(২৩:৯৩) হে মুহাম্মাদ (সা) ! দোয়া করো, ‘‘হে আমার রব! এদেরকে যে আযাবের হুমকি দেয়া হচ্ছে, তুমি যদি আমার উপস্থিতিতে সে আযাব আনো
(২৩:৯৪) তাহলে হে পরওয়ারদিগার ! আমাকে এ জালেমদের অন্তরভুক্ত করো না ৷ ৮৭
(২৩:৯৫) আর আসল ব্যাপার হচ্ছে, তোমরা চোখের সামনে আমার সে জিনিস আনার পূর্ণ শক্তি আছে যার হুমকি আমি তাদেরকে দিচ্ছি৷
(২৩:৯৬) হে মুহাম্মদ (সা) ! মন্দকে দূর করো সর্বোত্তম পদ্ধতিতে ৷ তারা তোমার সম্পর্কে যেসব কথা বলে তা আমি খুব ভালো করেই জানি৷
(২৩:৯৭) আর দোয়া করো, ‘‘হে আমার রব! আমি শয়তানদের উস্কানি থেকে তোমার আশ্রয় চাই৷
(২৩:৯৮) এমনকি হে ! পরওয়ারদিগার, সে আমার কাছে আসুক এ থেকেও তো আমি তোমার আশ্রয় চাই” ৷ ৮৮
(২৩:৯৯) (এরা নিজেদের কৃতকর্ম থেকে বিরত হবে না) এমনকি যখন এদের কারোর মৃত্যু উপস্থিত হবে তখন বলতে থাকবে, ‘‘হে আমার রব ! যে দুনিয়াটা আমি ছেড়ে চলে এসেছি সেখানেই আমাকে ফেরত পাঠিয়ে দাও, ৮৯
(২৩:১০০) আশা করি এখন আমি সৎকাজ করবো৷ ৯০ কখনোই নয়, ৯১ এটা তার প্রলাপ ছাড়া আর কিছু আর নয়৷৯২ এখন এ মৃতদের পেছনে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে একটি অন্তরবর্তীকালীন যুগ—বরযখ যা পরবর্তী জীবনের দিন পর্যন্ত থাকবে ৷৯৩
(২৩:১০১) তারপর যখনই শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তাদের মধ্যে আর কোন আত্মীয়তা বা সম্পর্কে থাকবে না এবং তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেসও করবে না ৷৯৪
(২৩:১০২) সে সময় যাদের পাল্লা ভারী হবে ৯৫ তারাই সফলকাম হবে ৷
(২৩:১০৩) আর যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই হবে এমনসব লোক যারা নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করেছে ৷ ৯৬ তারা জাহান্নামে থাকবে চিরকাল৷
(২৩:১০৪) আগুন তাদের মুখের চামড়া জ্বালিয়ে দেবে এবং তাদের চোয়াল বাইরে বের হয়ে আসবে ৷৯৭
(২৩:১০৫) ‘‘তোমরা কি সেসব লোক নও যাদের কাছে আমার আয়াত শুনানো হলেই বলতে এটা মিথ্যা?’’
(২৩:১০৬) তারা বলবে, ‘‘‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌হে আমাদের রব !আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ওপর ছেয়ে গিয়েছিল,আমরা সত্যিই ছিলাম বিভ্রান্ত সম্প্রদায়৷
(২৩:১০৭) হে পরওয়ারদিগার ! এখন আমাদের এখান থেকে বের করে দাও,আমরা যদি আবার এ ধরনের অপরাধ করি তাহলে আমরা জালেম হবো ৷
(২৩:১০৮) আল্লাহ জবাব দেবেন,দূর হয়ে যাও আমার সামনে থেকে,পড়ে থাকো ওরি মধ্যে এবং কথা বলো না আমার সাথে৷ ৯৮
(২৩:১০৯) তোমরা হচ্ছো তারাই ,যখন আমার কিছু বান্দা বলতো,হে আমাদের রব !আমরা ঈমান এনেছি,আমাদের মাফ করে দাও, আমাদের প্রতি করুনা করো, তুমি সকল করুণাশীলের চাইতে বড় করুণাশীল,
(২৩:১১০) তখন তোমরা তাদেরকে বিদ্রুপ করতে, এমনকি তাদের প্রতি জিদ তোমাদের আমার কথাও ভুলিয়ে দেয় এবং তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে থাকতে ৷
(২৩:১১১) আজ তাদের সে সবের ফল আমি এই দিয়েছি যে, তারাই সফলকাম ৷৯৯
(২৩:১১২) তারপর আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, বলো,পৃথিবীতে তোমরা কত বছর থাকলে?
(২৩:১১৩) তারা বলবে, ‘‘এক দিন বা দিনেরও কিছু অংশে আমরা সেখানে অবস্থান করেছিলাম, ১০০ গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করে নিন৷’’
(২৩:১১৪) বলবেন, ‘‘অল্পক্ষণই অবস্থান করেছিলে,হায়!যদি তোমরা একথা সে সময় জানতে ৷ ১০১
(২৩:১১৫) তোমরা কি মনে করেছিলে আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি ১০২ এবং তোমাদের কখনো আমার দিকে ফিরে আসতে হবে না?’’
(২৩:১১৬) কাজেই প্রকৃত বাদশাহ আল্লাহ হচ্ছেন উচ্চতর ও উন্নততর, ১০৩ তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, সম্মানিত আরশের তিনিই মালিক
(২৩:১১৭) এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যার পক্ষে তার কাছে কোন যুক্তি প্রমাণ নেই, ১০৪ তার হিসেব রয়েছে তার রবের কাছে৷ ১০৫ এ ধরনের কাফের কখনো সফলকাম হতে পারে না ৷ ১০৬
(২৩:১১৮) হে মুহাম্মাদ (সা) ! বলো, ‘‘হে আমার রব! ক্ষমা করো ও করুণা করো এবং তুমি সকল করুণাশীলের চাইতে বড় করুণাশীল৷’’ ১০৭
৮৭. এর অর্থ এ নয় যে, নাউযুবিল্লাহ! নবী সাল্লাল্লাহু আইলাহি ওয়া সাল্লামের ওপরো সে আযাব আসার কোন আশংকা ছিল অথবা তিনি দোয়া না চাইলে তাঁর ওপর এ আযাব এসে যেতো৷ বরং এ ধরনের বর্ণনাভংগী অবলম্বন করা হয়েছে কেবল এ ধারণা সৃষ্টি করার জন্য যে, আল্লাহর আযাব অবশ্যি ভয় করার মতো জিনিস৷ এ আযাব দাবী করে চেয়ে নেবার মতো জিনিস নয় এবং যদি আল্লাহ নিজ অনুগ্রহ ও ধৈর্য্যশীলতার কারণে তা নিয়ে আসতে বিলম্ব করে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে নাফরমানি ও শয়তানির কাজ সূরা আল আন'আম, ২৭ ও ২৮; আল আ'রাফ, ৫৩; ইবরাহীম ৪৪ ও ৪৫; আল মু'মিনূন, ১০৫ থেকে ১১৫; আশ শু'আরা, ১০২; আস সাজ্‌দাহ, ১২ থেকে ১৪; ফাতের, ৩৭; আয‌ যুমার, ৫৮ ও ৫৯; আল মু'মিন, ১০ থেকে ১২ ও আশ্‌ শূরা, ৪৪ আয়াত এবং এ সংগে টীকাগুলোও)৷
৮৮. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আল আন'আম, ৭১ ও ৭২; আল আ'রাফ, ১৩৮ ও ১৫০ থেকে ১৫৩; ইউনুস, ৩৯; আল হিজর, ৪৮; আন নাহল, ১২২ থেকে ১২৪; বনী ইসরাঈল, ৫৮ থেকে ৬৩ এবং হা-মীম আস্‌ সাজ্‌দাহ, ৩৬ থেকে ৪১ টীকা৷
৮৯. মূলে ----- শব্দ দু'টি ব্যবহার করা হয়েছে৷ আল্লাহকে সম্বোধন করে বহুবচনের ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে আবেদন করার একটি কারণ এ হতে পারে যে, এটি সম্মানার্থে করা হয়েছে যেমন বিভিন্ন ভাষায় এ পদ্ধতির প্রচলন আছে৷ দ্বিতীয় কারণ কেউ কেউ এও বর্ণনা করেছেন যে, আবেদনের শব্দ বারবার উচ্চারণ করার ধারণা দেবার জন্য এভাবে বলা হয়েছে৷ যেমন তা ----- (আমাকে ফেরত পাঠাও, আমাকে ফেরত পাঠাও, আমাকে ফেরত পাঠাও, আমাকে ফেরত পাঠাও) এর অর্থ প্রকাশ করে ৷ এ ছাড়া কোন কোন মুফাস্‌সির এ ধারণা প্রকাশ করেছেন যে, ----- সম্বোধন করা হয়েছে আল্লাহকে এবং ----- শব্দের মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে এমন সব ফেরেশতাদেরকে যারা সংশ্লিষ্ট অপরাধী আত্মাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছিলেন৷ অর্থাৎ কথাটি এভাবে বলা হয়, ''হায় আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠাও''৷
৯০. কুরআন মজীদের বহু জায়গায় এ বক্তব্যটি উচ্চারিত হয়েছে৷ অপরাধীরা মৃত্যুর সীমানায় প্রবেশ করার সময় থেকে নিয়ে আখেরাতে প্রবেশ করে জাহান্নামে দাখিল হওয়া পর্যন্ত বরং তার পরও বারবার এ আবেদনই করতে থাকবেঃ আমাদের আর একবার মাত্র দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হোক৷ এখন আমরা তাওবা করছি, আর কখনো নাফরমানি করবো না, এবার আমরা সোজা পথে চলবো৷ (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, সূরা আল আন'আম, ২৭ ও ২৮; আল আ'রাফ, ৫৩; ইবরাহীম ৪৪ ও ৪৫; আল মু'মিনূন, ১০৫ থেকে ১১৫; আশ শু'আরা, ১০২; আস সাজ্‌দাহ, ১২ থেকে ১৪; ফাতের, ৩৭; আয‌ যুমার, ৫৮ ও ৫৯; আল মু'মিন, ১০ থেকে ১২ ও আশ্‌ শূরা, ৪৪ আয়াত এবং এ সংগে টীকাগুলোও)৷
৯১. অর্থাৎ ফেরত পাঠানো হবে না৷ নতুন করে কাজ শুরু করার জন্য তাকে আর দ্বিতীয় কোন সুযোগ দেয়া যেতে পারে না৷ এর কারণ হচ্ছে, মানুষকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার জন্য পুনরায় যদি এ দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হয় তাহলে অনিবার্যভাবে দু'টি অবস্থার মধ্য থেকে একটি অবলম্বন করতে হবে৷ মৃত্যুর পর সে যা কিছু করেছে সেসব তার স্মৃতি ও চেতনায় সংরক্ষিত করে রাখতে হবে৷ অথবা এসব কিছু নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে প্রথমবার যেমন স্মৃতির কোঠা শূণ্য করে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল ঠিক তেমনি অবস্থায় আবার তাকে সৃষ্টি করা হবে৷ উল্লেখিত প্রথম অবস্থায় পরীক্ষার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যায়৷ কারণ এ দুনিয়ায় মানুষ সত্যকে প্রত্যক্ষ না করে নিজেই বুদ্ধি-বিবেকের সাহায্যে সত্যকে জেনে তাকে মেনে নেয় কিনা এবং আনুগত্য ও অবাধ্যতা করার স্বাধীনতা লাভ করা সত্ত্বেও এ দু'টি পথের মধ্য থেকে কোন্‌টি অবলম্বন করে- এরি ভিত্তিতেই হচ্ছে তার পরীক্ষা৷ এখন যদি তাকে সত্য দেখিয়েও দেয়া হয় এবং গোনাহের পরিণাম বাস্তবে দেখিয়ে দিয়ে গোনাহকে নির্বাচন করার পথই তার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে এরপর তাকে পরীক্ষাগৃহে পাঠানোই অর্থহীন হয়ে যায়৷ এরপর কে ঈমান আনবে না এবং কে আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারবে? আর দ্বিতীয় অবস্থাটি সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি পরীক্ষিতকে আবার পরীক্ষা করার মতো অবস্থা ৷ যে ব্যক্তি একবার এ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে তাকে আবার সে একই ধরনের আর একটি পরীক্ষায় পাঠানো নিরর্থক৷ কারণ সে আবার সেই আগের মতোই করবে৷ (আরো বেশী ব্যাখ্যা জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, সূরা আল বাকারাহ, ২২৮; আল আন'আম, ৬, ১৩৯ ও ১৪০ এবং ইউনুস, ২৬ টীকা)৷
৯২. এ অনুবাদও হতে পারে, ''এ তো এখন সে বলবেই''৷ এর অর্থ হচ্ছে, তার এ কথা ধর্তব্যের মধ্যে গণ্য নয়৷ সর্বনাশ হবার পর এখন সে একথা বলবে না তো আর কি বলবে৷ এ নিছক কথার কথা৷ ফিরে আসবে যখন তখন আবার সেসব কিছু করবে যা আগে করে এসেছে৷ কাজেই তাকে প্রলাপ বকতে দাও ফেরার দরজা তার জন্য খোলা যেতে পারে না৷
৯৩. ''বরযখ'' ----- শব্দটি ফার্সী ''পরদা'' ----- শব্দটি আরবীকরণ৷ আয়াতের অর্থ হচ্ছে, এখন তাদের ও দুনিয়ার মধ্যে রয়েছে একটি প্রতিবন্ধক ৷ এটি তাদেরকে দুনিয়ায় ফিরে যেতে দেবে না এবং কিয়ামত পর্যন্ত তারা দুনিয়া ও আখেরাতের মাঝখানের এ যবনিকার আড়ালে অবস্থান করবে ৷
৯৪. এর মানে এ নয় যে, বাপ আর বাপ থাকবে না এবং ছেলে ছেলে থাকবে না ৷ বরং এর অর্থ হচ্ছে , সে সময় বাপ ছেলের কোন কাজে লাগবে না এবং ছেলে বাপের কোন কাজে লাগবে না৷ প্রত্যেকে এমনভাবে নিজের অবস্থার শিকার হবে যে, একজন অন্যজনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা তো দূরের কথা কারোর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করার মতো চেতনাও থাকবে না ৷ অন্যান্য স্থানে এ বিষয়টিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:------------ ''কোন অন্তরংগ বন্ধু নিজের বন্ধুকে জিজ্ঞেস করবে না ৷'' (আল মা'আরিজ , ১০ আয়াত )৷

----------------------

'' সেদিন অপরাধীর মন তার নিজের সন্তান, স্ত্রী,ভাই ও নিজের সহায়তাকারী নিকটতম আত্মীয় এবং সারা দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে ক্ষতিপূরণ বাবদ দিতে এবং নিজেকে আযাব থেকে মুক্ত করতে চাইবে ৷'' (আল মা'আরিজ, ১১থেকে ১৪আয়াত )

----------------------

''সেদিন মানুষ নিজের ভাই, মা, বাপ, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের থেকে পালাতে থাকবে ৷ সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের অবস্থার মধ্যে এমনভাবে লিপ্ত থাকবে যে, তার কারোর কথা মনে থাকবে না ৷'' (আবাসা, ৩৪ থেকে ৩৭ )
৯৫. অর্থাৎ যাদের নেক কাজের পাল্লা অসৎকাজের পাল্লা থেকে বেশী ভারী হবে৷
৯৬. সূরার শুরুতে এবং তারপর চতুর্থ রুকূ"তে সাফল্য ও ক্ষতির যে মানদন্ড পেশ করা হয়েছে তাকে আর একবার মনের মধ্যে চাংগা করে নিন৷
৯৭. মূলে-----শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ ----- আরবী ভায়ায় এমন চেহারাকে বলা হয় যার চামড়া আলাদা হয়ে গেছে এবং দাঁত বাইরে বের হয়ে এসেছে ৷ যেমন খাশির ভুনা মাথা ৷ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে (রা) এক ব্যক্তি ''কালেহ''-এর অর্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন :---------------অর্থাৎ ''তুমি কি ভুনা খাশির কল্লা দেখোনি?''
৯৮. অর্থাৎ নিজের মুক্তির জন্য আবেদন নিবেদন করো না ৷ নিজের ওজর পেশ করো না ৷ চিরকালের জন্য একেবারেই নীরব হয়ে যাও, এ অর্থ নয়৷ হাদীসের বর্ণনায় বলা হয়েছে, এ হবে তাদের শেষ কথাবার্তা৷ এরপর তাদের কন্ঠ চিরকালের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাবে৷ কিন্তু একথা বাহ্যত কুরআন বিরোধী ৷ কারণ সামনের দিকে কুরআন নিজেই তাদের ও আল্লাহর মধ্যকার কথাবার্তা উদ্ধৃত করছে৷ কাজেই হয় হাদীসের এ বর্ণনা সঠিক নয় অথবা এর অর্থ এই যে, এরপর তারা মুক্তির জন্য কোন আবেদন নিবেদন করতে পারবে না৷
৯৯. আবার একই বিষয়বস্তুর পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে৷ অর্থাৎ কে হবে সাফল্যের অধিকারী এবং কে ক্ষতির অধিকারী ৷
১০০. ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহিমুল কুরআন, সূরা ত্বা-হা, ৮০টীকা৷
১০১. অর্থাৎ দুনিয়ায় আমার নবী ক্রমাগতভাবে তোমাদের বলেছেন যে, দুনিয়ার জীবন নিছক হাতে গোনা কয়েকটি পরীক্ষার ঘন্টা মাত্র ৷ একেই আসল জীবন এবং একমাত্র জীবন মনে করে বসো না ৷ আসল জীবন হচ্ছে আখেরাতের জীবন ৷ সেখানে তোমাদের চিরকাল থাকতে হবে ৷ এখানকার সাময়িক লাভ ও স্বাদ-আহলাদের লোভে এমন কাজ করো না যা আখেরাতের চিরন্তন জীবনে তোমাদের ভবিষ্যত ধ্বংস করে দেয় ৷ কিন্তু তখন তোমরা তাঁর কথায় কান দাওনি৷ তোমরা এ আখেরাতের জগত অস্বীকার করতে থেকেছো৷ তোমরা মৃত্যুপরের জীবনকে একটি মনগড়া কাহিনী মনে করেছো৷ তোমরা নিজেদের এ ধারণার ওপর জোর দিতে থেকেছো যে, জীবন-মৃত্যুর ব্যাপারটি নিছক এ দুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং এখানে চুটিয়ে মজা লুটে নিতে হবে ৷ কাজেই এখন আর অনুশোচনা করে কী লাভ ৷ তখনই ছিল সাবধান হবার সময় যখন তোমরা দুনিয়ার কয়েক দিনের জীবনের ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে এখানকার চিরন্তন জীবনের লাভ বিসর্জন দিচ্ছিলে৷
১০২. মূলে----- শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ এর অর্থ হচ্ছে, ''খেলাচ্ছলে'' এবং দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, ''খেলার জন্য'' ৷ প্রথম অবস্থায় আয়াতের অর্থ হবে, ''তোমরা কি মনে করেছিলে, তোমদেরকে এমনিই খেলাচ্ছলে আমোদ-আহলাদ করতে করতে তৈরী করা হয়েছে, তোমাদের সৃষ্টির কোন লক্ষ ও উদ্দেশ্য নেই, নিছক একটি উদ্দেশ্যহীন সৃষ্টি হিসেবে তৈরী করে তোমাদের চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন ?'' দ্বিতীয় অবস্থায় এর অর্থ হবে, ''তোমরা কি একথা মনে করতে যে, তোমাদেরকে নিছক খেলাধূলা, আমোদ-আহলাদ, ফূর্তি ও এমন সব আজেবাজে অর্থহীন কাজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যেগুলোর কোনদিন কোন ফল হবে না ?''
১০৩. অর্থাৎ তিনি কোন বাজে কাজ করার উর্ধে অবস্থান করেন এবং তাঁর কোন বান্দা ও গোলাম তাঁর প্রভুত্বের কার্যক্রমে তাঁর সাথে শরীক হবে এরও অনেক উর্ধে তাঁর অবস্থান ৷
১০৪. এর দ্বিতীয় অনুবাদ এই হতে পারে: ''যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে মাবুদ হিসেবে ডাকে তার জন্য তার নিজের এ কাজের সপক্ষে কোন যুক্তি ও প্রমাণ নেই৷
১০৫. অর্থাৎ সে জবাবদিহি ও হিসেব-নিকেশ থেকে রক্ষা পেতে পারে না ৷
১০৬. আবার সে একই বিষয়বস্তুর পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে অর্থাৎ আসলে কে সাফল্য লাভকারী এবং কে তা থেকে বঞ্চিত ?
১০৭. এখানে এ দোয়ার সূক্ষ্ম ও গভীর অর্থ দৃষ্টিসমক্ষে থাকা উচিত ৷ এখনই কয়েক ছত্র ওপরে বলা হয়েছে, আখেরাতে আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের দুশমনদেরকে একথা বলে মাফ করে দিতে অস্বীকার করবেন যে, আমার যেসব বান্দা এ দোয়া করতো তোমরা তাদেরকে বিদ্রুপ করতে৷এরপর এখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (ও আনুসংগিকভাবে সাহাবায়ে কেরামকেও) এ হুকুম দেয়া হচ্ছে যে, ঠিক সে একই দোয়া করো যার কথা আমি এইমাত্র বলে এসেছি৷ আমার পরিষ্কার সতর্কবাণী সত্ত্বেও এখন যদি তারা তোমাকে বিদ্রুপ করতে থাকে তাহলে আখেরাতে যেন তারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী মোকদ্দমা তৈরী করে দেবে৷