(২১:৩০) যারা (নবীর কথা মেনে নিতে) অস্বীকার করেছে তারা কি চিন্তা করে না যে, এসব আকাশ ও পৃথিবী এক সাথে মিশে ছিল, তারপর আমি তাদেরকে আলাদা করলাম ২৮ এবং পানি থেকে সৃষ্টি করলাম প্রত্যেকটি প্রাণীকে৷ ২৯ তারা কি (আমার এ সৃষ্টি ক্ষমতাকে) মানে না ?
(২১:৩১) আর আমি পৃথিবীতে পাহাড় বসিয়ে দিয়েছি, যাতে সে তাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে ৩০ এবং তার মধ্যে চওড়া পথ তৈরি করে দিয়েছি, ৩১ হয়তো লোকেরা নিজেদের পথ জেনে নেবে৷৩২
(২১:৩২) আর আমি আকাশকে করেছি একটি সুরক্ষিত ছাদ,৩৩ কিন্তু তারা এমন যে, এ নিদর্শনাবলীর ৩৪ প্রতি দৃষ্টিই দেয় না৷
(২১:৩৩) আর আল্লাহই রাত ও দিন তৈরি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন, প্রত্যেকেই এক একটি কক্ষপথে সাঁতার কাটছে৷৩৫
(২১:৩৪) আর ৩৬ (হে মুহাম্মাদ!) অনন্ত জীবন তো আমি তোমার পূর্বেও কোনো মানুষকে দেইনি ; যদি তুমি মরে যাও তাহলে এরা কি চিরকাল বেঁচে থাকবে ?
(২১:৩৫) প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে৷ ৩৭ আর আমি ভালো ও মন্দ অবস্থার মধ্যে ফেলে তোমাদের সবাইকে পরীক্ষা করছি, ৩৮ শেষ পর্যন্ত তোমাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে৷
(২১:৩৬) এ সত্য অস্বীকারকারীরা যখন তোমাকে দেখে, তোমাকে বিদ্রূপের পাত্রে পরিণত করে৷ বলে, “এ কি সেই ব্যক্তি যে তোমাদের দেবদেবীদের সমালোচনা করে ?” ৩৯ অথচ তাদের নিজেদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা করুণাময়ের যিকরের অস্বীকারকারী৷৪০
(২১:৩৭) মানুষ দ্রুততাপ্রবণ সৃষ্টি৷ ৪১ এখনই আমি তোমাদের দেখিয়ে দিচ্ছি নিজের নিদর্শনাবলী, আমাকে তাড়াহুড়া করতে বলো না৷৪২
(২১:৩৮) এরা বলে, “এ হুমকি কবে পূর্ণ হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?”
(২১:৩৯) হায়! যদি এ কাফেরদের সেই সময়ের কিছু জ্ঞান থাকতো যখন এরা নিজেদের মুখ ও পিঠ আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে না এবং এদেরকে কোথাও থেকে সাহায্যও করা হবে না৷
(২১:৪০) সে আপদ তাদের ওপর আকস্মিকভাবে এসে পড়বে এবং তাদেরকে হঠাৎ এমনভাবে চেপে ধরবে যে, তারা তার প্রতিরোধও করতে পারবে না৷ এবং মুহূর্তকালের অবকাশও লাভ করতে সক্ষম হবে না৷
(২১:৪১) তোমার পূর্বের রসূলদেরকেও বিদ্রূপ করা হয়েছে কিন্তু বিদ্রূপকারীরা যা নিয়ে বিদ্রূপ করতো, শেষ পর্যন্ত তারই কবলে তাদেরকে পড়তে হয়েছে৷
২৮. মূলে () ও () শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে৷ 'রত্ক'মানে হচ্ছে একত্র হওয়া, একসাথে থাকা, একজন অন্য জনের সাথে জুড়ে থাকা৷ আর "ফাত্ক" মানে ফেড়ে ফেলা, ছিঁড়ে ফেলা, আলাদা করা৷ বাহ্যত এ শব্দগুলো থেকে যে কথা বুঝা যায় তা হচ্ছে এই যে, বিশ্ব-জাহান প্রথমে একটি পিণ্ডের(mass)আকারে ছিল৷ পরবর্তীকালে তাকে পৃথক পৃথক অংশে বিভক্ত করে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্র, ছায়াপথ নীহারিকা ইত্যাদি স্বতন্ত্র জগতে পরিণত করা হয়েছে৷ (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা হা মীম আস্ সাজদাহ, ১৩, ১৪, ১৫ টীকা)
২৯. এ থেকে যে অর্থ বুঝা যায় তা হচ্ছে এই যে, আল্লাহ পানিকে জীবনের উৎপাদক (Cause Of Life) ও প্রাণের উৎসে পরিণত করেছেন৷ এরি মধ্যে এবং এ থেকে করেছেন জীবনের সূচনা৷ কুরআনের অন্য জায়গায় এ বক্তব্যকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ

--------------------------

"আর আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন"৷ (সূরা নূরঃ ৪৫)
৩০. সূরা আন্ নাহাল-এর ১২ টীকায় এর ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে৷
৩১. অর্থাৎ পাহাড়ের মধ্যে এমন গিরিপথ, ঝরণা ও নদী তৈরী করে দিয়েছি যার মাধ্যমে পার্বত্য এলাকা অতিক্রম করার ও পৃথিবীর এক অংশ থেকে আর এক অংশে চলাফেরা করার জন্য রাস্তা তৈরী হয়ে গেছে৷ এভাবে পৃথিবীর অন্যান্য অংশকে এমনভাবে গঠন করা হয়েছে যার ফলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার পথ তৈরী হয়ে যায় বা তৈরী করে নেয়া যেতে পারে৷
৩২. এটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য৷ এর এ অর্থও হয় যে, লোকেরা পৃথিবীতে চলাফেরা করার পথ পাবে, আবার এ অর্থও হয় যে, তারা এই জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, কলাকৌশল, কারিগরি দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা দেখে মুল সত্যে পৌছে যাবার পথ পাবে৷
৩৩. ব্যাখ্যার জন্য সূরা আল হিজর, ৮, ১০, ১১, ও ১২, টীকা দেখুন৷
৩৪. অর্থাৎ আকাশে যে নিদর্শনগুলো আছে সেগুলোর দিকে৷
৩৫. () ও () শব্দগুলোই একথা জানিয়ে দিচ্ছে যে, এর অর্থ শুধুমাত্র সূর্য ও চন্দ্র নয় বরং মহাশূন্যের অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রও৷ নয়তো বহুবচনের পরিবর্তে একবচন ব্যবহার করা হতো৷ () শব্দটি আমাদের ভাষায় চক্র শব্দের সমার্থক৷ আরবী ভাষায় এটি আসমান বা আকাশ শব্দের পরিচিত অর্থই প্রকাশ করে৷ "সবাই এক একটি ফালাকে (কক্ষপথে) সাঁতরে বেড়াচ্ছে"- এ থেকে দুটি কথা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে৷ এক, প্রত্যেকের ফালাক বা কক্ষপথ আলাদা৷ দুই, ফালাক এমন কোন জিনিস নয় যেখানে এ গ্রহ-নক্ষত্রগুলো খুটির মতো প্রোথিত আছে এবং তারা নিজেরাই এ খুটিগুলো নিয়ে ঘুরছে৷ বরং তারা কোন প্রবাহমান অথবা আকাশ ও মহাশূন্য ধরনের কোন বস্তু, যার মধ্যে এই গ্রহ-নক্ষত্রের চলা ও গতিশীলতা সাঁতার কাটার সাথে সামঞ্জস্য রাখে৷ (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য তাফহীমুল কুরআন সূরা ইয়াসীন ৩৭ টীকা দেখুন)৷

প্রাচীন যুগে লোকদের কাছে আকাশ ও পৃথিবীর একত্র হওয়া () ও পৃথক হয়ে যাওয়া () পানি থেকে প্রত্যেক সজীব সত্তাকে সৃষ্টি করা এবং গ্রহ-নক্ষত্রের এক একটি 'ফালাকে' সাঁতার কাটার ভিন্ন অর্থ ছিল৷ বর্তমান যুগে পদার্থবিদ্যা(Physics) জীববিদ্যা (Biology) ও জ্যোতির্বিদ্যার (Astronomy)অত্যাধুনিক তথ্যাবলী আমাদের কাছে তাদের অর্থ ভিন্নতর করে দিয়েছে৷ আমরা বলতে পারি না, আগামীতে মানুষ যেসব তথ্য সংগ্রহ করবে তার ফলে এ শব্দগুলোর অর্থ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে৷ মোট কথা বর্তমান যুগের মানুষ এ তিনটি আয়াতকে সম্পূর্ণরূপে বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক তথ্যাবলী অনুযায়ীই পাচ্ছে৷

এখানে একথটিও অনুধাবন করে নিতে হবে যে, () থেকে নিয়ে ()পর্যন্ত ভাষণে শিরক খণ্ডন করা হয়েছে এবং () থেকে নিয়ে () পর্যন্ত যা কিছু বলা হয়েছে তার মধ্যে তাওহীদের জন্য ইতিবাচক (Positive) যুক্তি দেয়া হয়েছে৷ মূল বক্তব্য হচ্ছে, তোমাদের সামনে বিশ্ব-জাহানের এই যে ব্যবস্থা আছে, এর মধ্যে কি কোথাও এক আল্লাহ রব্বুল আলামীন ছাড়া আর কারো কোন সৃষ্টি কৌশল তোমরা দেখতে পাচ্ছো? একাধিক ইলাহদের কর্মকূশলতায় কি এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে এবং এমন শৃংখলা ও নিয়ামানুবর্তিতার সাথে বিশ্ব-জাহান চলতে পারে? এ জ্ঞানগর্ভ ব্যবস্থাটি সম্পর্কে কি কোন বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল ব্যক্তি একথা কল্পনা করতে পারেন যে, এটা একজন খেলোয়াড়ের খেলা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং তিনি নিছক নিজের ফূর্তি ও আনন্দ স্পৃহা চরিতার্থ করার জন্য কয়েকটি পুতুল বানিয়ে নিয়েছেন, কিছুক্ষণ খেলা করার পর আবার সেগুলো ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেবেন? এসব কিছু তোমরা নিজেদের চোখে দেখছো এবং এরপরও নবীর কথা মেনে নিতে অস্বীকার করছো? তোমরা কি দেখতে পাচ্ছো না, পৃথিবী এ আকাশের প্রত্যেকটি জিনিস নবী তোমাদের সামনে যে তাওহীদী মতবাদ পেশ করেছেন তার সাক্ষ দিচ্ছে? এসব নিদর্শনের উপস্থিতিতে তোমরা বলছো () (এ নবী কোন নিদর্শন নিয়ে আসুক)৷ নবী তাওহীদের দাওয়াতের পক্ষে সাক্ষ দেবার জন্য এ নিদর্শনগুলো কি যথেষ্ট নয়?
৩৬. এখান থেকে আবার ভাষণের মোড় ঘুরে যাচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর বিরোধীদের মধ্যে যে সংঘাত চলছিল সেদিকে৷
৩৭. যে সমস্ত হুকমি ধমকি, বদদোয়া ও হত্যার ষড়যন্ত্রের সাহায্যে সর্বক্ষণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বাগত জানানো হতো এ হচ্ছে তার সংক্ষিপ্ত জবাব৷ একদিকে ছিল কুরাইশ নেতারা৷ তারা প্রতিদিন তাঁর এই প্রচার কার্যের জন্য তাকে হুকমি দিতে থাকতো এবং তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক বিরোধী আবার বসে বসে যে কোনভাবে তাঁকে খতম করে দেবার কথাও ভাবতো৷ অন্যদিকে যে গৃহের কোন একজন ইসলাম গ্রহণ করতো সে গৃহের সবাই তার শত্রু হয়ে যেতো৷ মেয়েরা দাঁতে দাঁত পিশে তাঁকে অভিশাপ দিতো এবং বদদোয়া করতো৷ আর গৃহের পুরুষরা তাঁকে ভয় দেখাতো৷ বিশেষ করে হাবশায় হিজরাতের পরে মক্কার ঘরে ঘরে বিলাপ শুরু হয়ে গিয়েছিল৷ কারণ এমন একটি বাড়ি পাওয়াও কঠিন ছিল যেখান থেকে একজন পুরুষ বা মেয়ে হিজরাত করেনি৷ এরা সবাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে অভিযোগ করে বলতো, এ লোকটি আমাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে৷ এসব কথার জবাব এ আয়াতে দেয়া হয়েছে এবং একই সংগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, ওদের কোন পরোয়া না করে তুমি নির্ভয়ে নিজের কাজ করে যাও৷
৩৮. অর্থাৎ দুঃখ-আনন্দ, দারিদ্র-ধনাঢ্যতা, জয়-পরাজয়, শক্তিমত্তা-দুর্বলতা, সুস্থতা-রুগ্নতা ইত্যাদি সকল অবস্থায় তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ দেখা হচ্ছে, ভালো অবস্থায় তোমরা অহংকারী, জালেম, আল্লাহ বিস্মৃত ও প্রবৃত্তির দাস হয়ে যাও কিনা৷ খারাপ অবস্থায় হিম্মত ও সাহস কমে যাওয়ায় নিম্নমানের ও অবমাননাকর পদ্ধতি এবং অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে বসো কি না৷ কাজেই কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তির এ রকমারি অবস্থা বুঝার ব্যাপারে ভুল করা উচিত নয়৷ সে যে অবস্থারই সম্মুখীন হোক, তাকে অবশ্যই পরীক্ষার এ দিকটি সামনে রাখতে হবে এবং সাফল্যের সাথে একে অতিক্রম করতে হবে৷ কেবলমাত্র একজন বোকা ও সংকীর্ণমনা লোকই ভাল অবস্থায় ফেরাউনে পরিণত হয় এবং খারাপ অবস্থা দেখা দিলে মাটিতে নাক-খত দিতে থাকে৷
৩৯. অর্থাৎ তাদের সম্পর্কে বিরূপ কথা বলে৷ এখানে আরো এতটুকু কথা বুঝে নিতে হবে যে, এ বাক্যটি তাদের বিদ্রূপের বিষয়বস্তু বর্ণনা করছে না বরং বিদ্রূপ করার কারণ ও ভিত্তিভূমির ওপর আলোকপাত করছে৷ একথা সুস্পষ্ট যে, এ বাক্যটি মুলত কোন বিদ্রূপাত্মক বাক্য নয়৷ বিদ্রুপ তারা অন্যভাবে করে থাকবে এবং এজন্য কোন অন্য ধরনের ধ্বনি দিয়েও বাক্য উচ্চারণ করে থাকবে৷ তবে তিনি তাদের মনগড়া উপাস্যদের প্রভুত্ব কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করতেন বলেই তারা এভাবে মনের ঝাল মিটাতো৷
৪০. অর্থাৎ মূর্তি ও বানোয়াট ইলাহদের বিরোধিতা তাদের কাছে এত বেশী অপ্রীতিকর যে, এর প্রতিশোধ নেবার জন্য তোমার প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও অবমাননা করে, কিন্তু তারা যে আল্লাহ বিমুখ এবং আল্লাহর নামোল্লেখে তারা ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়, নিজেদের এ অবস্থার জন্য তাদের লজ্জাও হয় না৷
৪১. মূলে() বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে৷ এর শাব্দিক অনুবাদ হয়, "মানুষকে দ্রুততা প্রবণতা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে"৷ কিন্তু এই শাব্দিক অর্থ বাক্যের উদ্দেশ্য নয়৷ আমরা যেমন নিজের ভাষায় বলি, ওমুক ব্যক্তি জ্ঞানের সাগর এবং লোকটি পাষাণ হৃদয়, ঠিক তেমনি আরবী ভাষায়, বলা হয়, তাকে অমুক জিনিস থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর অর্থ হয়, অমুক জিনিসটি তার প্রকৃতিগত৷ এখানে () বলে যে অর্থ নেয়া হয়েছে অন্য জায়গায় "মানুষ দ্রুততা প্রবণ প্রমাণিত হয়েছে" (বনী ইসরাঈলঃ ১১) বলে সেই একই অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে৷
৪২. পরবর্তী ভাষণ পরিস্কার বলে দিচ্ছে এখানে "নিদর্শনাবলী" বলতে কি বুঝাচ্ছে৷ তারা যেসব কথা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতো তার মধ্যে আল্লাহর আযাব, কিয়ামত ও জাহান্নামের বিবরণও ছিল৷ তারা বলতো, এ ব্যক্তি প্রতিদিন আমাদের ভয় দেখায়, বলে আমাকে অস্বীকার করলে আল্লাহর আযাব আপতিত হবে, কিয়ামতে তোমাদের শাস্তি দেয়া হবে এবং তোমাদেরকে জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত করা হবে৷ কিন্তু আমরা প্রতিদিন অস্বীকার করছি এবং হেসে কুঁদে বেড়াচ্ছি, কোন আযাব আসেতে দেখা যাচ্ছে না এবং কোন কিয়ামতও হচ্ছে না৷ এ আয়াতগুলোয় এরই জবাব দেয়া হয়েছে৷