(২৪:৬২) মু’মিন ৯৭ তো আসলে তারাই যারা অন্তর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে মানে এবং যখন কোন সামষ্টিক কাজে রসূলের সাথে থাকে তখন তার অনুমতি ছাড়া চলে যায় না ৷৯৮ যারা তোমার কাছে অনুমতি চায় তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাসী৷ কাজেই তারা যখন তাদের কোন কাজের জন্য তোমার কাছে অনুমতি চায় ৯৯ তখন যাকে চাও তুমি অনুমতি দিয়ে দাও ১০০ এবং এ ধরনের লোকদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দোয়া করো৷১০১ আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমাশীল ও করুণাময়৷
(২৪:৬৩) হে মুসলমানরা ! রসূলের আহবানকে তোমাদের মধ্যে পরস্পরের আহবানের মতো মনে করো না ৷১০২ আল্লাহ তাদেরকে ভালো করেই জানেন যারা তোমাদের মধ্যে একে অন্যের আড়ালে চুপিসারে সটকে পড়ে৷১০৩ রসূলের হুকুমের বিরুদ্ধাচারণকারীদের ভয় করা উচিত যেন তারা কোন বিপর্যয়ের শিকার না হয় ১০৪ অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব না এসে পড়ে ৷
(২৪:৬৪) সাবধান হয়ে যাও, আকাশে ও পৃথিবীতে যা কিছু সব আল্লাহরই ৷ তোমরা যে নীতিই অবলম্বন করো আল্লাহ তা জানেন ৷ যেদিন লোকেরা তাঁর দিকে ফিরে যাবে সেদিন তিনি তাদের বলে দেবেন তারা কি সব করে এসেছে৷ তিনি সব জিনিসের জ্ঞান রাখেন৷
৯৭. মুসলমানদের জামায়াতের নিয়ম-শৃংখলা আগের তুলনায় আরো বেশী শক্ত করে দেবার জন্য শেষ নির্দেশাবলী দেয়া হচ্ছে৷
৯৮. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে তাঁর স্থলাভিষিক্তগণ এবং ইসলামী জামায়াত ব্যবস্থার আমীরগণের জন্যও এ একই বিধান ৷ কোন সামগ্রীক উদ্দেশ্যে যুদ্ধ বা শান্তি যে কোন সময় মুসলমানদের যখন একত্র করা হয় তখন আমীররের অনুমতি ছাড়া তাদের ফিরে যাওয়া বা ছাড়িয়ে পড়া কোনক্রমেই জায়েয নয় ৷
৯৯. এর মধ্যে এ সতর্কবাণী রয়েছে যে, কোন যথার্থ প্রয়োজন ছাড়া অনুমতি চাওয়া তো আদতেই অবৈধ ৷ বৈধতা কেবল তখনই সৃষ্টি হয় যখন যাবার জন্য কোন প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দেয়৷
১০০. অর্থাৎ প্রয়োজন বর্ণনা করার পরও অনুমতি দেয়া বা না দেয়া রসূলের এবং রসূলের পর জামায়াতের আমীরের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে৷ যদি তিনি মনে করেন সামগ্রিক প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রয়োজনের তুলনায় বেশী গুরুত্বপূর্ণ তাহলে অনুমতি না দেবার পূর্ণ অধিকার তিনি রাখেন ৷ এ অবস্থায় একজন মু'মিনের এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকা উচিত নয়৷
১০১. এখানে আবার সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, অনুমতি চাওয়ার মধ্যে যদি সামান্যতম বাহানাবাজীরও দখল থাকে অথবা সামগ্রীক প্রয়োজনের ওপর ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেবার প্রবণতা সক্রিয় থাকে, তাহলে এ হবে একটি গোনাহ ৷ কাজেই রসূল ও তাঁর স্থলাভিষিক্তের শুধুমাত্র অনুমতি দিয়েই ক্ষান্ত হলে চলবে না বরং যাকেই অনুমতি দেবেন সংগে সংগে একথাও বলে দেবেন যে, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন৷
১০২. মূলে -- শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ৷ এর অর্থ ডাকা ও আহবান করা হয় আবার দোয়া করাও হয় ৷ তাছাড়া ----- এর মানে রসূলের ডাক বা দোয়াও হতে পারে আবার রসূলের আহবানও হতে পারে ৷ এসব বিভিন্ন অর্থের প্রেক্ষিতে আয়াতের তিনটি অর্থ হতে পারে এবং তিনটি অর্থই সঠিক ও যুক্তিসংগত ৷

একঃ ''রসূলের আহবানকে কোন সাধারণ মানুষের আহবানের মতো মনে করো না ৷''অর্থাৎ রসূলের আহবান অস্বাভাবিক গুরুত্বের অধিকারী৷ অন্য কারোর আহবানে সাড়া দেয়া না দেয়ার স্বাধীনতা আছে কিন্তু রসূলের আহবানে না গেলে বা মনে ক্ষীণতম সংকীর্ণতা অনুভব করলে ঈমান বিপন্ন হয়ে পড়বে ৷

দুইঃ ''রসূলের দোয়াকে সাধারণ মানুষের দোয়ার মতো মনে করো না'' তিনি খুশী হয়ে দোয়া করলে তোমাদের জন্য এর চেয়ে বড় আর কোন নিয়ামত নেই আর নারাজ হয়ে বদদোয়া করলে তার চেয়ে বড় আর কোন দুর্ভাগ্য তোমাদের জন্য থাকবে না ৷

তিনঃ ''রসুলকে ডাকা সাধারণ মানুষের একজনের অন্য এক জনকে ডাকার মতো হওয়া উচিত নয়৷'' অর্থাৎ তোমরা সাধারণ লোকদেরকে যেভাবে তাদের নাম নিয়ে উচ্চস্বরে ডাকো সেভাবে রসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডেকো না ৷ এ ব্যাপারে তাঁর প্রতি চরম শিষ্টাচার ও মর্যাদা প্রদর্শন করতে হবে ৷ কারণ তাঁর প্রতি সামান্যতম বেআদবীর জন্যও আল্লাহর কাছে জবাবদিহির হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে না৷
১০৩. মুনাফিকদের আর একটি আলামত হিসেবে একথাটি বলা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, ইসলামী সামগ্রীক কাজের জন্য যখন ডাকা হয় তখন তারা এসে যায় ঠিকই কিন্তু এ উপস্থিতি তাদের কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অপছন্দনীয় হয়, ফলে কোন রকম গা ঢাকা দিয়ে তারা সরে পড়ে৷
১০৪. ইমাম জাফর সাদেক (রা) বিপর্যয় অর্থ করেছেন ''জালেমদের কর্তৃত্ব ও প্রতিপত্তি ৷'' অর্থাৎ যদি মুসলমানরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করে তাহলে তাদের ওপর জালেম ও স্বৈরাচারী শাসক চাপিয়ে দেয়া হবে৷ মোটকথা এটাও এক ধরনের বিপর্যয় হতে পারে৷ আর এ ছাড়াও আরো অসংখ্য ধরনের বিপর্যয় হওয়া সম্ভবপর ৷ যেমন পরস্পরের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা, গৃহযুদ্ধ, নৈতিক অবক্ষয়, জামা'আতী ব্যবস্থায় বিশৃংখলা, আভ্যন্তরীণ নৈরাজ্য, রাজনৈতিক ও বস্তুগত শক্তি ভেঙ্গে পড়া, বিজাতির অধীন হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ৷