(২৮:৫১) আর আমি তো অনবরত তাদের কাছে (উপদেশ বাণী) পৌঁছিয়ে দিয়েছি, যাতে তারা গাফলতি থেকে সজাগ হয়ে যায়৷৭১
(২৮:৫২) যাদেরকে আমি এর আগে কিতাব দিয়েছিলাম তারা এর (কুরআন ) প্রতি ঈমান আনে৷৭২
(২৮:৫৩) আর যখন তাদেরকে এটা শুনানো হয়, তারা বলো, "আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এটি যথার্থই সত্য আমাদের রবের পক্ষ থেকে, আমরা তো আগে থেকেই মুসলিম৷"৭৩
(২৮:৫৪) তারা এমন লোক যাদেরকে দু'বার পারিশ্রমিক দেয়া হবে ৭৪ এমন অবিচলতার প্রতিদানে যা তারা দেখিয়েছে৷৭৫ তারা ভালো দিয়ে মন্দের মোকাবিলা করেছে ৭৬ এবং আমি তাদেরকে যা কিছু রিযিক দিয়েছি তা ব্যয় করে৷৭৭
(২৮:৫৫) আর যখন তারা বাজে কথা শুনেছে,৭৮ একথা বলে তা থেকে আলাদা হয়ে গেছে যে, "আমাদের কর্মকাণ্ড আমাদের জন্য এবং তোমাদের কর্মকাণ্ড তোমাদের জন্য, তোমাদের প্রতি সালাম, আমরা মূর্খদের মতো পথ অবলম্বন করতে চাই না৷"
(২৮:৫৬) হে নবী! তুমি যাকে চাও তাকে হিদায়াত দান করতে পারো না কিন্তু আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত দান করেন এবং যারা হিদায়াত গ্রহণ করে তাদেরকে তিনি খুব ভাল করেই জানেন৷৭৯
(২৮:৫৭) তারা বলে, "যদি আমরা তোমার সাথে এ হেদায়াতের অনুসরণ করি তাহলে নিজেদের দেশ থেকে আমাদেরকে উৎখাত করে দেয়া হবে৷" ৮০ এটা কি সত্য নয়, একটি নিরাপদ হারমকে আমি তাদের জন্য অবস্থানস্থলে পরিণত করেছি, যেদিকে সব ধরনের ফলমূল চলে আসে আমার পক্ষ থেকে রিযিক হিসেবে? কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না৷৮১
(২৮:৫৮) আর এমন কত জনপদ আমি ধ্বংস করে দিয়েছি যেখানকার লোকেরা তাদের সম্পদ-সম্পত্তির দম্ভ করতো৷ কাজেই দেখে নাও, ঐসব তাদের ঘরবাড়ি পড়ে আছে, যেগুলোর মধ্যে তাদের পরে কদাচিত কেউ বসবাস করেছে, শেষ পর্যন্ত আমিই হয়েছি উত্তরাধিকারী৷৮২
(২৮:৫৯) আর তোমার রব জনপদগুলো ধ্বংস করেন না যতক্ষণ না তাদের কেন্দ্রে একজন রসূল পাঠান, যে তাদের কাছে আমার আয়াত শুনায়৷ আর আমি জনপদগুলো ধ্বংস করি না যতক্ষণ না সেগুলোর বাসিন্দারা জালেম হয়ে যায়৷৮৩
(২৮:৬০) তোমাদের যা কিছুই দেয়া হয়েছে তা নিছক দুনিয়ার জীবনের সাজ-সরঞ্জাম এবং তার সৌন্দর্য-শোভা আর যা কিছু আল্লাহর কাছে আছে তা হচ্ছে তার চেয়ে ভালো এবং অধিকতর স্থায়ী৷ তোমার কি বিবেচনা করবে না?
৭১. অর্থাৎ উপদেশের ব্যাপারে আমি কোন কসুর করিনি৷ এ কুরআনে আমি অনবরত উপদেশ বিতরন করে এসেছি৷ কিন্তু যে জিদ ও একগুয়েমি পরিহার করে হৃদয়কে বিদ্বেষমুক্ত রেখে সত্যকে সোজাসুজি গ্রহন করতে প্রস্তুত হয়ে যায় সে-ই একমাত্র হিদায়াত লাভ করতে পারে৷
৭২. এর অর্থ এটা নয় যে, সমস্ত আহলি কিতাব (ইহুদী ও ঈসায়ী) এর প্রতি ঈমান আনে ৷ বরং সূরা নাযিল হবার সময় যে ঘটনা ঘটেছিল এখানে আসলে সেদিকে ইশারা করা হয়েছে৷ এর মাধ্যমে মক্কাবাসীদেরকে এই মর্মে লজ্জা দেয়াই উদ্দেশ্য যে, তোমাদের নিজেদের গৃহে যে নিয়ামত এসেছে তাকে তোমরা প্রত্যাখ্যান করছো৷ অথচ দূর দেশ থেকে লোকেরা এর খবর শুনে আসছে এবং এর মূল্য অনুধাবন করে এ থেকে লাভবান হচ্ছে৷ ইবনে হিশাম ও বাইহাকী এবং অন্যরা এ ঘটনাকে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাকের বরাত দিয়ে নিন্মোক্তভাবে বর্ণনা করেছেন : আবিসিনিয়ায় হিজরাতের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তি এবং তার দাওয়াতের খবর যখন সেই দেশে ছড়িয়ে পড়লো তখন সেখান থেকে প্রায় ২০ জনের একটি খৃষ্টান প্রতিনিধি দল প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধানের জন্য মক্কা মু'আয্যামায় এলো৷ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মসজিদে হারামে সাক্ষাৎ করলো৷ কুরাইশদের বহু লোকও এ ব্যাপারে দেখে আশপাশে দাঁড়িয়ে গেলো৷ প্রতিনিধি দলের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিছু প্রশ্ন করলেন৷ তিনি সেগুলোর জবাব দিলেন৷ তারপর তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং কুরআন মজীদের আয়াত তাদের সামনে পাঠ করলেন৷ কুরআন শুনে তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগলো৷ তারা একে আল্লাহর বাণী বলে অকুণ্ঠভাবে স্বীকার করলেন এবং নবীর (সা) প্রতি ঈমান আনলেন৷ মজলিস শেষ হবার পর আবু জেহেল ও তার কয়েকজন সাথী প্রতিনিধিদলের লোকদেরকে পথে ধরলো এবং তাদেরকে যাচ্ছে তাই বলে তিরস্কার করলো৷ তাদেরকে বললো, "তোমাদের সফরটাতো বৃথাই হলো৷ তোমাদের স্বধর্মীয়রা তোমাদেরকে এজন্য পাঠিয়েছিল যে, এ ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে তোমরা যথাযথ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত ও যথার্থ ঘটনা তাদেরকে জানাবে৷ কিন্তু তোমরা সবেমাত্র তার কাছে বসেছিলে আর এরি মধ্যেই নিজেদের ধর্ম ত্যাগ করে তার প্রতি ঈমান আনলে ? তোমাদের চেয়ে বেশী নির্বোধ কখনো আমরা দেখিনি৷" একথায় তারা জবাব দিল , "ভাইয়েরা , তোমাদের প্রতি সালাম৷ আমরা তোমাদের সাথে জাহেলী বিতর্ক করতে চাই না৷ আমাদের পথে আমাদের চলতে দাও একং তোমাদের পথে চলতে থাকো৷ আমরা জেনেবুঝে কল্যাণ থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করতে পারি না৷" (সীরাতে ইবনে হিশাম, ২ খণ্ড, ৩২ পৃষ্ঠা এবং আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৩ খণ্ড , ৮২ পৃষ্ঠা৷ আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা শূ'আরা, ১২৩ টীকা৷)
৭৩. "অর্থাৎ এর আগেও আমরা নবীদের ও আসমানী কিতাবের আনুগত্য করে এসেছি৷ তাই ইসলাম ছাড়া আমাদের অন্য কোন দ্বীন ছিল না৷ এখন যে নবী আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এনেছেন তাকেও আমরা মেনে নিয়েছি ৷ কাজেই মূলত আমাদের দ্বীনের কোন পরিবর্তন হয়নি৷ বরং আগেও যেমন আমরা মুসলমান ছিলাম তেমনি এখনও মুসলমান আছি৷

একথা থেকে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন কেবলমাত্র তার নামই ইসলাম নয় বরং ""মুসলিম"" পরিভাষাটি শুধুমাত্র নবী করীমের (সা) অনুসারীগণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়৷ বরং সব সময় এ ইসলামই ছিল সকল নবীর দ্বীন এবং সব জামানায় তাঁদের সবার অনুসারীগণ মুসলমানই ছিলেন৷ এ মুসলমানেরা যদি কখনো পরবর্তীকালে আগত কোন সত্য নবীকে মানতে অস্বীকার করে থাকে তাহলে কেবল তখনই তারা কাফের হয়ে গিয়ে থাকবে৷ কিন্তু যারা পূর্বের নবীকে মানতো এবং আগত নবীকে মেনে নিয়েছে তাদের ইসলামে কোন ছেদ পড়েনি৷ তারা পূর্বেও যেমন মুসলমান ছিল, পরেও তেমনি থেকেছে৷

আশ্চর্যের কথা, বড় বড় জ্ঞানী গুনী ও আলেমদের মধ্যেও কেউ কেউ এ সত্যটি অনুধাবন করতে অক্ষম হয়েছেন৷ এমনকি এ সুস্পষ্ট আয়াতটি দেখেও তারা নিশ্চিন- হননি৷ আল্লামা সুয়ুতি "মুসলিম" পরিভাষাটি কেবলমাত্র মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের সাথেই বিশেষভাবে জড়িত এ মর্মে বিস-ারিত আলোচনা সম্বলিত একটি বই লিখেছেন৷ তারপর যখন এ আয়াতটি সামনে এসেছে তখন নিজেই বলেছেন, এখন তো আমার আক্কেল গুড়-ম হয়ে গেছে৷ কিন' এরপর বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম এ মর্মে যে, এ ব্যাপারে আমার হৃদয় প্রসারিত করে দাও৷ শেষে নিজের অভিমত প্রত্যাহার করার পরিবর্তে তিনি তারই ওপর জোর দিয়েছেন এবং আয়াতটির কয়েকটি ব্যাখ্যা পেশ করেছেন৷ এ ব্যাখ্যাগুলোর একটি অন্যটির চেয়ে বেশি ওজনহীন৷ যেমন তাঁর একটি ব্যাখ্যা হচ্ছে ঃ ------------- আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আমরা কুরআর আসার আগেই মুসলিম হয়ে যাবার সংকল্প পোষন করতাম৷ কারন আমাদের কিতাবসমূহ থেকে আমরা এর আসার খবর পেয়ে গিয়েছিলাম এবং আমাদের সংকল্প ছিল, তিনি আসলেই আমরা ইসলাম গ্রহন করে নেব৷ দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে, এ বাক্যাংশে ----------- শব্দের পরে --------- শব্দ উহ্য রয়েছে৷ অর্থ্যাৎ আগে থেকেই আমরা কুরআন মানতাম৷ কারন আমরা তার আগমনের আশা পোষন করতাম এবং পূর্বাহ্নেই তাঁর প্রতি ঈমান এনে বসেছিলাম৷ তাই তাওরাত ও ইন্‌জিল মানার ভিত্তিতে নয় বরং কুরআনকে তাঁর নাযিল হবার পূর্বে যথার্থ সত্য বলে মেনে নেবার জন্যই আমরা মুসলিম ছিলাম৷ তৃতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছেঃ আল্লাহর তকদীরে পূর্বেই আমাদের জন্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যে, মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনের আগমনে আমরা ইসলাম গ্রহন করে নেবো ৷ তাই আসলে আমরা আগে থেকেই মুসলিম ছিলাম৷ এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্য থেকে কোনটি দেখে আল্লাহ প্রদত্ত হৃদয়ের প্রশস-তার কোন প্রভাব সেখানে আছে বলে মনে হচ্ছে না৷

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, কুরআন কেবলমাত্র এই একটি স্থানেই নয় বরং অসংখ্য জায়গায় এ সত্য বর্ণনা করেছে৷ কুরআন বলছে, আসল দ্বীন হচ্ছে একমাত্র ""ইসলাম"" (আল্লাহর আনুগত্য) এবং আল্লাহর বিশ্ব-জাহানে আল্লাহর সৃষ্টির জন্য এছাড়া দ্বিতীয় কোন দ্বীন হতে পারে না৷ সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে যে নবীই মানুষকে পথ নির্দেশ দেবার জন্য এসেছেন তিনি এ দ্বীন নিয়েই এসেছেন ৷ আর নবীগণ হামেশাই নিজেরা মুসলিম থেকেছেন, নিজেদের অনুসারীদেরকে মুসলিম হয়ে থাকার তাগিদ করেছেন এবং তাঁদের যেসব অনুসারী নবুওয়াতের মাধ্যমে আগত আল্লাহর ফরমানের সামনে আনুগত্যের শির নত করে দিয়েছেন তারাও প্রতি যুগে মুসলিমই ছিলেন৷ এ প্রসঙ্গে দৃষ্টান্ত স্বরূপ শুধুমাত্র গুটিকয় আয়াত পেশ করছি:

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

""আসলে আল্লাহর কাছে ইসলামই একমাত্র দ্বীন৷"" (আল ইমরান : ১৯)
""আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন অবলম্বন করে তা কখনো গৃহীত হবে না৷"" (আল ইমরান : ৮৫) হযরত নূহ আলাইহিস সালাম বলেনঃ "আমার প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো আল্লাহর এবং আমাকে হুকুম দেয়া হয়েছে আমি যেন মুসলিমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাই৷"(ইউনুসঃ ৭২) হযরত ইবরাহীম আলাহহিস সালাম এবং তাঁর সন-ানদের সম্পর্কে বলা হয় ঃ "যখন রব তাঁকে বললেন, মুসলিম (ফরমানের অনুগত) হয়ে যাও, সে বললো আমি মুসলিম হয়ে গেলাম রব্বুল আলামীনের জন্য৷ আর এ জিনিসটিরই অসিয়াত করে ইবরাহীম তার সন-ারদেরকে এবং ইয়াকুবও ঃ হে আমার সন-ানরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দিনটিই পছন্দ করেছেন৷ কাজেই মুসলিম না হয়ে তোমরা কখনো মৃত্যুবরণ করো না৷ তোমরা কি তখন উপসি'ত ছিলে যখন ইয়াকূবের মৃত্যুর সময় এসে গিয়েছিল, যখন সে তার পুত্রদের জিজ্ঞেস করেছিল, আমার মৃত্যুর পর তোমরা কার বন্দেগী করবে আপনার মাবুদের এবং আপনার বাপ-দাদা ইবরাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকের মাবুদের তাঁকে একক মাবুদ হিসেবে মেনে নিয়ে৷ আর আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম৷" (আল বাকারাহ ঃ ১৩১-১৩৩) "ইবরাহীম ইহুদী ছিল না, খৃষ্টানও ছিল না বরং একনিষ্ট মুসলিম৷" (আলে ইমরান ঃ ৬৭) হযরত ইবরাহীম (আ) ও ইসমাইল (আ) নিজেই দোয়া করেন ঃ "হে আমাদের রব! আমাকে তোমরা মুসলিম (অনুগত) করো এবং আমাদের বংশ থেকে একটি উম্মত সৃষ্টি করো যে হবে তোমার মুসলিম৷" (আল বাকারাহ ঃ ১২৮) হযরত লূতের কাহিনীতে বলা হচ্ছে ঃ "আমরা লূতের জাতির জনপদে কএকটি ঘর ছাড়া মুসলমানদের আর কোন ঘর পাইনি৷" (আয-যারিয়াত ঃ ৩৬) হযরত ইউসুফ আলাইহিসা সলাম মহিমান্বিত রবের দরবারে নিবেদন করেন ঃ "আমাকে মুসলিম অবস'ায় মৃত্যু দান করো এবং সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দাও৷" (ইউসুফ ঃ ১০১) হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর নিজের জাতিকে বলেন ঃ "হে আমার জাতি! যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকো, তাহলে তাঁরই ওপর ভরসা করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো৷" (ইউনুস ঃ ৮৪) বনী ইসরাইলের আসল ধর্ম ইহুদীবাদ নয় বরং ইসলাম ছিল৷ বন্ধু ও শত্রু সবাই এ কথা জানতো৷ কাজেই ফেরাউন সাগরে ডুবে যেতে যেতে যে শেষ কথাটি বলে তা হচ্ছে ঃ "আমি মেনে নিলাম বনী ইসরাইল যার প্রতি ঈমান এনেছি তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এবং আমি মুসলিমদের অন-রভূক্ত৷"(ইউনুস ঃ ৯০) বনী ইসরাইলের সকল নবীর দীনও ছিল এ ইসলাম ঃ "আমি তাওরাত নাযিল করেছি, যাতে ছিল হোদায়াত ও আলো, সে অনুযায়ী সে নবীগন তারা মুসলিম ছিল তাদের বিষয়াদির ফায়সালা করতো যারা ইহুদী হয়ে গিয়েছিল৷" (আল মায়েদাহ ঃ ৪৪) এটিই ছিল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দীন৷ সেজন্য সাবার রানী তাঁর প্রতি ঈমান আনতে গিয়ে বলেছেন ঃ "আমি সুলাইমানের সাথে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের মুসলিম হয়ে গেলাম৷" (আন্‌ নাম্‌ল ঃ ৪৪) আর এটিই চিল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর হাওয়ারীদের (সহযোগী) দীন ঃ "আর যখন আমি হাওয়ারীদের কাছে ওহী পাঠালাম এ মর্মে যে, ঈমান আনো আমার প্রতি এবং আমার রসূলের প্রতি তখন তারা বললো, আমরা ঈমান এনেছি এবং সাক্ষী থাকো আমরা মুসলিম৷"(আল মায়েদাহ ঃ ১১১) যদি সন্দেহ পোষন করা হয় যে, আরবী ভাষায় "ইসলাম" ও "মুসলিম" শব্দ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন ভাষায় কেমন করে ব্যবহৃত হতে পারতো, তাহলে বলতে হয় যে, এটা নিছক একটা অজ্ঞতাপ্রসূত কথা৷ কারন এ আরবী শব্দগুলো আসল বিবেচ্য নয়, আরবী ভাষায় এ শব্দগুলো যে অর্থে ব্যবহৃত হয় সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়৷ আসলে এ আয়াতগুলোতে যে কথাটি বলা হয়েছে সেটি হচ্ছে এই যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে প্রকৃত দীনটি এসেছে তা খৃষ্টবাদ, মূসাবাদ বা মুহাম্মদবাদ নয় বরং তা হচ্ছে নবীগন ও আসমানী কিতাবসমূহের মাধ্যমে আগত আল্লাহর ফরমানের সামনে আনুগত্যের শির নত করে দেয়া এবং এ নীতি আল্লাহর যে বান্দা যেখানেই যে যুগে অবলম্বন করেছে সে হয়েছে একই বিশ্বজনীন, আদি ও সত্য চিরন-ন সত্য দীনের অনুসারী৷ যারা এ দীনকে যথার্থ সচেতনতা ও আন-রিকতা সহকারে গ্রহন করেছে তাদের জন্য মূসার পরে ঈসাকে এবং ঈসার পরে মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মেনে নেয়া ধর্ম পরিবর্তন করা হবে না বরং হতে হবে প্রকৃত ও আসল ধর্মের অনুসরণ করার স্বাভাবিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবী৷ পক্ষান-রে যারা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের উম্মতের মধ্যে না জেনে বুঝে ঢুকে পড়েছে অথবা তাদের দলে জন্ম নিয়েছে এবং জাতীয় ও বংশীয় স্বর্থপ্রীতি যাদের জন্য আসল ধর্মে পরিণত হয়ে গেছে তারা ইহুদী ও খৃষ্টান হয়ে রয়ে গেছে এবং মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনে তাদের মূর্খতা ও অজ্ঞতার হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে গেছে৷ কারন তারা আল্লাহর শেষ নবীকে অস্বীকার করেছে৷ আর এটা করে তারা শুধু যে নিজেদের ভবিষ্যতে মুসলিম হয়ে থাকাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাই নয় বরং নিজেদের এ কার্যকলাপের মাধ্যমে তারা প্রমান করে দিয়েছে যে, তারা আসলে ইতিপূর্বেও "মুসলিম" ছিল না নিছক একজন নবীর বা কয়েকজন নবীর ব্যক্তিত্বের ভক্ত ও অনুরক্ত ছিল৷ অথবা পিতা-প্রপিতার অন্ধ অনুকরণকে ধর্মীয় আচারে পরিণত করে রেখেছিল৷ "
৭৪. অর্থাৎ একটি পারিশ্রমিক দেয়া হবে সাইয়েদিনা ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ইতিপূর্বে যে ঈমান রাখতো সেজন্য এবং দ্বিতীয় পারিশ্রমিকটি দেয়া হবে এখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনার জন্য৷ একথাটিই একটি হাদীসে ব্যক্ত করা হয়েছে৷ হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম আবু মূসা আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন৷ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :..............................
৭৫. অর্থাৎ তাদের এ দ্বিগুণ প্রতিদান লাভ করার কারণ হচ্ছে এই যে, তারা জাতীয় , বংশীয় ,দলীয় ও স্বদেশের স্বার্থপ্রীতি মুক্ত থেকে দ্বীনের উপর অবিচল ছিল এবং নতুন নবীর আগমনে যে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাতে প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, আসলে তারা ঈসা পূজারী নয় বরং আল্লাহর পূজারী ছিল৷ তারা ব্যক্তি ঈসার ভক্ত-অনুরক্ত ছিল না বরং ছিল "ইসলামের" আনুগত্যকারী৷ একারণে ঈসার পর যখন অন্য নবী ঈসার মত সেই একই ইসলাম নিয়ে এলেন তখন তারা দ্বিধাহীন চিত্তে তাঁর নেতৃত্বে ইসলামের পথ অবলম্বন করলো এবং যারা খৃষ্টবাদের উপর অবিচল ছিল তাদের পথ পরিহার করলো৷
৭৬. অর্থাৎ তারা মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে নয় বরং ভালো দিয়ে দেয়৷ মিথ্যার মোকাবিলায় মিথ্যা নয় বরং সত্য নিয়ে আসে৷ জুলুমকে জুলুম দিয়ে নয় বরং ইনসাফ দিয়ে প্রতিরোধ করে৷ দুষ্টামির মুখোমুখি দুষ্টামির সাহায্যে নয় বরং ভদ্রতার সাহায্যে হয়৷
৭৭. অর্থাৎ তারা সত্যের পথে সম্পদ উৎসর্গও করে৷ সম্ভবত এখানে এদিকেও ইংগিত করা হয়েছে যে, তারা নিছক সত্যের সন্ধানে হাব্‌শা থেকে সফর করে মক্কায় এসেছিল৷ এ পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ের পেছনে তাদের কোন বৈষয়িক লাভের উদ্দেশ্য ছিল না৷ তারা যখন শুনল মক্কায় এক ব্যক্তি নবুওয়াতের দাবী করেছেন তখন তারা নিজেরা সশরীরে এসে অনুসন্ধান চালনো জরুরী মনে করল৷ তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এভাবে অনুসন্ধানের পর যদি প্রমাণিত হয় তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন সত্য নবী, তাহলে তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর থেকে পথ-নির্দেশনা লাভ করা থেকে বঞ্চিত থাকবে না৷
৭৮. আবু জেহেল ও তার সাথীরা হাবশার খৃষ্টান প্রতিনিধি দলের সাথে যেসব আজে বাজে কথা বলেছিল সেদিকে ইশারা করা হয়েছে৷ উপরে ৭২ টীকায় এ বিষয়টি আলোচিত হয়েছে৷
৭৯. আলোচনার প্রেক্ষাপট থেকে একথা প্রকাশিত হয় যে, হাব্‌শার খৃষ্টানদের ঈমান ও ইসলামের কথা উল্লেখ করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে একথা বলা হয়েছে৷ এর উদ্দেশ্য ছিল আসলে মক্কার কাফেরদেরকে লজ্জা দেয়া৷ বক্তব্য ছিলঃ অভাগার দল! তোমরা নিজেদের কপাল কিভাবে পুড়াচ্ছো তা ভেবে দেখো৷ অন্যেরা কোথায় কেন দূরদেশ থেকে এসে এ নিয়ামতের কল্যাণ লাভে ধন্য হচ্ছে আর তোমরা তোমাদের নিজেদের গৃহ অভ্যন্তরে এই যে কল্যাণের স্রোতধারা প্রবাহিত হচ্ছে এ থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছো৷ কিন্তু কথাটা এভাবে বলা হয়েছেঃ হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম! তুমি চাচ্ছো তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, তোমার ভাই-বন্ধু, বান্ধবরা, তোমার আত্নীয়-স্বজরা এই আবেহায়াতের সঞ্জীবনী ধারায় লাভবান হোক কিন্তু তুমি চাইলে কি হবে, হিদায়াত তো আল্লাহর হাতে, যেসব লোকের মধ্যে তিনি এ হিদায়াত গ্রহন করার আগ্রহ দেখতে পান তাদেরকেই এ কল্যান ধারায় অবগাহন করান৷ তোমার আত্নীয় পরিজনদের মধ্যে যদি এই আগ্রহ না দেখা যায় তাহলে এ কল্যাণ তাদের ভাগ্যে কেমন করে জুটতে পারে৷ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা অনুসারে এ আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের চাচা আবু তালেবের প্রসঙ্গে নাযিল হয়৷ তাঁর শেষ সময় উপস্থিত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম নিজের সামর্থ মোতাবেক কালেমা লা-ইলাহা ইল্লালাহু-এর প্রতি তাঁর ঈমান আনবার জন্য চুড়ান্ত চেষ্টা চালান৷ তিনি চাচ্ছিলেন তাঁর চাচা ঈমানের মধ্য দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন৷ কিন্তু চাচা তা গ্রহন না করে আব্দুল মুত্তালিবের অনুসৃত ধর্মের মধ্যে অবস্থান করে জীবন দেয়াকে অগ্রাধিকার দেন৷ এ ঘটনায় আল্লাহ বলেন ------------ "তুমি যাকে ভালবাসো তাকে হিদায়াত করতে পারো না" কিন্তু মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরগণের পরিচিত পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, একটি আয়াত নবীর যামানায় একটি বিশেষ ঘটনা বা ব্যাপারের সাথে সামঞ্জস্যশীল হয় তাকে তাঁরা আয়াতটির শানে নুযুল বা নাযিল হওয়ার উপলক্ষ ও কার্যকারণ হিসেবে বর্ণনা করেন৷ তাই এ হাদীসটি এবং এ বিষয়বস্তু সম্বলিত তিরমিযী ও মুসনাদে আহমদ ইত্যাদিতে আবু হুরাইরা (রাঃ) ইবনে আব্বাস (রা) ইবনে উমর (রা) প্রমুখ সাহাবীগণ বর্ণিত অন্যান্য হাদীসগুলো থেকে অনিবার্যভাবে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায় না যে, সূরা আল কাসাসের এ আয়াতটি আবু তালেবের ইন্তেকালের সময় নাযিল হয়েছিল৷ বরং এ থেকে শুধুমাত্র এটুকু জানা যায় যে, এ আয়াতের বিষয়বস্তুর সত্যতা ও বাস্তবতা এ ঘটনার সময়ই সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়৷ যদিও আল্লাহর প্রত্যেকটি বান্দাকে সঠিক পথে নিয়ে আসা ছিল নবী করীমের (সা) আন্তরিক ইচ্ছা, তথাপি কোন ব্যক্তির কুফরীর উপর মৃত্যু বরণ করা যদি তার কাছে সবচেয়ে বেশি কষ্টকর হতো এবং ব্যক্তিগত ভালবাসা ও সম্পর্কের ভিত্তিতে যদি কোন ব্যক্তির হিদায়াত লাভ করার তিনি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও আকাংখা পোষন করতেন তাহলে তিনি ছিলেন আবু তালেব৷ কিন্তু তাঁকেই হিদায়াত দান করার শক্তি যখন তিনি লাভ করলেন না তখন একথা একেবারে সুস্পষ্ট হয়ে গেলো যে, কাউকে হিদায়াত দান করা বা কাউকে হিদায়াত বঞ্চিত করা নবীর কাজ নয়৷ এ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে৷ আর আল্লাহর কাছ থেকে এ সম্পদটি কোন আত্নীয়তা ও পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নয় বরং মানুষের সত্যানুরাগ, সত্যপ্রীতি ও সত্যাগ্রহী মানসিকতার ভিত্তিতেই দান করা হয়৷
৮০. কুরাইশ বংশীয় কাফেররা ইসলাম গ্রহণ না করার অজুহাত হিসেবে একথাটি বলতো৷ গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলে জানা যাবে, এটিই ছিল তাদের কুফরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক কারণ৷
৮১. এটি হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের আপত্তির প্রথম জবাব৷ এর অর্থ হচ্ছে , যে হারামের শান্তি ও নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় গুরুত্বের বদৌলতে আজ তোমরা এমন যোগ্যতার অধিকারী হয়েছো, যার ফলে সারা দুনিয়ার বাণিজ্যপণ্যের স্রোত এহেন অনুর্বর ধূলিবিবর্ণ উপত্যকায় চলে আসছে, তার এই নিরাপদ ও কেন্দ্রীয় মর্যাদা কি তোমাদের কোন কৌশল অবলম্বনের ফলে অর্জিত হয়েছে ? আড়াই হাজার বছর আগে আল্লাহর এক বান্দা জনশূন্য পাহাড়ের মাঝখানে এ পানি ও বৃক্ষলতাহীন উপত্যকায় তাঁর স্ত্রী ও দুধের বাচ্চাকে নিয়ে এখানে আসেন৷ তিনি এখানে পাথর ও কাদা দিয়ে একটি কক্ষ নির্মাণ করেন এবং একে ডাক দিয়ে বলেন, আল্লাহ একে হারমে পরিণত করেছেন , এসো এ ঘরের দিকে এবং একে প্রদক্ষিণ করো৷ এখন ২৫ শতক বছর থেকে এ জায়গাটি আরবের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে, মারাত্মক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশে দেশের এ একটিমাত্র স্থানে নিরাপত্তা লাভ করা যায়, আরবের আবালবৃদ্ধবণিতা একে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে এবং প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ একে প্রদক্ষিণ করার জন্য চলে আসে৷ এসব আল্লাহ প্রদত্ত বরকত ও সমৃদ্ধি নয়তো আর কি হতে পারে ? এ নিয়ামত লাভের ফলেই তো তোমরা আরবের সরদার হয়ে গেছো এবং বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ তোমাদের করতলগত হয়েছে৷ এখন কি তোমরা মনে করো , যে আল্লাহ তোমাদেরকে এ নিয়ামত দান করেছেন তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তোমরা সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠবে আর তাঁর দ্বীনের অনুগত হয়ে চললেই ধ্বংস হয়ে যাবে ?
৮২. এটি তাদের আপত্তির দ্বিতীয় জবাব৷ এর অর্থ হচ্ছে, যে ধনদৌলত ও সমৃদ্ধির জন্য তোমরা অহংকারী হয়ে উঠেছো এবং যার বিলুপ্ত হয়ে যাবার আশংকায় বাতিলের উপরে টিকে থাকতে ও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছো সেই জিনিসই এক সময় আদ, সামূদ, সাবা, মাদয়ান ও লূতের জাতির লোকদের দেয়া হয়েছিল৷ এ জিনিস কি তাদেরকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পেরেছিল ? মোট কথা জীবন যাপনের উন্নত মানই তো একমাত্র কাম্যবস্তু নয়, যে মানুষ সত্য-মিথ্যার পরোয়া না করে শুধুমাত্র তারই পেছনে পড়ে থাকবে এবং সঠিক পথ অবলম্বন করলে এ ইপ্সিত মুক্তোখণ্ডটি হস্তচ্যুত হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে বলেই তা অবলম্বন করতে অস্বীকার করবে৷ যেসব অসৎ ও ভ্রষ্টতামূলক কাজ অতীতের সমৃদ্ধিশালী জাতিগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে তার উপর টিকে থাকার প্রচেষ্টা চালিয়ে তোমরা রক্ষা পেয়ে যাবে এবং তাদের মতো তোমাদের উপর কখনো ধ্বংস নেমে আসবে না এর কোন গ্যারাণ্টি কি তোমাদের কাছে আছে ?
৮৩. এটি হচ্ছে তাদের আপত্তির তৃতীয় জবাব৷ পূর্বে যেসব জাতি ধ্বংস হয়েছিল তাদের লোকেরা জালেম হয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করার পূর্বে নিজের রসূল পাঠিয়ে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন৷ রসূলদের সতর্ক করে দেবার পরও যখন তারা বাঁকা পথে চলা থেকে বিরত হয়নি তখন তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন৷ তোমরা এখন এ একই অবস্থায় পতিত হয়েছো৷ তোমরাও জালেম হয়ে গেছো৷ একজন রসূল তোমাদেরকেও সতর্ক করার জন্য এসেছেন৷ এখন তোমরা কুফরী ও অস্বীকারের নীতি অবলম্বন করে নিজেদের আয়েশ-আরাম ও সমৃদ্ধিকে রক্ষা করতে পারবে না বরং উল্টা বিপদের মুখে ঠেলে দেবে৷ যে ধ্বংসের আশংকা তোমরা করছো তা ঈমান আনার জন্য নয় বরং অস্বীকার করার কারণে তোমাদের উপর আপতিত হবে৷