয়েছিল মহান আল্লাহর একটি অস্বাভাবিক ফরমানের মাধ্যমে অলৌকিক বিষয় হিসেবে, তাই কুরআন মজীদে তাঁকে ''কালেমাতুম মিনাল্লাহু" বা আল্লাহর ফরমান বলা হয়েছে৷
৪০. অর্থাৎ তোমরা বার্ধক্য ও তোমরা স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব সত্ত্বেও আল্লাহ তোমাকে পুত্র সন্তান দান করবেন৷
৪১. অর্থাৎ এমন নিশানী বলে দাও, যার ফলে একজন জরাজীর্ণ বৃদ্ধ ও বন্ধা বৃদ্ধার ঘরে পুত্র সন্তান জন্ম নেবার মতো বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ঘটনাটি ঘটার খবরটি আগাম জানতে পারি৷
৪২. খৃষ্টানরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে 'আল্লাহর পুত্র' ও 'খোদা' বলে বিশ্বাস করে যে ভুল করে চলেছে, সেই বিশ্বাস ও আকীদাগত ভুলটি সুষ্পষ্ট করে তুলে ধরাই এই ভাষনটির মূল্য উদ্দেশ্য৷ সূচনায় হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের কথা বলার কারণ হচ্ছে এই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম যেমন অলৌকিক পদ্ধতিতে হয়েছিল, ঠিক তেমনি তার থেকে মাত্র ছয় মাস আগে একই পরিবারে আর একটি অলৌকিক পদ্ধতিতে হযরত ইয়াহ্‌ইয়ার জন্ম হয়েছিল৷ এর মাধ্যমে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ খৃস্টনাদের একথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, ইয়াহ্ইয়ার অলৌকিক জন্ম যদি তাকে খোদা ও উপাস্য পরিণত না করে থাকে তাহলে ঈসার নিছক অস্বাভাবিক জন্মপদ্ধতি কিভাবে তাকে 'ইলাহ' 'খোদা'র আসনে বসিয়ে দিতে পারে?