(৩:১৮১) আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন যারা বলে, আল্লাহ গরীব এবং আমরা ধনী৷১২৮ এদের কথাও আমি লিখে নেবো এবং এর আগে যে পয়গাম্বরদেরকে এরা অন্যায়ভাবে হত্যা করে এসেছে তাও এদের আমলনামায় বসিয়ে দেয়া হয়েছে৷ (যখন ফায়সালার সময় আসবে তখন) আমি তাদেরকে বলবোঃ এই নাও , এবার জাহান্নামের আযাবের মজা চাখো!
(৩:১৮২) এটা তোমাদের হাতের উপার্জন ৷ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য জালেম নন৷
(৩:১৮৩) যারা বলেঃ আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা কাউকে রসূল বলে স্বীকার করবো না যতক্ষণ না তিনি আমাদের সামনে এমন কুরবানী করবেন যাকে আগুন ( অদৃশ্য থেকে এসে) খেয়ে ফেলবে৷ তাদেরকে বলোঃ আমার আগে তোমাদের কাছে অনেক রসূল এসেছেন, তারা অনেক উজ্জ্বল নিদর্শন এনেছিলেন এবং তোমরা যে নিদর্শনটির কথা বলছো সেটিও তারা এনেছিলেন৷ এ ক্ষেত্রে (ঈমান আনার জন্য এ শর্ত পেশ করার ব্যাপারে ) যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে ঐ রসূলদেরকে তোমরা হত্যা করেছিলে কেন? ১২৯
(৩:১৮৪) এখন, হে মুহাম্মাদ ! যদি এরা তোমাদের মিথ্যা বলে থাকে, তাহলে তোমরা পূর্বে বহু রসূলকে মিথ্যা বলা হয়েছে৷ তারা স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, সহীফা ও আলোদানকারী কিতাব এনেছিলে৷
(৩:১৮৫) অবশেষে প্রত্যেক ব্যক্তিকে মরতে হবে এবং তোমরা সবাই কিয়ামতের দিন নিজেদের পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবে৷ একমাত্র সেই ব্যক্তিই সফলকাম হবে, যে সেখানে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে এবং যাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে ৷ আর এ দুনিয়াটা তো নিছক একটা বাহ্যিক প্রতারণার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়৷১৩০
(৩:১৮৬) (হে মুসলমানগণ!) তোমাদের অবশ্যি ধন ও প্রাণের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে এবং তোমরা আহলি কিতাব ও মুশরিকদের থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে৷ যদি এমন অবস্থায় তোমরা সবর ও তাকওয়ার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো ১৩১ তাহলে তা হবে বিরাট সাহসিকতার পরিচায়ক ৷
(৩:১৮৭) এ আহলি কিতাবদের সেই অংগীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দাও, যা আল্লাহ তাদের থেকে নিয়েছিলেন ৷ তাতে বলা হয়েছিলঃ তোমরা কিতাবের শিক্ষা মানুষের মধ্যে প্রচার করবে, তা গোপন করতো পারবে না ৷১৩২ কিন্তু তারা কিতাবকে পিছনে ফেলে রেখেছে এবং সামান্য দামে তা বিক্রি করে দিয়েছে৷ কতই না নিকৃষ্ট কারবার তারা করে যাচ্ছে!
১২৮. এটা ইহুদীদের কথা৷ কুরআনে যখন আল্লাহর এ বক্তব্য উচ্চারিত হলোঃ ------ (কে আল্লাহকে ভালো ঋণ দেবে?) তখন ইহুদীরা এক বিদ্রুপ করে বলতে লাগলোঃ হ্যাঁ, আল্লাহ গরীব হয়ে গেছেন, এখন তিনি বান্দার কাছে ঋণ চাচ্ছেন ৷
১২৯. বাইবেলর বিভিন্ন স্থানে একথা বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে কোন কুরবানী গৃহীত হবার আলামত এই ছিল যে, গায়েব থেকে একটি আগুন এসে তাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতো৷ (বিচারকর্তৃগণ ৬: ২০-২১, ১৩:১৯-২০) এ ছাড়াও বাইবেলে এ আলোচনাও এসেছে যে, কোন কোন সময় কোন নবী পোড়া জিনিস কুরবানী করতেন এবং অদৃশ্য থেকে একটি আগুণ এসে তা খেয়ে ফেলতো৷ (লেবীয় পুস্তক ৯: ২৪ এবং ২-বংশাবলী ৯: ১-২) কিন্তু বাইবেলের কোথাও এ ধরনের কুবরানীকে নবুওয়াতের অপরিহার্য আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বা একথাও বলা হয়নি যে, যে ব্যক্তিকে এ মুজিযাটি দেয়া হয়নি সে নবী হতে পারে না৷ এটা ছিল নিছক ইহুদীদের একটি মনগড়া বাহানাবাজী৷ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত অস্বীকার করার জন্য তারা এ বাহানাবাজীর আশ্রয় নিয়েছিল৷ কিন্তু এদের সত্য বিরোধিতার এর চাইতেও বড় প্রমাণ রয়েছে৷ বনী ইসরাঈলদের মধ্যেও এমন কোন কোন নবী ছিলেন যারা এ অগ্নিদগ্ধ কুরবানীর মুজিযা দেখিয়েছিলেন; কিন্তু এরপরও এ পেশাগত অপরাধী লোকেরা তাদেরকে হত্যা করতে দ্বিধা করেনি৷ দৃষ্টান্ত স্বরূপ হযরত ইলিয়াসের কথা বলা যায়৷ বাইবেলে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ তিনি বা'ল পূজারীদেরকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, সাধারণ লোকদের সমাবেশে তোমরা একটি গরু কুরবানী করবে এবং আমিও একটি গরু কুরবানী করবো, অদৃশ্য আগুণ যার কুরবানী খেয়ে ফেলবে সে-ই সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে প্রমাণিত হবে৷ কাজেই একটি বিপুল জনসমাবেশে এ মোকাবিলাটি হয়৷ অদৃশ্য আগুণ হযরত ইলিয়াসের কুরবানী খেয়ে ফেলে৷কিন্তু এরপরও ইসরাঈলী বাদশাহর বা'ল পূজারী বেগম হযতর ইলিয়াসের শত্রু হয়ে যায়৷ স্ত্রৈণ বাদশাহ নিজের বেগমের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত হয়৷ ফলে বাধ্য হয়ে তাঁকে দেশ ত্যাগ করে সাইনা উপদ্বীপের পার্বত্য অঞ্চলে আশ্রয় নিতে হয়৷ (১-রাজাবলী ১৮ ও ১৯) এ জন্য বলা হয়েছে : ওহে সত্যের দুশমনরা! তোমরা কোন মুখে অগ্নিদগ্ধ কুরবানীর মুজিযা দেখতে চাচ্ছো? যেসব পয়গম্বর ও মুজিযা দেখিয়েছিলেন,তোমরা কি তাদেরকে হত্যা করতে বিরত হয়েছিলে?
১৩০. অর্থাৎ এ দুনিয়ার জীবনে বিভিন্ন কাজের যে ফলাফল দেখা যায় তাকেই যদি কোন ব্যক্তি আসল ও চূড়ান্ত ফলাফল বলে মনে করে এবং তারই ভিত্তিতে সত্য-মিথ্যা ও কল্যাণ-অকল্যাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে, তাহলে সে আসলে মারাত্মক প্রতারণার শিকার হবে ৷ এখানে কারো ওপর অনুগ্রহ ও নিয়ামত বর্ষিত হতে থাকলে তা থেকে একথা প্রমান হয় না যে, সে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছে এবং আল্লাহর দরবারে তার কার্যকলাপ গৃহীত হয়েছে৷ অনুরূপভাবে এখানে কোন ব্যক্তির ওপর বিপদ নেমে এলে এবং সে মহাসংকটের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হলে তা থেকে অনিবার্যভাবে ধারণা করা যাবে না যে, সে মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং আল্লাহর দরবারে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ প্রাথমিক পর্যায়ের ফলাফলগুলো চিরন্তন জীবনের পর্যায়ের চূড়ান্ত ফলাফল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নতর হয়৷ আর আসলে এ শেষ ফলাফলই নির্ভরযোগ্য৷
১৩১. অর্থাৎ তাদের গালিগালাজ, মিথ্যা দোষারোপ, বেহুদা কথাবার্তা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় অধৈর্য হয়ে তোমরা এমন কোন কথা বলতে শুরু করো না, যা সত্য, সততা, ন্যায় ইনসাফ, শিষ্টাচার শালীনতা ও নৈতিকতা বিরোধী৷
১৩২. অর্থাৎ কোন কোন নবীকে অদৃশ্য আগুনে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়া কুরবানীর নিশানী হিসেবে দেয়া হয়েছিল, একথা তারা মনে রেখেছে৷ কিন্তু আল্লাহ নিজের কিতাব তাদের হাতে সোপর্দ করার সময় তাদের থেকে কি অংগীকার নিয়েছিলেন এবং কোন মহাদায়িত্বের বোঝা তাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়েছিলেন, সেকথা তারা ভুলে গেছে৷

এখানে যে অংগীকারের কথা বলা হয়েছে, বাইবেলের বিভিন্ন স্থানে তার উল্লেখ দেখা যায়৷ বিশেষ করে বাইবেলরে দ্বিতীয় বিবরণ পুস্তকে হযরত মূসার (আ) যে শেষ ভাষনটি উদ্ধৃত হয়েছে তাতে তাঁকে বার বার বনী ইসরাঈলদের থেকে নিম্নোক্ত অংগীকারটি নিতে দেখা যায়ঃ

যে বিধান আমি তোমাদের কাছে পৌছিয়ে দিয়েছি তা নিজেদের মনের পাতায় খোদাই করে নাও৷ তোমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদেরকে সেগুলো শিখিয়ে দিয়ো৷ ঘরে বসে থাকা ও পথে চলা অবস্থায় এবং ওঠা, বসা ও শয়ন করার সময় সেগুলোর চর্চা করো৷ নিজেদের ঘরের চোকাঠে ও বাইরের দরজার গায়ে সেগুলো লিখে রাখো৷ (৬:৪-৯) তারপর নিজের সর্বশেষ উপদেশ তিনি তাকিদ দিয়ে বলেনঃ ফিলিস্তীন সীমান্তে প্রবেশকরার পর সর্বপ্রথম যে কাজটি করবে সেটি হচ্ছে এই যে, ইবাল পর্বতের্ ওপর বড় বড় শিলা খণ্ড স্থাপন করে তার গায়ে তাওরাতের বিধানগুলি খোদাই করে দেবে৷ (২৭:২-৪) এ ছাড়াও তিনি বনী লেভীকে এক খণ্ড তাওরাত গ্রন্থ দিয়ে এ নির্দেশ জারী করেন যে, প্রতি সপ্তম বছরের ‌‌‌‌‌'ঈদে খিয়াম' এর সময় জাতির নারী-পুরুষ শিশু সবাইকে বিভিন্ন স্থানে সমবেত করে সমস্ত তাওরাত গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ তাদেরকে শোনাতে থাকবে৷ কিন্তু এরপরও আল্লাহর কিতাব থেকে বনি ইসরাঈলরা দিনের পর দিন গাফিল হয়ে যেতে থাকে৷ এমনকি হযরত মূসার (আ) ইন্তিকালের সাতশো বছর পর হাইকেলে সুলাইমানীর গদীনশীন এবং জেরুসালেমের ইহুদী শাসনকর্তা পর্যন্তও জানতেন না যে, তাদের তাওরাত নামের একটি কিতাব আছে৷ (২-রাজাবলী ২২: ৮-১৩)