(২৩:৩৩) তার সম্প্রদায়ের যেসব সরদার ঈমান আনতে অস্বীকার করেছিল এবং আখেরাতের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলেছিল, যাদেরকে আমি দুনিয়ার জীবনে প্রাচুর্য দান করেছিলাম, ৩৫ তারা বলতে লাগলো , ‘‘এ ব্যক্তি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়৷ তোমরা যা কিছু খাও তা-ই সে খায় এবং তোমরা যা কিছু পান করো তা-ই সে পান করে ৷
(২৩:৩৪) এখন যদি তোমরা নিজেদেরই মতো একজন মানু্ষের আনুগত্য করো তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ ৩৬
(২৩:৩৫) সে কি তোমাদেরকে একথা জানায় যে, যখন তোমরা সবার পরে মাটিতে মিশে যাবে এবং হাড়গোড়ে পরিণত হবে তখন তোমাদেরকে (কবর থেকে) বের করা হবে?
(২৩:৩৬) অসম্ভব, তোমাদের সাথে এই যে অংগীকার করা হচ্ছে এটা একেবারেই অসম্ভব৷
(২৩:৩৭) জীবন কিছুই নয়, ব্যস এ পার্থিব জীবনটি ছাড়া, এখানেই আমরা মরি-বাঁচি এবং আমাদের কখ্‌খনো পুরুজ্জীবিত করা হবে না৷
(২৩:৩৮) এ ব্যক্তি আল্লাহর নামে নিছক মিথ্যা তৈরী করছে ৩৬(ক) (ক) এবং আমরা কখনো তার কথা মেনে নিতে প্রস্তুত নই৷’’
(২৩:৩৯) রসূল বললো, ‘‘হে আমার রব! এ লোকেরা যে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করলো এ ব্যাপারে এখন তুমিই আমাকে সাহায্য করো৷’’
(২৩:৪০) জবাবে বলা হলো, ‘‘অচিরেই তারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করবে৷’’
(২৩:৪১) শেষ পর্যন্ত যথাযথ সত্য অনুযায়ী একটি মহা গোলযোগ তাদেরকে ধরে ফেললো এবং আমি তাদেরকে কাদা ৩৭ বানিয়ে নিক্ষেপ করলাম-দূর হয়ে যাও জালেম জাতি!
(২৩:৪২) তারপর আমি তাদের পরে অন্য জাতিদের উঠিয়েছি ৷
(২৩:৪৩) কোন জাতি তার সময়ের পূর্বে শেষ হয়নি এবং তার পরে টিকে থাকতে পারেনি৷
(২৩:৪৪) তারপর আমি একের পর এক নিজের রসূল পাঠিয়েছি ৷ যে জাতির কাছেই তার রসূল এসেছে সে-ই তার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে,আর আমি একের পর এক জাতিকে ধ্বংস করে গেছি এমনকি তাদেরকে স্রেফ কাহিনীই বানিয়ে ছেড়েছি, --অভিসম্পাত তাদের প্রতি যারা ঈমান আনে না ৷ ৩৮
(২৩:৪৫) তারপর আমি মূসা ও তার ভাই হারুনকে নিজের নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণ ৩৯ সহকারে ফেরাউন ও তার রাজ পারিষদদের কাছে পাঠালাম ৷
(২৩:৪৬) কিন্তু তারা অহংকার করলো এবং তারা ছিল বড়ই আস্ফালনকারী৷ ৪০
(২৩:৪৭) তারা বলতে লাগলো, ‘‘আমরা কি আমাদেরই মতো দু’জন লোকের প্রতি ঈমান আনবো? ৪০(ক) (ক) আর তারা আবার এমন লোক যাদের সম্প্রদায় আমাদের দাস ৷’’ ৪১
(২৩:৪৮) কাজেই তারা উভয়কে প্রত্যাখ্যান করলো এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে শামিল হলো৷ ৪২
(২৩:৪৯) আর মুসাকে আমি কিতাব দান করেছি যাতে লোকেরা তার সাহায্যে পথের দিশা পায়৷
(২৩:৫০) আর মারয়াম পুত্র ও তার মাকে আমি একটি নিদর্শনে পরিণত করেছিলাম ৪৩ এবং তাদেরকে রেখেছিলাম একটি সুউচ্চ ভূমিতে, সে স্থানটি ছিল নিরাপদ এবং সেখানে স্রোতম্বিনী প্রবহমান ছিল৷ ৪৪
৩৫. এখানে বর্ণিত চারিত্রিক বৈশিষ্টগুলো ভেবে দেখার মতো৷ নবীর বিরোধিতায় যারা এগিয়ে এসেছিল, তারা ছিল জাতির নেতৃত্বস্থানীয় লোক৷ তাদের সবার মধ্যে যে ভ্রষ্টতা একযোগে কাজ করছিল তা ছিল এই যে, তারা পরকাল অস্বীকার করতো৷ তাই তাদের মনে আল্লাহর সামনে কোন জবাবদিহি করার আশংকা ছিল না৷ আর এ জন্যই দুনিয়ার এ জীবনটাই ছিল তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং ''বৈষয়িক কল্যাণ ও সাফল্যের'' উর্ধে অন্য কোন মূল্যবোধের স্বীকৃতি তাদের কাছে ছিল না৷ আবার যে জিনিসটি তাদেরেক এ ভ্রষ্টতার মধ্যে একবারেই নিমজ্জিত করে দিয়েছিল তা ছিল এমন পর্যায়ের প্রাচুর্য ও সুখ-সম্ভোগ যাকে তারা নিজেদের সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবার প্রমান মনে করতো৷ এ সংগে তারা একথাও মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না যে, যে আকীদা-বিশ্বাস, নৈতিক ব্যবস্থা ও জীবনধারার ভিত্তিতে অগ্রসর হয়ে তারা দুনিয়ায় এসব সাফল্য অর্জন করেছে তা ভুলও হতে পারে৷ মানুষের ইতিহাস বারবার এ সত্যটির পুনরাবৃত্তি করে চলেছে যে, সত্যের দাওয়াতের বিরোধিতাকারীদের দলে সবসময় এ তিন ধরনের বৈশিষ্টের অধিকারী লোকরাই আসে আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইইহ ওয়া সাল্লাম যখন মক্কায় তাঁর সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তখন এটিই ছিল সেখানকার পরিস্থিতি৷
৩৬. কেউ কেউ ভুল বুঝেছেন যে, তারা নিজেদের মধ্যে এসব কথা বলাবলি করতো৷ না, বরং সাধারণ লোকদেরেক সম্বোধন করে তারা একথা বলতো৷ জাতির সরদাররা যখন আশংকা করলো, জনগণ নবীর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব এবং হৃদয়গ্রাহী কথায় প্রভাবিত হয়ে যাবে এবং তাদের প্রভাবিত হয় যাবার পর আমাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব আর কাদের ওপর চলবে তখন তারা নিজেদের বক্তৃতার মাধ্যমে এসব কথা জনগনের সামনে তুলে ধরে তাদেরেক বিভ্রান্ত করতে থাকলো৷ ওপরে নূহের জাতির আলোচনায় যে কথা বলা হয়েছিল৷ এটি তারই দ্বিতীয় একটি দিক৷ তারা বলতো, আল্লাহর পক্ষ থেকে এসব নবুয়ত টবুয়ত কিছুই দেয়া হয়নি এটা হচ্ছে আসলে ক্ষমতা লিপ্সা, এরি মোহে অন্ধ হয়ে এ ব্যক্তি এসব আবোল তাবোল বলছে৷ তারা বলেঃ ভাইসব! একটু ভেবে দেখো, এ ব্যক্তি কোন্‌ ব্যাপারে তোমাদের থেকে আলাদা? তোমাদের শরীর যেমন রক্ত-মাংসের তারও তাই৷ তোমাদের ও তার মধ্যে কোন ফারাক নেই৷ তাহলে কেন সে বড় হবে এবং তোমরা তার ফরমানের আনুগত্য করবে? তাদের এসব ভাষণের মধ্য যেন একথা নির্বিবাদে স্বীকৃত ছিল যে, তারা যে তাদের নেতা এ নেতৃত্ব তো তাদের লাভ করারই কথা, তাদের শরীরের রক্ত মাংস ও তাদের পানাহারের ধরণ ধারণের প্রতি দৃষ্টি দেবার প্রশ্নই দেখা দেয় না, তাদের নেতৃত্ব আলোচ্য বিষয় নয়৷ কারণ এটা তো আপনা-আপনিই প্রতিষ্ঠিত এবং সর্বজন স্বীকৃত বিষয়৷ আসলে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে এ নতুন নেতৃত্ব, যা এখন প্রতিষ্ঠা লাভের পথে৷ এভাবে তাদের কথাগুলো নূহের জাতির নেতাদের কথা থেকে কিছু বেশী ভিন্নতর ছিল না৷ তাদের মতে কোন নতুন আগমনকারীর মধ্যে যে ''ক্ষমতা লিপ্সা'' অনুভূত হয় অথবা তার মধ্যে এ লিপ্সা থাকার যে সন্দেহ পোষন করার যেতে পারে সেটিই হচ্ছে নিন্দনীয় ও অপবাদযোগ্য৷ আর নিজেদর ব্যাপারে তারা মনে করতো যে, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা তাদের প্রকৃতিগত অধিকার, এ অধিকারের ক্ষেত্রে তারা সীমা ছাড়িয়ে গেলেও তা কোন ক্রমেই নিন্দনীয় ও আপত্তিকর হবার কথা নয়৷
৩৬(ক). এ শব্দগুলোর দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহর অস্তিত্বকে তারাও অস্বীকার করতো না৷ তাদেরও আসল ভ্রষ্টতা ছিল শির্‌ক৷ কুরআনের অন্যান্য স্থানেও এ জাতির এ অপরাধই বর্ণনা করা হয়েছে৷ যেমন দেখুন আল আরাফ, ৭; হূদ, ৫৩-৫৪; হা-মীম আস্‌সাজদাহ, ১৪ এবং আল আহকাফ, ২১-২২ আয়াত৷
৩৭. মূলে ----- শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ এর মানে হয় বন্যার তোড়ে ভেসে আসা ময়লা আবর্জনা, যা পরবর্তী পর্যায়ে কিনারায় আটকে পড়ে পচে যেতে থাকে৷
৩৮. অন্য কথায় যারা নবীদের কথা মানে না ৷
৩৯. নিদর্শনের পরে ''সুস্পষ্ট প্রমাণ'' বলার অর্থ এত হতে পারে যে, ঐ নিদর্শনাবলী তাঁদের সাথে থাকাটাই একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল যে, তাঁরা আল্লাহর প্রেরিত পয়গম্বর৷ অথবা নিদর্শনাবলী বলতে বুঝানো হয়েছে ''লাঠি'' ছাড়া মিসরে অন্যান্য যেসব মু'জিযা দেখানো হয়েছে সেগুলো সবই, আর ''সুস্পষ্ট প্রমাণ'' বলতে ''লাঠি'' বুঝানো হয়েছে৷ কারণ এর মাধ্যমে যে মু'জিযার প্রকাশ ঘটেছে সেগুলোর পরে তা একথা একবারেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এরা দু'ভাই আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত হয়েছেন, (বিস্তারিত জনার জন্য তাফহীমুল কুরআন, সূরা আয যুখ্‌রুফ, ৪৩-৪৪ টীকা দেখুন)৷
৪০. মূলে ----- শব্দগুএলো ব্যবহার করা হয়েছে৷ এর দু'টি অর্থ হতে পারে৷ এক, তারা ছিল বড়ই আত্মম্ভরী, জালেম ও কঠোর৷ দুই, তারা নিজেদেরেক অনেক বড় মনে করতো এবং উদ্ধত আস্ফালন করতো৷
৪০(ক) .  ব্যাখ্যার জন্য ২৬ টীকা দেখুন৷
৪১. আরবী ভাষায় কারো ''ফরমানের অনুগত'' হোয়া এবং ''তার ইবাদাতগুজার'' হওয়া প্রায় একই অর্থে ব্যবহার হয়৷ যে ব্যক্তি কারোর বন্দেগী-দাসত্ব ও আনুগত্য করে সে যেন তার ইবাদত করে৷ এ থেকে ''ইবাদাত '' শব্দটির অর্থের ওপর এবং একমাত আল্লাহর ইবাদাত করার ও তাঁর ছাড়া বাকি সবার ইবাদাত পরিত্যাগ করার যে আদেশ নবীগণ তাদের দাওয়াতের মধ্যে দিতেন তার পূর্ণ অর্থ কি ছিল তার ওপর বড়ই গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত হয়৷ তাঁদের কাছে ''ইবাদাত'' নিছুক ''পূজা অনুষ্ঠান'' ছিল না৷ তাঁরা এ দাওয়াত ও আনুগত্য করতে থাকো৷ বরং তাঁরা মানুষকে আল্লাহর পূজারী করতে চাইতেন এবং একই সংগে তাঁর ফরমানের অনুগতও৷ আর এ উভয় অর্থের দৃষ্টিতে অন্য কারো ইবাদাত করাকে পথভ্রষ্টতা গণ্য করতেন৷ (আরো বেশী জানার জন্য তাফহীমুল কুরআন আল কাহফ, ৫০ টীকা দেখুন)৷
৪২. মূসা ও ফেরাউনের কাহিনীর বিস্তারিত বিবরণ জানার জন্য পড়ুন সূরা আল বাকারাহ, ৪৯-৫০, আল আ'রাফ, ১০৩ থেকে ১৩৬; ইউনুস, ৭৫ থেকে ৯২; হূদ, ৯৬ থেকে ৯৯; বনী ইসরাঈল, ১০১ থেকে ১০৪ এবং ত্বা-হা, ৯ থেকে ৮০ আয়াত৷
৪৩. একথা বলা হয়নি যে , মারয়াম পুত্র একটি নিদর্শন ছিল এবং স্বয়ং মারয়াম একটি নিদর্শন ছিল ৷ আবার একথাও বলা হয়নি যে , মারয়াম পুত্র ও তার মাকে দু'টি নিদর্শনে পরিণত করেছিলাম ৷ বরং বলা হয়েছে, তাদের দু'জনকে মিলিয়ে একটি নিদর্শনে পরিণত করা হয়েছিল ৷ এর অর্থ এ ছাড়া আর কি হতে পারে যে , পিতা ছাড়া ইবনে মারয়ামের জন্ম হওয়া এবং স্বামীর সাহচর্য ছাড়া মারয়ামের গর্ভধারণ করাই এমন একটি জিনিস যা তাদের দু'জনকে একটি নিদর্শনে পরিণত করে দেয়৷ যারা পিতা ছাড়া হযরত ঈসার জন্ম অস্বীকার করে তারা মাতা ও পুত্রের একটি নিদর্শন হবার কি ব্যাখ্যা দেবেন? (আরো বিস্তারিত জানার জন্য তাফহীমুল কুরআন , সূরা আলে ইমরান , ৪৪-৫৩, আন নিসা,১৯০, ২১২, ২১৩, মারয়াম ১৫ থেকে ২২ এবং আল আম্বিয়া , ৮৯-৯০ টীকা দেখুন ) এখানে দু'টি কথা আরো ব্যাখ্যা যোগ্য ৷ এক, হযরত ঈসা ও তাঁর মাতার ব্যাপারটি মূর্খ লোকদের আর একটি দুর্বলতা চিহ্নিত করছে ৷ ও পরে যে সকল নবীর কথা আলোচনা করা হয়েছে তাদের প্রতি ঈমান আনার ব্যাপারটি তো এ বলে অস্বীকার হয়েছে যে, তোমরা তো মানুষ আর মানুষ কি কখনো নবী হতে পারে ? কিন্তু লোকেরা যখন হযরত ঈসার ও তাঁর মায়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো এবং তাদের ভক্ত হয়ে গেলো তখন তাদেরকে মানুষের মর্যাদা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মর্যাদায় পৌঁছিয়ে দিল৷ দুই, যারা হযরত ঈসার অলৌকিক জন্ম এবং দোলনায় শায়িত অবস্থায় তাঁর ভাষণ শুনে তাঁর মুজিযা হবার সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখে নেয়া সত্ত্বেও ঈমান আনতে অস্বীকার করেছিল এবং হযরত মারয়ামকে অপবাদ দিয়েছিল তাদেরকে এমন শাস্তি দেয়া হয়েছিল যা সমগ্র দুনিয়াবাসীর জন্য চিরকালীন শিক্ষণীয় হয়ে রয়েছে৷
৪৪. বিভিন্ন জন এ থেকে বিভিন্ন স্থানের কথা মনে করেছেন৷ কেউ বলেন, এ স্থানটি ছিল দামেশ্‌ক৷ কেউ বলেন, আর্‌রম্‌লাহ৷ কেউ বলেন, বাইতুল মাক্‌দিস আবার কেউ বলেন মিসর৷ খৃষ্টীয় বর্ণনা অনুযায়ী হযরত মার্‌য়াম ঈসার জন্মের পর তাঁর হেফাজতের জন্য দু'বার স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন৷ প্রথমবার বাদশাহ হিরোডিয়াসের আমলে তিনি তাকে মিসরে নিয়ে যান এবং বাদশাহর মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই থাকেন৷ তারপর আয্‌খিলাউসের শাসনামলে তাঁকে গালীলের নাসেরাহ শহরে আশ্রয় নিতে হয়৷ (মথি ২: ১৩ থেকে ২৩) এখন কুরআন কোন্‌ স্থানটির প্রতি ইংগিত করছে তা নিশ্চয়তা সহকারে বলা কঠিন৷ আভিধানিক অর্থে ''রাবওয়াহ'' এমন সুউচ্চ ভূমিকে বলা হয় যা সমতল এবং আশপাশের এলাকা থেকে উঁচু৷ অন্যদিক ''যা-তি কারার'' ----- মানে হচ্ছে এমন জায়গা যেখানে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী পাওয়া যায় এবং অবস্থানকারী সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন করতে পারে৷ আর ''মাঈন'' ----- মানে হচ্ছে বহমান পানি বা নির্ঝারিণী৷