(৩:১৪৯) হে ঈমানদারগণ ! যদি তোমরা তাদের ইশারায় চলো, যারা কুফরীর পথ অবলম্বন করেছে, তাহলে তারা তোমাদের উল্টোদিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ১০৮ এবং তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৷
(৩:১৫০) ( তাদের কথা ভুল) প্রকৃত সত্য এই যে , আল্লাহ তোমাদের সাহায্যকারী এবং তিনি সবচেয়ে ভালো সাহায্যকারী ৷
(৩:১৫১) শীঘ্রই সেই সময় এসে যাবে যখন আমি সত্য অস্বীকারকারীদের মনের মধ্যে বিভীষিকা সৃষ্টি করে দেবো৷ কারণ তারা আল্লাহর সাথে তাঁর খেদায়ী কর্তৃত্বে অংশীদার করে, যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোন প্রমাণপত্র অবর্তীণ করেননি৷ তাদের শেষ আবাস জাহান্নাম এবং ঐ জালেমদের ভাগ্যে জুটবে অত্যন্ত খারাপ আবাসস্থল৷
(৩:১৫২) আল্লাহ তোমাদের কাছে ( সাহায্য ও সমর্থনদানের ) যে ওয়াদা করেছিলেন, তা পূর্ণ করেছেন৷ শুরুতে তাঁর হুকুমে তোমরাই তাদেরকে হত্যা করেছিলে৷ কিন্তু যখন তোমরা দুর্বলতা দেখালে এবং নিজেদের কাজে পারস্পারিক মতবিরোধে লিপ্ত হলে আর যখনই আল্লাহ তোমাদের সেই জিনিস দেখালেন যার ভালোবাসায় তোমরা বাঁধা ছিলে ( অর্থাৎ গনীমাতের মাল), তোমরা নিজেদের নেতার হুকুম অমান্য করে বসলে, কারণ তোমাদের কিছু লোক ছিল দুনিয়ার প্রত্যাশী আর কিছু লোকের কাম্য ছিল আখেরাত, তখনই আল্লাহ কাফরদের মোকাবিলায় তোমাদেরকে পিছিয়ে দিলেন, তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য৷ তবে যথার্থই আল্লাহ এরপরও তোমাদের মাফ করে দিয়েছেন ৷ ১০৯ কারণ মুমিনদের প্রতি আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহের দৃষ্টি রাখেন৷
(৩:১৫৩) স্মরণ করো, যখন তোমরা পালাবার কাজে এমনই ব্যস্ত ছিলে যে, কারোর দিকে ফিরে তাকাবার হুঁশও কারো ছিল না এবং রসূল তোমাদের পেছনে তোমাদের ডাকছিল৷১১০ সে সময় তোমাদের এহেন আচরণের প্রতিফল স্বরুপ আল্লাহ তোমাদের দিলেন দুঃখের পর দুঃখ৷১১১ এভাবে তোমরা ভবিষ্যতে এই শিক্ষা পাবে যে, যা কিছু তোমাদের হাত থেকে বের হয়ে যায় অথবা যে বিপদই তোমাদের ওপর নাযিল হয়, সে ব্যাপারে দুঃখিত হবে না৷ আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপ সম্পর্কে জানেন৷
(৩:১৫৪) এ দুঃখের পর আল্লাহ তোমাদের কিছু লোককে আবার এমন প্রশান্তি দান করলেন যে, তারা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লো ৷১১২ কিন্তু আর একটি দল, নিজের স্বার্থই ছিল যার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, আল্লাহ সম্পর্কে নানান ধরনের জাহেলী ধারণা পোষণ করতে থাকলো, যা ছিল একেবারেই সত্য বিরোধী ৷ তারা এখন বলেছে, এই কাজ পরিচালনার ব্যাপারে আমাদেরও কি কোন অংশ আছে ? তাদেরকে বলে দাও, “(কারো কোন অংশ নেই,) এ কাজেই সমস্ত ইখতিয়ার রয়েছে এক মাত্র আল্লাহর হাতে”৷ আসলে এরা নিজেদের মনের মধ্যে যে কথা লুকিয়ে রেখেছে তা তোমাদের সামনে প্রকাশ করে না৷ এদের আসল বক্তব্য হচ্ছে, যদি (নেতৃত্ব) ক্ষমতায় আমাদের কোন অংশ থাকতো, তাহলে আমরা মারা পড়তাম না৷ ওদেরকে বলে দাও , যদি তোমরা নিজেদের গৃহে অবস্থান করতে তাহলেও যাদের মৃত্যু লেখা হয়ে গিয়েছিল, তারা নিজেরাই নিজেদের বধ্যভূমির দিকে এগিয়ে আসতো৷ আর এই যে বিষয়টি সংঘটিত হলো, এটি এ জন্য ছিল যে, তোমাদের বুকের মধ্যে যা কিছু গোপন রয়েছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করে নেবেন এবং তোমাদের মনের মধ্যে যে গলদ রয়েছে তা দূর করে দেবেন ৷ আল্লাহ মনের অবস্থা খুব ভালো করেই জানেন৷
(৩:১৫৫) তোমাদের মধ্য থেকে যারা মোকাবিলার দিন পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল তাদের এ পদস্খলনের কারণ এই ছিল যে, তাদের কোন কোন দুর্বলতার কারণ শয়তান তাদের পা টলিয়ে দিয়েছিল ৷ আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ৷ আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও সহনশীল৷
১০৮. অর্থাৎ যে কুফরীর অবস্থা থেকে তোমরা বের হয়ে এসেছো, তারা আবার তোমাদের সেখানেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়৷ ওহোদের পরাজয়ের পর মুনাফিক ও ইহুদীরা মুসলমানদের মধ্যে একথা প্রচার করার চেষ্টা করছিল যে, মুহাম্মাদ (সা) যদি সত্যি সত্যিই আল্লাহর নবী হয়ে থাকেন, তাহলে যুদ্ধে পরাজিত হলেন কেন? তিনি তো একজন সাধারণ লোক৷ তাঁর অবস্থাও সাধারণ লোকদের থেকে আলাদা নয়৷ আজকে জিতে গেলেন আবার কালকে হেরে গেলেন৷ এই তাঁর অবস্থা৷ তিনি তোমাদেরকে আল্লাহর যে সাহায্য ও সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়ে রেখেছেন, তা নিছক একটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়৷ (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)
১০৯. অর্থাৎ তোমরা যে মারাত্মক ভূল করেছিলে আল্লাহ যদি তা মাফ করে না দিতেন, তাহলে এখন আর তোমাদের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যেতো না৷ মহান আল্লাহ অনুগ্রহ ও মেহেরবানীর ফলে এবং তাঁর সাহায্য ও সহায়তার বদৌলতেই তোমাদের শত্রুরা তোমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা লাভ করার পরও নিজেদের চেতনা ও সম্বিত হারিয়ে ফেলেছিল এবং বিনা কারণে নিজেরাই পিছে হটে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে চলে গিয়েছিল৷
১১০. যখন মুসলমানদের ওপর হঠাৎ একই সময় দু'দিক থেকে আক্রমণ হলো এবং তাদের সারিগুলো ভেঙে চারদিকে বিশৃংখলা অবস্থায় ছড়িয়ে পড়লো তখন কিছু লোক মদীনার দিকে পালাতে লাগলেন এবং কিছু ওহোদ পাহাড়ের ওপর উঠে গেলেন৷ কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জায়গা থেকে এক ইঞ্চিও সরে গেলেন না৷ চারদিক থেকে শত্রুদের আক্রমণ হচ্ছিল৷ তার চারদিকে ছিলমাত্র দশ বারোজন লোকের একটি ছোট্ট দল৷ এহেন সংগীণ অবস্থায়ও আল্লাহর নবী পাহাড়ের মতো নিজে অটলভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন৷ তিনি পালায়নপর লোকদের ডেকে ডেকে বলছিলেনঃ ------ "আল্লার বান্দারা, আমার দিকে এসো! আল্লাহর বান্দারা, আমার দিকে এসো"৷
১১১. দুঃখ পরাজয়ের, দুঃখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু সংবাদের৷ দুঃখ নিজেদের বিপুল সংখ্যক নিহত ও আহতদের ৷ দুঃখ এই চিন্তায় যে, এখন নিজেদের বাড়ি-ঘরেরও নিরাপত্তা নেই এবং এখনই মদীনার সমগ্র জনসংখ্যার চাইতেও বেশী তিন হাজার শত্রু সৈন্য পরাজিত সেনাদলকে মাড়িয়ে গুঁড়িয়ে শহরের গলি কুচায় ঢুকে পড়েব এবং নগরীর সবকিছু ধ্বংস ও বরবাদ করে দেব৷
১১২. ইসলামী সেনদালের কিছু কিছু লোক এসময় এই একটি নতুন ও অদ্ভুত ধরনের অভিজ্ঞতা লাভ করেন৷ হযরত আবু তালহা এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের একজন ছিলেন৷ তিনি নিজে বর্ণনা করছেন, এ অবস্থায় আমাদে ওপর তন্দ্রাভাব এমনভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল যে, আমাদের হাত থেকে তলোয়ার খসে পড়ছিল৷